Friday, July 10, 2026

১০ বছর আগে লেখা: মৌলবাদ ও শিক্ষাব্যবস্থা

 

-
আধুনিক শিক্ষাই সমস্যা। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিতরা সন্তানকে সংস্কৃতিশূন্য করে বড় করে তোলে। সংস্কৃতিশূন্যতা যে ফাঁকা স্থান বা ভয়েড তৈরি করে, সেখানেই বাসা বাঁধে মৌলবাদ। সেটা ধর্মীয় হোক বা নাস্তিকতা অথবা আধুনিকতাবাদ। এর অর্থ এই নয় যে আমরা শিক্ষিত হব না। ভুলটা হচ্ছে বক্তৃতার মাধ্যমে শিক্ষা (education by preaching)।
পশ্চিমা জ্ঞান যখন হামাগুড়ি দেয়, ভারতীয় জ্ঞান তখন পরিপূর্ণ যুবক। আজও গীতা, উপনিষদ এমনই জ্ঞানের আধার যে জার্মান দার্শনিক শোপেনহাওয়ারসহ আরও অনেক পণ্ডিত, টি. এস. এলিয়ট, ম্যাক্স মুলারের মতো লোক, এরভিন শ্রোয়েডিঙ্গারের মতো কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের জনকেরা এ থেকে শিক্ষা তো বটেই, সেগুলোর লিখিত বর্ণনাও করে গেছেন।
নিলস বোর, ওয়ার্নার হাইজেনবার্গের মতো বিজ্ঞানীরাও বেদ আর উপনিষদ থেকে ধারণা পেয়েছেন, যেগুলো তাঁদের প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মেলে বলে তাঁরা লিখে গেছেন। পদার্থবিজ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ ট্যালেন্ট হিসেবে যাকে মনে করা হয়, সেই রবার্ট ওপেনহাইমার ১৯৩৩ সালে সংস্কৃত শেখেন নিজে সংস্কৃত ভাষায় মৌলিক গীতা পড়ার জন্য।
সেই উপনিষদে বলা আছে, ছাত্র পরিণত না হলে তাকে শিক্ষার মতো ক্ষমতাশালী জিনিস দেওয়া যাবে না। দিলে সে অপপ্রয়োগ করবে। তাই ভারতীয় সনাতন শিক্ষাব্যবস্থায় বক্তৃতা দিয়ে শিক্ষা দেয়া নিষেধ ছিল। সেখানে শেখানোর পদ্ধতি ছিল - শিক্ষক নিজে জ্ঞান দেবেন না, তিনি ছাত্রের মনে আসা প্রশ্নের উত্তর দেবে মাত্র। ছাত্র যত পরিণত হবে, সে তত জটিল বাস্তবতার সম্মুখীন হবে। তখন ক্রমে তার বোধ জাগ্রত হবে এবং তার মনে প্রশ্নের উদয় হবে। তখন তার প্রশ্ন অনুযায়ী শিক্ষক তাকে জ্ঞান দেবেন এবং সেই জ্ঞন ও নিজের প্রস্তুতকৃত মনে আসা প্রশ্নের উত্তরের মিথস্ক্রিয়ায় প্রকৃত শিক্ষা সে পাবে। সেই শিক্ষা হবে তার সার্বিক মানসিক বৃদ্ধির সাথে সংযুক্ত ও পগ্রসরমান।
কিন্তু আধুনিক পশ্চিমা শিক্ষা ঠিক তার বিপরীত। বক্তৃতার মাধ্যমে তারা শিক্ষা দেয় এমনভাবে, যে ছাত্রের মনে জ্ঞান সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হয় মাত্র গুটিকয়েক আত্মসন্ধানী ছাত্র ব্যতিত। এছাড়া এই প্রক্রিয়ায় দেয়া শিক্ষা প্রকৃতভাবে হল প্রশিক্ষণ বা ট্রেনিং। যখন প্রশিক্ষত বিষয়টি ছাড়া আর কিছু সে বোঝে না। বুঝলেই তাকে আর যথেচ্ছ ব্যবহার করা যাবে না। বাইবেল, ইসলামের শিক্ষাও একই - সেই বক্তৃতার মাধ্যমে শিক্ষা; রোমের প্রভাবেই যেগুলোর জন্ম ও প্রসার। মৌলবাদী দাস সমাজ তৈরির জন্য।
এই আত্মঘাতী শিক্ষার ব্যাপক প্রসারের ফলে মাত্র একশ বছরেই মানব সমাজ শুধু নিজে নয়, সমস্ত প্রাণীকুলও বিপর্যয়ের পথে।
© সিরাজুল হোসেন

বনমোরগ থেকেই প্রধানত গৃহপালিত মুরগিরা এসেছে।

 


এর মধ্যেই বাঙ্গু মুসলমানের ইতরামীর জন্য নিষিদ্ধ হয়েছে ভারতীয় গরু আর বাধ্যতামূলক হয়েছে আমেরিকান শুকরের মাংস। তবে যারা চিকেন বিরিয়ানি খেতে খেতে ডিম আগে না মুরগি আগে এমন আলোচনাও চালিয়ে যেতে খুব মজা পায় তাদের জন্য মুরগি কীভাবে এল, এটা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সত্য যেন ধরা দিচ্ছিল না। যদিও ডারউইন বলে গেছেন, চমৎকার রঙিন বনমোরগ বা জাঙ্গল ফাউল থেকেই গৃহপালিত মুরগি এসেছে। বর্তমানে হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা গরু হত্যা ও গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে হিস্টিরিয়ায় ভুগলেও বেদ-উপনিষদের আমলে, মানে হিন্দু আদি ধর্মে গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল না। বরং নিষিদ্ধ ছিল মুরগি খাওয়া বা হত্যা করা, কারণ মুরগি ছিল রামের পালিত পাখি। মুরগির অপর নাম কিন্তু রাম পাখি।
ডারউইন ভেবেছিলেন, আমাদের বন মোরগ বা জাঙ্গল ফাউল থেকেই গৃহপালিত মুরগি এসেছে, যেহেতু তারা দেখতে ও আচরণে খুব কাছাকাছি। ডারউইন এটাও বলে গেছেন যে, মুরগি গৃহপালিত হয়েছে ভারতে। এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে অনেক তত্ত্ব এসেছে যে, মুরগি আফ্রিকায় গৃহপালিত হয়েছে ৯,০০০ বছর আগে অথবা চীন বা ভারত-পাকিস্তানের ইন্দাস ভ্যালিতে চার হাজার বছর আগে। কিন্তু এগুলোর পেছনে শক্ত প্রমাণ কখনও মেলেনি। সম্প্রতি এই ২০২০ সালে মাত্র বিজ্ঞানীরা অনেক চেষ্টার পর খুঁজে পেয়েছেন যে, গৃহপালিত বা পোষা মুরগি কীভাবে এল। জিনগত ডিএনএ বিশ্লেষণে তারা খুঁজে পেয়েছেন যে, *Gallus gallus spadiceus* প্রজাতির বনমোরগ থেকেই প্রধানত গৃহপালিত মুরগিরা এসেছে।
সম্প্রতি আরেক গবেষণায় পাওয়া গেছে আরেক চমকপ্রদ তথ্য। সেটি হলো, মুরগি গৃহপালিত হওয়া ধান চাষের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত এলাকায় জঙ্গল কেটে যে ধানের চাষ হতো, সেখানে বনমোরগ ও বনমুরগিরা পাকা ধান বা চাল খেতে আসত। এরপর তারা কার আশেপাশেই বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ত। ধানচাষী পরিবারগুলোর সেই ডিম ও বাচ্চা নিয়ে গিয়েই হয়তো গৃহপালিত করার চেষ্টা সফল হয়।
এই ঘটনা ঘটে মাত্র ৩,২০০ থেকে ৩,৬০০ বছর আগে। আগে যে ধারণা করা হয়েছিল, চিকেন বিরিয়ানি বা চিকেন ফ্রাইয়ের চিকেন তত পুরোনো নয়। এই সমস্ত ধানচাষীদের বাড়ির পাশেই *Gallus gallus spadiceus* প্রজাতির বনমোরগের দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে সাম্প্রতিক গবেষণায়। ইউরোপের প্রথম মুরগি ৩,০০০ বছরের পুরোনো। উল্লেখ্য, বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টে মুরগির কোনো উল্লেখ নেই।
ধান চাষ ও চিকেনের এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই মনে হয় চিকেন বিরিয়ানি এত সুস্বাদু। আর এটা আমাদের এলাকায় ঘটেছে বলেই হয়তো আমরা এটি এত পছন্দ করি।

Abm Sirajul Hossain

যার রোগ নেই তার জন্য ঔষধই বিষ


 "ইসলাম যেমন সৃষ্টিকর্তার ধর্ম তেমন মানুষের দেহ মনেরও ধর্ম আছে, বয়সেরও ধর্ম আছে। ১৮ বছরের একটি ছেলে যদি শীলা-মুন্নির নাচ দেখতে উৎসাহী না হয়ে দ্বীন ইসলামের চিন্তায় বিভোর থাকে। ফেসবুকে সুন্দরী বান্ধবীদের ছবি লাইক না করে নবী রসুলের জুতা-দাড়ির ছবি লাইক করে, ক্লাসের বান্ধবী মাসুমার সাথে চ্যাট করতে উৎসাহী না হয়ে উসামার শাগরেদদের সাথে চ্যাট করার জন্য উদগ্রীব থাকে তবে বুঝতে হবে ডালমে কুছ কালা হ্যায়। সুস্থ স্বাভাবিক ভোগ সুখের ‘পাপময়’ মানবিক জীবনের ঔষধ হচ্ছে ধর্ম। যার রোগ নেই তার জন্য ঔষধই বিষ, বয়সের ধর্মে যে স্বাভাবিক নয় আল্লাহর ধর্ম তার জন্য ফ্যানাটিসিজমের - ধর্মীয় গোড়ামীর অনুরণন - যেটা সন্ত্রাসের অনুপ্ররণা হয়ে যেতে পারে, সে জামাতী-জেহাদী হয়ে যেতে পারে। তাই আপনার ১৮ বছরের ছেলেটি অতি-ধার্মিক হয়ে গেলে খুশি না হয়ে সন্ত্রস্ত হোন, তার প্রতি নজর রাখুন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন


Abm Sirajul Hossain