পূজা কতটুকু করলে অর্থনীতি বাঁচবে, এবার তারও মন্ত্রণালয় লাগবে যা বুঝা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নদী, জনশৃঙ্খলা, এমনকি ভারতের মুসলমানদের নিরাপত্তা, সব সমস্যার মূল কারণ অবশেষে আবিষ্কৃত হয়েছে -দুর্গাপূজা। এখন শুধু বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো বাকি।
বিষয় হচ্ছে, সরকার দুর্গাপূজার ছুটি বাড়িয়েছে। তার প্রতিবাদে “ইনসাফ কায়েমকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা” নামের একটি সংগঠন রাস্তায় নেমেছে। তাদের বক্তব্যের সারকথা, পূজা হিন্দুদের ধর্মীয় উৎসব; মুসলমানরা পূজা করে না, অতএব মুসলমানদের পূজার ছুটি দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই।
একই সময়ে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রায় ৮৫ বছর ধরে দুর্গাপূজা হয়ে আসা একটি মন্দিরে রাতের অন্ধকারে নির্মাণাধীন প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। নিউ এজ চারটি প্রতিমার কথা বলেছে, আর দ্য ডেইলি স্টার পরবর্তী প্রতিবেদনে সাতটি প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে; পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে।
দুটি ঘটনাকে পাশাপাশি রাখলে লজ্জাজনক রাজনৈতিক বৈপরীত্যটা চোখে পড়ে। একদিকে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, সংখ্যালঘু ধর্মীয় উৎসবের জন্য রাষ্ট্র কেন অতিরিক্ত ছুটি দেবে; অন্যদিকে সেই উৎসবের প্রতিমাগুলোই নিরাপদ রাখতে রাষ্ট্রকে পুলিশ পাঠাতে হচ্ছে। একই নাগরিককে একদিকে বোঝাতে হচ্ছে কেন তাঁর উৎসব রাষ্ট্রীয় পঞ্জিকায় জায়গা পাওয়ার যোগ্য, অন্যদিকে তাঁকেই রাষ্ট্রের কাছে নিশ্চয়তা চাইতে হচ্ছে যে উৎসব শুরু হওয়ার আগেই তাঁর প্রতিমাটি ভেঙে দেওয়া হবে না।
তাহলে এই প্রশ্ন দিয়েই শুরু করা যাক, বাংলাদেশের জনপরিসরে কোন ধর্মকে আমরা স্বাভাবিক বলে ধরে নিই, আর কোন ধর্মকে দৃশ্যমান হতে প্রতিবার নিজের বৈধতা প্রমাণ করতে হয়?
ইনসাফ কমিটির প্রথম বক্তব্য, “পূজার ছুটি কিছুতেই বৃদ্ধি করা যাবে না। পূজা হিন্দুদের, মুসলমানদের নয়।” বেশ। তাহলে এই নীতিটা সত্যিই প্রয়োগ করা যাক। রাষ্ট্রের ছুটি যদি নির্ধারিত হয় কে ব্যক্তিগতভাবে কোন ধর্মীয় আচার পালন করেন তার ভিত্তিতে, তাহলে ঈদের ছুটিতে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানরা অফিস করবেন? বড়দিনে মুসলমান ও হিন্দুরা? বুদ্ধপূর্ণিমায় বাকিরা? রাষ্ট্র কি এবার প্রত্যেক কর্মচারীর ধর্ম দেখে আলাদা হাজিরা খাতা ছাপাবে?
সরকারি ছুটি ধর্মীয় আনুগত্যের সনদ না। ঈদের ছুটিতে একজন হিন্দু মুসলমান হয়ে যান না, বড়দিনের ছুটিতে একজন মুসলমান খ্রিস্টান হন না, বুদ্ধপূর্ণিমায় অফিস বন্ধ থাকলে রাষ্ট্র বৌদ্ধ হয়ে যায় না। সরকারি ছুটি রাষ্ট্রের নাগরিক পঞ্জিকার অংশ। বহুধর্মীয় সমাজে এর প্রতীকী অর্থও আছে, রাষ্ট্র জানাচ্ছে, সংখ্যায় কম হলেও আপনার উৎসবও এই দেশের সামষ্টিক জীবনের অংশ।
কোনো সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবকে বহুধর্মীয় রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিলে অন্য সম্প্রদায় সেই ধর্ম গ্রহণ করে না। “আমি পূজা করি না, অতএব পূজার ছুটি আমার হতে পারে না”, এই যুক্তি অনুসরণ করলে বহুত্ববাদী রাষ্ট্রের বদলে আমরা পাব ধর্মভিত্তিক আলাদা আলাদা অফিস-টাইম।
তারপর দাবির মধ্যে অর্থনীতি এসে হাজির, “পূজার নামে টানা পাঁচদিন ছুটি রেখে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়া যাবে না।” অর্থনীতির প্রতি এই আকস্মিক মমতা বেশ হৃদয়স্পর্শী। কিন্তু এই একই সংগঠনের প্রকাশিত দাবিতে আগস্টে বলা হয়েছিল, ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে পুরো রবিউল আউয়াল মাসজুড়ে সরকারি ছুটি, সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বাজেট, সরকারি-বেসরকারি কর্মচারীদের বিশেষ ভাতা এবং বাধ্যতামূলক আয়োজন করতে হবে।
পূজায় কয়েক দিনের ছুটি হলে অর্থনীতি পক্ষাঘাতগ্রস্ত; নিজের পছন্দের ধর্মীয় উপলক্ষে এক মাস ছুটি হলে অর্থনীতি মনে হয় অলৌকিকভাবে সুস্থ হয়ে দৌড়াবে।
এরপর দাবি, “মণ্ডপের বাইরে পূজা আনা যাবে না।” অথচ
এই সংগঠনই জুলাইয়ে গাইবান্ধায় একটি মন্দির চত্বরে রাম বিগ্রহ নির্মাণের বিরোধিতা করে সেটিকে “সম্প্রীতির জন্য হুমকি” বলে বন্ধের দাবি জানিয়েছিল। তাদের প্রকাশিত আরও দাবিতে রথযাত্রা বন্ধ এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদসহ কয়েকটি সংগঠন নিষিদ্ধ করার কথাও পাওয়া গেছে।
“মন্দিরের বাইরে পূজা নয়” এই স্লোগানে একটা বৃহত্তর ধারণা দেখা যায়, সংখ্যালঘু ধর্ম থাকবে, তবে যতটা সম্ভব ব্যক্তিগত ও অদৃশ্য হয়ে।
সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদ একদিনেই হয় না।তার আরও কার্যকর পদ্ধতি হলো সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় উপস্থিতিকে স্বাভাবিক এবং সংখ্যালঘুর একই উপস্থিতিকে বিশেষ সুবিধা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম জনপরিসরে থাকলে সেটা সংস্কৃতি; সংখ্যালঘুর ধর্ম জনপরিসরে এলে হয়ে যায় সমস্যা।
তখন ঈদের ছুটি জাতীয় পঞ্জিকা, কিন্তু পূজার ছুটি “হিন্দুদের জন্য মুসলমানের ছুটি”; সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মীয় নিরাপত্তা আইনশৃঙ্খলা, কিন্তু পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা “বিশেষ সুবিধা”।
১৯৭২ সালের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ধর্মহীনতার ঘোষণা ছিল না; তার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সাম্প্রদায়িকতা এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক বৈষম্য প্রতিরোধ করা। পরে ধর্মনিরপেক্ষতা সরানো হয়েছে, ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হয়েছে, আবার ধর্মনিরপেক্ষতা মূলনীতি হিসেবে ফিরেছে। ফলে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পরিচয়ের মধ্যেই একটি ঐতিহাসিক টানাপোড়েন রয়ে গেছে। বর্তমান সংবিধান একই সঙ্গে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম বলছে এবং অন্যান্য ধর্ম পালনে সমান মর্যাদা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করার কথাও বলছে।
এই প্রেক্ষাপটে কয়দিন আগে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য, “ঈদে বিশেষ নিরাপত্তা না দিলে পূজায় কেন?” সমতার ভুল ব্যাখ্যা। সমতা মানে অভিন্ন নিরাপত্তা না। সমতা মানে ঝুঁকি অনুযায়ী এমন সুরক্ষা দেওয়া, যাতে সবাই সমানভাবে অধিকার ভোগ করতে পারে। যে উপাসনালয়ে হামলার বিশ্বাসযোগ্য ঝুঁকি বেশি, সেখানে বেশি পুলিশ দেওয়া কোনও প্রিভিলেজ না। উল্টো আমাদের আলোচনা করা উচিত, একজন নাগরিককে নিজের ধর্ম পালন করতেই এত পুলিশ কেন প্রয়োজন হচ্ছে।
এই জায়গায় “বিশেষ নিরাপত্তা” শব্দটিও বিভ্রান্তিকর। বিশেষ নিরাপত্তা শুনলে মনে হয় রাষ্ট্র কাউকে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে। অথচ বাস্তবে যদি কোনো সম্প্রদায়ের উপাসনালয় বা উৎসব অন্যদের তুলনায় বেশি হামলার ঝুঁকিতে থাকে, তাহলে বাড়তি নিরাপত্তা বিশেষ অধিকার না, সমান অধিকার কার্যকর করার উপায়।
আরও বিপজ্জনক প্রবণতা হলো বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিকের অধিকারকে ভারতের মুসলমান নাগরিকের অবস্থার সঙ্গে বিনিময়যোগ্য করে দেখা। ভারতে মুসলমানের বিরুদ্ধে বৈষম্য, বিদ্বেষ বা সহিংসতা হলে তার প্রতিবাদ ন্যায়সংগত।
কিন্তু তার সঙ্গে বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার বিনিময় করা যায় না। বাংলাদেশের হিন্দুর অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব দিল্লির নয়; বাংলাদেশের রাষ্ট্রের। একইভাবে ভারতের মুসলমানের অধিকার বাংলাদেশের আচরণের ওপর নির্ভর করতে পারে না। সংখ্যালঘুর অধিকার আন্তঃরাষ্ট্রীয় বিনিময়চুক্তি না।
যানজট অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, শব্দদূষণও। কিন্তু আইনটি হতে হবে ধর্মনিরপেক্ষ এবং আচরণভিত্তিক। রাস্তায় পূজার মিছিল যানজট করলে যে আইন প্রযোজ্য হবে, জুমার নামাজ, ঈদের জামাত, ওয়াজ, রাজনৈতিক সমাবেশ কিংবা অন্য যেকোনো অনুষ্ঠান রাস্তা বন্ধ করলেও একই নীতি প্রযোজ্য হতে হবে। আইন দেখবে, আপনি কী করছেন। আপনি কোন ধর্মের অনুসারী সেটা আইন দেখে না।
এরপর পরিবেশ রক্ষার মহান দায়িত্ব: “নদী, নালা, খাল, বিল, সমুদ্রে অবৈধভাবে পূজার মূর্তি ফেলা যাবে না।”
পরিবেশগত উদ্বেগ নীতিগতভাবে ঠিক আছে। প্রতিমার রং বা অজৈব উপাদান পানিদূষণ করলে পরিবেশসম্মত বিসর্জননীতি প্রয়োজন অবশ্যই। কিন্তু তখন রাষ্ট্রের একই পরিবেশনীতিতে কুরবানীর বর্জ্য, শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক, পয়োবর্জ্য, দখল, নদীভরাট, সবই আসবে। পরিবেশনীতি যদি কেবল সংখ্যালঘুর ধর্মীয় আচারের সামনে এসে হঠাৎ জেগে ওঠে, তাকে পরিবেশবাদ বলা কঠিন। বলা যেতে পারে selective environmentalism।
সবচেয়ে চমৎকার বাক্য অবশ্য শেষে, “মণ্ডপগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাতে হবে, নইলে বাংলাদেশের হিন্দুরা ভারতের মুসলিম নির্যাতনের সমর্থক এবং ইন্ধনদাতা, সেটা প্রমাণিত হবে।”
এই যুক্তি নাগরিকত্বের ধারণার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
কুমিল্লার একজন হিন্দু শিক্ষক ভারতের উত্তর প্রদেশ সরকারের প্রতিনিধি নন। খুলনার একজন হিন্দু দোকানদার নরেন্দ্র মোদির রাষ্ট্রনীতির guarantor নন। রংপুরের একজন হিন্দু নারী ভারতে কোনো মুসলমানের ওপর অপরাধের জন্য collective defendant নন।
ভারতে মুসলমানের বিরুদ্ধে অন্যায় হলে তার প্রতিবাদ ঠিক আছে। কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিককে সেই প্রতিবাদে বাধ্য করে, না করলে ভারতের নিপীড়নের “সমর্থক ও ইন্ধনদাতা” ঘোষণা করা হলো সরাসরি collective guilt এর রাজনীতি।
এর বিপজ্জনক আয়না একবার উল্টো করে দেখুন। পৃথিবীর কোথাও কোনো মুসলমান অপরাধ করলে যদি ভারতের মুসলমান নাগরিককে বলা হয়, “আপনি প্রকাশ্যে নিন্দা না করলে ধরে নেব আপনিও এর সমর্থক”, আমরা যথার্থভাবেই একে সাম্প্রদায়িক profiling বলব।
একই নীতি বাংলাদেশের হিন্দুর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করলে তার নাম বদলে যায় না। একজন হিন্দু যেন প্রথমে হিন্দু, পরে বাংলাদেশের নাগরিক। পৃথিবীর সব হিন্দুর কাজের জন্য তাঁর কাছ থেকে loyalty test নেওয়া যাবে। অথচ আধুনিক নাগরিকত্বের ধারণাই তৈরি হয়েছে এর বিপরীতে, ব্যক্তি নিজের কাজের জন্য দায়ী, তার ধর্মীয় সম্প্রদায়ের পৃথিবীব্যাপী কাজের জন্য না।
“পূজা হিন্দুদের, মুসলমানদের নয়”, মানে ধর্মীয় জগতগুলোকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে। কয়েক লাইন পরেই বাংলাদেশের হিন্দুকে ভারতের মুসলমানের জন্য রাজনৈতিক বিবৃতি দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। মানে
যখন অধিকার চাইবেন, তখন বলা হবে, পূজা আপনাদের ব্যাপার, আমাদের নয়। আর যখন দায় চাপাতে হবে, তখন বলা হবে-ভারতের হিন্দুর কাজের জবাবও আপনাদের দিতে হবে। এ এক অসাধারণ রাজনৈতিক ব্যবস্থা! অধিকার ব্যক্তিগত, দায় আন্তর্জাতিক।
এই কারণে আমি এই বক্তব্যকে অদ্ভুত দাবি হিসেবে দেখি না। এখানে পরিচিত সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদী যুক্তি কাজ করছে: সংখ্যালঘু নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে প্রথমে বিশেষ সুবিধা বানাও, তার জনপরিসরের দৃশ্যমানতা সীমিত করো, তারপর সীমান্তের ওপারের সহধর্মীদের কাজের জন্য তার দেশপ্রেম পরীক্ষা করো। এবং আরও বিদ্রুপ হলো, সংগঠনটির নামের মধ্যেই আছে “ইনসাফ”।
ইনসাফের অর্থ যদি ন্যায় হয়, তাহলে ন্যায়ের সবচেয়ে প্রাথমিক শর্ত হলো একই নীতি নিজের এবং অন্যের ওপর প্রয়োগ করা।
পূজার ছুটিতে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিজের ধর্মীয় উপলক্ষের ছুটির অর্থনৈতিক মূল্যও হিসাব করুন। পূজার মিছিলের কারণে রাস্তা বন্ধ হওয়া সমস্যা হলে সব ধর্মীয় ও রাজনৈতিক জমায়েতের জন্য একই নিয়ম চান। প্রতিমা বিসর্জনে পরিবেশের ক্ষতি হলে কুরবানির সময় বর্জ্য এবং শিল্পবর্জ্য থেকে পয়োবর্জ্য পর্যন্ত একই কঠোরতা চান।
ভারতে মুসলমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হলে প্রতিবাদ করুন, কিন্তু বাংলাদেশের একজন হিন্দুকে ভারতের রাষ্ট্রের স্থানীয় রাষ্ট্রদূত বানাবেন না। সমান নাগরিকত্ব এটাই।
আর যদি নিয়মটা হয়, আমার ধর্মের ক্ষেত্রে এক মাসের ছুটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা, আপনার ধর্মের তিন দিনের ছুটি অর্থনীতির সর্বনাশ, তাহলে বিতর্কটা পূজা নিয়ে না। আসল কথাটা “ইনসাফ” কার জন্য?
তিন দিনের ছুটি নয়। আরও বড় চিন্তার বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশের জনপরিসরের মালিক কে? যদি একজন নাগরিককে বারবার ব্যাখ্যা করতে হয় তাঁর উৎসবের জন্য ছুটি কেন, তাঁর মন্দিরে পুলিশ কেন, তাঁর ধর্মীয় পরিচয়ের জন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কেন, তাহলে সমস্যা আমাদের সমান নাগরিকত্বের কল্পনায়।
Lubna Tureen

