Saturday, August 15, 2026

কুহক

 


সকাল আটটা। রোদের টুকরোটা বারান্দার গ্রিল গলে এসে পড়েছে নেহার লাল শাড়ির আঁচলে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে তোয়ালে দিয়ে চুল শুকোচ্ছিল সে। তার বিয়ে হয়েছে মাত্র পনেরো দিন। নতুন সংসার, নতুন মানুষ, অচেনা একটা শহরের সকাল,সবকিছুই যেন ধীরে ধীরে নিজের চেনা বৃত্তে বন্দি হয়ে আসছে।
​পেছন থেকে মৃদু পায়ের শব্দ। অর্ণব এসে দাঁড়িয়ে জড়িয়ে ধরলো পেছন থেকে। গলাটা একটু নিচু করে বলল,
-আজ বিকেলে বাড়ি যাব। মা দু'দিন ধরে ফোন করছে, না গেলে খারাপ দেখা যায়।
​নেহা মিষ্টি হেসে ঘুরে দাঁড়াল।
-আচ্ছা। আমি কি মায়ের জন্য কিছু নিয়ে যাব? বিয়ের পর তো কাউকেই কিছু দেয়া হয়নি?
​অর্ণবের মুখটা মুহূর্তেই মেঘলা হয়ে গেল। চওড়া কপাল কুঁচকে সে শক্ত গলায় বলল,
-না, কিচ্ছু লাগবে না। যাওয়ার দরকার নেই।
​নেহা একটু অবাক হলো। গত পনেরো দিনের ছিমছাম সংসারে সে অর্ণবের একটা বিশেষ দিক খুব ভালো করে লক্ষ্য করেছে। অর্ণব তাকে অসম্ভব ভালোবাসে, যত্নে আগলে রাখে। সে রান্নাঘরে ঢুকলে পিছু পিছু এসে সাহায্য করে , ভারী কোনো কাজ করতে দেয় না, অফিস থেকে ফেরার সময় নিয়মিত জানতে চায় তার কি খেতে ইচ্ছে করছে। এত যত্নশীল একটা মানুষ, অথচ নিজের বাবা-মা বা পরিবারের প্রসঙ্গ উঠলেই কেমন যেন পাথরের মতো কঠিন হয়ে যায়। মানুষটা যেন পলকেই অন্য কেউ হয়ে ওঠে।
নেহার বোঝানোতে অবশেষে ​বিকেলে তারা অর্ণবদের বাড়িতে পৌঁছাল।
​অর্ণব পুরোটা সময় নেহার হাত শক্ত করে ধরে রাখল, যেন এক মুহূর্তের জন্যও তাকে নিজের পাশ থেকে এক ইঞ্চি নড়তে দেবে না।
ড্রয়িংরুমে পা রাখতেই সেলিনা বেগম এগিয়ে এলেন। মুখে এক চিলতে হাসি।
​-নেহা, এসো মা। অর্ণব এখানেই বসুক। তুমি আমার সঙ্গে একটু ভেতরে এসো। বিয়ের পর তোমাকে কিছু দেয়া হয়নি, তোমার জন্য দুটো সুন্দর শাড়ি কিনে রেখেছি।
​কথাটা শেষ হতে না হতেই অর্ণব তার স্বভাববিরুদ্ধ কঠোরতায় বাঁধা দিল।
-মা, ও কোথাও যাবে না। ও এখানে আমার সামনে থাকবে। তোমার যদি কিছু দেয়ার থাকে তাহলে এখানে এনে দাও। অথবা আমি ওর সাথে ভেতরে যাব।
​সবাই একটু থমকে গেল। ঘরের কোণ থেকে অর্ণবের ছোট বোন শারমিন ঠোঁট বাঁকিয়ে একটা অদ্ভুত শব্দ করে বলে উঠল,
-ভাইয়া, আমরা কি তোমার বউকে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবো নাকি? এত আগলে রাখছ কেন? আলাদাভাবে একটু মায়ের সাথে কথা বললে এমনকি সর্বনাশ হয়ে যাবে শুনি?
​অর্ণব বরফশীতল গলায় বলল,
-আমি যা বলেছি, সেটাই হবে। এখানে আর কথা বাড়াবি না।
​সেদিনের সেই অস্বস্তিকর পরিবেশে আধা ঘণ্টা কাটিয়েই তারা ফিরে এল। ফেরার পথে গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসে অর্ণব সামনের স্টিয়ারিংয়ের দিকে তাকিয়ে একদৃষ্টিতে রইল। নেহার বুকটা তখন অজানা এক কষ্টে দুরুদুরু করছে। সে আর চুপ থাকতে পারল না।
​-তুমি আজ সবার সামনে এমন করলে কেন, বলো তো? মা তো শুধু আমাকে ভেতরের ঘরে ডাকছিলেন। তুমি কেন এমন ব্যবহার করলে? সে প্রায় কেঁদে ফেললো।
​অর্ণব চোখের পলক না ফেলে ড্রাইভ করতে করতেই বলল,
- কারণ আমি জানি, কোন কথার পেছনে ঠিক কিসের বিষ লুকিয়ে থাকে। কখন কোন চাল চালতে হয়, সেটা আমার চেয়ে ভালো কেউ জানে না।
​-আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না অর্ণব।
​অর্ণব ঠান্ডা গলায় বলল,
-তোমার সব কিছু বুঝতে হবে না নেহা। শুধু জেনে রাখো আমি যা বলছি তুমি তাই করবে আর এতে তোমারই ভালো হবে। আমাকে দয়া করে ভুল বুঝো না।
​সেই সন্ধ্যার পর থেকেই নেহার জীবনে অদ্ভুত সব নিয়ম আর শৃঙ্খলার জাল বুনতে শুরু করল। অর্ণব সরাসরি নিষেধ করল না বটে, কিন্তু তার মুখের ছোট ছোট অনুরোধগুলোই যেন হয়ে দাঁড়াল অলঙ্ঘনীয় দেয়াল।
​অর্ণব একদিন কফি কাপে চুমুক দিতে দিতে গম্ভীর মুখে বলল,
-নেহা, একটা কথা তোমাকে পরিষ্কার বলে দিই। মা, বাবা কিংবা শারমিন যদি কখনো ফোন করে, আমার সামনেই রিসিভ করবে এবং আমার সামনেই কথা বলবে। একা একা কথা বলার দরকার নেই।
​নেহা স্তব্ধ হয়ে গেল। তার গলায় কিছুটা ক্ষোভের সুর ভেসে উঠল।
-কেন! আজ তোমাকে বলতেই হবে কি সমস্যা তোমার?
​অর্ণব লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তার চোখদুটো কেমন যেন ভিজে উঠল পলকের জন্য। সে নেহার হাত দুটো নিজের মুঠোয় তুলে নিয়ে খুব আকুলভাবে বলল,
-বিশ্বাস করো নেহা, এখন তুমিই আমার একমাত্র পৃথিবী। আর এই পৃথিবীটা ভেঙ্গেচুরে যাক, ধ্বংস হয়ে যাক সেটা আমি একেবারেই চাই না। তোমাকে আমি নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করি। কিন্তু... কিন্তু ওই মানুষগুলোকে আমি একটুও বিশ্বাস করি না।
​নেহা বিভ্রান্ত হয়ে গেল। অর্ণবের কি কোন সমস্যা আছে? নিজের পরিবারকে বিশ্বাস করে না যেই ছেলে সেই ছেলে আবার বলছে তাকে অসম্ভব বিশ্বাস করে! ব্যাপারটা ভীষণ অদ্ভুত। একদিকে অর্ণবের অগাধ ভালোবাসা, অন্যদিকে তার পরিবারের প্রতি এই লাগামহীন অনীহা ও পাহারা এই দুটো যেন কোনোভাবেই নেহা মেলাতে পারেনা।
​দিনগুলো গড়িয়ে চলতে লাগল। এক অলস দুপুরে ফ্ল্যাটে একাই ছিল নেহা, অর্ণব অফিসে । ফ্ল্যাটের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই নেহার গলার কাছে কি যেন আটকে গেল।
তার শাশুড়ি মা।
​ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ভেসে এল এক অপূর্ব মায়াময় স্নিগ্ধ কণ্ঠ।
-কেমন আছো মা? অনেকদিন দেখিনি তোমায়। মনটা বড় ছটফট করছে।
​নেহা নিজেকে সামলে নিয়ে খুব বিনয়ের সাথে বললো,
-ভালো আছি, আম্মা। আপনি কেমন আছেন?
​কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক সাধারণ কুশল বিনিময়ের পর সেলিনা বেগম হঠাৎ সুর নামিয়ে ফিসফিস করে বললেন,
-শোনো মা, একটা কথা তোমাকে বলছি। এটা যেন ভুলেও অর্ণবকে বলো না। ও আবার ক্ষেপে যাবে।
​নেহার বুকটা ধক করে উঠল। সে আমতা আমতা করে বলল,
-জি বলুন, কি কথা?
​-আর কতকাল নিজেদের বাড়ি রেখে এমন ভাড়াবাড়িতে থাকবে বলোতো? তুমি বুদ্ধিমতী মেয়ে, অর্ণবকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে এই বাড়িতে চলে আসো। আমার ছেলেটা বরাবরই অন্যরকম। দেখলেই তো বিয়ের পর দিনই তোমাকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে চলে গেল। মানুষ এসব দেখে কি বলে বলোতো মা। আমাদের মান সম্মান আর থাকছে না। তুমিই একমাত্র পারবে ওকে সঠিক পথে আনতে।
​একটু থেমে সেলিনা বেগম যোগ করলেন,
-আর হ্যাঁ, একটা কথা বলে রাখি,অর্ণব কিন্তু বেশ বদমেজাজি। ও রেগে গেলে একটু সহ্য করে নিও মা। পুরুষ মানুষ তো অমন একটু আধটু হবেই, সংসার করতে গেলে মানিয়ে নিতে হয়।
​কথাগুলো খুব সাধারণ এক ধরনের উপদেশ কিন্তু নেহার ভেতরে এক অদ্ভুত অস্বস্তি ও হাড়হিম করা ভয় জেগে উঠলো। কি কারনে কে জানে?
​সেদিন রাতে অর্ণব অফিস থেকে ফেরার পর নেহা অনেক চিন্তাভাবনা করে নিজের ভেতরের সব দ্বিধা কাটিয়ে পুরো ফোনালাপটা আদ্যোপান্ত খুলে বললো।
​অর্ণব এক বিন্দুও অবাক হলো না। সে চুপ করে সোফায় বসে রইল। অনেকক্ষণ ধরে ঘরের সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে থাকার পর সে বললো,
-নেহা, তুমি তো জানোই আমার আগেও একবার বিয়ে হয়েছিল।
অর্ণবকে থামিয়ে দিয়ে নেহা বললো,
-কিন্তু আমরা বিয়ের রাতেই প্রতিজ্ঞা করেছিলাম অতীত নিয়ে ঘাঁটাঘাটি করব না।
-আমিও তাই চেয়েছিলাম কিন্তু বোধহয় সেই প্রতিজ্ঞা আমাকে ভাঙতে হবে। ওর নাম ছিল ঈশিতা, আমার প্রথম স্ত্রী।
-আমি এসব জানতে চাই না অর্ণব। খানিকটা রেগে গিয়েই নেহা বলে উঠলো। সে সুন্দরী, মেধাবী, মাত্র একুশ বছর বয়সের একটা মেয়ে কিন্তু তার চাচা চাচি তাকে বিয়ে দিয়েছে একজন দোজবর মানুষের সঙ্গে। হ্যাঁ ভাগ্যক্রমে মানুষটা অনেক ভালো। কিন্তু একজন এত ভালো মানুষের ডিভোর্স কেন হলো? আজ যদি তার বাবা-মা বেঁচে থাকত তাহলে নিশ্চয়ই অন্য কারোর দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে তাকে গছিয়ে দিত না। তাই বিয়ের দিনই সে অর্ণব কে বলেছিল পুরনো কথা তারা কখনো তুলবে না।
​অর্ণব খুব ধীরেসুস্থে, ভারী গলায় বলা শুরু করল, যেন প্রতিটি শব্দ তার বুকের ভেতর থেকে খসে পড়ছে।
-বিয়ের পর, মানে আমার প্রথম বিয়ের পর থেকেই মা প্রতিদিন আমার কানে বিষ ঢালতেন। বলতেন, ঈশিতা নাকি তাদেরকে ঠিকমতো সম্মান করে না, মুরুব্বিদের মুখে মুখে কথা বলে। শারমিন এসে বলত, ও নাকি আমাদের এই সুখের পরিবারটাকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে আলাদা করে দিতে চায়। বাবা বলতেন, ওর চালচলন এবং চরিত্রে সমস্যা আছে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত নতুন নতুন অভিযোগের পাহাড় আমার সামনে জমা হতো।
​অর্ণব একটা তিক্ত, অর্থহীন হাসি হাসল।
-আমি বোকার মতো বিশ্বাস করতাম। আমি একবারের জন্যও ভাবিনি, সবাই যদি এক সুরে একই কথা বলে তবুও সেটা সত্যি হয়ে যায় না। অবশ্যই সেটা যাচাই করা উচিত কিন্তু তখন তা আমার মাথায় একেবারেই আসেনি। আমার মনে হতো ওরা তো আমার নিজের রক্ত। আমার মা,আমার বাবা, আমার বোন নিশ্চয়ই আমার ক্ষতি চাইবে না। অতএব সমস্যাটা সত্যিই সেই স্বল্প পরিচিত মেয়েটার মধ্যেই আছে। অর্থাৎ আমি ধরেই নিয়েছিলাম সমস্ত সমস্যা ঈশিতার। এই অন্ধবিশ্বাসই আমার সবচেয়ে বড় কাল হয়েছিল।
​অর্ণবের কণ্ঠস্বর এবার ভেঙে এল।
-অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আমি উল্টে ঈশিতার ওপর চোটপাট করতাম, ঝগড়া করতাম। ও নিষ্পাপ চোখের জল ফেলতো। কিন্তু সেই চোখের জলের মূল্য আমি দিতে পারিনি অথবা হয়তো দিতে চাইনি। ওর একটা কথাও আমার কানে ঢুকতো না। শেষ পর্যন্ত একদিন ও আর সহ্য করতে না পেরে আমার মুখের ওপর সাফ জানিয়ে দিল, "তুমি আমাকে না, শুধু তোমার পরিবারের সবার মিথ্যা কথাগুলো বিশ্বাস করো। একবারও আমার কথা শুনতে চাও না।আমার পক্ষে এই নরকে আর থাকা সম্ভব নয়।"
আমি তখন পৌরুষের অহংকারে অন্ধ হয়ে রাগের মাথায় ডিভোর্স দিয়ে দিলাম।
​চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল। অর্ণব জানালার অন্ধকার কাচের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল,
-ডিভোর্সের পর আমি ভেঙে পড়েছিলাম যদিও আমিই সেই পথ বেছে নিয়েছিলাম। তারপর আমি নিজেই একটা একটা করে ঘটনা মেলাতে শুরু করলাম। আমার চোখের সামনে এমন কিছু ঘটনা ঘটলো যা আমার সব পর্দা সরিয়ে দিল।
​নেহা উৎসুক চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
​-আমি খেয়াল করলাম মা আর শারমিনের কথা বলার ধরণটা। ঠিক যেভাবে অতীতে ঈশিতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হতো, অবিকল একইভাবে তারা অন্য মানুষদের বিরুদ্ধেও গল্প বানিয়ে অন্যদের বলতো, যেটা হয়তো আমার সামনে আগেও অনেকবার ঘটেছে কিন্তু আমি খেয়াল করিনি। তাছাড়া ঈশিতা চলে যাওয়ার পরে আমার মানসিক ভাঙ্গন দেখেও আমার পরিবারের মনে যে এক প্রকারের উল্লাস চলছিল তা আমি ভুলতে পারিনি। আমার দিন কাটে তখন সিগারেটের ধোঁয়ায়। আমাদের কাজের খালা যিনি প্রায় পঁচিশ বছর ধরে আমাদের বাড়িতে আছেন তিনিই একদিন আমাকে আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ঘরের ভেতরের আসল অশান্তি টা কারা তৈরি করতো। ​
​-তুমি কি তাদের কাছে কিছু জানতে চাওনি?
​-চেয়েছিলাম। সব অস্বীকার করেছে। ঈশিতার কাছেও গিয়েছিলাম, সে আমার চেহারাও দেখতে চায়নি। তবে ওর বাবা অনেকক্ষণ আমার সাথে কথা বলেছিলেন। অমায়িক এই ভদ্রলোকের একমাত্র আদরের রাজকন্যা আমার ঘরে এসে কি পরিমান নিষ্পেষিত নির্যাতিত হয়েছে তা আমি উনার কথার প্রত্যেকটা অক্ষরে অক্ষরে বুঝতে পেরেছিলাম। এক বুক আফসোস নিয়ে আমি ফিরে এসেছিলাম।
নেহা অর্ণবের কাঁধে হাত রাখল, সেই হাতটা ছিল বিশ্বাসের-ভরসার।
-নেহা, আমি চাইনা তোমার সাথে এরকম কিছু ঘটুক। কারণ মানুষের স্বভাব বেশিরভাগ সময় পরিবর্তন হয় না।
​নেহা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না, সে কান্নায় ভেঙে পড়ল।
​-তাই তুমি আমাকে কখনো ও বাড়িতে এক মুহূর্তের জন্য একা কোথাও যেতে দাও না, তাই না? আমাকে ক্ষমা করো অর্ণব, আমি ভুল বুঝেছিলাম তোমাকে।
​রাত তখন গভীর। অর্ণবের বুকে মাথা রেখে নেহা পরম নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়লো। অর্ণব তখনো জেগে।
​নেহা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তার নিঃশ্বাসের মৃদু শব্দ ছাড়া আর কিছু নেই। ঠিক সেই মুহূর্তে অর্ণবের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক অদ্ভুত, শীতল এবং অচেনা হাসি। এক পলকের জন্য তার মুখের সেই ব্যথাতুর, অনুশোচনায় ভাঙা মুখোশটা যেন হড়কে পড়লো।
মেয়েটা কি অসম্ভব রকম বোকা, তার সমস্ত কথা সে বিশ্বাস করেছে। নিজের মনেই বলতে থাকে অর্ণব।
"আরে ওই ফকিন্নি ঈশিতাকে বিয়ে করেছিলাম তো শুধুমাত্র রূপ দেখে। না ছিল শিক্ষা দীক্ষা, না ছিল বাবার টাকা। একেবারেই নিম্নবিত্ত ঘরের মেয়ে। তবুও বিয়ের কয়েক মাস পরেই জানতে পারলাম হা*রা*মজাদির নাকি আবার একটা বয়ফ্রেন্ড ছিল। হ্যাঁ সেই সম্পর্ক বিয়ের দুই বছর আগেই ভেঙে গিয়েছিল কিন্তু তাতে কি অন্যের ছেড়ে দেওয়া জিনিস আমি কেন নিব? কেন আমাকে জানানো হয়নি? প্রতিদিনই মারধর করতাম, ওকে দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যেত। মারধরের শেষে ওর সাথে রাতের আয়েশ টা সেরে নিতাম, যত কিছুই হোক বউ আমার। এই অধিকার তো আমার আছে। কিন্তু কে জানতো একদিন মার খাওয়ার পরে একেবারে ম*রেই যাবে। মাত্র বিছানায় ফেলেছি ঠিক সেই সময়ই শেষ দমটা ছেড়ে দিল। অসহ্য.. বিরক্তিকর..
লা*শটা গুম করা কোন ব্যাপারই ছিল না, আর ওর বাপ মা, হাহ.. লাখ দুয়েক টাকা ছুঁড়ে দিলাম আর তারা মুখে একদম স্কচটেপ লাগিয়ে নিল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমার পরিবার, তারা কোনদিন মানতেই পারেনি। আমি ঠিক জানি কখনো না কখনো তারা নেহাকে সত্যিটা বলে দেয়ার চেষ্টা করবে, ঠিক বলে দেবে ঈশিতাকে আমি ডিভোর্স দেইনি বরং ও এখন মাটির নিচে, তাইতো এত সতর্কতা। এই মেয়েটি সুন্দরী, শিক্ষিত তার ওপর এর কোন অতীত নেই। এই মেয়ে যতক্ষণ আমার নিয়ন্ত্রণে থাকবে ততক্ষণ একে আমার সাথে রাখব। আর যদি কথার হেরফের করে..."

​অন্ধকারের গহ্বরে অর্ণবের সেই ক্রূর, বিকৃত হাসিটা আরও গাঢ় হয়ে মিশে গেল। বাইরে তখন রাতের অন্ধকার আরও গভীরতর হচ্ছে, আর এক নির্মম ফাঁদে আটকা পড়া নেহার ভবিষ্যৎ ডুবে রইল এক অতল অনিশ্চয়তায়।

সুবর্না শারমিন নিশী

ফেলা যায় না কিছুই।

 


আমরা যারা সৌভাগ্য অথবা দূর্ভাগ্যক্রমে বাঙাল বাড়িতে জন্মেছি তারা ছোটো থেকেই জানি সব খাওয়া যায়।‌ খাবারের খোসা থেকে আঁটি, ফুল থেকে পাতা এবং একটু নুন‌ হলুদ বা কাঁচা লঙ্কা, আদতেই সব খাওয়া যায়!
কখনো কারো মুখে ব্যঙ্গোক্তি শুনি, বাঙালরা নাকি সবাই জমিদার ছেলো! সবাই জমিদার ছিলো নাকি জানি না তবে সবার একটা নিকানো উঠোন, টগরফুলের গাছ, তুলসীমঞ্চ, দাওয়ায় পা ছড়িয়ে বসার মতো আমেজ ছিলো। মায়ের মুখে শোনা সবকিছু ছেড়ে একরাত্রে বেরিয়ে পড়েছিলো অনেকে। হেঁটে পেট্রোপোল বর্ডার আসতে হবে, কোমরের গোঠে রাখা যৎসামান্য সোনাদানা, কিছু চাল ডাল কাঁচা আনাজ। তখনি শুনেছিলাম টানা তিনদিন নাকি ভেজানো চিঁড়ে আর কাঁঠাল খেয়েই থাকতে হয়েছিল তাদের। শিকড় উপড়ে আসা মানুষগুলো তাই কন্দমূল খেয়েই কাটিয়ে দিতে পারে দিনের পর দিন। উদ্ধাস্তু কলোনীর বেড়ার ওপর ঝুলে থাকা তেলাকুচা পাতাই অমৃত লাগে খিদের পেটে, আর সাথে লাগে শুধু অনেকটা ঝাল... কাঁচা, পাকা, শুকনো বা চুঁইঝাল! বারেবারে জল খেলে কম খাবারেই হয়ে যায়!
ছোটো থেকেই মা'কে দেখতাম খুব কম উপকরণে রান্না করতে, খুব কম তেল, নামমাত্র মশলা। ফেলতো না প্রায় কিছুই। ফুলকপি বা বেগুনের ডাঁটি , কুমড়োর ভিতরের নরম অংশটা, পালংশাকের গোড়ার শক্ত অংশটা সব দিব্যি মিশে যেতো পাঁচমিশালি তরকারিতে। লাউ বা কুমড়ো বা আলুর খোসা কখনো ফেলতে দেখিনি আমি, কুচিকুচি করে কেটে , শুকনো পাতার জ্বালটা একটু কম করে অল্প তেলে ভেজে নিতো সেগুলো। মানকচুর যেই অংশটা খেলে গলা ধরে সেটা দেখতাম ভালো করে ছাড়িয়ে নিতো, চাক করে কেটে তারপর জলে অল্প নুন দিয়ে ভাপিয়ে জলটা ফেলে দিতো। ভেজে নিলেই দিব্যি খাওয়া যেত। মাসের শেষদিকটা , যখন বেশ টানাটানি থাকতো, তখন প্রায়ই চুপড়ি নিয়ে নেমে পড়তো পুকুরে। পুঁটি, বেলে, চাঁদা , খয়রা পেয়ে যেতো। পুকুর ধারে কলমি বা মালঞ্চশাকের আড়ত, লকলকে আগা। চুনোমাছগুলো ধুয়ে নুন হলুদ মাখিয়ে , একটু সরষের তেল অল্প মশলা দিয়ে কলাপাতায় বেঁধে মাটির পাত্রে চাপা দিলেই দুইবেলার খাওয়ার চিন্তা শেষ।
প্ল্যাটারে কুমড়ো ফুলের বড়া, হেলেঞ্চা পাতার বড়া এবং লাউ আর আলুর খোসা ভাজা। ওই যে, খোসা থেকে আঁটি পর্যন্ত ফেলা যায় না কিছুই।

Baishakhi Roy

Friday, August 14, 2026

বেসিক

 


আমার খুব কাছের বান্ধবী চৈতির ডিভোর্স হয় হঠাৎ করে৷ এক সন্ধ্যায় চৈতি ফোন করে আমায় বলল,

—পৌষী তোর কাছে ক'টা দিন থাকতে দিবি আমায়?
আমি এত অবাক হয়েছিলাম। ইউনিভার্সিটিতে আমাদের ডিপার্টমেন্টে ফার্স্ট হয়েছিল চৈতি। স্কলারশিপও পেয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ে আঙ্কেল আন্টি মনের মত ছেলে পেয়ে বিয়ে দিয়ে দিলেন চৈতিকে।
চৈতি অবশ্য বাড়িতে কথা বলেছিল। আঙ্কেল আন্টি বললেন,
—একটা ভালো বিয়ে জীবনে আশীর্বাদের মত। অর্ণব সোনার টুকরো ছেলে। ভগবান এমন ছেলে শতযুগে একজন করে পৃথিবীতে পাঠান।
তারপর তো বিয়ে হয়ে গেল চৈতির। বিয়ের পর চৈতি অনেক কিছু ছাড়লো। ইউনিভার্সিটিতে জয়েন করেছিল। তাও ছাড়লো। ভালো নাচ করত। তাও ছাড়লো।
জিজ্ঞেস করতেই বলল,
—শুধু ভালো ছেলে পেলেই তো হয় নারে পৌষী; সংসারটাও তো মন দিয়ে করতে হয়।
সেই চৈতির এমন ফোন পেয়ে আমি বোকা হয়ে গিয়েছিলাম।
—আমার কাছে এসে থাকতে হলে তোকে বলতে হবে? চলে আয়।
—আমি অর্ণবকে ডিভোর্স দিচ্ছি পৌষি।
মা-বাবা বাড়িতে থাকতে দেবে না বলেছে। আমি কয়েকটা দিনই থাকবো। এর মধ্যে ঠিক কিছু ম্যানেজ করে ফেলব। যতদিন তোর কাছে থাকব আমি কন্ট্রিবিউট করব।
—এরকম করে বলিস না প্লিজ। আমি যদি তোর কাছে যেতাম বলতে পারতি এরকম?
চৈতি সেই প্রথমবার কাঁদলো। হাউমাউ করে। ফোনের ওপাশে ওর কান্না আমাকে এপাশে ভাসিয়ে দিচ্ছিলো কষ্টের সমুদ্রে। বড় শক্ত মেয়ে চৈতি। কোনোদিন কাঁদতে দেখিনি ওকে। মনে আছে ইউনিভার্সিটিতে ওর আর আমার বন্ধুত্ব খুব ফেমাস ছিল।
সবাই খুব বলতো, একজন সর্বনাশ, আর একজন পৌষ মাস।
প্রহর শেষের আলোয় রাঙা কথাটা থেকেই ওকে সবাই ডাকতো সর্বনাশ বলে। আর দুজনেরই মাসের নামে মিল করে নাম তো বন্ধুত্বও খুব জমে গিয়েছিল। ছেলেরা পর্যন্ত আমাদের হিংসে করত।
চৈতি এলো। শান্ত চেহারা। পুরো অবয়ব জুড়ে হতাশা লুকানোর সে কী আপ্রাণ চেষ্টা । যেন খুব ভালো আছে ও। সেদিন ও আসবার পরেই খুব করে বৃষ্টি নেমেছিল। ঝমঝমিয়ে। চৈতি বলল,
—দেখ, সব কেমন ধুয়ে মুছে যাচ্ছে। পৃথিবীটাও চায় না থাকুক কিছু।
—মনের ভেতরটা ধুয়ে ফেলতে পারবি?
—ওটা সবার আগেই ধুয়েছি পৌষী। বাইরেটাই ধুতে পারলাম বড্ড দেরি করে। একটা ভুল বিয়ে মানে জানিস, শত বছরের অভিশাপ মাথায় নেয়া।
আমি সেদিন জানলাম। একটা সম্পর্কে দুটো মানুষ যখন আলাদা হয়। সবার আগে আলাদা হয় মন। শরীর বড্ড দেরি করে। লোকে দেখে তো। তাই একটু রয়ে সয়ে আলাদা হতে হয়। কিন্তু মনটা, মনের ভেতরটা দগদগে ঘা, পোড়া নিয়ে দূরে চলে যায় বহুদিন আগে।
চৈতি এসেই দেখলাম বেশ ছুটাছুটি করছে। দেশের বাইরে পোস্ট গ্রাজুয়েশনের জন্য এপ্লাই করেছিল। হয়েও গেল ওর। রেজাল্ট ভালো ছিল।
যাবার দিন তারিখ ঠিক হবার আগে একদিন বসলো আমার সাথে।
বলল,
—গিয়েই তোকে ওখানে ঘুরতে নিয়ে যাব। মিষ্টুনকে সঙ্গে নিয়ে যাবি। বলবি, মাসির পক্ষ থেকে গিফট।
—তুই একেবারে যাচ্ছিস? আর ফিরবি না?
—জানি না। তবে মনে হয় না আজীবন থাকতে পারব। এই দেশটাকে এত ভালোবাসি, নিজের ছাই এদেশের মাটিতে না মিশলে মরেও তো শান্তি পাবো না রে।
চলে যাবার কয়েকদিন আগে এক বিকেলে আমি চৈতিকে জিজ্ঞেস করলাম।
—অর্ণবকে ছাড়লি কেন? তোদের তো কখনো ঝগড়া হতেও শুনিনি। এত ভালো কাপল তোরা। আমরা তো রীতিমতো তোদের এক্সাম্পল দিয়ে ব্র্যান্ডিং করতাম।
চৈতি জবাব না দিয়ে হাসলো।
—বল না শুনি!
অনেকবার জিজ্ঞেস করার পর চৈতি বলল,
— স্বামী তার স্ত্রীকে খেতে দেবে, পরতে দেবে, সেইফটি দেবে, অসুখবিসুখ হলে যত্ন করবে, ভালোবাসবে, তার সাধ আহ্লাদের খেয়াল করবে, তার সম্মানটুকুর মূল্যায়ন করবে এগুলো না সংসারে খুব বেসিক। এগুলো করে একজন স্বামীর মহান হবার কোনো সুযোগ নেই। এগুলো তাকে করতেই হয়। এগুলো লাক্সারি নয়। কিন্তু এগুলো করে যদি কেউ মহান সাজে, প্রতিমুহূর্তে তোমাকে ফিল করায় এগুলো তুমি ওর থেকে পাচ্ছো, এগুলো তোমার দায়, সেই সংসারে কি থাকা যায়?
কয়েকটা লাইন। আমি একটু পজ নিলাম। এগুলো তো আসলেই খুব বেসিক। ভাবিনি তো এমন করে।
—অথচ আমি তার জন্য রান্না করা, তার ব্যাগ গুছিয়ে দেয়া, তার জন্য অপেক্ষা করাটাকে বেসিক ধরেই সংসার করেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম এগুলো আমার করতেই হত। বরং তার জন্য আমার ভালোবাসা কম পড়ে কিনা সেই নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতাম সারাক্ষণ। সারাক্ষণ মনে হতো, আমি পারছি তো ওকে ভালোবাসার বেস্ট ভারশনটা দিতে। আর সে…! কোনোকিছুতে যদি বেসিকটাই না হয় তাহলে বাকীটা কি করে হবে বল?
চৈতি চলে গেল। যাবার কিছুদিন পর আমায় ফোন করলো। বলল,
—বেড়াতে আয়। তোদের মিস করছি।
ভিডিও কলে দেখছিলাম ওকে। ঝলমল করছিল ওর মুখটা। দেখে এত শান্তি লাগলো। মনে আছে, যেদিন এসেছিল আমার কাছে কেমন শুকনো মত ক্লান্তি ছিল চোখের কোলে। ঘুম না হওয়া চোখ দুটোতে একরাশ অভিযোগ ছিল এই বেঁচে থাকা নিয়ে। আজ দেখো সেই চোখেই বৃষ্টি ভেজা গন্ধরাজের পাপড়ির মত স্নিগ্ধতা।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
—-কেমন আছিসরে তুই?
—ভালো আছি। এখন তো অন্তত শুনছি না, কার টাকায় ঘরে বাজার আসে টের পাও না! শপিংয়ে যাওয়ার টাকাগুলো কেমন করে আসে টের পাও না তো! রেস্টুরেন্টে বিল কার পকেট থেকে যায় টের পাও না তো!
আমি আবার একটু থমকে গেলাম। এই কথাগুলো এত চেনা আমার কাছে। এত পরিচিত।
আমার নিজের বিল আমিই দিতে পারি এখন। তাও একসময় অনেক শুনেছি। সারাদিন লুপে শুনতে থাকা প্রিয় গানের মত অবজ্ঞার এই লাইনগুলো বারবার শুনেছি। বুকের ভেতরে ছিল এই লাইনগুলো।
—এই পৌষী, তুই কবে আসবি বলতো, আমি সব এরেঞ্জ করে দিই! একটু বেশি করে ছুটি নিবি, এখানে অনেক সুন্দর সুন্দর জায়গা আছে দেখার। মিষ্টুনকে বল না, তাড়াতাড়ি পাসপোর্ট করে ফেলতে।
—তুই এরেঞ্জ করবি কেন? আমি আমার মত করে আসব।
—তোর মত করে মানে?
—তোকে এত টাকা পয়সা খরচ করতে হবে না। আমরা আসব তো বললাম।
চৈতি থমথমে মুখ করে বলল,
—সেদিন আমায় তোর কাছে এমন নির্ভার হয়ে থাকতে দিয়েছিলি কেন তবে?
—-তোর আমার বন্ধুত্বে ওটা খুব বেসিক ছিল চৈতি। এটুকু তুইও আমার জন্যও করতি। সারাক্ষন ওটাকে এভাবে গ্লোরিফাই করার কিছু নেই।
—-ওটা বেসিক?
—হু। বেসিকই তো। মিনিমাম লেভেলের বেসিক।
চৈতি ফোনের ওপাশে হাসলো। খুব হাসলো। আমি মুগ্ধ হয়ে ওকে দেখতে লাগলাম। চৈতির হাসি সুন্দর! বৃষ্টির মত সুন্দর! কিশোরীর প্রথমবার শাড়ি পরার মত সুন্দর! ফুলের গায়ে শিশির চুইয়ে পড়ার মত সুন্দর!
অথচ জানেন, মাঝে মাঝে একটু থেমে পেছন ঘুরে সংসারটার দিকে তাকালে সামান্য বেসিকটাই দেখতে পাই না।
তবে চৈতির মত করে নির্ভার শান্তির হাসি আমি কোনোদিনও হাসতে পারব না। আমার কাছে মিষ্টুন আছে। ওর জন্য আমাকে বেসিকটুকু ছাড়াই সংসার করতে হবে। এই পৃথিবীর লক্ষ কোটি মেয়ে বেসিকটুকু না বুঝে পেয়েও সংসার করে। করতে হয়।
মা বলেছেন, সংসারে পেছন ফিরে দেখতে নেই। দেখলেই চোখ জ্বালা করে। চোখে জ্বালা ধরানোর চাইতে না তাকানোই তো ভালো!