Wednesday, September 2, 2026

সুন্দরবনের হারিয়ে যাওয়া নগরী নলদী : কোথায় গেল সেই প্রাচীন শহর?

 


আজ যেখানে কেওড়া-গরান-সুন্দরী গাছের অরণ্য, যেখানে জোয়ারের পানিতে ভেসে যায় নদীর বুক, সেই সুন্দরবনের বুকেই একদিন ছিল জনপদ, বন্দর, বাজার আর মানুষের বসতি। ইতিহাসের পুরোনো মানচিত্রে এমনই এক হারিয়ে যাওয়া নগরের নাম—নলদী (Noldy)।
পর্তুগিজ ও ওলন্দাজদের প্রাচীন মানচিত্রে সুন্দরবন অঞ্চলের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নগর বা বন্দরনগরের উল্লেখ পাওয়া যায়—Pacaculi, Cuipitavaz, Noldy, Dipuria এবং Tiparia। পরবর্তী গবেষকেরা এগুলোর কয়েকটির সঙ্গে বাংলার পরিচিত ঐতিহাসিক স্থানকে মিলিয়ে দেখেছেন। নলদী তাদের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময়।
সতীশচন্দ্র মিত্র তাঁর অমূল্য গ্রন্থ যশোহর-খুলনার ইতিহাস-এর প্রথম খণ্ডে ‘সুন্দরবনের বিনষ্টনগর নলদী’ নামে একটি পরিশিষ্ট লিখেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান দক্ষিণ ২৪ পরগনার নলুয়া নদীর তীরের নলুয়া হয়তো সেই প্রাচীন নলদীর স্থান। তবে তিনি নিজেই সতর্ক করে দিয়েছেন—ঠিক সেই স্থানটিই যে নলদী, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
মিত্রের বর্ণনায়, ১৮৭০ সালে খুলনার পণ্ডিত রেণী সাহেব ফরাসি পণ্ডিত কার্টামবার্ডের কাছ থেকে তিনটি প্রাচীন মানচিত্রের প্রতিলিপি সংগ্রহ করেন। এর মধ্যে N. Sanson-এর ১৬৫২ সালের মানচিত্র বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সেই মানচিত্রে নলদীর অবস্থান চিহ্নিত ছিল। নলদীর উত্তরে ছিল বিস্তৃত বুড়ন পরগনা। এই মানচিত্রের ভিত্তিতে মিত্র অনুমান করেন, ভাগীরথী ও মধুমতীর মোহনার মধ্যবর্তী সুন্দরবনের কোনো বিস্তীর্ণ দ্বীপে একসময় নলদী নামের শহর ছিল।
মিত্রের কল্পনায় নয়, তাঁর বক্তব্যের পেছনে ছিল পুরোনো ইউরোপীয় মানচিত্রের সাক্ষ্য। ১৬৫২ সালের Sanson-এর মানচিত্রটি তাই নলদীর ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
কিন্তু এখানেই ইতিহাসের আরেকটি আকর্ষণীয় বাঁক।
উনিশ শতকের আরেক গবেষক এইচ. ব্লকম্যান নলদীর অবস্থান নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছিলেন। তাঁর Contributions to the Geography and History of Bengal গ্রন্থে তিনি লিখেছেন—
“Noldy is the town and mahal of Noldi (Naldi) on the Noboganga, east of Jessore, near the Madhumati.”
অর্থাৎ ব্লকম্যানের মতে, Noldy কোনো হারিয়ে যাওয়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার শহর নয়; বরং এটি ছিল নবগঙ্গার তীরে, যশোরের পূর্বদিকে, মধুমতীর কাছাকাছি অবস্থিত নলদী বা নলদি।
এখানেই নলদীর রহস্য আরও গভীর হয়ে ওঠে।
কারণ পুরোনো মানচিত্রে নদীর গতিপথ আজকের মতো ছিল না। গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা বদ্বীপের নদীগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে গতিপথ পরিবর্তন করেছে। কোথাও নদী ভেঙেছে, কোথাও নতুন চর জেগেছে, কোথাও পুরোনো নদী শুকিয়ে গেছে। ফলে কয়েকশ বছর আগের একটি শহরকে বর্তমান মানচিত্রে হুবহু খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।
সতীশচন্দ্র মিত্রও তাঁর যশোহর-খুলনার ইতিহাস-এর ভূমিকায় সুন্দরবনের ইতিহাসের এই বিপন্নতার কথা বলেছেন। তাঁর ভাষায়, “ঝড়-ঝাপটা, প্লাবন ও অবনমন” সুন্দরবনের বহু প্রাচীন নিদর্শনকে বিলীন করে দিয়েছে। এমনকি এককালে খরস্রোতা নদীর সঙ্গমে গড়ে ওঠা নলদী ও ধূমঘাটের মতো বিশাল জনপদের চিহ্নও পরে খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
আরও চমকপ্রদ বিষয় হলো—নলদীকে শুধু একটি শহর হিসেবে নয়, একটি ‘মহাল’ বা প্রশাসনিক ভূখণ্ড হিসেবেও উল্লেখ করেছেন ব্লকম্যান। অর্থাৎ নামটি নিছক কোনো ছোট নদীতীরবর্তী বসতির নাম ছিল না—একটি বৃহত্তর প্রশাসনিক বা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গেও এর সম্পর্ক ছিল বলে অনুমান করা যায়।
তাহলে নলদী কি ছিল বন্দর?
পুরোনো পর্তুগিজ ও ওলন্দাজ মানচিত্রে Noldy-কে সুন্দরবন অঞ্চলের পাঁচটি উল্লেখযোগ্য শহর/বন্দরের অন্যতম হিসেবে দেখানো হয়েছে। পরবর্তী গবেষণায় অবশ্য এসব মানচিত্রের ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। ব্লকম্যান মনে করেছিলেন, পুরোনো ইউরোপীয় মানচিত্রগুলো সুন্দরবনের সমগ্র অঞ্চল একসময় সমৃদ্ধ নগরসভ্যতায় পূর্ণ ছিল—এমন সিদ্ধান্তের জন্য যথেষ্ট প্রমাণ দেয় না। তাঁর মতে, পুরোনো মানচিত্রে উল্লিখিত Noldy-কে বরং পরিচিত নলদী-র সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়।
অন্যদিকে সতীশচন্দ্র মিত্র মনে করেছিলেন, মানচিত্রকাররা কোনো কোনো স্থানের নাম ভুল উচ্চারণ বা বানানে লিখতে পারেন, কিন্তু সম্পূর্ণ কাল্পনিক শহর বানিয়ে মানচিত্রে বসিয়ে দেবেন—এটা সহজে বিশ্বাস করা যায় না। তাই তিনি সুন্দরবনের হারিয়ে যাওয়া নগরগুলোর অস্তিত্বকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
আজকের সুন্দরবনের দিকে তাকালে প্রশ্নটি তাই আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে—কোথায় গেল নলদী?
কোনো একসময় সেখানে হয়তো নদীর ঘাটে নোঙর করত বাণিজ্যতরী। বাজারে উঠত লবণ, ধান, মোম, মধু, কাঠ কিংবা অন্যান্য পণ্য। নদীর তীরে ছিল মানুষের বসতি। হয়তো ছিল মসজিদ, মন্দির, বাজার, ঘাট ও প্রশাসনিক স্থাপনা। তারপর নদী বদলেছে। ভূমি বসে গেছে। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে বদলেছে ভূপ্রকৃতি। একদিন মানুষের কোলাহল থেমে গেছে। শহরের ওপর নেমে এসেছে সুন্দরবনের সবুজ অন্ধকার।
আজ তার নামটুকু বেঁচে আছে কয়েকশ বছরের পুরোনো মানচিত্রে—NOLDY।
হয়তো কোনোদিন সুন্দরবনের কোনো মাটির নিচে, কোনো পুরোনো নদীর শুকনো খাতে, কিংবা কোনো উঁচু ঢিবির নিচে মিলবে সেই হারিয়ে যাওয়া শহরের চিহ্ন।
তখন হয়তো প্রমাণ হবে—সুন্দরবনের গভীর সবুজের নিচে সত্যিই ঘুমিয়ে আছে নলদী নামের এক প্রাচীন নগর।
সূত্র ও পাঠযোগ্য প্রমাণ
১. সতীশচন্দ্র মিত্র, যশোহর-খুলনার ইতিহাস, প্রথম খণ্ড, পরিশিষ্ট-ক, ‘সুন্দরবনের বিনষ্টনগর নলদী’, পৃ. ৮৫। এই অংশেই নলুয়া নদীর তীরের নলুয়াকে নলদীর সম্ভাব্য স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং ১৬৫২ সালের Sanson-এর মানচিত্রের কথা বলা হয়েছে।
২. H. Blochmann, Contributions to the Geography and History of Bengal, Part I, ‘Geographical’, pp. 23–25. এখানে Noldy-কে Noldi/Naldi on the Noboganga, east of Jessore, near the Madhumati হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
৩. The Indian Antiquary, Vol. III (1874), সংশ্লিষ্ট প্রবন্ধ/আলোচনা। এখানে Blochmann-এর নলদী-সংক্রান্ত মত এবং পুরোনো পর্তুগিজ-ওলন্দাজ মানচিত্রের পাঁচটি নগরের আলোচনা পুনর্মুদ্রিত হয়েছে।

৪. ১৬৫২ সালের Nicolas Sanson-এর মানচিত্র—Empire du Grand Mogol। সতীশচন্দ্র মিত্র যে মানচিত্রের প্রতিলিপির কথা বলেছেন, সেটিই নলদীর অবস্থান নিয়ে আলোচনার অন্যতম প্রধান প্রাচীন কার্টোগ্রাফিক সূত্র।

সাজেদ রহমান

আমি কোনদিনও আমার মায়ের মতো হতে চাই না।



আজকে আমার যে বয়স, আজ থেকে কুড়ি বছর আগে আমার মা ঠিক সেই বয়সে, দুটো মেয়েকে নিয়ে স্বামীহারা হয়েছিল। না, তার স্বামীর মৃত্যু হয়নি। বাড়ি ছেড়ে, সংসার ছেড়ে, স্ত্রী ও দুই মেয়ে ছেড়ে চলে গিয়েছিল সে, কারণ তার সিম্পলি মনে হয়েছিল যে এই পরিবারটা তার যোগ্য নয়।
হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন।
কেন মনে হয়েছিল এরকম?
এক, তার স্ত্রী তার মনের মতো যথেষ্ট সুন্দরী ছিল না। যদিও সেই বিয়ে প্রেমের বিয়ে ছিল, তবুও তার চারপাশের শিক্ষিত, চাকরিরত, ড্যাশিং, স্মার্ট মহিলাদের দেখে বাড়ির গ্রাম্য, সাদাসিধে, হোমমেকার, গোবেচারা মহিলাটিকে তার আর মনে ধরেনি। এবং এই মনে না ধরার ব্যাপারটা তাদের বিয়ের ষোল বছর পর তার মনে হয়।
দুই, আমার জন্মদাতার ইচ্ছা ছিল যে আমি দাবায় সাংঘাতিক কিছু করব। এটা তার ধ্যানজ্ঞান ছিল, যেটার বোঝা আমাকে টেনে নিয়ে চলতে হয়েছিল পাঁচ থেকে পনেরো বছর বয়স অবধি।
বাড়িতে রিসোর্সের অভাব ছিল না, কোচের অভাব ছিল না। যেখানে আজকের দিনেও একজন দাবার গৃহশিক্ষক ন্যূনতম পাঁচশো টাকা প্রতি ক্লাসে ফি চাইলে অনেক পেরেন্টের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে এবং তারা নিরন্তর মাছ বাজারের মতো দরকষাকষি করে চলেন, পঞ্চাশ টাকা হলেও কমানোর জন্য, সেখানে আজ থেকে কুড়ি বছর আগেও আমার বাবা আমার দাবাশিক্ষককে ক্লাসপিছু হাজার টাকা অবধি দক্ষিণা দিয়েছেন। সাথে এলাহি খাওয়াদাওয়ার আয়োজনের প্রসঙ্গ নাহয় নাই তুললাম।
এহেন অবস্থায় আমার ওপর যে মারাত্মক প্রেশারটা তৈরি হতো, তার থেকে অনেক কম প্রেশারে আমি অনেক ছাত্রকে নিজেকে শেষ করে দিতে দেখেছি।
প্রেশারের একটা নমুনা দিলে বুঝতে সুবিধা হবে।
একটা ন্যাশনাল টুর্নামেন্টে আমি ভালো ফল করতে পারিনি বলে বাবা আমাকে টানা দুদিন ঘরে দরজা বন্ধ করে আটকে রেখে দিয়েছিল খাবার আর জল ছাড়া। যাতে আমি টাকার মূল্যটা বুঝতে শিখি, যাতে বুঝতে শিখি যে আমার ও আমাদের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান যে জোগাড় করে, তার কষ্টটা কতখানি।
আমার দোল খেলার, বিসর্জনের প্রসেশনে বেরোনোর, লক্ষ্মীপুজোর দিন প্রসাদ বিলানোর, রথের দিন হইহই করে রথ টানতে বেরোনোর কোন ছুটি ছিল না। কারণ প্রিপারেশন নিতে হতো পরবর্তী টুর্নামেন্টের জন্য। যেখানে একটাদিনও ছুটি নেওয়া মানে খেলার ক্ষতি।
এই ছিল আমার মায়ের স্বামীর ফিলোসফি।
আমি সবরকমভাবে চেষ্টা করতাম ভালো খেলতে। কারণ আমি জানতাম, আমার খেলা খারাপ হলেই আমি বাবার হাতে যা মার খাবো, তা খাবো। উপরন্তু বাড়ি ফিরে বাবা মাকেও ছাড়বে না। চলবে অকথ্য গালিগালাজ, এবং আমার বাবার সেই কালজয়ী ডায়লগ, “ও আমার সন্তান হলে চ্যাম্পিয়ন হতো, তুমি নিশ্চয়ই অন্য কারোর সাথে শুয়ে এটাকে পেট থেকে বের করেছো।”
আমি সেই বয়সে এই কথার মানে ভালো জানতাম না। শুধু জানতাম, এই কথাটা কোনোভাবে আমার মাকে দুঃখ দেয়। তখন মা কাঁদে। তারপরই কথাকাটাকাটি হতে হতে মা হঠাৎ বাবার কাছে মার খায়।
আমার কাছে বাবার মনমতো হয়ে ওঠার সবচেয়ে বড় মোটিভেশন ছিল আমার মায়ের দুঃখ না পাওয়া। খেলায় ভালো রেজাল্ট করার চাপ ছিল, যাতে মাকে মার না খেতে হয়।
তিন, আমার বোনের জন্মগত কৃষ্ণ গাত্রবর্ণ নিয়ে আমার বাবার অসুবিধা। বোন হওয়ার পর আমার বাবা মায়ের ওপর ভীষণ ভীষণ সন্দেহ করতে শুরু করে। কারণ, মেয়ে কেন কালো? মেয়ের চোখমুখ, থুতনি, ভ্রু, এমনকি হাত-পায়ের আঙুলগুলো পর্যন্ত যে বাপের জেরক্স কপি, সেটা তার চোখে পড়ে না। পড়ে শুধু গায়ের রং।
বোন জন্মের পর থেকেই বাবার এতটাই চক্ষুশূল হয়ে যায় যে, ওর মাত্র ছয় মাস বয়সে, ও একদিন খুব চিৎকার করে কাঁদছিল বলে বাবা একটা লাথি দিয়ে ওকে ছিটকে টেবিলের নিচে ছুঁড়ে দেয়। বলা বাহুল্য, মা সেটা দেখে সহ্য করতে পারেনি। ফলাফল, কিছু পদাঘাত মায়ের কপালেও জোটে।
সন্দেহ একটা সময় এমন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করে যে আমাকে আমার বাবা তার পার্সোনাল ফুড টেস্টার বানিয়ে ফেলে।
রোজ সকালটা আমার কাছে একটা দুঃস্বপ্ন ছিল।
সাড়ে সাতটা বাজলেই বাবা অফিস যাওয়ার আগে খেতে বসত। সে এক গ্রাস খাবারও মুখে তোলার আগে আমাকে সবকটা পদ চেখে তাকে দেখাতে হতো যে মা খাবারে কোনোরকম বিষপ্রয়োগ করেনি।
ব্যাপারটা একসময় আমার এমন সহ্যের সীমার বাইরে চলে যায় যে একদিন মাকে বলেও ফেলেছিলাম, “আজকে সত্যি সত্যি বিষটা দিয়েই দাও।” অবশ্যই সপাটে একটা চড় গালে পড়েছিল এই কথা বলার জন্য।
ওই যে বললাম, আমি কোনদিনও আমার মায়ের মতো হতে চাই না।
মায়ের জায়গায় আমি থাকলে বিষটা দিয়েই দিতাম। দিয়ে প্রমাণ করে দিতাম যে আসলেই খাবারে বিষ মেশালে ওসব টেস্ট করে কিস্যু হবে না। তীর ঠিক জায়গাতেই গিয়ে লাগবে।
একদিনের কথা মনে পড়ে।
হাফ ইয়ারলি পরীক্ষা চলছিল। তার ফাঁকে স্কুলে বান্ধবীদের মধ্যে আলোচনা হচ্ছিল, কার বাবা কেমন। সবারটা শুনছিলাম মন দিয়েই। তারপর যখন আমার পালা এলো, আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, “জানি না, যা ইচ্ছে করুক, মরুক গে যাক।”
কথাটা বলামাত্রই ঘরে পিনড্রপ সাইলেন্স তৈরি হলো।
তারপরই যথারীতি বাকিরা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো,
“কেমন মেয়ে রে তুই!” “বাবা না থাকলে বুঝবি কী হয়!” ইত্যাদি ইত্যাদি।
শুধুমাত্র একজন ছাড়া।
সে কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে বাকিদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“চুপ কর তোরা। ও হয়তো কোনো সমস্যার মধ্যে আছে। হয়তো ওর বাবা ভালো না। সেটা আমরা কী করে বুঝব?”
বাকিরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও চুপ করে গেল।
ওদের কী করে বলতাম, যে আগের দিন রাতে আমার পিরিয়ডস শুরু হয়েছিল। তখন সবে সবে ওসব হচ্ছে। ভীষণ পেটে ব্যথা করত, সাথে গা গোলানো, মাথাব্যথা। আগের রাতে সারারাত ঘুমাতে পারিনি। ভোরের দিকে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
সকালে উঠতে নটা বেজে গিয়েছিল বলে বাবা আমাকে ঘুমন্ত অবস্থায় বিছানা থেকে টেনে নামিয়ে, আমি কিছু বুঝে ওঠার আগে পেটে অ-গুনতি বার লাথি মেরেছিল।
ইচ্ছা ছিল যে আমাকে মেরেই ফেলবে। কারণ আমার খেলা দিন দিন খারাপ তো হচ্ছিলই, এবার পরীক্ষাটাও খারাপ হবে, সবকিছুই খারাপ হবে। তার চেয়ে আমার বেঁচে থেকেই লাভ ছিল না কোনো।
মা তখন রান্নাঘরে রান্না করছিল। আমার চিৎকারে ছুটে এসে আমাকে নিজের শরীর দিয়ে আগলে ধরে। ফলবশত, কয়েকটা প্রসাদ মায়ের কপালেও জোটে।
পুরো ব্যাপারটার মধ্যে সবচেয়ে আশ্চর্য ব্যাপার ছিল এই যে, তারপরেও মা রান্না করে বাবাকে খেতে দেয়। আমাকে টেস্টও করে দিতে হয় যে সেই খাবার বিষহীন। তারপর বাবা সেটা খেয়ে অফিস চলে যায়।
ওই যে বললাম, আমি আমার মায়ের মতো কোনোদিন হবো না।
যেদিন আবিরের বাবা আমাকে মারতে মারতে মেরেই ফেলছিল, আর আড়াই বছরের আবির এসে আমাকে আমার মায়ের মতোই ওর পুরো শরীর দিয়ে আগলে ধরেছিল, ফলবশত ওর বাবা ওকে ছুঁড়ে খাট থেকে ফেলে দেয়, সেদিন আমি আমার মায়ের মতো তাকে রান্না করে খাইয়ে সেবা করিনি।
অন দ্যা স্পট সিদ্ধান্ত নিয়ে আটকুুড়োর ব্যাটাকে ছেড়ে চলে আসি। আই উইশ, আমার মাও এটাই করত।
মায়ের সেদিনের বয়স আর আমার সেদিনের বয়স একই তো ছিল প্রায়!
আমার মা আমাদের মানুষ করার জন্য অকথ্য পরিশ্রম করেছে। ভোরবেলা বাড়ি থেকে দুটো বড় বড় ব্যাগভর্তি শাড়ি নিয়ে বিক্রি করতে বেরোত। তারপর দশটার মধ্যে ফিরে এসে আমাকে আর বোনকে স্কুলের রান্না, টিফিন বানানো, সব করে দিয়ে তারপর বোনকে স্কুলে দিয়ে আবার বেরোত। ঢুকত ওর স্কুলের ছুটির পর, ওকে বাড়ি নিয়ে।
বিকেল পাঁচটার আগে মা দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় পেত না। সেই যে সেই অভ্যাস তৈরি হয়েছিল মায়ের, তা তার মৃত্যুর দিন অবধি ছিল। তার এই অবেলায় চলে যাওয়ার একটা মস্ত বড় কারণ ওই অভ্যাস।
তবুও মা কষ্ট করে যেত।
যাতে আমরা মানুষ হতে পারি। যাতে আমাদের পড়াশোনা ছাড়তে না হয়। যাতে আমরা মুখ উঁচু করে বাঁচতে পারি।
মাকে কোনোদিন বলিনি যে, আমার তখনকার এক ক্লাসমেটের মা আমাকে তাদের বাড়িতে যেতে মানা করে দিয়েছিল, কারণ আমার মা ডিভোর্সি। বান্ধবীদের বিয়ের নেমন্তন্ন পাইনি, কারণ আমার বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে গেছে।
মাকে বলিনি যে, আমি বিয়ের পর রোজ গঞ্জনা শুনতাম যে আমার মা ডিভোর্সি। যে সে নাকি আমাকে বিয়ে করে “উদ্ধার” করেছিল। কারণ বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে গেলে সেই মেয়ের বিয়ে হয় না সাধারণত।
মাকে বলিনি।
কারণ আমি মায়ের মতো হতে চাইনি।
মা ইউজুয়ালি কথায় কথায় কেঁদে ফেলত। আমি বহু বছর আগেই পণ করেছিলাম যে ওরকম কাঁদব না। নিজের কাছে নিজের কথা রেখেছি বইকি।
বাবাকে সংসারে ফিরিয়ে আনার জন্য মা সবরকম চেষ্টা করেছিল। যতরকম হয়। বাবার নতুন ভাড়া বাড়ি খুঁজে বের করে সেখানে গিয়ে তার পায়েও ধরেছিল, যাতে বাবা ফিরে আসে।
খালি একটাই অনুরোধ করেছিল, “মেয়েগুলোর কথা ভেবে অন্তত ফিরে চলো।” কাজ হয়নি সেই পাহাড় টলানো অনুরোধে।
আমি এই অন্যায় জীবনে করিনি।
কেউ আমাকে ছেড়ে যাবে, তার আগে আমি সব ছেড়ে চলে এসেছি। “সন্তানের মুখ চেয়ে ফিরে চলো” বলা আমার ধাতে তৈরি হতেই দেয়নি আমার মা।
সন্তানকে নিয়ে এতদূরে চলে গিয়েছি যে, সেখান থেকে পায়ে ধরে বা দেওয়ালে মাথা কুটে প্রাণ দিলেও আমাদের ফেরানো যাবে না। যায়নি।
মা সমস্ত আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়েছিল সন্তানের মুখ চেয়ে। আমি মায়ের মতো হবই না। সন্তানের মুখ চেয়েই আমি এক ভগ্নাংশও আত্মসম্মান বিকোব না।
বিনা যুদ্ধে নাহি দিবো সূচ্যগ্র ধরণী।
আমাকে যখন কেউ জিজ্ঞেস করে যে আমি ডিপ্রেশন কী জিনিস সেটা জানি কিনা, বলি, “না, জানি না সে কী জিনিস।” বলি না যে, আমি ডিপ্রেশন খেয়েছি, ডিপ্রেশনে স্নান করেছি, ডিপ্রেশনে ঘুমিয়েছি আর ডিপ্রেশনে জেগেছি।
বলিনা যে, অ্যাংজাইটি নিয়ে ছেলেখেলা করেছি জীবনে। খেলা খারাপ হলে বাড়ি ফিরে আসার থেকে মৃত্যু অধিক কাম্য ছিল। একটা সুতোর এদিকে ছিল বেঁচে থাকার অনিচ্ছা, ওদিকে ছিল একটা মরণঝাঁপ। সে ট্রেন থেকে হোক বা বাস থেকে, বা উঁচু বাড়ির ছাদ থেকে। বলি না যে, আমার মা আমাকে কোনোদিন সেই সুতোর কোন পাশে পড়তে দেয়নি। সযত্নে ধরে রেখেছিল আমাকে, যাতে ট্রাপিজের খেলা জারি থাকে।
বলিনা যে, এই সবকিছুর মধ্যে আমার মায়ের আর আমার কোনো দোষ ছিল না। মা আমার মতো হলেও পারত। বাকি সবকিছুর জন্য নিজের অস্তিত্বটাকে মা বিসর্জন না দিলেও পারত।
সেদিনের মা আর আজকের আমি, একই বয়সের।
আমি কোনদিনও আমার মায়ের মতো হতে চাই না।
~ মূল লেখা: মানবী চৌহান, কলকাতা।

এই স ব ঘট না এখন দেশে ডাল ভাত

 


এই মানুষ টা আমার হাজবেন্ড ছিলো। তার সাথে বিয়ে হয় ২০১৯ এ। তখন সে ইন্টার্ণ ডা: ছিলো এবং তাকে বিয়ে করার প্রধান এবং একমাত্র কারণ ছিলো - সে আগে হিন্দু ছিলো এবং তার ভাষ্যমতে সে ইসলাম ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করে মনে হয়েছে একমাত্র এই ধর্মটাই সত্য তাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। তারপর তার পরিবার জেনে যাওয়ার কারণে তাকে বাসা থেকে বের করে দেয় এবং সমস্ত যোগাযোগ এবং সম্পত্তি সবকিছু থেকে বঞ্চিত করে দেয়। তার অনেক স্ট্রাগলের কাহিনি যা শুনে সম্পূর্ণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাকে বিয়ে করি এবং বিয়ের আগে তার বংশও যাচাই করে নিই।

তার পরিবার যথেষ্ট শিক্ষিত, ভদ্র ও সম্পদশালী তাই বংশমর্যাদাও দেখি আমরা, যেহেতু সম্পত্তি পাওয়ার ইচ্ছে নেই কিন্তু ছেলে তার ব্যবহার তো পরিবার থেকেই পাবে তাই বংশমর্যাদা খুবই গুরুত্বের সাথে দেখি।
এবং আমি সহ আমার বিয়ে যেসব মুরুব্বি রা দেখে দিয়েছেন সবাই অনেক বার ইস্তিখারার নামাজ পরি। এবং আসলেই আল্লাহ সবকিছু সহজ করে দেন। বিয়ের পর তার দ্বীনদারিত্ব দেখার মতো ছিলো, আমার চেয়েও বেশি সচেতন বলা যায়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সে যথেষ্ট ভালো হাজবেন্ড ছিলো এবং আমাদের পরিবারের মূল কেন্দ্রবিন্দু বলা যায়।
কিন্তু ২০২৪ এর নভেম্বর থেকে সে যা কান্ড করছে এখন পর্যন্ত যা আগের ভালো গুলোর সবকিছু ছাড়িয়ে গেছে। তাকে নিয়ে আমি তবুও ফেইসবুকে লিখতাম না, এতোদিনও কিছু লিখি নি। কিন্তু আজ কিছুদিন তার ফেইসবুক, টিকটকের পোস্ট গুলো আমি দেখি নি, কিন্তু বিভিন্ন পরিচিত মানুষ রা দেখছে ও আমাকে নানান প্রশ্ন করছে, এতে আমার দোষ না থাকা স্বত্তেও সম্মানহানি হচ্ছে। সবকিছুর ছবি সহ প্রুভ এখানেই দিয়ে দিবো।
সে ২০২৪ সালে আবুধাবিতে তার অফিসের স্টাফ একজন পাকিস্তানি মহিলা যার স্বামী ও ৩ জন বাচ্চা সহ সংসার আছে, এমন মহিলার সাথে আমার আড়ালে প’র’কি’য়া শুরু করে। হঠাৎ তার সন্দেহজনক আচরণে তার ফোন থেকে সে ধরা খায়। ওইসময় সে আমাকে এবং আমার মেয়ে আয়েশাকে আবুধাবিতে কি পরিমাণ মা’ন’সি’ক য’ন্ত্র’ণা দিছে তা লিখে প্রকাশ করা অসম্ভব! সে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত বাসায় আসতো না। কখনো যদি আসেও তবুও আমার সাথে কথা বলতো না, আর প্রচুর খারাপ ব্যবহার তো আছেই। আর ওইদিক দিয়ে ওই মহিলার হাজবেন্ড ও পরিবারেও তাকে নিয়ে ঝামেলা হয়। সে ওই মহিলাকে লেটেস্ট আইফোন কিনে দেয়া সহ বিভিন্নভাবে ৯-১০ লক্ষ টাকা খরচ করে। তারপর এই সবকিছু নিয়ে ওই মহিলা চলে যায়।
তারপর তার মাথায় ঢু’কে সে ২য় বিয়ে করবে, সে মর্ডান মেয়ে একজন চায় বউ হিসেবে হালাল ভাবে। সে নিজেও পুরোপুরি চেঞ্জ হয়ে যায়, যেখানে সে আগে পরিপূর্ণ সুন্নাহ পালন করতো সেখানে সে এখন পুরোপুরি তার বিপরীত। গান বাজনা শুনা, লাইফস্টাইলে সবকিছু তে ১০০% চেঞ্জ। তার সুন্নতি দাড়িও কেটে ফেলে। সে ২য় বিয়ের আরও একটা কারণ বলে, আমার বাচ্চা মানে আয়েশা যে হলো, এই প্রেগ্ন্যাসি টা অনেক ট্রিটমেন্টের পর হয়েছিলো। তাই সে আমার আত্নীয় দের বলে তার নাকি অনেক বাচ্চা লাগবে, অনেক বংশধর লাগবে কিন্তু নিগারের তো আর বাচ্চা হবেনা। তাই নাকি তার বিয়ে করতে হবে আরও বাচ্চার জন্য।
কিন্তু আল্লাহর কি হুকুম, সে এটা যে মাসে বলেছিলো সেই মাসেই আমি প্রে’গ’ন্যা’ন্ট হয়ে যাই। এটাতে সে খুশির বদলে যেনো মন খারাপ করে ফেললো। তারপরও তার ২য় বিয়ে করতেই হবে, এইবার বাংলাদেশে মেয়ে দেখতেছে। তার ম’র্ডা’ন মেয়ে লাগবে। গাড়িতে একসাথে গান শুনবে, মুভি দেখতে যাবে, পেন্ট শার্ট পরবে , নাচ দেখাবে। এইগুলো নাকি তার শখ। অথচ আল্লাহ ২য় বিয়ে হালাল করেছেন, হালাল চাহিদা পূরনে। আর তার যখন শুন্য পকেট ছিলো তখন আরও ভালো ভালো ডাক্তার প্রস্তাব বাদ দিয়ে তাকে বিয়ে করলাম, স্ট্রাগল শেষ হয়ে যখন বিদেশ গিয়ে টাকা হলো তখন সে আল্লাহর থেকেই দূরে সরে গেলো। অথচ টাকার প্রতি লোভ থাকলে ওইসব সবদিক থেকে স্যাটেল প্রস্তাব তো নিজ হাতে বাদ দিতাম না। আমার পরিবার শুধুমাত্র "আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং একজন নওমুসলিমের হাতে নিজেদের মেয়ে দেয়ার মাধ্যমে জান্নাত পাওয়ার উসিলায়" ওর কাছে বিয়ে দেয়। সত্যি বলতে তখন ওর মেডিকেল কলেজ সহ বিভিন্ন জায়গায় ওর ব্যাপারে খবর নিয়ে সবকিছু পজিটিভ ই পেয়েছিলো। সাথে ডা হবার পরও সবকিছু পরিপূর্ণ সুন্নাহ মোতাবেক পালন করা দেখে আমিও আর দুনিয়াবি সম্পদের কথা ভাবিনি।
যাইহোক আমি ২য় বার প্রেগন্যান্ট হবার পর জোড় করে আমাকে বাংলাদেশে রেখে চলে যায় এবং প্রতিটি দিন-রাতে আমাকে শুধু ফোনে ২য় বিয়ের কথা বলতো, তার নাকি একটা মেয়ে পছন্দ হইছে। তাকে বিয়ে করবে। আমি একদিকে প্রে’গ’ন্যা’’ন্ট আর অন্যদিকে সে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন কোনো রাত যেতো না কা’’ন্না না করে থাকতাম আর মানসিক অশান্তি ত আছেই। তারপর হঠাৎ সাড়ে পাচ মাসে বাচ্চা ডে’লিভারি পে’ই’ন উঠে যায় এবং একজন ছেলেবাবু ডেলিভারি হয়ে যায়। অথচ ডেলিভারির ২ দিন আগেও এনোম্যালি স্ক্যান করি, সবকিছু নরমাল ছিলো, সার্ভাইক্যাল লেন্থও। ডা: নিজেও অবাক....!
তারপর সে ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ আমাকে না জানিয়ে দেশে এসে বিয়ে করে এক টিকটকার ও প’তি’’তা মেয়েকে। ওই মেয়ের বয়ফ্রেন্ড কিভাবে যেনো আমার ফেইসবুক পায় সে আমাকে মেসেজ দিয়ে বলে " আপু আপনার হাজবেন্ড তো আমার ওয়াইফ কে বিয়ে করে ফেলছে আজকে " তারপর সে তাদের অনেক ঘ'নি'ষ্ট ছবি পাঠায় এবং বলে ওই মেয়ের সাথে অনেক বার তার শা'রী'রি'ক সম্পর্ক হইছে, ইভেন জুনায়েদ ওই প'তি'তা'কে বিয়ের ১০ দিন আগেও ওই মেয়ে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। তখন আমি জুনায়েদ কে ফোন দেই কিন্তু সে অস্বীকার করে সে বাংলাদেশে আছে কিন্তু আমি তো ধারণা করে বুঝেছি এবং প্রমানও পেয়েছি। তাই তাকে চিল্লাই চিল্লাই কান্না করে বললাম " ঠিক আছে আপনি বিয়ে করেন কিন্তু এই মেয়ের এই অবস্থা, অন্তত দ্বীনদার না হোক কিন্তু ভালো প্রফেশনাল, ভদ্র দেখে কাউকে বিয়ে করেন, এই মেয়ে আপনার জীবন শেষ করে দিবে" কিন্তু আসলে সে ততক্ষণে বিয়ে করে ফেলে। তারপর আমার এই কষ্টে কি অবস্থা গেছে সেটা নাহয় না-ই বলি! আর হ্যা আমি তাকে বারবার ডি’ভো’র্স দিতে চাইছি কিন্তু সে আমাকে ডি’ভো’র্স দিতে রাজি ছিলো না, আমার পরিবারও আরও ধৈর্য ধরতেই বলছিলো যেহেতু একটা বা’চ্চা আছে। ও হ্যা, সে এই মেয়েকেও বিভিন্ন দামি গিফট সহ, স্বর্ণ, লেটেস্ট আইফোন ও ১০ লক্ষ টাকা কাবিন পরিশোধ করে দেয়।
অথচ আমার কাবিন কিন্তু এখনো পরিশোধ করে নি।আমাকে বাংলাদেশেই ফেলে রাখে। আবুধাবিতে নিতে বললে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অযুহাত ও শর্ত দেয়। বাংলাদেশে আমার ও আমার মেয়ের খরচ ঠিকমতো দিয়েছে কিন্তু আড়ালে তারচেয়ে অনেক গুন বেশি খরচ করে ওই মেয়ের পিছনে এবং তার লাইফস্টাইলে। আর হ্যা, ওই প'তি'তা মেয়ে রেগুলার সিগ্যারেট ও ম'দ খায়। ও নিজে বলেছে, ওই মেয়েকে নিয়ে যেখানেই ঘুরতে যায় সেখানেই ম'দ আর সিগারেটের জন্য পাগল হয়ে যায়। জুনায়েদ ওই মেয়েরে বিভিন্ন 5 star হোটেলের বারেও নিয়ে গেছে।
তারপর জুনায়েদ ওই মেয়েকে বিয়ের পর আবুধাবিতে চলে যায়, যেহেতু ওই মেয়ের ভিসা হচ্ছিলো না তাই দেশেই রেখে যায়। ও যাওয়ার একমাসের মধ্যে ওই মেয়ে বয়ফ্রেন্ডের কাছে আবার চলে যায় এবং জুনায়েদ কে জানুয়ারি তে ডি’ভো’র্স দিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে বয়ফ্রেন্ড কে বিয়ে করে কোনো প্রকার ইদ্দদ পালন করা ছাড়াই। মানি ইসলাম মতে ওই বিয়ে টাও হারাম। তারপর ওইখানে বয়ফ্রেন্ডের সাথে ৫/৬ মাস সংসার করে, সেখানেও প্রচুর ঝামেলা হয় তাদের মধ্যে, সেটা আর না বলি। বয়ফ্রেন্ড পয়সা ওয়ালাও না,মা’ই’র’পি’ট হইতো প্রচুর। তারপর ওই মেয়ে আবার জুনায়েদ এর কাছে যাইতে পাগল হয়ে যায়। অবাককর বিষয় হলো এই জুনায়েদও তারে আনার জন্য পাগল হয়ে যায় কিন্তু আমাকে প্রতিনিয়ত মিথ্যা বলে, যদিও আমি বুঝতাম কিন্তু আমি দূরে থাকার কারনে কিছু করতেও পারতাম না আর মানুষ কে জোড় করে ধরে রাখার ইচ্ছেও আমার নেই। আমি অনেক বার তাকে ডি'ভো'র্স' দেয়ার এটেম্প নেই কিন্তু পারিনি। আর ওই মেয়ে বাংলা তে ডিগ্রি পাশ করছে, ইংরেজিও রিডিং পারেনা। শুধু টিকটকে ফিল্টার দিয়ে ভিডিও করে। টিকটকের মতো ছাপড়ি এপ এখনো আমার ফোনে নেই। আমাদের পুরা গুষ্টিতেও কেউ এই এপ চালায় না। কিন্তু জুনায়েদ ডা: হিসেবে ওর সব পার্সোনালিটি শেষ করে দিছে,
তার টিকটকের পোস্ট, বিভিন্ন ইডিট, ভিডিও এইগুলা দেখলে মনেহয় না সে যে একজন শিক্ষিত পার্সন। তার চলাফেরা, স্টাইল সব ওই মেয়ের মতোই ছাপড়ি হয়ে গেছে। আজ প্রায় ২ বছর হয়ে যাচ্ছে আমাকে দেশে রেখেছে, প্রতিবার আবুধাবি নিতে বললে বিভিন্ন অজুহাতের শেষ নেই।
এখন আজকে কয়েকদিন সে টিকটক ফেইসবুকে সরাসরি ওই মেয়েকে নিয়ে রোমান্টিক পোস্ট দিচ্ছে। তার সাথে আমি এড নেই। তার প্রতি আমার রুচি, ভালোবাসা একদম উঠে গেছে কিন্তু আমার কিছু পরিচিত মানুষ তার ফেইসবুক, টিকটকে এড আছে তারা আমাকে এইগুলো পাঠিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করছে এবং আমাদের পুরো ফ্যামিলি ল’জ্জা’য় পরে যাচ্ছে। সে যা করছে আমার সাথে সেগুলো কখনো ই বলতাম না যদি না সে নিজে অনলাইনে এইরকম শুরু না করতো, যেহেতু সে আমার মেয়ের বাবা। মেয়ের কাছে আমি সবসময়ই ওর বাবাকে হিরো বানিয়ে রেখেছি। ভাবছি বাবা হিসেবে সে আসলে কতটা হতভাগ্য, নিজের এতো কিউট একটা বাচ্চা মেয়ে কে দূরে সরিয়ে আরেক প'তি'তা'র সাথে লু'তু'পু'তু করছে। অথচ বাচ্চাটা কত অভিনয় করে, কত পাকা পাকা কথা বলে, এই নিয়ামত সে দূরে ঠেলে রেখেছে।
যাই হোক দুই বছর অনেক কা''ন্না করেছি, মানুষের সামনে ভালো থাকার অভিনয় করেছি,সব ঠিক করার চেষ্টা করেছি কিন্তু i'm tired. এখন বুঝতে পারছি আসলে ছেড়ে দেয়াই শান্তি তাই তাদের এইসকল পোস্ট দেখে কেউ আমাকে নক দিবেন না প্লিজ। ওর সাথে আমি আর নেই। ওর সাথে জোড় করে থাকলে হয়তো দুনিয়ার চাকচিক্য পেতাম কিন্তু আল্লাহ কে হারিয়ে ফেলতাম।
আর হাস্যকর কথা হচ্ছে -- সে এখন ওই প'তি'তা মেয়ে কে বিয়ে করলে এটাও তো হালাল হবেনা,তাদের বাচ্চা হলে সেগুলোও🙄। কারণ ওই মেয়েতো ওরে একবার ডি'ভো'র্স দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বয়ফ্রেন্ড কে বিয়ে করে.. !
যাই হোক এই ব্যপারে আমার অতি উৎসাহি আত্নীয় রা আমার আব্বুকে কল দিবেন না প্লিজ। আর নওমুসলিম ও পরিবারের সহচর্চ ছাড়া মানুষকে বিয়ে করার আগে হাজার বার ভাববেন..!
বি দ্র : স্বামীর একাধিক বিয়ে মানা খুব কঠিন হলেও মেনে নিয়ে থাকা যেতো যদি তার ২য় বিয়ের উদ্দেশ্য হালাল হতো। আর বর্তমানে তো তাদের এই সম্পর্ক টাই হারাম হবে, যতই কবুল বলে বিয়ে হোক। এই হারামের মধ্যে থেকে কখনোই আমি শান্তি পেতাম না তাই আর কেউ অন্তত এটা বলিয়েন না বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে হয়তো সবর করতে পারতাম।
***লেখা: Nigar Tabassum ***
*** ছবি: Nigar Tabassum ***