Monday, February 2, 2026

আজ শবে ব রাত

 


শবে বরাত ফারসি ভাষার শব্দ। ‘শব’ অর্থ রাত। আর ‘বরাত’ শব্দের অর্থ, মুক্তি, শান্তি, সৌভাগ্য। আরবিতে একে বলে লাইলাতুল বরাত, সৌভাগ্য রজনী। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, মহান আল্লাহ এ রাতে বান্দাদের গুনাহ মাফ করে দেন, জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।

 
মহিমান্বিত এই রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময় মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের আশায় নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে মগ্ন থাকেন। অতীতের পাপ ও অন্যায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যৎ জীবনের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করেন।
 
তাঁরা মহান আল্লাহর কাছে মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, সমাজ-রাষ্ট্র এবং পুরো বিশ্বের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্যও দোয়া করেন। শবেবরাতের আগের দিন বা পরদিন রোজা রাখা সুন্নত। তাই মুসলমানরা দুই দিন রোজা পালন করেন।
 

আজ মঙ্গলবার পবিত্র শবে বরাত।  আজ সেই মুক্তির রাত বা সৌভাগ্যের রাত।


 শবে বরাতের বিশেষ খাবারের আয়োজনে যেন হালুয়া না হলে চলেই না। ঘরে ঘরে বিচিত্র সব হালুয়া বানানো হয় এদিন রাতে পরিবারের সবাই মিলে খাওয়ার জন্য। প্রতিবেশী, আত্মীয় আর সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যেও বিলানো হয় হালুয়া।
এই হালুয়া বর্ণে-গন্ধে হতে পারে অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। সুজি, গমের আটা, মুগডাল, ছোলার ডাল, তিল, বাদামের হালুয়ার মতো আরেকটি হালুয়া খুব জনপ্রিয় আমাদের উপমহাদেশে।
নেশেস্তার হালুয়া নামে পরিচিত এই বিশেষ হালুয়াটি বানাতে সুজি বা যেকোনো শর্করা জাতীয় শস্যচূর্ণ পানিতে ভিজিয়ে সময় নিয়ে রেখে দিলে এর গ্লুটেন আলাদা হয়ে যায়। ওপর থেকে মাড়টুকু নিয়ে তা দিয়েই বানানো হয় এ হালুয়া। এটি করাচি বা বোম্বে হালুয়া নামেও পরিচিত।

এদিকে ডিমের হালুয়াও খুবই সমাদৃত সবার কাছে। আবার বিভিন্ন রকমের ফল ও সবজি দিয়েও হালুয়া করা হয়। গাজরের হালুয়া তো সারা বিশ্বেই ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত ডেজার্ট হিসেবে পরিচিত। আমাদের দেশে পেঁপে, চালকুমড়া, বিট, কলা, আম, কাঁঠালের বিচি, কুমড়া, তাল, নারকেল ইত্যাদি দিয়ে দারুণ সুস্বাদু সব হালুয়া করা হয়। তবে উপকরণ যাই হোক, সঙ্গে খাঁটি ঘি লাগবেই। তা–ও দিতে হবে তা দরাজ হাতে।
হালুয়ার সঙ্গে রুটি করা হয় শবে বরাতের রাতে ঘরে ঘরে। চালের রুটিই এ ক্ষেত্রে সবার পছন্দের শীর্ষে। পুরান ঢাকায় আবার মোরব্বা, কিশমিশসহ কেকের মতো করে বানানো, আয়না বসানো বিশেষ একধরনের নকশি পাউরুটি খাওয়া হয় শবে বরাতে। সামর্থ্য অনুযায়ী চালের রুটির সঙ্গে মাংসও রান্না করা হয় এদিন।

No comments:

Post a Comment