Thursday, February 5, 2026

রূপশাল

 


                               রূপশাল চালের ভাত, বেগুন পোড়া

রূপশাল বাংলার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ধানগুলোর অন্যতম। পুরুলিয়া জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আজ থেকে অর্ধশতাব্দী আগেও রূপশাল বহুল পরিমাণে চাষ হ'ত। এমনিতেই 'শাল' শব্দটি জুড়ে থাকে যে সকল ধানে, সেগুলো পুষ্টিগুণে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই ধানের খড় অত্যন্ত সুন্দর। জীবনানন্দের কবিতাতেও আমরা রূপশালের প্রসঙ্গ পাই। খড় বড় হওয়ার কারণে বৃষ্টিতে বা ঝড়ে ধানগাছ পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু তবুও এখনও বাংলার কিছু কিছু কৃষক এই ধানের প্রেম থেকে বেরোতে পারেনি। প্রকৃত ব্রাউন রাইস বলতে যা বোঝায়, স্বাদে ও পুষ্টিগুণে রূপশাল একদম তাই।
আজ রূপশাল চালের ভাত, মৃদুল সেই আগের বছর পাঠিয়েছিলো, চাল আমি খুব যত্নে রাখি, মাঝেমধ্যে নেড়েচেড়ে দেখি। বড়মা থাকতে প্রতি বছর এই সময় রোজ তিতা করতো, শুক্তোনি, তিত বেগুন, উচ্ছে পাতা, আজ আমার সজনে ফুলের তিত-ঝুরি, বাহুল্য নেই রান্নায়, আলু,বেগুন, সীম কুচিয়ে নেওয়া, সীম দানাও আছে, তেলে কালোজিরা, মেথি, সবজি নুন হলুদ দিয়ে সাঁতলে নিয়ে মজে এলে ফুল, শেষে মটর ডাল আর চালকুমড়ার বড়ি ভেজে গুড়ো করে মেশানো, আর অল্প তেল। আর রাঁধি লাউ শোল রসা, রাঁধুনি ফোরন এর রান্না,লাউ ডুমো কেটে, আদা লংকা বাটায় হয়, হালকা ভাজা মাছ মেশাই লাউ মজে এলে, আর কালোজিরা বেটে, আতপ চালের পিঠালি গুলে শেষে মিশিয়ে রসা হয়, এ রান্না যুতের রান্না, ধীমে আঁচে হয়। বড়মা এতে মটর ডালের বড়া দিতেন, আর মিষ্টি।
মানুষের এই স্মৃতি মনে আঁকাও এক অপেক্ষা, মানুষের এই অপেক্ষাই তাকে বাঁচিয়ে রাখে, যত্ন করে সঞ্চয় করে মানুষ, স্মৃতি, অপেক্ষা, কখনো সুখের, কখনো দুঃখের, এ এক অনন্ত চলা, বালির দানার মতো গুড়ো গুড়ো জীবনের সঞ্চয়।




                                                            লাউ শোল রসা



গাজর রোস্ট করা মধু দিয়ে, দই আর সরষে ফুলের ডিপ


আটা আর জোয়ানের লুচি, ফুলকপি আর আলুর চচ্চড়ি



রূপশাল চালের ভাত আর সজনে ফুল এর তিত ঝুরি

Tandoori Keema Lukhmi Recipe Ramadan Special Snacks 2026 | इफ्तार में तं...

ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল এলে সমস্যা কেন মেয়েদের হবে?

 


রিসেন্টলি এক মেয়ের অভিজ্ঞতা পড়লাম। লং কামিজ ও চাদর থাকার পরেও রিকশাচালক তাকে মাঝপথে মাথায় কাপড় দিতে বলে এবং জামায়াতকে ক্ষমতায় আসার কামনা করে আরো কিছু কটুক্তি করে।
আমার সাম্প্রতিক ঘটনাই বলি।
সেন্ট মার্টিন্সে টুরিস্ট সিজন শেষের পরেই থাকছি। একেবারে জনমানবহীন বিচে সাত সকালে গাউন উড়িয়ে ছবি দিতেই ছেলেদের অ্যাবিউসিভ কমেন্ট তো এসেছেই, তাদের সাপোর্ট দিয়ে মেয়েদেরও কমেন্ট এসেছে। সেইসব কমেন্ট এতো জঘন্য যে আমি অবাক হয়েছি একটা মেয়ে কেমন করে রানিং ট্রাউজারের সেলাইকে গোপনাঙ্গের ভাঁজ বলে কমেন্ট করতে পারে যেখানে গাউন কোয়াডসের লাইন ক্রস করে নি। কল্পনায় পর্ন দেখে অন্য মেয়ের নগ্নতা চিন্তা না করলে আসলে এভাবে কমেন্ট করা সম্ভব না।
এ ঘটনাগুলা আলাদা আলাদা না। এগুলা একটা ধারাবাহিকতা। ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এলে মেয়েদের সমস্যা হবে কারণ তখন এই বর্ডার নির্ধারণের ক্ষমতা চলে যাবে সবচেয়ে ভোকাল আর সবচেয়ে নৈতিক পুলিশদের হাতে, এদের নাম দেশের জনগণ।
রিকশাচালকের সাহস আসবে কারণ সে জানবে, সে একা না। তার পেছনে নৈতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ছায়া আছে। আজ সে মাথায় কাপড় দিতে বললে কাল সে নাম জিজ্ঞেস করবে। পরশু সে বলবে এই রাস্তায় এইভাবে হাঁটা ঠিক না। এগুলা ছোট ছোট পাওয়ার এক্সারসাইজ।
সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গাটা হলো, এই পাওয়ার এক্সারসাইজে মেয়েরাও অংশ নিচ্ছে, নেবে। কারণ সিস্টেমটা মেয়েদেরও শেখায়, আমি ভালো মেয়ে হলে আরেকজন মেয়েকে খারাপ মেয়ে হতে হবে। সবাই তো একসাথে ভালো মেয়ে হবে না। কাউকে ফার্স্ট বলতে হলে আর কাউকে লাস্ট বলার উইন্ডো থাকতে হবে।
পোশাকের মাপ দিয়ে চরিত্র মাপা এই দেশে পুরোনো খেলা। ভয়ের ব্যাপার হলো এই খেলাটাকে ধর্মের সার্টিফিকেট দেওয়া। তখন এটাকে আর কুৎসিত মনে হবে না। তখন এটা হবে নৈতিক দায়িত্ব।
এই কারণেই জামায়াতের খুব বেশি কিছু করতে হচ্ছে না। তারা আলাদা করে বলে দিবে না মেয়েরা ঘরে থাকবে। জাস্ট অ্যাপ্রিশিয়েট করবে। বাকিটা সমাজ নিজেই করে দিবে। কমেন্ট সেকশন, রাস্তাঘাট, বাস, রিকশা, আত্মীয়দের মিটিং সব জায়গা ছোট ছোট আদালত হয়ে যাবে। বিচারক হবে সবাই।
এখানে যে মোরাল বিষয় একদম গেঁথে দেয়া হচ্ছে, সেটা হলো, পুরুষের যৌন ক্ষুধা তার নিজের দায় না। সেটা ম্যানেজ করার দায়িত্ব মেয়ের। মেয়ের কাপড় ঠিক থাকলে পুরুষ ঠিক থাকবে। এই দেশে পুরুষদের বিয়ে, পরকীয়া, দ্বিতীয় বিয়ে, তৃতীয় বিয়ে সবকিছুই নরমাল। কিন্তু অন্যের বউ কী পরবে, কখন হাসবে, কোথায় যাবে, সেটা নিয়ে যে কারো মতামত থাকবে। একটা মেয়ের শরীর হয়ে যাবে পাবলিক প্রপার্টি। সবাই দেখবে, সবাই বিচার করবে, সবাই শাসন করবে।
ধর্মভিত্তিক রাজনীতির আসল শক্তি এইখানেই। তারা আইন দিয়ে কম শাসন করে, মানসিকতা দিয়ে বেশি শাসন করে। আর এই মানসিকতা একবার সেট হয়ে গেলে, আর পুলিশ লাগে না, কোর্ট লাগে না। একজন রিকশাচালকই যথেষ্ট। একজন কমেন্টবক্সের নারীই যথেষ্ট।
পুরুষদের নিয়ে আমি ভাবছি না কিন্তু নারীরা কেন জামায়াতকে ভোট দিবেন, সেটা ভাবা দরকার। পাবলিক প্রপার্টি বিবেচনায় রাস্তায় যে কোন নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করাকে অন্য একজন নারী যদি সাপোর্ট দেয়, তাহলে সে এপস্টেইনের গার্লফ্রেন্ড থেকে কম কীসে?