বাংলার একটি জনপ্রিয় দেবী হলেন ষষ্ঠী। সারা বছর জুড়েই ষষ্ঠীর আরাধনা করা হয়। বারমাসের বারো ষষ্ঠীর অন্যতম ভাদ্র মাসের চাপড়া ষষ্ঠী। চলুন এই ষষ্ঠী পালনের কিছু ইতিহাস জেনে নিই। বাকি গুলোও কথা পরে জানাবো।
ভাদ্র মাসের শুক্ল পক্ষে এই ষষ্ঠীর ব্রত পালন করা হয়। মহিলারা হাতে চাপড়ে চাপড়ে চালের মন্ড (আমাদের পরিবারে ক্ষীরের চাপড়া )তৈরি করে সেগুলোর কয়েকটা নিজে খান এবং বাকি গুলো জলে ভাসিয়ে দিয়ে সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন এই চাপড়া ষষ্ঠীতে। কোথাও কোথাও পুকুর ঘাটে মথন কাঠ পুঁতে ষষ্ঠী রূপে পুজো করার রীতি রয়েছে।
এই চাপড়া ষষ্ঠী ব্রত সৃষ্টির পিছনে নানান গল্প শোনা যায় গ্রাম বাংলায়। তাদের মধ্যে একটি ছিল এরকম,
কোনো এক দেশের এক সওদাগরের তিন ছেলে। বড়ো ও মেজো ছেলের দুটি করে ও ছোটো ছেলের একটি সন্তান রয়েছে। ছোটো ছেলের পুত্র অর্থাৎ ছোটো নাতি ছিল তাদের অতি আদরের। সওদাগরের ঘরে কোনো কিছুরই অভাব ছিল না, শুধু এক খানা পুকুরের অভাবে ঘরের বধূদের বাইরে ষষ্ঠী পুজো করতে যেতে হয়। তাই সওদাগর ঘরেই একটি পুকুর খুঁড়লেন কিন্তু আশ্চর্য পুকুরে কিছুতেই জল উঠলো না। সওদাগরের মন খারাপ। রাত্রে দেবী ষষ্ঠীর স্বপ্নাদেশ পেলেন, যদি তাঁর সবচেয়ে আদরের নাতিকে ওই পুকুরে বলি দিতে পারেন তবেই পুকুরে জল উঠবে। সওদাগর ভীষণ বিপদে পড়লেন, কিন্তু দেবীর আদেশ মানতেই হবে। তাই সকালে উঠে পুজোর আয়োজন করে ছোটো নাতিকে এনে বলি দেওয়া হলো। কী আশ্চর্য! সঙ্গে সঙ্গে পুকুর জলে ভরে উঠলো। সওদাগর ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে দেখে বাড়ির বধূরা চাল গুঁড়োর মন্ড করে ও পুতুল বানিয়ে জলে ফেলতে লাগলো। সকলে একসাথে সুর করে কাতর আবেদন করলো,
"ও মা চালের পুতুল নে
আমার ছেলে ফিরে দে।"
কিছুক্ষণের মধ্যেই ছেলেটি জীবন্ত অবস্থায় ভেসে উঠলো। তারপর থেকে সওদাগর খুশিতে প্রত্যেক বছর ভাদ্র মাসে এই ষষ্ঠী পুজোর আয়োজন করতেন। সেই থেকে এখনও চাপড়া ষষ্ঠীর দিন চালের মন্ড জলে ফেলার রীতি রয়েছে।
আমাদের এই দিন প্রতি গৃহবধূদের নামে ৬ টি ফল
তথা: নারকেল, চাল কুমড়ো ,জিঙ্গে, কলা,শসা, ও অন্যকে কোনো ফল নিবেদিত হয় ।।
সাথে কাঠাল পাতা করে ৬ টি চাপরা ভাসাতে হয়।।
সাথে আমাদের বাড়ির কিছু ফটো চাপড়া ষষ্ঠীর।। এর পরে ষষ্ঠী হলো দুর্গা ষষ্ঠী।