Wednesday, October 7, 2026

প্রিয় পুরুষ- অবহেলা আর অবজ্ঞাকে প্রেম বলে প্রচার বন্ধ করেন।

 

পৃথিবীর এক প্রান্তে যখন চিকিৎসা বিজ্ঞান নোবেল জয়ী কার্ল ডেসরথ নামের ভদ্রলোক বাচ্চাদের টিফিন বানাচ্ছেন, পৃথিবীর আরেক প্রান্তে তখন অভিনেতা মুকিত জাকারিয়া উনার স্ত্রীর প্রশংসা করে বলেছেন যে রাত চারটার দিকে উনার স্ত্রীকে বলেছেন- পরোটা খাইয়ুম। স্ত্রী তাকে ১০২ ডিগ্রী জ্বর নিয়েও পরোটা বানিয়ে খাইয়েছেন। এরও কিছুদিন আগে আরেক অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম উনার পরকীয়ার প্রসঙ্গে দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেছিলেন- এইটাই উনি, এইভাবেই উনাকে ভালবাসতে হবে! মানে খেয়াল করেছেন এদের আচরণের মিলটা?
এই প্রসঙ্গে একটা মজার মিম মনে পড়লো। সেই মীমে লেখা ছিলো- You'll ask a man what a good wife is and he will describe a maid! অর্থাৎ তুমি একটা লোককে ভালো স্ত্রীর বৈশিষ্ট্য জিজ্ঞেস করলে সে তোমাকে একটা দাসীর বর্ণনা দিবে!
এই মীমটা আসলে সত্যি।
পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় বাংলাদেশের পুরুষরা ভালবাসা বলতে যা পোট্রে করে চলেছেন সেটা মূলত 'স্যাক্রিফাইস'। নারী যখন ১০২ ডিগ্রী জ্বর নিয়ে উনার আবদার মেটাবে, নারী যখন অন্য নারীর অস্তিত্বের কথা জেনেও বাচ্চার কথা ভেবে, সমাজের কথা ভেবে অন্যায় মেনে নেবে এবং একটা অসম্মানের জীবন বেছে নেবে এইটা মোটাদাগে ভালোবাসা বাঙ্গু পুরুষের কাছে।
ঝামেলা হচ্ছে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সেইসাথে অর্থনৈতিক মুক্তি মেয়েদের হাতে একটা চাবি তুলে দিয়েছে, এই চাবিটার নাম হলো ডিভোর্স। মেয়েরা যখন টায়ার্ড হয়ে যায় তখন তারা ডিভোর্স দিয়ে সরে আসে। এই সরে আসাটা একেবারেই সহজ না। কিন্তু সরে আসে কারণ তারা জানে পচা শামুকে পা কাটলে সেটা থেকে সেরে ওঠার মলম তার কাছেই আছে!
যেখানে বলিউড, টলিউডের সিনেমা নারীর অসম্মান মেনে নেয়াকে ভালবাসা হিসেবে দেখায়, সেখানে নিজের জন্য স্ট্যান্ড নেয়াটা একেবারেই ইজি না।
আমার মনে আছে আমি যখন ডিভোর্সের ডিসিশনে অটল ছিলাম তখন আমার এক্স আমাকে সম্বোধন করেছিল Bit*h লিখে। মানুষ ওই লেখা দেখলে দুঃখ পাবে, আমি খুশি হয়েছিলাম যে আমি আসলে ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম, যে লোক আমাকে এই সম্বোধন করতে পারে সে আমাকে কখনো ভালোইবাসেনি!
আমি থালাবাসন ধুতে খুবই অপছন্দ করি, মেইনলি রান্নার পরে থালাবাসন ধোয় জেরেমি। পেঁয়াজ কাটতে আমার অসহ্য লাগে, বেশিরভাগ সময় সেটা বিনাবাক্যে করে সে। এর কারণ কি জানেন? আপব্রিংগিং। আমি জেরেমির বাবা-মায়ের সঙ্গে যখনই দেখা করতে যাই, পুরো পরিবারের সময় যখন হলিডে কাটাই, রান্না করেন মূলত জেরেমির বাবা আর ভাই। আমরা সবাই একসঙ্গে প্রতিবারই কিছু না কিছু রান্না করি। ওদের কখনো বলতে শুনিনি এইটা মেয়েদের কাজ বা ওইটা ছেলেদের কাজ।
আমার প্রিয় অর্থনীতবিদ অমর্ত্য সেন আর নবনীতা দেবসেন আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন কারণ নবনীতা দেখেছিলেন অমর্ত্য নামের এই অসাধারণ ভদ্রলোকটি চিনামাটির বাসনপত্র সিংকে জমিয়ে রাখলে পরিস্কার করতে গিয়ে ঠোকাঠুকি লাগলে ভেঙে ফেলে। ফলে ভেঙে যাওয়ার ভয়ে তিনি নিজে ধুতেন। কিন্তু তারপরও সংসার টেকেনি।
প্রিয় পুরুষ, আপনার পার্টনার আপনাকে যেভাবে চেনে সেভাবে আর কেউ চেনেনা। আপনি যখন স্ত্রীর প্রশংসা করছেন তখনও আপনি কেমন করে তাকে ট্রিট করেন সেটা বের হয়ে যায়।
এক সময় আপনার আম্মা নিজে না খেয়ে আপনার বাবাকে খাইয়েছেন বলাটা ক্যুলনেস ছিলো, কিন্তু আপনার মায়ের হাড্ডিতে যে আথ্রাইটিস হয়েছে, সেটা ক্যুল না। সেটা মূলত অবহেলা।
এই বছর চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল প্রাইজ পাওয়া কার্ল ডেসরথ বলেছেন- My hope is that we can increase empathy and understanding. এমপ্যাথি আর আন্ডারস্ট্যান্ডিং শুরু হয় পাশের মানুষটাকে বোঝার মধ্য দিয়ে।

প্রিয় পুরুষ- অবহেলা আর অবজ্ঞাকে প্রেম বলে প্রচার বন্ধ করেন। যে প্রেম আপনার বউয়ের শরীরের ক্ষতি করে, যে প্রেম আপনার বউয়ের আত্মসম্মানবোধকে কবর দেয়, যে প্রেম আপনার বউকে মানুষ হিসেবে সমান করে দেখেনা, যে প্রেম ১০২ ডিগ্রী জ্বরের রোগীকে দিয়ে পরোটা বানায়ে নেয়-সেই প্রেম দিয়ে আমরা নারীরা কি করবো বলেন?

Jannatun Nayeem Prity

২০২১ সালের অপরাধের বিচার ২০২২ সালেই শেষ। তাহলে ২০২৬ সালে এসে সেই ঘটনাটি হঠাৎ এত বড় করে আবার সামনে আনার কারণ কী?

 


সাল ২০২১, ৩০ জুন।
ঘটনাস্থল জাপানের মিয়াগি প্রিফেকচারের
সেন্দাই শহরের আওবা ওয়ার্ড।
সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক আল আমিন।
তখন বয়স ২৬/২৭ বছর।
তিনি আগে একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরে কাজ করতেন। সেই দোকানের নিয়মিত ক্রেতা ছিলেন ২০-এর কোঠার এক জাপানি নারী।
পরবর্তীতে ওই নারীর প্রতি একতরফা আকর্ষণ তৈরি হয় এবং তিনি তাকে অনুসরণ করে তার বাসার ঠিকানা বের করেন।
এরপর বিষয়টি ভয়াবহ দিকে মোড় নেয়।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইন্টারনেটে তালা খোলার পদ্ধতি খুঁজে শেখেন এবং ৩০ জুন ভোররাতে ওই নারীর অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন। নারীটি তখন বাসায় ছিলেন না। তিনি ঘরের টয়লেটে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লুকিয়ে তার ফিরে আসার অপেক্ষা করেন।
নারীটি বাসায় ফেরার পর তাকে ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়। এরপর তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় এবং প্রায় ৮ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।
পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নগদ প্রায় ৪৫ হাজার ইয়েন এবং কিছু ব্যক্তিগত জিনিস নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এরপর মামলাটি যায় সেন্দাই জেলা আদালতে।
২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আদালত বলেন, নারীর বাসা খুঁজে বের করা, তালা খোলার উপায় শেখা, ঘরে প্রবেশ করা এবং দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করা,সবকিছু মিলিয়ে এটি আকস্মিক কোনো অপরাধ ছিল না; বরং পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছিল।
প্রসিকিউশন তার ১৭ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
অর্থাৎ ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১ সালে, আর বিচার শেষ হয়ে ২০২২ সালেই ১৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রায় চার বছর পর ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে সেই পুরোনো ঘটনাটিই আবার জাপানের X-সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
এমনকি ভাইরাল পোস্টগুলোর নিচে আলাদাভাবে মানুষকে মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে,এটি বর্তমানের ঘটনা নয়, ২০২১ সালের ঘটনা।
এখানেই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ।
একজন অপরাধী যে অপরাধ করেছে, তার দায় অবশ্যই তার নিজের। এমন ভয়াবহ অপরাধের কোনো ধরনের সমর্থন বা অজুহাত থাকতে পারে না। কিন্তু বহু বছর আগের একটি নিষ্পত্তি হওয়া অপরাধকে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে আবার সামনে এনে যখন অপরাধীর “বিদেশি” বা “বাংলাদেশি” পরিচয়কে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়, তখন সেটি শুধু পুরোনো অপরাধের স্মৃতিচারণে সীমাবদ্ধ থাকে না।
জাপানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু অংশে পুরোনো বিদেশি-সম্পৃক্ত অপরাধগুলো আবার সামনে আনার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এর ফলে সাধারণ জাপানিদের কাছে “বিদেশি মানেই নিরাপত্তার ঝুঁকি”,এমন ধারণা বা ভয় তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।
তবে এটাকে জাপান সরকার পরিচালিত কোনো পরিকল্পিত প্রচারণা বলা যাবে না।
কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পুরোনো বিদেশি-সম্পৃক্ত অপরাধ পুনরায় সামনে এনে বর্তমানের বিদেশি নাগরিকদের ঘিরে চলা উদ্বেগ ও বিতর্ককে আরও দৃশ্যমান করছে।
তাই আসল প্রশ্নটি হয়তো এই,
২০২১ সালের অপরাধের বিচার ২০২২ সালেই শেষ। তাহলে ২০২৬ সালে এসে সেই ঘটনাটি হঠাৎ এত বড় করে আবার সামনে আনার কারণ কী?

অপরাধীর বিচার হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন।
কিন্তু একজনের অপরাধের দায় দিয়ে পুরো একটি দেশের মানুষ বা জাপানে বসবাসরত লাখো বিদেশিকে বিচার করা কতটা যুক্তিসংগত,সেই প্রশ্নটিও একই সঙ্গে করা প্রয়োজন।

Sahin No Sekai

Japan has formally classified the use of religious fear as a form of psychological abuse against children.

 




Japan has formally classified the use of religious fear as a form of psychological abuse against children. The new guidelines target the coercion of kids through threats of divine punishment or eternal suffering. By drawing firmer lines around religious upbringing, the government wants to protect young people from the damage caused by high-pressure spiritual environments.

⚠️ Identifying psychological abuse

Under these standards, specific actions are now flagged as abusive when used to force a child's participation in religious activities. These behaviors include:
* Threatening children with the prospect of going to hell or other forms of spiritual damnation.
* Claiming that bad luck or illness will befall the family if religious rules aren't strictly followed.
* Restricting a child's social life or career path based solely on religious doctrine.
* Preventing children from receiving necessary medical treatment due to faith-based beliefs.

🧠 Motives for the change

This policy shift came largely in response to the public outcry following the 2022 assassination of former Prime Minister Shinzo Abe. The incident put a national spotlight on the struggles of second-generation followers of various religious groups, many of whom faced financial ruin and emotional distress. Countless survivors shared stories of being forced into religious practices through fear-based manipulation during their childhoods, which fueled a push for clearer legal protections.

⚖️ Government intervention strategies

Local child welfare centers are now responsible for stepping in when they spot patterns of religious coercion that harm a child's well-being. The government still recognizes the importance of religious freedom, but it argues that such freedom doesn't give parents the right to inflict psychological damage. The priority is making sure kids can grow up in an environment where their personal choices and mental health come before forced spiritual compliance.

Facts checked by @omgfacts

Sources:
The Japan Times
The Guardian
Kyodo News