Friday, May 22, 2026

আমের ফালুদা

 


উপকরণ

  • তোকমা: ২ টেবিল চামচ

  • জেলাটিন কিউব করে কাটা: ১ কাপ

  • নুডলস: ১ কাপ

  • দুধ: আধা লিটার

  • চিনি: আধা কাপ

  • কনডেন্সড মিল্ক: আধা কাপ

  • পাকা আম: ২টি

  • আমের মণ্ড: ১ কাপ

  • ভ্যানিলা আইসক্রিম: পরিমাণমতো

  • কাঠবাদামকুচি, পেস্তাবাদামকুচি: ২ টেবিল চামচ

  • বরফকুচি: পরিমাণমতো


  • প্রণালি

    পানিতে তোকমা ভিজিয়ে রাখুন। ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর তোকমা নরম হয়ে ফুলে উঠলে পানি ঝরিয়ে নিন। জেলাটিন তৈরি করে নিতে হবে। প্যাকেটের গায়ে থাকা নিয়ম অনুযায়ী তৈরি করে নিন। ফালুদার জন্য নুডলস সেদ্ধ করে রাখুন। একটি পাত্রে পানি গরম করে নুডলসগুলো সেদ্ধ করে নিতে হবে। নরম হয়ে এলে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে আলাদা করে রাখুন। দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। এরপর চিনি ও কনডেন্সড মিল্ক মিশিয়ে ঠান্ডা করে ফ্রিজে রাখতে হবে। একটি আম কিউব করে কেটে রাখুন, আরেকটি আম ব্লেন্ড করে মণ্ড তৈরি করে নিন।

  • একটি গ্লাসে প্রথমে জেলি দিন। এরপর এক এক করে সাজিয়ে নিন নুডলস, তোকমা, কিউব করে কাটা আম, আমের মণ্ড ও ঠান্ডা দুধ। গ্লাসে ফালুদা সাজিয়ে নেওয়ার পর ওপরে এক স্কুপ ভ্যানিলা আইসক্রিম দিন। বাদামকুচি ও সামান্য আমের টুকরা দিয়ে দিন। কিছু বরফকুচি দিয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন আমের ফালুদা।

পনেরো_বছর_পর

 


সাত বছর বয়সে আমি কেঁদে কেটে পুরো পাড়া মাথায় তুলেছিলাম যে, আমি পাশের বাসার ওই বড় ভাইয়াটাকেই বিয়ে করব! আর ঠিক পনেরো বছর পর, ইউনিভার্সিটি শেষ করে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এক মাল্টিন্যাশনাল কর্পোরেশনের ভাইভা বোর্ডে যখন দাঁড়ালাম, তখন কোম্পানির এমডি (Managing Director) আমার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে জিজ্ঞেস করলেন, "তা, তুমি কি এখানে জুনিয়র অ্যানালিস্ট পদের জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছ... নাকি কোম্পানির এমডির বউ হওয়ার আবেদন করতে?"

আমি যখন সাত বছরের এক ফ্রক পরা পিচ্চি, তখন আমাদের পুরো মহল্লায় আমার একটা বিশেষ খ্যাতি ছিল—আমি ছিলাম এলাকার সবচেয়ে জেদি এবং একগুঁয়ে মেয়ে। আমাদের ছায়া সুনিবিড় সেই মফস্বল শহরের চেনা পাড়ায়, যেখানে কার ঘরে কী রান্না হচ্ছে তা-ও সবাই জানত, সেখানে এক রবিবার বিকেলে আমি এক কাণ্ড করে বসলাম।
উঠোনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে, দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে, আর আমি হাত উঁচিয়ে ঠিক উল্টো পাশের বাড়ির দশ বছরের বড় এক কিশোরের দিকে আঙুল তাক করে বড়দের সামনে চিৎকার করে বলছি:
"আমি বড় হয়ে শুধু আবির ভাইয়াকেই বিয়ে করব! আর কাউকেই বিয়ে করব না!"
ব্যস! পুরো পাড়ার মানুষ হেসেই খুন। আমার মা তো লজ্জায়, অপমানে লাল হয়ে ছুটে এসে আমার কান ধরে টেনে ঘরের ভেতর নিয়ে গেলেন। আর আবির ভাইয়া? লজ্জায় তার কানের লতি পর্যন্ত লাল হয়ে গিয়েছিল, বেচারা যে কোথায় মুখ লুকাবে ভেবে পাচ্ছিল না।
বড়রা হাসতে হাসতে বলছিলেন, "আরে বাচ্ছা মানুষ, কী বলতে কী বলছে ঠিক নেই!"
কিন্তু আমার একটা কথা আজও স্পষ্ট মনে আছে। সেদিন বিকেলে যখন সবাই চলে গেল, আবির ভাইয়া আমাদের বারান্দায় এসে আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল। আমার চোখের জল মুছে দিয়ে, চুলে আলতো করে বিলি কেটে এমন একটা শান্ত গলায় বলল যে আমার সব কান্না এক নিমেষে উধাও হয়ে গেল:
"ঠিক আছে, তুমি বড় হও, তখন এই বিষয়ে আবার কথা বলা যাবে। তবে তার আগে একটা শর্ত আছে—মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে। রাজি?"
আমি সঙ্গে সঙ্গে মাথা নেড়ে সায় দিয়েছিলাম। আর সেই দিন থেকেই আমার জীবনের লক্ষ্যটা খুব পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল: বড় হতে হবে, মন দিয়ে পড়তে হবে... আর আবির ভাইয়াকে বিয়ে করতে হবে।
আবির ভাইয়া ছিল এমন একজন মানুষ যাকে পছন্দ না করে কেউ থাকতেই পারত না। লম্বা, অমায়িক আর ভীষণ মেধাবী। ও একটু চুপচাপ স্বভাবের ছিল, কিন্তু ওর চোখে এমন এক ধরনের পরিপক্বতা ছিল যা আমি ছোট হয়েও অনুভব করতে পারতাম। ওর বাবা-মা ছোটবেলাতেই এক দুর্ঘটনায় মারা যান, তাই ও থাকত ওর দাদীর সাথে, আমাদের গলির শেষ মাথার একটা পুরোনো একতলা বাড়িতে। আমি যখন মাত্র প্রথম শ্রেণীতে পড়ি, ও তখন কলেজের ছাত্র।
প্রতিদিন বিকেলে ও বারান্দার ইজিচেয়ারে বসে হাতে একটা বই নিয়ে আমাকে খেলত দেখত। যেন কোনো এক অদৃশ্য উপায়ে ও সবসময় খেয়াল রাখত আমার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়।
সাইকেল চালাতে গিয়ে আছাড় খেয়ে হাঁটু ছড়ে গেলে, আবির ভাইয়াই ডেটল দিয়ে ক্ষত পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ বেঁধে দিত। অংকে কম নম্বর পেয়ে কাঁদলে, ও-ই পাশে বসে নামতা মুখস্থ করাত যতক্ষণ না আমি ঠিকঠাক বলতে পারছি। আর স্কুলে কেউ খেপালে আমি যখন মুখ ভার করে বাড়ি ফিরতাম, ও আলতো করে ডেকে পাড়ার মোড়ের দোকান থেকে আইসক্রিম কিনে দিয়ে বলত, "এবার একটু হাসো তো দেখি!"
আমার সেই ছোট্ট পৃথিবীতে ওই ছিল আমার রিয়েল-লাইফ সুপারহিরো।
কিন্তু আমার যখন বারো বছর বয়স... ও হুট করেই চলে গেল। কোনো সিনেমার মতো বিদায় দৃশ্য ছিল না, কোনো নাটকীয় জড়িয়ে ধরা বা বড় প্রতিশ্রুতি ছিল না। একটা সাধারণ সকালে আমি কাঁধে স্কুলের ব্যাগ ঝুলিয়ে বের হয়ে দেখলাম ওদের সদর দরজায় মস্ত বড় একটা তালা ঝুলছে। তার কিছুদিন আগেই ওর দাদী মারা গিয়েছিলেন। আর তার পরপরই আবির ভাইয়া ঘরবাড়ি বিক্রি করে ঢাকা চলে যায়।
আমি সেদিন ওদের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাগটা শক্ত করে ধরে এমনভাবে কেঁদেছিলাম, যেন আমার শৈশবের একটা মস্ত বড় অংশ কেউ বুক থেকে টেনে হিঁচড়ে ছিঁড়ে নিয়ে গেছে। সেই দিনের পর থেকে... দীর্ঘ পনেরো বছর আমি ওর আর কোনো খোঁজ পাইনি।
আমি বড় হয়েছি। আমি আর সেই সাত বছরের জেদি মেয়েটি নেই যে উঠোনের মাঝে দাঁড়িয়ে বিয়ের জন্য কান্নাকাটি করত। আমি আবির ভাইয়ার কথা রেখেছিলাম—মন দিয়ে পড়াশোনা করেছি। ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে অনার্স শেষ করে দেশের এক স্বনামধন্য পাবলিক ইউনিভার্সিটি থেকে ফিন্যান্সে এমবিএ (MBA) করেছি ফার্স্ট ক্লাস পেয়ে। সবাই বলত, আমার ভবিষ্যৎ নাকি দারুণ উজ্জ্বল।
কিন্তু আমার মনের অজান্তেই, একটা ছোট্ট কোণ সবসময় আবির ভাইয়ার জন্য তোলা ছিল। আমি জানতাম না ও কোথায় আছে, কেমন আছে, এমনকি ও আমাকে আদেও মনে রেখেছে কি না। কিন্তু যখনই আমি ক্লান্ত হয়ে পড়তাম, কোনো কিছুতে ব্যর্থ হতাম বা ভয় পেতাম, তখনই কানে বাজত ওর সেই শান্ত কণ্ঠস্বর:
"আগে মন দিয়ে পড়াশোনা করতে হবে।"
আর আমি দ্বিগুণ শক্তিতে কাজ শুরু করতাম।
যেদিন আমি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান 'রহমান অ্যান্ড ব্রাদার্স গ্রুপ'-এর গুলশান হেডকোয়ার্টারে আমার জীবনবৃত্তান্ত (CV) হাতে ঢুকলাম, তখন বুক ভরে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে নিজেকে বলেছিলাম—আমি শুধু একটা চাকরি চাই, আর কিচ্ছু না।
ইন্টারভিউ রুমটা ছিল বিশাল, চমৎকার এবং কিছুটা থমথমে। কাচ আর স্টিলের আধুনিক আসবাবপত্র, পিনপতন নীরবতা, আর নামী দামী পারফিউমের গন্ধ ছড়ানো। আমি মেরুদণ্ড সোজা করে বসলাম, ভাইভা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সব প্রশ্নের উত্তর বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথেই দিলাম এবং নিজের ভেতরের নার্ভাসনেসটা আড়াল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলাম। সবকিছু বেশ ভালোই যাচ্ছিল... ঠিক তখনই রুমের ভারী দরজাটা খুলে গেল।
রুমে একজন পুরুষ প্রবেশ করলেন। তাকে দেখামাত্র বোর্ডের বাকি সব বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও সিট ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেলেন।
পাশ থেকে একজন ফিসফিস করে বলল, "আমাদের কোম্পানির নতুন এমডি স্যার..."
আমার হৃৎস্পন্দন যেন এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তিনি আমার স্মৃতির চেয়েও অনেক বেশি লম্বা, ফিটফাট স্যুট পরা, চোখে একটা দৃঢ় এবং গম্ভীর চাউনি—যাকে দেখলে এমনিতেই সমীহ করতে ইচ্ছে করে।
কিন্তু উনার মুখটা... মুখটা অবিকল কার যেন মতো! উনার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি পুরো রুমটা ঘুরে এসে ঠিক আমার ওপর এসে স্থির হলো। এবং বেশ কিছুক্ষণ আটকে রইল। এতটাই দীর্ঘ সময় যে আমার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।
তারপর, উনার গম্ভীর মুখে মৃদু একটা হাসির রেখা ফুটে উঠল। আর সেই চেনা হাসিতে আমার ভেতরের পুরোনো, ধুলো জমা একটা অনুভূতি মোচড় দিয়ে উঠল।
একটু কৌতুক আর চেনা চেনা আকর্ষণের সুরে উনি গভীর গলায় জিজ্ঞেস করলেন:
"তা, তুমি কি এখানে জুনিয়র অ্যানালিস্ট পদের জন্য ইন্টারভিউ দিতে এসেছ... নাকি কোম্পানির এমডির বউ হওয়ার আবেদন করতে?"

Refreshing Teriyaki Stir-Fry Recipe with Chicken Thighs and New Potatoes

 


Ingredients:


Chicken thigh (cut into bite-sized pieces) - 1 piece


[A] Salt - 1/2 teaspoon


[A] Pepper - to taste


Cornstarch - to taste


New potatoes - 2


Salad oil - 1 tablespoon


[B] Soy sauce - 1 tablespoon


[B] Sake - 1 tablespoon


[B] Mirin - 1 tablespoon


[B] Sugar - 2 teaspoons


[B] Grated garlic - 1/2 teaspoon


Vinegar - 1 tablespoon


Instructions:


① Cut the chicken thigh into bite-sized pieces, rub in [A], and coat with cornstarch.


② Wash the new potatoes well and cut into bite-sized pieces. Place in a heatproof bowl, cover with plastic wrap, and heat in a 600W microwave for 5 minutes.



③ Heat salad oil in a frying pan over medium heat, then arrange ① and ② in the pan and cook. Cook until both sides are golden brown, then pour in [B] and simmer until the sauce thickens. Finally, add the vinegar and mix quickly, and it's done!


Serve with chopped green onions on top if desired!