তুমি যা ভালোবাসো, তা ১০০% মন দিয়ে করো। আর যা ভালোবাসো না, তা করতে হবে ২০০% মন দিয়ে। এটাই নিজের সীমা ভাঙা।
আমরা সবাই একটা ফাঁদে আটকে আছি। ভালো লাগলে করবো, না লাগলে করবো না। এই ভালো লাগা, না লাগার হিসেবই আমাদের ছোট করে দিয়েছে।
" ভক্তি মানে পছন্দ নয়, সম্পূর্ণতা"---
আধ্যাত্মিকতা মানে শুধু যা ভালো লাগে তাই করা নয়। আধ্যাত্মিকতা মানে যা সামনে আসে, তাতেই সম্পূর্ণভাবে ডুবে যাওয়া।
নদী কখনো বলে না - আমি শুধু সুন্দর পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে বইবো, নোংরা শহরের মধ্যে দিয়ে বইবো না। সে সব জায়গা দিয়েই বয়। তাই সে সাগরে পৌঁছায়।
তুমি যখন শুধু পছন্দের কাজটা করো, তখন তুমি কর্তা। কিন্তু যখন অপছন্দের কাজটাকেও প্রেম দিয়ে করো, তখন তুমি আর কর্তা থাকো না, তুমি ধ্যান হয়ে যাও।
ঈশ্বর কোথায় থাকেন? শুধু মন্দিরে? না। তিনি থাকেন তোমার সম্পূর্ণতায়। তুমি যখন বাসন মাজছো, তখনও যদি ২০০% মন দিয়ে মাজো, ওটাই পূজা হয়ে যায়। কারণ তখন 'আমি পছন্দ করি না' বলে যে ছোট আমিটা আছে, সে মরে যায়। আর যেখানে 'আমি' মরে যায়, সেখানেই অসীমের জন্ম হয়।
"সীমা বাইরে নেই, সীমা তোমার পছন্দের মধ্যে"---
আমাদের সব সীমা তৈরি হয় পছন্দ-অপছন্দ থেকে।
আমি এটা পারি, ওটা পারি না। আমি এটা খাই, ওটা খাই না। আমি এর সাথে থাকবো, ওর সাথে থাকবো না। এই পছন্দগুলোই আমাদের চারপাশে একটা ছোট্ট দেওয়াল তুলে দেয়। আমরা ওই দেওয়ালের ভেতরেই সারাজীবন কাটিয়ে দিই আর ভাবি - এটাই আমার জীবন।
ঋষি বলছেন, দেওয়ালটা ভাঙো।
যেটা ভালো লাগে সেটা ১০০% দিয়ে করলে তুমি আনন্দ পাবে। কিন্তু যেটা ভালো লাগে না, সেটা ২০০% দিয়ে করলে তুমি মুক্তি পাবে।
কারণ প্রথমটা তোমাকে সফল করবে, দ্বিতীয়টা তোমাকে বড় করবে। একটা তোমাকে সুখ দেবে, আরেকটা তোমাকে মানুষ করবে।
যোদ্ধা আর সাধারণ মানুষের মধ্যে তফাৎ এখানেই। সাধারণ মানুষ পছন্দের জন্য লড়ে। যোদ্ধা অপছন্দকেও আলিঙ্গন করে। আর তখনই সে অজেয় হয়।
" জীবন এগোয় অপছন্দের সিঁড়ি বেয়েই"---
একটু ভেবে দেখো, জীবনে যা কিছু তোমাকে বড় করেছে, তার ৯০% কি তোমার পছন্দের ছিল?
সকালে ঘুম থেকে ওঠা, রোজ ব্যায়াম করা, কঠিন পড়া মুখস্থ করা, বসের বকা শুনেও কাজটা শেষ করা, সম্পর্কের কঠিন সময়টায় ধৈর্য ধরা - কোনোটাই ভালো লাগে না। কিন্তু এই 'ভালো না লাগা' কাজগুলোই তোমাকে তৈরি করে।
আমরা ভাবি - ভালো লাগলে ১০০% দেবো। ঋষি উল্টোটা বলছেন।
অফিসের যে ফাইলটা দেখতে বিরক্ত লাগছে, আজ সেটাই সবচেয়ে সুন্দর করে সাজাও। বাড়ির যে মানুষটার কথা শুনতে বিরক্ত লাগে, আজ তার কথা ২০০% মন দিয়ে শোনো। যে রাস্তায় হাঁটতে ইচ্ছে করে না, আজ সেই রাস্তাতেই একটু বেশি সময় হাঁটো।
দেখবে, যেটাকে তুমি শত্রু ভাবছিলে, সেটাই তোমার শিক্ষক হয়ে গেছে।
তোমার পছন্দ তোমাকে চেনা পথে নিয়ে যাবে। কিন্তু তোমার অপছন্দকে ২০০% দিয়ে করলে, সেটা তোমাকে নতুন পথে নিয়ে যাবে।
সীমা মানে তো এটাই - আমি এতটুকুই পারি। আর সীমা ভাঙা মানে - যা পারি না, তাতেও আমি পুরোটা দিলাম।
তাই আজ থেকে নিয়মটা পাল্টে ফেলো। ভালো লাগা কাজে ১০০% আর না লাগা কাজে ২০০%।
কয়েক মাস পর দেখবে, তোমার জীবনে 'ভালো লাগে না' বলে আর কিছুই নেই। সবটাই তোমার হয়ে গেছে। আর যে মানুষের কাছে সবটাই নিজের, তার কাছে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।