Tuesday, September 22, 2026

Shiitake Mushrooms Baked in Foil with Garlic and Cheese

 


Ingredients

Shiitake mushrooms: 4

Garlic: 1 clove

Soy sauce: 1 teaspoon

Grated Parmesan cheese: 1 tablespoon




Instructions

1. Remove the stems from the shiitake mushrooms and place the caps on a sheet of aluminum foil. Finely chop the stems and add them to the foil along with the caps.


Grate the garlic, add it along with the other ingredients, and wrap everything up in the foil.


Toast in a toaster oven at 250°C for 10 minutes.



2. Transfer to a serving dish and it's ready to eat.

No butter or heavy cream needed! Easy pumpkin potage.

 


Ingredients (Serves 2–3)

1/4 pumpkin


1/2 onion


400ml water


1/2 tsp salt


[A] 70ml milk


[A] 1 tsp consommé granules


[A] Pepper (to taste)


Instructions

① Peel the pumpkin and cut it into 2–3 cm cubes. Peel the onion and slice it thinly.


② Place the pumpkin, onion, water, and salt in a pot and heat over medium heat. Once it boils, reduce the heat to low and simmer for about 10 minutes until the pumpkin is tender.


③ Let the mixture cool slightly, then transfer it—including the cooking liquid—to a blender and blend until smooth.


④ Return the mixture to the pot, add ingredients [A], and heat over medium heat. Stir while warming it through, being careful not to let it boil. It’s ready to serve!


Sprinkle with dried parsley before eating, if desired.




Simple dietary shifts have been shown to rapidly reverse the key biological markers of aging.

 


Simple dietary shifts have been shown to rapidly reverse the key biological markers of aging.
The study, from scientists at the University of Sydney, reveals that most individuals can turn back their body's internal clock in as little as four weeks.
Researchers tracked 104 Australians aged 65 to 75, randomly placing them on four different diets with varying balances of fat, protein, and carbohydrates.
To measure their biological age—which reflects how well the body actually functions compared to one's chronological age—the scientists evaluated 20 critical health biomarkers, including cholesterol, insulin levels, and C-reactive protein, a primary indicator of systemic inflammation. Shockingly, three out of the four groups exhibited marked reductions in their biological age scores after only a month on their new meal plans, proving that aging-related markers can respond remarkably fast to dietary intervention.
While all participants consumed the same portion of daily calories from protein, the sources and macronutrient ratios made a substantial difference. The most pronounced improvements occurred in the group eating an omnivorous diet that was lower in fat and higher in carbohydrates, consisting of roughly 53% carbohydrates, 28% to 29% fat, and 14% protein.
Groups that switched to semi-vegetarian diets rich in plant-based proteins also enjoyed a decrease in their biological age. Conversely, those who stuck to a high-fat omnivorous diet—closest to typical Western eating habits—saw no physiological improvement. Though researchers caution that longer trials are required to confirm if these changes translate to a longer lifespan or reduced disease risk, the findings suggest that small, practical adjustments later in life can yield rapid health dividends.

source: Andrews, C. J., Ribeiro, V. R., Gosby, A., Le Couteur, D. G., Raubenheimer, D., Tan, J., Simpson, S. J., & Senior, A. M. (2026). Short-term dietary intervention alters physiological profiles relevant to ageing. Aging Cell

Hashem Al-Ghaili

Monday, September 21, 2026

প্রোটিন স্যালাড

 



👇🏻🥕🌽🥗
এই খাবার টা স্বাস্থ্যকর তো বটেই সাথে সাথে ভীষণ টেস্টিও হয়। রেসিপি টা লিখে দিলাম 👇🏻🌼📌যারা ওজন কমাতে চাইছেন, হাই প্রোটিন লো কার্ব ডায়েট এ আছেন, তাদের জন্য হেল্পফুল হবে। আপনারা নিজেদের portion মেইনটেইন করে খেতে পারেন। আমি এখানে দুজনের মতো বানিয়েছি।
🌼📌এটা বাচ্চাদের টিফিন বক্সেও দিয়ে দিতে পারেন ভীষণ হেলদি।

উপকরণ :

পনির -১০০ গ্রাম (বড়ো করে কেটে নিয়েছি)
ব্রকলি -৪/৫ টা ফুল ছোটো করে কাটা
গাজর -২ টো লম্বা করে কেটে নিয়েছি
হলুদ ক্যাপসিকাম -১/২ (চৌকো করে টুকরো)
লাল ক্যাপসিকাম -১/২(চৌকো করে টুকরো)
করাইশুঁটি-ছোটো এক বাটি।
রোস্টেড চিনে বাদাম-২ টেবিল চামচ
রসুন কুচি-৬/৭ কোয়া
পিঁয়াজ-২ টো মাঝারি সাইজের চৌকো করে কেটে পাঁপড়ি গুলো আলাদা করে নিয়েছি।
কাঁচা লঙ্কা কুচি-১
নুন- স্বাদ অনুযায়ী
গোলমরিচ গুঁড়ো-১/২ চামচ
চিলি ফ্লেক-অল্প
অরিগানো-১ চামচ
বাটার-১ চামচ

প্রণালী:

🌼একটা পাত্রে জল বসিয়ে জল টগবগ করে ফুটে উঠলে ব্রকলি আর গাজর টা দিয়ে ২ মিনিট হাই ফ্লেমে রেখে জল ছেকে তুলে নিয়েছি, অর্থ্যাৎ ব্লাঞ্চ করে নিয়েছি।
🌼ফ্রাই প্যান গরম করে বাটার দিয়েছি। গলে গেলে রসুন কুচি দিয়ে হাল্কা ভেজে পিঁয়াজ, ক্যাপসিকাম দুরকম দিয়ে নাড়াচাড়া করে একে একে করাইশুঁটি ব্লাঞ্চ করা গাজর আর ব্রকলি দিয়েছি। একটু ভাজা হলে চিনে বাদাম টা দিয়েছি, পনির দিয়েছি একই সাথে। হাই ফ্লেম রেখেই সব কিছু টস করে নিয়েছি। নুন, গোলমরিচ গুঁড়ো, চিলি ফ্লেক, অরিগানো, কাঁচা লঙ্কা কুচি সব একে একে দিয়ে ৩/৪ মিনিট মতো রান্না হবে।
🌼নামিয়ে সার্ভ করুন গরম গরম এই স্যালাড। এর সাথে আর কিছু লাগবে না, এটাই একটা কমপ্লিট মিল। লাঞ্চে নিলে সাথে একটু টক দই বা রায়তা নিতে পারেন।খেতে ভীষণ ভালো লাগবে। 👇🏻👇🏻🤤
🌼🌼পনিরের বদলে চিকেন use করতে পারেন।
🌼🌼পনিরের সাথে মাশরুম use করতে পারেন।

🌼🌼এছাড়া বেবি কর্ন, সুইট কর্ন use করতে পারেন। ক্যাপসিকাম শুধু সবুজ টা use করতে পারেন, লাল বা হলুদ না থাকলে।আবার তিনটে থাকলে তিনটেই দিতে পারেন। বিনস দিতে পারেন।


Susmita Dey Das

ঘেচু ও আছে

 

অনেক সময় কথা ব লার সময় আমরা কচু ঘেচু বলি । আমি আস লে ঘেচু ব লে কিছু আছে জানতাম তা । আমি ম নে করতাম এইটা কথার ক থা । আজ ঘেচু কে ম ন দেখতে পেলাম এক জনের ওয়েব পেজে।

ঘেচুর সাথে দূর্ভিক্ষের নাকি একটা সম্পর্ক আছে। সেই নবাবী বিলুপ্তি হয়ে কোম্পানীর শাসন জেঁকে বসার সময় যে দূর্ভিক্ষে বাংলার এক তৃতীয়াংশ মানুষ মরে গেলো, তেতাল্লিশের মন্মন্তরে, চুয়াত্তরের দূর্ভিক্ষে বা দেড় যুগ আগেও অস্থিত্ব থাকা উত্তরবঙ্গের মঙ্গা আক্রান্ত জেলাগুলোতে ভাতের অভাবে মানুষ কচুর সাথে যা খেয়ে জীবন বাঁচিয়েছে তা হচ্ছে এই জলজ ঘেচু!


আলু,মটর দিয়ে নেপালি আচার।

 


আজকের থালির নতুন পদ হল আলু,মটর দিয়ে নেপালি আচার। দেখতে আর খেতে আলুকাবলির মতো হলেও এতে টুইস্ট হলো কালো তিল। কিভাবে বানিয়েছি রেসিপি লিখে দিলাম।
দুটো সেদ্ধ আলু ছোট পিস করে নিয়েছি। সাথে ১/২ কাপ সেদ্ধ ঘুগনির মটর, দুটো মাঝারি সাইজের পেঁয়াজ কুচি,১টা শশা কুচি,১ চা চামচ আদা ছ্যাচা, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস,২ টেবিল চামচ গুঁড়ো করা রোস্টেড কালো তিল,২ টো রোস্ট করা শুকনো লঙ্কা গুঁড়ো আর পরিমাণ মত নুন দিয়ে ভালো করে মিক্সড করে নিয়েছি।এরপর কড়াইতে ২ টেবিল চামচ সরষের তেল দিয়ে তাতে অল্প মেথি দানা,৩-৪টে চেরা কাঁচা লঙ্কা আর ১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো আর খুব অল্প লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে কয়েক সেকেন্ড নাড়াচাড়া করে আলু মটরের মিক্সচারে দিয়ে ভালো করে মিক্সড করলেই রেডি নেপালি আলু আচার। ভাতের সাথে পাঁচমিশালি ডাল দিয়ে এই চটপটে নেপালি আলু আচার খেতে দারুন লেগেছে।

Oindrila Bhattacharyya

আপনি কি জানেন, ভারতের ইতিহাসে এমন এক রাজা ছিলেন, যাঁর একমাত্র শখ ছিল পাহাড়ের চূড়া থেকে জ্যান্ত হাতি ফেলে দিয়ে তাদের যন্ত্রণার চিৎকার শোনা?

 


৫১৫ খ্রিস্টাব্দ। উত্তর ভারতের সিংহাসনে বসল শ্বেত হুন বংশের এক নতুন আতঙ্ক—রাজা মিহিরকুল। মিহিরকুল শব্দের অর্থ ‘সূর্যের সন্তান’, কিন্তু তাঁর শিরায় বইত অন্ধকারের রক্ত। তিনি ছিলেন শিবের একনিষ্ঠ উপাসক (শৈব)।
তাঁর প্রতিটি মুদ্রায় খোদাই করা থাকত শিবের ত্রিশূল আর ষাঁড়ের (নন্দী) ছবি। তিনি নিজেকে পরম শৈব বলে অহংকার করতেন, কিন্তু শিবের শান্ত রূপ নয়, তাঁর ভেতরে বাস করত এক প্রলয়ংকরী ধ্বংসাত্মক রূপ। শিবের উপাসক এই অপরাজেয় ক্রূর রাজার জীবনে একটা গোপন কৌতূহল ছিল—তিনি বৌদ্ধ ধর্মের রহস্যময় আধ্যাত্মিক শক্তির উৎসটা জানতে চেয়েছিলেন।
ঠিক এই জায়গাতেই শুরু হয় সেই খেলা, যা পুরো ভারতের মানচিত্র বদলে দিয়েছিল।
রাজা পরম অহংকারে বৌদ্ধ সংঘের কাছে চরম বার্তা পাঠালেন—"আমার প্রাসাদে একজন পরম জ্ঞানী বৌদ্ধ পণ্ডিতকে শিক্ষক হিসেবে পাঠাও, আমি দীক্ষা নেব।" বার্তাটি পাওয়া মাত্রই বৌদ্ধ মঠগুলোতে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। কারণ ভিক্ষুরা জানতেন, মিহিরকুলের মেজাজ কতটা উগ্র। কোনো বড় পণ্ডিত তাঁর রাজসভায় গিয়ে নিজের জীবন বাজি রাখতে রাজি হলেন না।
আর ঠিক তখনই, বৌদ্ধ সংঘ এমন এক মারাত্মক সিদ্ধান্ত নিল, যা ছিল আত্মঘাতী।
রাজার দরবারে এমন একজন ভিক্ষুকে পাঠানো হলো, যিনি অতীতে ওই প্রাসাদে মিহিরকুলেরই সাধারণ জুতো পরিষ্কার করার চাকর ছিলেন! সংঘ ভেবেছিল, এই ভিক্ষু রাজপ্রাসাদের সবকিছু চেনেন, তাই নিরাপদ। কিন্তু তারা এই পরম শৈব রাজার অহংকারকে মাপতে ভুল করেছিল।
পাঠশালা চলাকালীন হঠাতই রাজার চোখ গেল সেই শিক্ষকের পুরনো ক্ষতের দিকে। চাবুকের সেই দাগ দেখেই মিহিরকুল চিনে ফেললেন—এ তো তাঁরই পুরনো কৃতদাস! এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল পুরো রাজসভা।
একজন সামান্য চাকর আজ রাজার মাথার ওপর বসে তাঁকে জ্ঞান দিচ্ছে? এই চরম অপমান মিহিরকুলের ভেতরের পিশাচটাকে জাগিয়ে তুলল। রাজসভার মাঝেই তরবারি উঁচিয়ে গর্জে উঠলেন তিনি—"এই ধৃষ্টতার শাস্তি পুরো ভারতবর্ষ পাবে! এই মাটি থেকে আমি বৌদ্ধ ধর্মের নাম নিশানা মুছে দেবো।"
৫২০ খ্রিস্টাব্দ। কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই, মিহিরকুলের হুন বাহিনী ক্ষ্যাপা নেকড়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল গান্ধার ও পাঞ্জাব অঞ্চলে। শিবের উপাসক মিহিরকুল এবার নিজের তলোয়ারকে বৌদ্ধদের রক্তে স্নান করাতে লাগলেন।
চোখের পলকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শতাব্দী ধরে গড়ে ওঠা প্রায় ১,৬০০টি পবিত্র বৌদ্ধ মঠ ও স্তূপ! অমূল্য সব প্রাচীন লাইব্রেরিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হলো। কিন্তু আসল বিভীষিকা তখনো বাকি ছিল।
হাজার হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং পণ্ডিতদের লাইনে দাঁড় করিয়ে সিন্ধু নদের তীরে নিয়ে আসা হলো। তারপর? শুরু হলো ইতিহাসের নির্মমতম গণহত্যা। শত শত তরবারির এক কোপে মাথাগুলো ছিটকে পড়তে লাগল সিন্ধু নদের বুকে। ঐতিহাসিক হিউয়েন সাং-এর ডায়েরি অনুযায়ী, সিন্ধু নদের জল সেদিন আর জল ছিল না, তা হয়ে উঠেছিল টকটকে লাল রঙের এক রক্তের স্রোত। নদী দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল শুধু ছিন্ন ভিন্ন লাশ।
মিহিরকুল ভাবলেন, তিনি অপরাজিত। কিন্তু তিনি জানতেন না, এই রক্তই ভারতের বাকি রাজাদের ঘুম উড়িয়ে দেবে এবং এক চরম প্রতিশোধের জন্ম দেবে।
৫২৮ খ্রিস্টাব্দ। মালবের মহাশক্তিমান রাজা যশোধর্মন এবং মগধের গুপ্ত সম্রাট নরসিংহগুপ্ত বালাদিত্য গোপনে হাত মেলালেন। তৈরি হলো এক বিশাল সম্মিলিত অক্ষবাহিনী। মান্দাসোরের যুদ্ধক্ষেত্রে মুখোমুখি হলো দুই পক্ষ। যে হুন বাহিনীকে এর আগে কেউ ছুঁতেও পারেনি, ভারতীয় রাজাদের যৌথ চক্রবূহের সামনে তারা খড়কুটোর মতো উড়ে গেল।
যুদ্ধের শেষে ধুলো উড়তেই দেখা গেল এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। যে মিহিরকুলের পায়ের নিচে লক্ষ মানুষ মাথা নত করত, সেই মিহিরকুল আজ লোহার শৃঙ্খলে বন্দী হয়ে হাঁটু গেঁড়ে বসে আছেন রাজা যশোধর্মনের পায়ের কাছে!
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। আসল টুইস্ট তো এরপরে!
সম্রাট বালাদিত্য যখন মিহিরকুলের মৃত্যুদণ্ড দিতে চাইলেন, তখন বালাদিত্যের মা দয়াবশত এই নিষ্ঠুর রাজার প্রাণ ভিক্ষা চাইলেন। মিহিরকুলকে মুক্ত করে দেওয়া হলো। মুক্ত হয়ে এই পিশাচ কাশ্মীর রাজ্যে গিয়ে আশ্রয় নিলেন। এবং ঠিক এক বছরের মাথায়, যে রাজা তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, তাঁকেই পেছন থেকে হত্যা করে মিহিরকুল কাশ্মীর দখল করে নিলেন!

কিন্তু প্রকৃতির বিচার অলঙ্ঘ্য। ৫৩৩ খ্রিস্টাব্দে এক অদ্ভুত ও রহস্যময় চর্মরোগে আক্রান্ত হয় মিহিরকুলের পুরো শরীর। পচে যেতে থাকে তাঁর চামড়া। নিজের শরীরের যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে তিলে তিলে নারকীয় মৃত্যু হয় এই নিষ্ঠুর শাসকের। মিহিরকুলের তলোয়ার আজ মাটির নিচে হারিয়ে গেছে, কিন্তু সিন্ধু নদের সেই লাল জলের দাগ ইতিহাস কোনোদিন ভুলতে পারেনি।

Tong Daing Ne

শ্রেণী বিদ্বেষের সবচেয়ে বিপদজনক সত্যটা হচ্ছে

 জলজ্যান্ত একটা মানুষকে মেরে ফেলার গল্প বাইরে থেকে যতটা সরল শোনায়, ভেতরে ঢুকলে ততটাই জটিল হয়ে ওঠে। গল্পের ভেতরে ঢুকতে থাকলে একটার পর একটা দরজা খুলে যায়। আর প্রতিটি দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকে অমীমাংসিত কোন সত্য।

ফাহাদ গরীব ঘরের সন্তান। বয়স মাত্র ১৫ বছর। ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। অনিয়মিত কিংবা ঝরে পড়া ছাত্র। বাবা অটোচালক।
চলতি মাসের ২ তারিখে অপ্রতিমের বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারিম্যানের চাকরি দেওয়া হয় তাকে। মাস শেষে তার সঙ্গে চুক্তিপত্র করবেন এমন ইচ্ছাও ছিল ভদ্রলোকের। অপ্রতিমের সঙ্গে ফাহাদের ভালো-খারাপ তেমন কোনো সম্পর্কই ছিল না বলে জানতেন তার বাবা।
অপ্রতিমের বাবার ভাষ্যমতে, ‘অপ্রতিম ফাহাদকে খারাপ বলেনি। ভালোই মনে করত। ফাহাদও এ কয়েক দিনে কখনো অপ্রিতমকে খারাপ বলেনি। তেমন কোনো সম্পর্কও গড়ে ওঠেনি।’
এদিকে ফাহাদ অপ্রতিমের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সম্প্রতি সে টাকা ফেরত চাইছিল। পুলিশ মনে করছে এ নিয়ে অপ্রতিমের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে থাকতে পারে ফাহাদ।
শুক্রবার সন্ধ্যা পেরিয়ে অপ্রতিম যখন বাসায় ফিরছে না, তখন ফাহাদকেই ফোন করে ডেকে আনেন অপ্রতিমের বাবা। ছেলে কোথায় গেছে, সে কিছু জানে কি না, সেটা জানতেই তাকে খোঁজা হয়। সেই সময় ফাহাদ তাদের ইন্টারনেট গ্রুপে অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার কথাও লিখে দেয়।
এদিকে অপ্রতিমের পরিবারের হাতে আসে সিসিটিভি ফুটেজ। ফুটেজে যাকে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা গেছে সে কে জানতে চাইলে তুহিনকে দেখামাত্রই সহজেই চিনিয়ে দেয় ফাহাদ। তখন ফাহাদকেই বলা হয় তুহিনকে ফোন করে জানতে, অপ্রতিমকে সে দেখেছে কি না। ফাহাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনের কথোপকথনে তুহিন জানায় অপ্রতিম তার কাছে আসেনি
সময় তখন রাত ১০টা।
ততক্ষণে অপ্রতিম পৃথিবীতে নেই।
পরদিন শনিবার সকালে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী তুহিন ও সন্দেহভাজন অপর গ্রেপ্তারকৃত আসামী সিয়াম (১৯) মোটরসাইকেলে করে অপ্রতিমদের বাসায় আসে। তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথাও বলে। সান্ত্বনাও দেয়।
অপ্রতিমের বাবা বলেন, শনিবার সকালে বাসায় এসে তুহিন স্বাভাবিক আচরণ করলেও নানা প্রশ্নে একটু রিয়েক্ট করে সঙ্গে আসা তার বন্ধু সিয়াম।
শনিবার দুপুরে যখন অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে তখন পরিবারের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যেতে ফাহাদকেও বলা হয়, সে শরীর খারাপ লাগছে বলে চলে যায়।
আরেকজন আসামী কামরুল অপ্রতিমের পরিবারের চোখে তখনো অপরিচিত। অপ্রতিমের বাবা বলেছেন, তাকে তারা আগে কখনো দেখেননি।
কামরুল তুহিনের বন্ধু। হ ত্যা র আগে তুহিন, ফাহাদের মতো তাকেও ডেকে সঙ্গী করে। তুহিন কিশোর গ্যাং লিডার।
শুক্রবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়। উদ্দেশ্য আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া। সেখানে পৌঁছে আইফোন নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
অপ্রতিমকে বাঁশ দিয়ে প্রথমে তুহিন, তারপর আঘাত করে ফাহাদ ও কামরুল। অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার আইফোন নিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তুহিনের বয়স ১৯। ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। কামরুলের বয়স ১৬। আর সিয়ামের বয়স ১৯, সে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এরা সবাই বখাটে।
একটা বিষয় খেয়াল করুন। তুহিনের সঙ্গে কিন্তু অপ্রতিমের এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেলামেশা। অপ্রতিম তুহিনের বাইকে চড়েছে, বাইক চালিয়েছে, সেই বাইকের সঙ্গে ছবি তুলে নিজের ফেসবুক, টিকটকে পোস্ট করেছে। অপ্রতীমকে তো তার স্নেহভাজন, ঘনিষ্ঠ ছোট ভাইয়ের দৃষ্টিতে দেখার কথা। ফাহিমের ক্ষেত্রেও বিষয়টা তাই। অপ্রতিমের বাবা তাকে কাজের সুযোগ দিয়েছিল, স্বাভাবিক হিসাব অনুযায়ী অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি তার তো কৃতজ্ঞ হওয়ার কথা। অথচ তারা দুজন মিলে অপ্রতিমকেই শত্রুজ্ঞান করল। এখানেই শ্রেণিগত প্রতিহিংসার আশংকাটা সবচেয়ে নগ্ন ভাবে সামনে আসে!
তাহলে প্রশ্নটা কি শুধুই আইফোন বা পাঁচ হাজার টাকা? এগুলো হয়তো দৃশ্যমান কারণ। তার অন্তরালে হয়তো আরও গভীর কোনো ক্ষোভ কাজ করেছে! কখনো কখনো মানুষের ক্ষোভের আসল কারণ সে নিজেও উচ্চারণ করে না। এই অন্তর্গত গভীর শূণ্যতা থেকে জন্ম নেওয়া তীব্র প্রতিহিংসা এবং শ্রেণী বিদ্বেষ সে নিজেকেও দেখাতে চায় না। নিজের চেয়ে একটু ভালো অবস্থানে থাকা, বেশি সুযোগ পাওয়া, সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও সফল কাউকে দেখতে দেখতে তার ভেতরে যে বঞ্চনার বোধ, তুলনা, ক্ষোভ বা ঘৃণা জমে তা সে স্বীকার করে না।
আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া তখন অজুহাত হয়ে উঠে আর পাঁচ হাজার টাকা হয়ে উঠে জমে থাকা অন্য কোনো ক্ষোভের উপলক্ষ। আমরা জানি না অপ্রতিমের হ ত্যা র পেছনে এমন কোনো শ্রেণীগত বিদ্বেষ ছিল কিনা!
কারণ এই শ্রেণী বিদ্বেষের সবচেয়ে বিপদজনক সত্যটা হচ্ছে মানুষ তখন অন্যের প্রাপ্তিকে সহ্য করতে না পেরে এক বিজাতীয় ঘৃণা নিজের ভেতরে পুষে রাখে আজন্ম। তখন সেটা অন্যের বিরুদ্ধে তার নিজের ব্যর্থতার প্রতিশোধ হয়ে ওঠে।
মানুষ তখন নিজের যাবতীয় না-পাওয়া, অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার দায় অন্যের পাওয়ার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। অন্যের সাফল্য তার কাছে আর সেই মানুষটির অর্জন বলে মনে হয় না, মনে হয়, সেটাই তার নিজের জীবনের বঞ্চনার কারণ। তখন সে নিজের জীবন বদলানোর চেষ্টা না করে অন্যের জীবন থেকে অর্জনগুলো কেড়ে নেওয়ার হিংস্র খেলায় নামে। এমন নির্মম খেলোয়াড় হয়তো আপনার চারপাশেই ঘুরে বেড়াচ্ছে, আপনি শুধু খেলাটা এখনও বুঝে উঠতে পারেননি।
“Envy is the coward’s way of dealing with another man’s success.”
— George Bernard Shaw, Man and Superman

জলজ্যান্ত একটা মানুষকে মেরে ফেলার গল্প বাইরে থেকে যতটা সরল শোনায়, ভেতরে ঢুকলে ততটাই জটিল হয়ে ওঠে। গল্পের ভেতরে ঢুকতে থাকলে একটার পর একটা দরজা খুলে যায়। আর প্রতিটি দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে থাকে অমীমাংসিত কোন সত্য।
ফাহাদ গরীব ঘরের সন্তান। বয়স মাত্র ১৫ বছর। ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সে। অনিয়মিত কিংবা ঝরে পড়া ছাত্র। বাবা অটোচালক।
চলতি মাসের ২ তারিখে অপ্রতিমের বাবার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারিম্যানের চাকরি দেওয়া হয় তাকে। মাস শেষে তার সঙ্গে চুক্তিপত্র করবেন এমন ইচ্ছাও ছিল ভদ্রলোকের। অপ্রতিমের সঙ্গে ফাহাদের ভালো-খারাপ তেমন কোনো সম্পর্কই ছিল না বলে জানতেন তার বাবা।
অপ্রতিমের বাবার ভাষ্যমতে, ‘অপ্রতিম ফাহাদকে খারাপ বলেনি। ভালোই মনে করত। ফাহাদও এ কয়েক দিনে কখনো অপ্রিতমকে খারাপ বলেনি। তেমন কোনো সম্পর্কও গড়ে ওঠেনি।’
এদিকে ফাহাদ অপ্রতিমের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সম্প্রতি সে টাকা ফেরত চাইছিল। পুলিশ মনে করছে এ নিয়ে অপ্রতিমের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে থাকতে পারে ফাহাদ।
শুক্রবার সন্ধ্যা পেরিয়ে অপ্রতিম যখন বাসায় ফিরছে না, তখন ফাহাদকেই ফোন করে ডেকে আনেন অপ্রতিমের বাবা। ছেলে কোথায় গেছে, সে কিছু জানে কি না, সেটা জানতেই তাকে খোঁজা হয়। সেই সময় ফাহাদ তাদের ইন্টারনেট গ্রুপে অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার কথাও লিখে দেয়।
এদিকে অপ্রতিমের পরিবারের হাতে আসে সিসিটিভি ফুটেজ। ফুটেজে যাকে অপ্রতিমের সঙ্গে দেখা গেছে সে কে জানতে চাইলে তুহিনকে দেখামাত্রই সহজেই চিনিয়ে দেয় ফাহাদ। তখন ফাহাদকেই বলা হয় তুহিনকে ফোন করে জানতে, অপ্রতিমকে সে দেখেছে কি না। ফাহাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনের কথোপকথনে তুহিন জানায় অপ্রতিম তার কাছে আসেনি
সময় তখন রাত ১০টা।
ততক্ষণে অপ্রতিম পৃথিবীতে নেই।
পরদিন শনিবার সকালে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী তুহিন ও সন্দেহভাজন অপর গ্রেপ্তারকৃত আসামী সিয়াম (১৯) মোটরসাইকেলে করে অপ্রতিমদের বাসায় আসে। তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথাও বলে। সান্ত্বনাও দেয়।
অপ্রতিমের বাবা বলেন, শনিবার সকালে বাসায় এসে তুহিন স্বাভাবিক আচরণ করলেও নানা প্রশ্নে একটু রিয়েক্ট করে সঙ্গে আসা তার বন্ধু সিয়াম।
শনিবার দুপুরে যখন অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে তখন পরিবারের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যেতে ফাহাদকেও বলা হয়, সে শরীর খারাপ লাগছে বলে চলে যায়।
আরেকজন আসামী কামরুল অপ্রতিমের পরিবারের চোখে তখনো অপরিচিত। অপ্রতিমের বাবা বলেছেন, তাকে তারা আগে কখনো দেখেননি।
কামরুল তুহিনের বন্ধু। হ ত্যা র আগে তুহিন, ফাহাদের মতো তাকেও ডেকে সঙ্গী করে। তুহিন কিশোর গ্যাং লিডার।
শুক্রবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলের দিকে যায়। উদ্দেশ্য আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া। সেখানে পৌঁছে আইফোন নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতিম বাধা দেয়। শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
অপ্রতিমকে বাঁশ দিয়ে প্রথমে তুহিন, তারপর আঘাত করে ফাহাদ ও কামরুল। অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার আইফোন নিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তুহিনের বয়স ১৯। ২০২৫ সালে কুমিল্লা সিটি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অকৃতকার্য হওয়ার পর পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। কামরুলের বয়স ১৬। আর সিয়ামের বয়স ১৯, সে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। এরা সবাই বখাটে।
একটা বিষয় খেয়াল করুন। তুহিনের সঙ্গে কিন্তু অপ্রতিমের এক বছরেরও বেশি সময় ধরে মেলামেশা। অপ্রতিম তুহিনের বাইকে চড়েছে, বাইক চালিয়েছে, সেই বাইকের সঙ্গে ছবি তুলে নিজের ফেসবুক, টিকটকে পোস্ট করেছে। অপ্রতীমকে তো তার স্নেহভাজন, ঘনিষ্ঠ ছোট ভাইয়ের দৃষ্টিতে দেখার কথা। ফাহিমের ক্ষেত্রেও বিষয়টা তাই। অপ্রতিমের বাবা তাকে কাজের সুযোগ দিয়েছিল, স্বাভাবিক হিসাব অনুযায়ী অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি তার তো কৃতজ্ঞ হওয়ার কথা। অথচ তারা দুজন মিলে অপ্রতিমকেই শত্রুজ্ঞান করল। এখানেই শ্রেণিগত প্রতিহিংসার আশংকাটা সবচেয়ে নগ্ন ভাবে সামনে আসে!
তাহলে প্রশ্নটা কি শুধুই আইফোন বা পাঁচ হাজার টাকা? এগুলো হয়তো দৃশ্যমান কারণ। তার অন্তরালে হয়তো আরও গভীর কোনো ক্ষোভ কাজ করেছে! কখনো কখনো মানুষের ক্ষোভের আসল কারণ সে নিজেও উচ্চারণ করে না। এই অন্তর্গত গভীর শূণ্যতা থেকে জন্ম নেওয়া তীব্র প্রতিহিংসা এবং শ্রেণী বিদ্বেষ সে নিজেকেও দেখাতে চায় না। নিজের চেয়ে একটু ভালো অবস্থানে থাকা, বেশি সুযোগ পাওয়া, সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও সফল কাউকে দেখতে দেখতে তার ভেতরে যে বঞ্চনার বোধ, তুলনা, ক্ষোভ বা ঘৃণা জমে তা সে স্বীকার করে না।
আইফোন ছিনিয়ে নেওয়া তখন অজুহাত হয়ে উঠে আর পাঁচ হাজার টাকা হয়ে উঠে জমে থাকা অন্য কোনো ক্ষোভের উপলক্ষ। আমরা জানি না অপ্রতিমের হ ত্যা র পেছনে এমন কোনো শ্রেণীগত বিদ্বেষ ছিল কিনা!
কারণ এই শ্রেণী বিদ্বেষের সবচেয়ে বিপদজনক সত্যটা হচ্ছে মানুষ তখন অন্যের প্রাপ্তিকে সহ্য করতে না পেরে এক বিজাতীয় ঘৃণা নিজের ভেতরে পুষে রাখে আজন্ম। তখন সেটা অন্যের বিরুদ্ধে তার নিজের ব্যর্থতার প্রতিশোধ হয়ে ওঠে।
মানুষ তখন নিজের যাবতীয় না-পাওয়া, অযোগ্যতা ও ব্যর্থতার দায় অন্যের পাওয়ার ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। অন্যের সাফল্য তার কাছে আর সেই মানুষটির অর্জন বলে মনে হয় না, মনে হয়, সেটাই তার নিজের জীবনের বঞ্চনার কারণ। তখন সে নিজের জীবন বদলানোর চেষ্টা না করে অন্যের জীবন থেকে অর্জনগুলো কেড়ে নেওয়ার হিংস্র খেলায় নামে। এমন নির্মম খেলোয়াড় হয়তো আপনার চারপাশেই ঘুরে বেড়াচ্ছে, আপনি শুধু খেলাটা এখনও বুঝে উঠতে পারেননি।
“Envy is the coward’s way of dealing with another man’s success.”
— George Bernard Shaw, Man and Superman

ফ রিদা আক্তার

Pumpkin Cheese Mochi

 


Ingredients (Serves 2)

Pumpkin: 250g


Rice paper sheets: 4


Cream cheese: 40g


Sugar: 1 tbsp


Butter: 10g


Toasted black sesame seeds: As desired


Instructions

① Remove the seeds and fibrous pulp from the pumpkin. Cut it into 3–4 cm cubes (leaving the skin on) and place them in a heat-resistant bowl. Cover loosely with plastic wrap and microwave at 600W for 5–6 minutes, or until a skewer passes through easily. Once slightly cooled, scoop the flesh away from the skin with a spoon. While still hot, mash the pumpkin with a fork until smooth and free of large lumps. Mix in the sugar until well combined, then let it cool down.


② Briefly dip one sheet of rice paper into water and place it on a cutting board while it is still slightly firm. Place one-eighth of the pumpkin mixture in the center, followed by one-quarter of the cream cheese. Top with another one-eighth of the pumpkin mixture.


③ Fold the rice paper over the filling—sides first, then top and bottom—to wrap it tightly without any gaps. Repeat the process for the remaining three portions, then let them rest for about a minute to allow the rice paper to soften and set.


④ Heat the butter in a frying pan over medium heat. Place the parcels in the pan with the folded side facing down. Cook for 2–3 minutes until golden brown, then flip and cook for another 2–3 minutes. Lightly toast the sides by rolling the parcels over, and once the surface is crispy, transfer to a serving dish. Sprinkle with toasted black sesame seeds, and it's ready!



চুঁচুড়া লেকের থেকে ধরা একেবারে টাটকা সর পুঁটি মাছ




জাপানে টাইফুন হচ্ছে । টানা বৃষ্টি ।   আর এই  বরষার দিনে , এক দেশি ভাই নিজে লেক থেকে এই মাছ ধরে আমাদের দিয়েছেন।

জাপানে আমাদের কাছের  চুঁচুড়া লেকের থেকে ধরা একেবারে টাটকা সর পুঁটি  মাছ।  জাপানে এই মাছ কে ফুনা মাছ  ব লে । সচারাচর পাওয়া যায় না।  
  টাটকা মাছ পেয়ে  তাই কড়া ক রে ভেজে  ফেল লাম, পেঁয়াজ আর কাঁচা মরিচ ভাজা ক রে ওর সাথে মেশালাম । সদ্য ধ রা টাটকা মাছ এর  স্বাদ ই আ লাদা। আর কিছু লাগে না।


Stir-fried Bonito and Green Peppers with Curry Mayonnaise

 


【Ingredients】 (Serves 2)


・Bonito (sashimi-grade)…200g


・Green bell peppers…3 (approx. 120g)


・Eringi mushroom…1


・Rice oil (or vegetable oil)…1 tbsp


A (Mix together)


∟Sake…1 tbsp


∟Curry powder…1/2 tbsp


∟Salt…1/3 tsp


Salt, pepper, flour, mayonnaise


【Instructions】


1. Cut the green peppers into bite-sized, irregular chunks (*rangiri*). Cut the eringi mushroom in half lengthwise, then slice crosswise into 1.5cm widths; cut the cap in half lengthwise again.


2. Cut the bonito into 1.5cm-thick slices, sprinkle with a little salt and pepper, and coat with 2 tablespoons of flour.


3. Heat the rice oil in a frying pan over medium heat. Arrange the bonito on one side of the pan and place the vegetables (from step 1) on the other side. Cook the bonito for about 2 minutes, flip, and cook for another minute until browned; stir-fry the vegetables.


4. Add mixture A and quickly stir-fry everything together. Turn off the heat, add 2 tablespoons of mayonnaise, and toss to coat everything evenly.

Sunday, September 20, 2026

মেসকেনেত

 


মেসকেনেত— মানুষের মাথাওয়ালা দুটো চারকোণা থান ইট। ইটের দেবী মেসকেনেত।
ইট না বলে একে পিঁড়ি ও বলা যায়। কারণ এর ওপরই পা রেখে হাঁটুতে ভর দিয়ে বসেন নারীরা। সন্তান জন্ম দিতে। ঠিক যেভাবে আমরা লো কমোডে বসি, অনেকটা সেরকম।
দুপাশে আরও দুজন নারী প্রসবকারীর হাত অথবা কাঁধের ভর ধরে রাখেন। ধরে রাখেন বলেই তারা ধাত্রী বা প্রসবে সহায়তাকারী।
মিশরের প্রসূতি সুরক্ষার দেবী মেসকেনেতের আরাধনার আরও বহুকাল আগে থেকে এই হাঁটুতে ভর দিয়ে বসাটাই ছিল নারীদের সন্তান জন্ম দেওয়ার নিয়ম। এতে করে সন্তান প্রসবে মধ্যাকর্ষন বলের সহায়তা পাওয়া যেতো।
প্রসবের এই দৃশ্যটি আমাদের কল্পনা করতে বেশ অসুবিধা হয়। কারণ আমাদের প্রজন্মের স্মৃতিতে প্রসবদৃশ্যে মায়ের অবস্থান থাকে মাটির সঙ্গে সমান্তরাল, বড়জোর কিছুটা ঢালু, কখনোই উলম্ব নয়।
ধারণা করা হয়, চিকিৎসা শাস্ত্রে পুরুষের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সময় থেকে এই সমান্তরাল প্রসব অবস্থানের সূত্রপাত। কারণ সেই আধিপত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছিল চার্চের ডিক্রি অনুসারে, জীববিজ্ঞান অনুসারে নয়।
ফ্রাঁসোয়া মরিসিউ, ১৭ শতকে ফ্রান্সের বিখ্যাত প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ। লিখিত নথি অনুযায়ী তিনিই প্রথম চিকিৎসক যে এই শোয়ানো প্রসব পদ্ধতি জনপ্রিয় করে তুলতে ভূমিকা রেখেছিলেন। আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথ, "দ্য এভোলিউশন অব মেটারনাল পস্চার ডিউরিং লেবার অ্যান্ড ডেলিভারি" — এই গবেষণায় বিশ্লেষণ করা হয়েছে কীভাবে মরিসিউয়ের মতামত ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী খাড়া বা বসার ভঙ্গি পরিবর্তন করে চিত হয়ে শুয়ে প্রসবের পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।
মরিসিউ তাঁর বইয়ে যুক্তি দেন, মাথা ও বুক সামান্য উঁচু করে চিত হয়ে বিছানায় শুয়ে সন্তান জন্ম দেওয়াই একজন গর্ভবতী নারীর জন্য "সবচেয়ে ভালো এবং নিরাপদ" পদ্ধতি। এতে প্রসূতি স্বাচ্ছন্দ্যে শ্বাস নিতে ও জোর দিতে পারেন, এবং চিকিৎসকের জন্যও প্রসব করানো সহজ হয়। বলাই বাহুল্য, তিনি একথা লেখার আগে প্রসূতিদের মতামত নিয়েছিলেন কি না জানা যায় নি।
এখানে শেষোক্ত "চিকিৎসকের জন্য সহজ হয়" কথাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির পরিবর্তে নতুন পদ্ধতি প্রচলনের পেছনে প্রভাবশালী শক্তিও কার্যকর ছিলো।
ফ্রান্সের রাজা চতুর্দশ লুই এর পছন্দের কাজ ছিলো সন্তান প্রসব দেখা। আমেরিকান জার্নাল অব পাবলিক হেলথ এ বলা হয়েছে, প্রসবের সময় দৃশ্য বাধাগ্রস্ত না করে সরাসরি দেখার সুবিধার্থেই রাজা চতুর্দশ লুই শুয়ে প্রসবের ভঙ্গি উৎসাহিত করেছিলেন। যা পরবর্তীতে ফরাসি রাজ পরিবার ও অভিজাত সমাজে ফ্যাশনে পরিণত হয়। রাজা চতুর্দশ লুইয়ের স্ত্রী রানি মারিয়া তেরেসা এবং তাঁর প্রেমিকা মাদাম দ্য মন্তেসপাঁর সন্তান জন্মের বিবরণী থেকেও একই কথা জানা যায়।
রাজা চতুর্দশ লুইয়ের রাজকীয় প্রসূতিবিদ হিসেবে কাজ করতেন পুরুষ চিকিৎসক জুলিয়ান ক্লেমেন্ট। মরিসিউ যদিও রাজপরিবারের চিকিৎসক ছিলেন না তবে ইউরোপজুড়ে বিখ্যাত ছিলেন। রাজপরিবার এবং অভিজাতদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া এই ফ্যাশন পরবর্তীতে চিকিৎসা শাস্ত্রে জনপ্রিয় করে তোলেন মরিসিউ।
ততদিনে উইচ হান্টিং প্রায় শেষের দিকে। ফলে ধাত্রীবিদ্যা, বা ধাত্রীবিদ্যায় অভিজ্ঞ নারীদের কুসংস্কার বা ডাইনী বলে বাদ করে দেওয়া হয়েছে ইউরোপ থেকে। চার্চ ডিক্রি জারি করেছে "পুরুষ চিকিৎসকের সাহায্য ব্যতীত কোনো নারী কোনো শারীরিক সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করলে সে ডাইনী এবং তাকে হত্যা করতে হবে"।
এরপর চিকিৎসা শাস্ত্র হয়ে ওঠে যা কিছু পুরুষ চিকিৎসকের জন্য সহজ হয়। প্রসবকালীন জীববিজ্ঞান বা পদার্থবিজ্ঞান অপেক্ষা, ধাত্রীর আবহমান জ্ঞান অপেক্ষা এনজিওর প্রশিক্ষক সেই ২০০ বছর আগের চার্চের ডিক্রি, কিংবা এক রাজার বিনোদন আকাঙ্ক্ষার বদৌলতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন।
এ তো গেলো মিশর আর ফ্রান্সের গল্প। ভারতের প্রসব পদ্ধতি আরও উলম্ব। জাদুঘরের প্রাচীন ভাস্কর্য হোক কিংবা মন্দিরের টেরাকোটাই হোক, ভারতের নারীরা তাতে সন্তান জন্ম দিচ্ছেন দেবী আসন বা উৎকট কোণাসনে, দাঁড়িয়ে। দুই পাশে প্রসবকারীর হাত বা কাঁধের ভর ধরে আছেন দুজন ধরনী বা ধাত্রী।
কোনো কোনো ভাস্কর্যে নীচের দিকে আরও একজনকে দেখা যায় যিনি যোনী নির্গত নবজাতকের মাথা ধরেন।
সিদ্ধার্থের জন্মের গল্পেও পাওয়া যায়, মায়াদেবী একটা অশোক গাছের ডাল ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই অবস্থাতেই সিদ্ধার্থ জন্ম নেন।
নারীর আবহমান ও সামাজিক জ্ঞান ও জ্ঞানচর্চার ওপর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় পুরুষতান্ত্রিক পুঁজিবাদের আগ্রাসন পৃথিবীর প্রায় সব জনপদেই চিকিৎসা শাস্ত্রের বয়ানকে বদলে দিয়েছে। ধাত্রীবিদ্যা তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
-নুসরাত জাহান