Tuesday, August 4, 2026

রুইবস চা

 


জাপানে এসে আমি যে ক ত নুত ন জিনিষের সাথে পরিচ য় হয়েছি তা  গ নণা ক রে শেষ ক রতে পারবো না । তে ম নি এক টা পানীয় হ লো  Rooibos tea। প্রফেস র এর  সাথে  প্র জেক্ট এর কাজ ক রি  যখন,  তিনি অনেক ধরনের পানীয়ের ব্যবস্থা রাখেন। আমি স ব স ময় সেই খাবার বা পানীয় বেছে  নেয়, যেই গুলি আমার কাছে নু ত ন ম নে হ য় । 

প্রথম দিন Apple Rooibos tea আমাকে তে ম ন একটা মুগ্ধ ক রতে পারে নি । কিন্তু  এইবার Honey Rooibos tea যে এ ত ভাল লেগেছে যে তিনবার নিয়ে খেয়েছি।

রুইবস চা (Rooibos tea) হলো দক্ষিণ আফ্রিকার একটি বিশেষ গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের পাতা থেকে তৈরি ভেষজ পানীয়। বাংলায় একে সরাসরি 'রুইবস চা' বা 'লাল চা' বলা হয়, কারণ এর আফ্রিকান মূল অর্থ হলো 'লাল ঝোপ।

এতে কোনো ক্যাফেইন নেই।  এটি শরীরের জন্য উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। 

এই চা দেশে পাওয়া যায় কিনা আমি জানি না। জাপানে আমার প্রফেসর এর কাছেই  এই চা দেখেছি। 





Sautéed Swordfish with Fresh Tomato Sauce

 

Ingredients (Serves 2)

Swordfish: 2 fillets


Salt: A pinch


Flour: As needed


Tomato: 1/2


Black olives (pitted): 3–4


Herb salt: A pinch


Coarsely ground black pepper: A pinch


Garlic (sliced): 1 clove


Olive oil: As needed


Parsley (for garnish): As needed


[Preparation]


Sprinkle the swordfish with salt and let it sit for 10 minutes. Pat dry with a paper towel and lightly coat with flour.


Remove the stem from the tomato and cut it into 1cm cubes. Cut the black olives into 3–4 pieces each.


[Instructions]

1. Heat olive oil and garlic in a frying pan over medium heat; once fragrant, add the swordfish. Cook until both sides are lightly browned, then transfer to a serving dish.

2. Add a little more olive oil to the same pan, then add the tomato and black olives and cook over medium heat. Once heated through, season with herb salt and coarsely ground black pepper. Pour the mixture over the swordfish and garnish with parsley.

Bell Pepper Salsa Salad

 


Ingredients (Serves 2)

・2 green bell peppers


・1/3 red bell pepper (50g)


・30g onion


・2 tomatoes


・(A) 3 tbsp olive oil


・(A) 1 1/2 tbsp vinegar (e.g., wine vinegar)


・(A) 1/3 tsp salt


・(A) 1/2 tsp curry powder


・A pinch of salt


Instructions

・Coarsely chop the green and red bell peppers.


Finely chop the onion and soak it in water (let it sit for about 10 minutes, then drain, wrap in a paper towel, and squeeze out the excess moisture).


・Slice the tomatoes into 1cm-thick rounds, arrange them on a plate, and chill.


・Combine the ingredients for (A) in a bowl and mix well, then add the chopped vegetables and toss to combine.


・Lightly sprinkle the chilled tomato slices with salt, then spoon the vegetable mixture over the top.


Monday, August 3, 2026

চিংড়ি ও বাদাম দিয়ে পাট শাক ভাজা

 


উপকরণ

  • পাট শাক ২ আঁটি

  • তেল আধা কাপ

  • খোসা ছাড়ানো চিনাবাদাম ১ মুঠি

  • রসুনকুচি ১ টেবিল চামচ

  • পেঁয়াজকুচি আধা কাপ

  • আস্ত শুকনা মরিচ ৩-৪টি

  • ছোট চিংড়ি ২০০ গ্রাম

  • হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ

  • লবণ স্বাদমতো

প্রণালি

  • পাট শাকের ডাঁটা ফেলে শুধু পাতা বেছে ধুয়ে ছোট টুকরা করে কেটে রাখুন।

  • প্যানে তেল গরম করে প্রথমে চিনাবাদাম ভেজে তুলে রাখুন।

  • এরপর রসুন ও পেঁয়াজকুচি মচমচে করে ভেজে তুলে রাখুন।

  • একই তেলে শুকনা মরিচও মচমচে করে ভেজে নিন।

  • রসুন-পেঁয়াজের সঙ্গে ঝুরঝুরে করে গুঁড়া করে নিন।

  • এবার একই তেলে হলুদ ও লবণ মাখানো চিংড়ি লালচে করে ভেজে নিন।

  • এরপর পাট শাকও লবণ দিয়ে ভাজুন।

  • শাক নরম হয়ে এলে ভাজা বাদাম এবং বেরেস্তা-মরিচের মিশ্রণ দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নামিয়ে নিন।

  • গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

কচুপাতা চিংড়ি

 


চিংড়ি মাছ নুন, হলুদ গুঁড়ো দিয়ে মাখিয়ে রাখুন।
কচুপাতার ডাঁটি ফেলে ভালো করে ধুয়ে নিন। এবার কুচি করে নিন। একটা পাত্রে জল গরম করে ওতে নুন, হলুদ গুঁড়ো দিয়ে কচুপাতা গুলো দিয়ে ৫ মিনিট সেদ্ধ করে নিয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন।
নারকেল কুরিয়ে নিন। এবার শিলে বেটে রাখুন।
শিলপাটায় সাদা সর্ষে (আপনারা ইচ্ছে করলে সাদা, কালো সর্ষে মিশিয়ে ও রান্না টা করতে পারেন) তার অর্ধেক পোস্ত প্রথমে শুকনো অবস্থায় একবার বেটে নিন। এবার কাঁচা লঙ্কা মিশিয়ে পরিমাণ মতো জল দিয়ে বেটে নিন।
কড়াইতে সর্ষের তেল গরম করে চিংড়ি মাছ ভেজে তুলে রাখুন। ঐ তেলেই কুচি করে নেওয়া কচু পাতা দিয়ে ২,৩ মিনিট ভাজুন। অল্প নুন, হলুদ গুঁড়ো দিন। কারণ কচু সেদ্ধ হওয়ার সময় নুন , হলুদ দিয়েছিলেন।
এরপর দিন সর্ষে, পোস্ত বাটা। ভালো করে মিশিয়ে ২ মিনিট মতো রান্না করুন। নারকেল বাটা যোগ করুন। এবার ক্রমাগত নাড়াচাড়া করে মিশিয়ে নিন। স্বাদ মতো লবণ, আর চিনি দিয়ে মিশিয়ে নিয়ে কয়েকটি গোটা কাঁচা লঙ্কা আর ভাজা চিংড়ি মাছ গুলো দিয়ে মিশিয়ে নিয়ে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

Oindrila Majumdar

Colorful Japanese-style mixed rice with savory bacon and summer vegetables

 


]Ingredients

・Rice: 1 cup (approx. 150g)


・Water: Up to the "1-cup" mark in the rice cooker


・Half-length bacon slices: 4


・Green beans: 5


・Corn kernels: 2 tablespoons


・Japanese-style dashi stock powder: 2g


・Cooking sake: 1 tablespoon


・Soy sauce: 1 tablespoon


・Sugar: 1 teaspoon


Instructions


・Wash the rice, place it in the rice cooker, and add water up to the "1-cup" mark.



・Cut the bacon into 1cm-wide strips and the green beans into 2–3cm lengths.


・Add all the ingredients to the rice cooker and cook the rice; it is ready once cooking is complete.




Horse Mackerel Pasta

 


[Ingredients (Serves 4)]


・Horse mackerel (dried/himono): 1 fillet


・Salad oil: A small amount


・Spaghetti: 320g


・Salt (for boiling water): 32g


・Shiso leaves (Japanese basil): 10 leaves


・Myoga ginger: 2 buds


・Chirimen jako (dried baby sardines): 3 tbsp


・White wine: 2 tbsp


・Olive oil: 2 tbsp


・Butter: 10g


・Ground white sesame seeds: 1.5 tbsp


<Seasonings>


・Soy sauce: 1.5 tbsp


・Salt and pepper: A small amount


[Preparation]


・Preheat the grill.


・Trim the stems off the shiso leaves, cut them into thin strips, soak briefly in water, and squeeze dry.

・Wash the myoga ginger, cut in half lengthwise, and slice thinly lengthwise.


[Instructions]


1. Lightly coat the grill rack with salad oil. Place the opened horse mackerel fillet skin-side down and grill for 8–9 minutes until the surface is browned. Remove the skin and bones, then flake the meat.

2. Add salt to a large pot of boiling water and cook the spaghetti. Stir occasionally with cooking chopsticks to prevent sticking; boil for slightly less time than the package instructions indicate, then drain in a colander. Reserve some of the cooking water.


3. Heat olive oil in a frying pan over medium heat. Add the horse mackerel, white wine, and 100–150ml of the reserved pasta cooking water; simmer until the liquid reduces and thickens slightly.


4. Add the spaghetti, shiso leaves, myoga ginger, chirimen jako, and <Seasonings> to the pan. Toss quickly to combine, then turn off the heat.


5. Add the butter and toss everything together, allowing it to melt and coat the pasta using the residual heat. Transfer to a serving dish and sprinkle with ground white sesame seeds.

জেলাসি যখন ফিল করবেন,বুঝে নেবেন আপনার মন, অস্তিত্ব, সব কালো হয়ে গেছে।

 


সুইডিশ ভাষায় Jealousy কে বলে Svartsjuka ! Svart অর্থ-- কালো, আর Sjuka অর্থ - রোগী/অসুস্থ।

যথার্থই!
জেলাসি যখন ফিল করবেন,বুঝে নেবেন আপনার মন, অস্তিত্ব, সব কালো হয়ে গেছে।
আসুন জানি, jealousy কেন ফিল হয় একজন মানুষের।
jealousy র আদি উৎপত্তিস্থল হোলো ইনসিকিউরিটি,ইনফিরিয়রিটি কম্পলেক্স।
যে মানুষটাকে দেখলে আপনি jealous হন, অনেস্টলি চিন্তা করে দেখবেন সেই মানুষটার লুক,এপিয়ারেন্স, পারসোনালিটি এবং তার ক্যাপাবিলিটি আপনাকে প্রভাবিত করে,
আপনার মনের গহীন কোণে সাব-কনশাসলি ঘাপটি মেরে বসে থাকে একটা অবদমিত "ইচ্ছা", সেই ইচ্ছা আসলে বলে- আপনি ওই মানুষটার মতো হতে চান,
কিংবা তার যা আছে সেগুলো আপনার চাই। অথচ আপনি নিজের কাছে নিজে সেটা স্বীকার করেন না। এজন্য আরো রাগ হয় আপনার
এবং
খুব ইচ্ছে করে ওর একটা আচ্ছা মতো শিক্ষা হোক, সুযোগ পেলেই আপনি তাকে সুক্ষ্ম অপমান করার বা ইগনোর করার সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না।
আবার এটাও বুঝতে পারেন এসব কিছুই ওই মানুষটা একেবারেই নোটিস করছে না, কারণ আপনি তার কাছে কোন সাব্জেক্ট ই না।
That person is damn busy with important stuffs! এবং এজন্যই হয়তো আপনার মনের অজান্তেই আপনি তার বড় ফ্যান এবং হেইটার একই সাথে। কিন্তু কেন?
কারণ এই মানুষটাকে দেখলে আপনার নিজের কমতিগুলো আপনার বেশি করে মনে পড়ে, অনুভব হয়। এই মানুষটার এপিয়ারেন্স আপনাকে আপনার নিজের কাছে ক্ষুদ্র, সামান্য, সাধারণ ফিল করায়।
অথচ ওই মানুষরা হয়তো আপনার নিজের সাথে নিজের এই মল্লযুদ্ধের কোন খবরই জানেনা।
এজন্যই হয়তো সময় পেলেই তার প্রফাইল ঘুরে আসেন কিন্তু তার সুন্দর বা ভালো কিছু দেখলেও আপনার কোন এপ্রেসিয়েশন দিতে ইচ্ছে করে না।
দিলে আপনি ছোট হয়ে যাবেন,আপনার কাল রোগে আক্রান্ত মন আপনাকে তাই বুঝিয়েছে। আবার আপনার নিজের উপর আপনার ভীষণ রাগ হয়, তাকে পছন্দ করেন না অথচ সকাল-দুপুর তার সব আপডেট নেয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারেন না।
কেউ কারোর মতো না। যার যার নিজস্ব চার্ম আছে। আমি শিওর আপনারও আছে। নিজের আত্নবিশ্বাস বাড়ান, হিপোক্রেসি থেকে বের হয়ে আসুন। যাকে ভালো লাগে, তাকে ভালোই বলুন, যাকে লাগে না তাকে এড়িয়ে চলুন।
উপরে উপরে খুব কুল, ডিসেন্ট এবং লিবারেল একটা মাস্ক পরে ভেতরে ভেতরে আপনি যে ঘুণে ধরা কাঠ এর মতো ফোকলা হয়ে যাচ্ছেন এটা সবাই না বুঝলেও ঘটে বুদ্ধিওয়ালা লোক আপনার ছোট ছোট কিছু বিহেভিয়ার,
একশন,রিয়েকশন দেখলেই বুঝতে পারবে। অসুস্থতা কি লুকোনো যায় বলুন?
বরং লুক এট য়োর লাইফ। কোথায় কন্সট্রাকশন এর কাজ করতে হবে, কোথায় একটু সিমেন্ট মারতে হবে,
কোথায় একটু ফিনিশিং টাচ লাগবে সেদিকে খেয়াল করুন, নিজের জীবন নিজের রুচিমতো সাজান।
নিজের জীবনে কোথায় ঘাটতি আছে সেগুলো কাভার করার চেষ্টা করুন। এগুলোই সুস্থ মানুষের কাজ। দিন শেষে আপনার উপরে উপরে কুল,
এক্সট্রা অর্ডিনারী, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মাস্ক টা খুলে আয়নার সামনে দাঁড়াতে হয়, ফেইস করুন নিজেকে।
অকপট ভাবে। হালকা ফিল করবেন।
হিপোক্রেসির বোঝা অনেক ভারী,It affects your health!
আপনি চাইলেই অন্যের মতো বা আমার মতো হতে পারবেন না, কেউ পারে না।
নিজের মতো হওয়ার চেয়ে সুন্দর আর কিছু নেই। আমি বিশ্বাস করি --
You can't take what is mine, and I don't want whatever is yours....!
সাদা হোক আপনার মন, আপনার জীবন। Get well soon!

কলমে - Manira Sultana Papri

প্রফেসর থেকে ট্রিট

 


লাঞ্চে আমাদের প্রফেসর  থেকে ট্রিট পেলাম । স ময় বাঁচানোর জন্য আমরা রেস্টুরেন্টে গেলাম না। আমি ইসলাম ধর্মের , 

আমার ক থা চিন্তা ক রে মারহাবা হালাল খাবার হোটেল থেকে খাবার আনা হ লো । জাপানে অন্য ধর্মের ভ্যালুকে মুল্য দেয়া 

হয়।  আমাদের দেশে যে ম ন অন্য ধর্মের মানুষের ক থা চিন্তা ক রে মাট ন আর চিকেন রান্না করা হ য়, তেম ন আর কি।

আমার জন্য আনা হ লো চিকেন কারি সেট। দুই পিস চিকেন আর ছিল তার সাথে হাফ ডিম, ভাত আর সালাদ।

আমরা ভাত দিয়ে  ত র কারি খায় কিন্তু আমার ক লিগ রা 

ত র কারির ঝোল চামচ দিয়ে সুপের ম ত খেলো । আমি অবাক হয়েছি কিন্তু চুপচাপ দেখে গেলাম। 


Sunday, August 2, 2026

দিন যায়, কথা থাকে।


সুকুবা ইউনিভার্সিটি র পুকুর । ক ত মেমোরি  যে আছে এই পুকুর টাকে নিয়ে। কিছু ক্ষণ এখানে থাক লে মনে হ য়, সেই দিনগুলি তেই তো আছি। 

যে জায়গা য় আমরা বস তাম, সেখানে নুত ন মানুষ আস লে ও জায়গাটা আগের ম তই আছে ।  সেই পানি, সেই গাছ, সেই বিল্ডিং, সেই আকাশ।
দিন যায়, কথা থাকে। 












 

Saturday, August 1, 2026

Kiwi Tabbouleh Salad

 


[Ingredients (Serves 2)] 


Green kiwi: 1


Prosciutto: 30g


Cucumber: 1/2


Cherry tomatoes: 3


Italian parsley: 2 sprigs


Mint: 1/2 pack (5g)


Olives (black, sliced): 20g


A: Couscous: 50g


Water: 1/4 cup


Salt: 1/2 tsp


B:


Lemon juice, olive oil: 1 tbsp each


[Instructions]


1. Combine ingredients A in a heat-resistant bowl and mix. Cover loosely with plastic wrap. Microwave (600W) for 3 minutes, then remove and let sit for 3 minutes. Add ingredients B, mix well while breaking up the couscous, and allow to cool slightly.


2. Cut the kiwi into 1cm-thick quarter-slices (ichō-giri) and coarsely chop the prosciutto. Cut the cucumber into 1cm cubes; remove the stems from the cherry tomatoes and coarsely chop them. Pluck the leaves from the Italian parsley and mint, then coarsely chop them.


3. Add the ingredients from step 2 and the olives to the bowl from step 1, and mix well.

Fondant-Style Chocolate Toast

 


Ingredients (serves 2):

1 slice of bread (thick-cut, e.g., 6-slice loaf)

[A] 1 egg


[A] 1 tablespoon honey


[A] 1 tablespoon cocoa powder


Instructions:

① Use a spoon or similar tool to press down the center of the bread slice, creating a hollow well.


② Combine ingredients [A] in a bowl and mix well.


③ Pour the mixture from step ② into the well in the bread. Cover the crusts with aluminum foil to prevent burning. Toast for 5–6 minutes until the center is gooey and molten—it's ready!


Sprinkle with powdered sugar to taste and enjoy!




কুমড়োর ছক্কা

 


বর্ষাকালে রাঁধুনিদের খুব কষ্ট।  বাজার যাওয়ার পুরো রাস্তা কাদাতে ভর্তি।  বাজারের সৌন্দর্য নষ্ট।  চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি বৃষ্টির জমা জলে পিঁয়াজের খোসা যত্রতত্র ভেসে বেড়াচ্ছে। কমলার আনা কই , ল্যাটা মহানন্দে ডিগবাজি খেয়ে জমা জলে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে ড্রেনের ভিতরে মুক্তি খুঁজতে যাচ্ছে।  ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে মুক্তি মাসিমার সামনের ঝুড়িতে রাখা হাঁসের ডিমের গায়ের ময়লা সাফ হয়ে ঝকঝকে হয়ে গেছে।  কদমফুলের পাপড়ি কাদার সঙ্গে মিশে গিয়ে কী যে একটা আনরোমান্টিক ব্যাপার ঘটাচ্ছে.... বলে বোঝানো যাবে না।

বৃষ্টিতে সবজির দর চড়েছে । বেশি দামে সবজি কিনেও লাভ হচ্ছে না। জলে ড্যাবডেবে সবজি দুদিনের মধ্যেই পচে যাচ্ছে।

রিমঝিম গিরে শাওনে একমাত্র ভরসা ঘরে মজুত করে রাখা বড়ি,পাঁপড়, পোস্ত, নানারকমের ডাল ইত্যাদি।

গ্রামের গেরস্ত বাড়িতে বেশ কয়েকটি মিষ্টি কুমড়ো রাখা থাকত ভাঁড়ারঘরে অথবা চৌকির তলায়।  বর্ষার কথা ভেবেই পাকা কুমড়ো মজুত থাকত। নিজের ক্ষেতের চাষ করা কুমড়ো অথবা বাড়ির চালে হওয়া কুমড়ো... সব কটিই খেয়ে ফেলা হতো না। জমির কুমড়ো হাটে বিক্রি করে দেয়া হতো। ট্যারাব্যাঁকা এবং আধপাকা কুমড়োগুলোকে ঘরে নিজেদের খাওয়ার জন্য যত্ন করে রেখে দেওয়া হতো। তবে ইঁদুরের নজর পড়লে রক্ষে ছিল না।

ইঁদুরে খুবলানো কুমড়ো কিছুটা বাদ দিয়ে দু তিনদিনের মধ্যে খেয়ে ফেলতে হতো।

যাদের ক্ষেতে বা ঘরের চালে কুমড়ো ফলত না,তাদের জন্য ছিল গাদামারা হাট।  হাটের দিন সকালবেলায় সেখানে কুমড়োর পর্বত গজিয়ে উঠত। ভীষণ সস্তা। অনেকগুলো কিনে এনে ঘরে মজুত করে রাখলে অবরেসবরে খাওয়া যেত। কুমড়ো এমন একটা সবজি.... সবের সঙ্গে খাওয়া যায়। প্রাকৃতিক চিনি।  যেকোনও সবজিতে একটু কুমড়ো দিলে তরকারিটা দারুণ মজে।

শ্রাবণমাসে যখন দু চারদিন ধরে একনাগাড়ে বৃষ্টি হয়ে যেত,তখন কুমড়ো কাটা হতো। এক একটা কুমড়ো যেন কুমড়োপটাশ। কী সাইজ! বাড়িতে বট্ ঠাকুর না থাকলে সে কুমড়ো অর্ধচন্দ্রাকারে কাটা বিশাল ঝকমারি।  গৃহিণীরাই সেই কুমড়ো কষ্টেসৃষ্টে কাটতেন।

প্রতিবেশীরা কুমড়োর ভাগ পেত । পাড়ায় সেদিন কুমড়ো - উৎসব। বাইরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি। 

কুমড়োর পাতলা পিস কেটে বেসন আর চালের গোলায় ডুবিয়ে ছাঁকা তেলে ভেজে খাওয়া হতো বর্ষার দিনে। পাঁচমিশালি তরকারিতে ডুমো ডুমো করে কুমড়ো কেটে দিলে ভাত রুটি ..... দুই ই দিয়ে চমৎকার খাওয়া যেত।  

বড় বড় টুকরো করে কাটা কুমড়োর সঙ্গে মাংস রান্না করলে সেটা একটা বিশেষ পদ হয়ে উঠত। তবে কষানোর সময় মশলার সঙ্গে আমের আচার না দিতে পারলে এই রান্না না করাই ভালো। কুমড়োর হালুয়া, কুমড়োর টক বানালে সেটাও বর্ষাদিনে রেখে রেখে খাওয়া যায়।

আর কুমড়োর ছক্কা.... সেটা ছাড়া তো কুমড়োর কুমড়োত্ব অসম্পূর্ণ।

কুমড়োর একটি শ্রেষ্ঠ নিরামিষ রান্না। আলু,কুমড়ো ডুমো ডুমো করে কেটে আলাদা আলাদা করে ভেজে নিতে হবে। সর্ষের তেল গরম হলে পাঁচফোড়ন, শুকনোলঙ্কা,তেজপাতা হিং পড়বে তেলে। তারপর ভেজানো ছোলা,আদা,কাঁচালঙ্কা, জিরেবাটা,অল্প নারকেল কোরা ভালো করে কষিয়ে নিয়ে আলু,কুমড়ো দিয়ে অল্প জল দিতে হবে। এর মধ্যে ধনে গুঁড়ো,হলুদগুঁড়ো, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো,নুন,মিষ্টি দিয়ে নেড়েচেড়ে ঢাকনা এঁটে দিলে ভালো হয়। আর একটু জল দিয়ে ফুটিয়ে নিয়ে ভাজা মশলা এবং চেরা কাঁচালঙ্কা ছড়িয়ে গ্যাস অফ করে দিতে হবে। ভাজা মশলার মধ্যে থাকবে গোটা জিরে,মৌরি,গোটা ধনে এবং শুকনোলঙ্কা। তাওয়ায় সেঁকে গুঁড়িয়ে নিয়ে কুমড়োর মধ্যে ছড়িয়ে দিলেই হবে।


Sabina Yasmin Rinku

বীভৎসময় ব্যস্ততায় দিন পার করছে বাংলাদেশ।

 




বীভৎসময় ব্যস্ততায় দিন পার করছে বাংলাদেশ।

কেউ - নতুন বইয়ের পাতার ঘ্রাণ নেয় না। কবিতা নিয়ে গল্প করে না। শখের ছবি আঁকবার জন্য জলরং কিনতে যায় না। কাঠালচাঁপা খোপায় গোঁজে না। বিকেলে চায়ের কাপে ঝড় তোলে না। খালি গলায় সিনেমার গান গেয়ে ওঠে না। সব্জী দোকানদার ছোট রেডিওতে কান পেতে খবর শোনে না। মধুমাসে মহল্লার ফলের গাছে ঝাঁকি দিয়ে আম জাম খায় না। মাটির হাড়ি পাতিলে চড়ুই ভাতি খেলার সাথী পায় না।
কাপড়ের পুতুলের চুল দীর্ঘ করতে মুদি দোকানে কালো কায়তন খোঁজে না। মায়ের শাড়ী ভাঁজ করে ফ্রকের ওপর শাড়ী পরবার চেষ্টা করে না। অলস দুপুরে দীর্ঘ কেশের কিশোরী ফিতা দিয়ে কলাবেনী বাঁধে না। রঙ্গন ফুলের মধু খাওয়ার কাড়াকাড়ি হয় না। রোদে শুকাতে দেওয়া আচারের কাঁচা আমের ঘ্রাণ নেয় না। শিউলী ফুলের ডাঁটি জ্বাল দিয়ে সাদা রুমাল রাঙায় না। বৃষ্টিতে জমে থাকা জলে কাগজের নৌকা ভাসায় না। পুতুল বিয়ের দাওয়াত দেয় না। দিস্তা কাগজ সূঁইসুতা দিয়ে গেঁথে নোট বই বানায় না। কালির কলম জলে ধুঁয়ে শুকাতে দেয় না। দুপুরের ভাত ঘুমের সময় সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে একা জেগে থাকবার প্রবল আকাংক্ষা করে না।


Shawan Mahmud

রুটি আর ঘিয়ের যুগলবন্দি অনেক সুপারফুডকেও হার মানাতে পারে।

 


অবাঙালিদের মধ্যে রুটিতে ঘি মাখিয়ে খাওয়ার অভ্যাস প্রায়ই চোখে পড়ে। কারও কারও মতে, এই অভ্যাসটি ভীষণ অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু রুটি আর ঘিয়ের যুগলবন্দি অনেক সুপারফুডকেও হার মানাতে পারে। শুধু স্বাদে নয়, এই জুটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। 

অনেক ডায়াবেটিক রুটি খেতে ভয় পান। তাঁদের স্বাস্থ্যের জন্যও  রুটি আর ঘিয়ের যুগলবন্দি  দারুণ উপকারী।

১।

রুটির সঙ্গে দেশি ঘি খেলে রক্তের শর্করার মাত্রা এক লাফে অনেকটা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে। ঘি কার্বোহাইড্রেটের শোষণকে ধীর করে দেয়। ফলে গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে মেশে, রক্তে শর্করা ভাল ভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি কমে। বিভিন্ন গবেষণাও বলছে, ঘিয়ের মতো ভাল ফ্যাট খেলে সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য হয়।

২।

রুটিতে আছে জটিল কার্বোহাইড্রেট, আর ঘিয়ে আছে ভাল ফ্যাট। দু'টি একসঙ্গে খেলে শরীরে দীর্ঘক্ষণ ধরে শক্তির সঞ্চার হয়। যাঁরা সারাদিন শরীর চাঙ্গা রাখতে চান, তাঁদের ডায়েটে ঘি মাখানো রুটি রাখা ভাল। শুধু কার্বোহাইড্রেট খেলে কিছু ক্ষণ পর আবার খিদে পেয়ে যায়। তাই বারে বারে খেতে হয়। কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে ভাল ফ্যাটের মিশ্রণ খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভর্তি থাকে। অল্প খেয়েই অনেকক্ষণ শক্তি পাওয়া যায়।

৩।

দেশি ঘিয়ে থাকে বিউটাইরিক অ্যাসিড, যা পেটের ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে, পাচনতন্ত্রের প্রদাহ কমায় আর সামগ্রিক হজমশক্তি বাড়ায়। অনেকের রুটি হজম করতে অসুবিধা হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে ঘি মাখানো রুটি খেলে সমস্যা কম হয়।

৪।

দেশি ঘিয়ে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং ভিটামিন থাকে। এটি একটি প্রাকৃতিক ইমিউনিটি বুস্টার। আটার রুটি বা মাল্টিগ্রেন রুটির সঙ্গে ঘি খেলে শরীর চাঙ্গা থাকবে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়বে।

৫!

ঘি মাখানো রুটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে, ওজন হ্রাসে সাহায্য করে, হরমোনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে রাখে।


মুরগি কাবুলি বুটের সালাদ

 


উপকরণ

  • কাবুলি বুট: ২ কাপ

  • টমেটো: টুকরা আধা কাপ

  • মুরগির বুকের মাংস: ১ টুকরা

  • সেদ্ধ ডিম: (কুসুম ছাড়া) ২টা

  • জলপাই তেল: ১ টেবিল চামচ

  • পেঁয়াজকুচি: ২ টেবিল চামচ

  • গোলমরিচগুঁড়া: ১ চা–চামচ

  • লেবুর রস: ১ চা–চামচ

  • লবণ/পিংক সল্ট: সামান্য

প্রণালি

কাবুলি বুট কয়েক ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে রাখুন। টমেটো বিচি ফেলে টুকরা করে নেবেন। মুরগির মাংস সেদ্ধ করে টুকরা করে নিন। সেদ্ধ ডিম কুসুম ফেলে টুকরা করে রাখুন। জলপাই তেলে বাকি সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে সালাদ তৈরি করে নিন।

An Amazing Recipe for Chicken and Eggplant

 


Ingredients

Chicken breast: 1 piece


・Eggplant: 2


・Long green onion (negi): 1/3 stalk


・Potato starch: 2.5 tbsp


・Oil: 3 tbsp


・Sake: 1/2 tbsp


・Salt: A pinch


Seasonings (A)


・Vinegar: 2 tbsp


・Water: 1 tbsp


・Mentsuyu (3x concentrated): 1 tbsp


・Sesame oil: 1 tbsp


・Sugar: 2 tsp


・White sesame seeds: 1 tsp


・Grated ginger: 1 tsp


■ Main tools needed

Cutting board, kitchen knife, plastic bag, frying pan, mixing bowl


■ Instructions

① Remove the skin from the chicken breast and cut it into bite-sized pieces; cut the eggplant into irregular chunks (*rangiri*); and coarsely chop the long green onion.

② Place the eggplant and 1/2 tablespoon of potato starch into a plastic bag and shake well to coat evenly. Spread the oil in a large frying pan, and—without turning on the heat yet—arrange the eggplant on one side of the pan.

③ Add the chicken, sake, and salt & pepper to the same plastic bag and massage the mixture; then add 2 tablespoons of potato starch and shake well to coat everything evenly.

④ Arrange the chicken on the other side of the frying pan and turn the heat to medium. Once the oil begins to sizzle, cook undisturbed for 3–4 minutes until browned; then flip and cook the other side until similarly browned and cooked through. The key is to avoid moving the ingredients around too much while cooking.

⑤ Combine the chopped onion and seasonings (A) in a mixing bowl, then toss the chicken and eggplant in the mixture to coat. It is now ready to serve.

Squid Burger

 



A healthy burger made with squid, an ingredient that supports liver function. It also includes ground chicken, which helps build a foundation for recovering from fatigue. The satisfying, chunky texture of the coarsely chopped squid is addictive.


Recipe


⚫︎ Ingredients (Serves 2)


Squid… 100g


Ground chicken… 150g


Onion… 1/4


Ginger… 1 knob


Miso… 2 tsp


Olive oil… Appropriate amount


⚫︎ Instructions


❶ Finely chop the onion and ginger. Clean the squid and chop it into coarse pieces.


❷ Place the ingredients from step ❶, the ground chicken, and the miso into a plastic bag. Mix everything thoroughly from the outside of the bag to form the patty mixture.


❸ Divide the mixture into four equal portions and shape them into oval patties.


❹ Heat olive oil in a frying pan over medium heat. Cook the patties until nicely browned on both sides and cooked through to the center.

Friday, July 31, 2026

Potato Pancakes with Edamame and Ham

 


Ingredients (Serves 2)

Potatoes: 2 (250–300g)


[A] Consommé granules: 1/2 tsp


[A] Salt: 1/5 tsp


[A] Pepper: To taste


[B] Loin ham (cut into 1cm cubes): 3 slices


[B] Shelled edamame: 30g


[B] Pizza cheese (shredded cheese): 20g


[B] Potato starch: 2 tbsp


Butter: 10g


Instructions


① Peel the potatoes and cut them into bite-sized pieces. Place them in a heat-resistant bowl, cover loosely with plastic wrap, and microwave at 600W for 4 1/2 minutes.


② While the potatoes are still hot, add [A] and mash them using a fork or similar tool.


③ Once the mixture has cooled slightly, add [B] and mix well. Divide into 6 portions and shape each into a ball.


④ Heat the butter in a frying pan over medium heat and arrange the potato balls in the pan. Cook until both sides are nicely browned and heated through to the center—then it's ready to serve!

Monday, July 27, 2026

আমার কৈফিয়ৎ

 

-
আমার সাম্প্রতিক লেখাগুলোতে দুটো বিষয় নিয়ে অনেক পাঠক মন্তব্য এবং মেসেঞ্জারে কৈফিয়ত চেয়েছেন। একটি হলো, আমি কেন বলছি বঙ্গবন্ধুকে দেওয়া ইয়াহিয়ার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো, এটা আমি কেন বলেছি। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ক্যাডেট কলেজগুলো বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী—এটা আমি কেন বলেছি।
প্রথমেই বলে রাখি, যারা এইসব প্রশ্ন করছেন তারা শয়তানবাদের প্রভাবে প্রবেশ করেছেন। শয়তান তাদেরই প্রভাবিত করে, যাদের মন সবসময় দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে এবং যাদের সুন্দর করে পরিবেশন করে যেকোনো কিছু বিশ্বাস করানো যায়। এরাই কোনো দল, মত বা ধর্মের সবচেয়ে বড় সমর্থক হয়ে ওঠে যখন তারা দেখে সেই দল, মত বা ধর্ম ক্ষমতার শীর্ষে উঠে আসবে। কিন্তু যখন সেই দল, মত বা ধর্ম বিপদে পড়ে, তারাই প্রথম কেটে পড়ে এবং নিজ স্বার্থ ও পাওনাটাকে প্রাধান্য দিয়ে অন্য দল বা সংস্কারপন্থী হয়ে যায়।
এদের চেনার উপায় হলো, সুসময়ে এরা নেতার চেয়েও বড় নেতা, নবীর চেয়েও বড় মুসলমান-এ পরিণত হয়। তার চেয়েও বড় বিপজ্জনক হলো, এরা সত্য যারা বলে তাদের হত্যা করতে চায়। ফরাসি আলজেরীয় লেখক আলবেয়ার কাম্যু যেমন বলেছেন, ইতিহাসে এমন সময় আসে—দুই যোগ দুই চার যারা বলে, তাদের হত্যা করা হয়।
বঙ্গবন্ধুকে দেওয়া ইয়াহিয়ার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ যে ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টো, এটা তো আমি বলিনি, এটা বলে গেছেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু, যেটা সেই ১৯৭২ সালে নিউজউইক পত্রিকাকে তিনি তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকারে বলে গেছেন। যেটি পুনঃপ্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২ সংখ্যায়। যে পোস্টটি এখনও নিউইয়র্ক টাইমসের ওয়েবসাইটে আছে। মনে রাখতে হবে, এটি প্রকাশিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের সেই ক্ষতবিক্ষত সময়ে, ৩০ লক্ষ প্রাণ হারানোর স্মৃতি যখন সবার মনে জলন্ত আগুনের মতো জাগ্রত। সত্য না হলে এটি কোনোভাবেই প্রকাশিত হতো না। নিউইয়র্ক টাইমস ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২ সংখ্যার সেই রিপোর্টটি:
"মুজিবের বক্তব্য: ইয়াহিয়ার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ভেস্তে দিয়েছিলেন ভুট্টো"
১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২
"শেখ মুজিবুর রহমান প্রকাশ করেছেন যে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের শেষ মুহূর্তে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যে আদেশ হয়েছিল, তা জুলফিকার আলী ভুট্টোর হস্তক্ষেপে ব্যর্থ হয়। ভুট্টো তাঁকে এমন একটি কারাগার থেকে গোপনে বের করে আনার ব্যবস্থা করেছিলেন, যেখানে তিনি দীর্ঘ নয় মাস একাকী বন্দী ছিলেন। সেই সময় পর্যন্ত ভুট্টো জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানকে সরিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের পদ গ্রহণ করেননি।
ঢাকায় ফিরে আসার পর তিনি নিউজউইক পত্রিকাকে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন—এটি ছিল তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকার—সেখানে সদ্য ঘোষিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বন্দিজীবনের দুর্ভোগের বর্ণনা দেন। তিনি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাঁর বিচারকে “একটি প্রহসন” বলে অভিহিত করেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ থেকে শেষ মুহূর্তে তাঁর রক্ষা পাওয়ার ঘটনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
শেখ মুজিবকে উদ্ধৃত করে বলা হয়:
“যুদ্ধ যখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং ভুট্টো ক্ষমতায় আসছেন, তখন ইয়াহিয়া বলেছিলেন যে তিনি বাংলার পতনের দিনই শেখ মুজিবুর রহমানকে ফাঁসি দিতে চান।”
তিনি আরও বলেন:
“এক রাতে, ভুট্টো ইয়াহিয়াকে তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা সত্ত্বেও, কারাগারের ভেতরেই আমাকে হত্যা করার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন ভুট্টো আমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপারকে আমাকে সেখান থেকে বের করে আনার ব্যবস্থা করতে বলেন।”
পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে বাঙালি সংস্কৃতি ও আওয়ামী-ভারতবিরোধী ছিল, এটা বলে গেছেন স্বয়ং জিয়াউর রহমান তাঁর “একটি জাতির জন্ম” প্রবন্ধে। প্রবন্ধটি দৈনিক বাংলা পত্রিকার ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ সংখ্যায় সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের লেখা হিসাবে প্রথম প্রকাশিত হয়। ২৬ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় লেখাটি পুনঃপ্রকাশিত হয়।
সেই প্রবন্ধে পাকিস্তানের সেনা প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলো সম্পর্কে জিয়াউর রহমান লেখেন:
“আমাদের ওরা দাবিয়ে রাখতো, অবহেলা করতো, অসম্মান করতো। দক্ষ ও যোগ্য বাঙালি অফিসার আর সৈনিকদের ভাগ্যে জুটতো না কোনো স্বীকৃতি বা পারিতোষিক। জুটতো শুধু অবহেলা আর অবজ্ঞা। আখ্যায়িত করতো আমাদের আওয়ামী লীগের দালাল বলে। একাডেমির ক্লাসগুলোতেও সব সময় বোঝানো হতো, আওয়ামী লীগ হচ্ছে ভারতের দালাল। পাকিস্তানের সংহতি বিনষ্ট করতেই আওয়ামী লীগ সচেষ্ট। এমনকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ক্যাডেটদের শেখানো হতো, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন ওদের রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু।”
তিনি আরও লিখেছেন:
“সামরিক একাডেমিতে থাকাকালে আমি সম্মুখীন হয়েছি শুধু নিকৃষ্ট অভিজ্ঞতার। সেখানে দেখেছি বাঙালি ক্যাডেটদের প্রতি পাকিস্তানিদের একই অজ্ঞতার ঐতিহ্যবাহী প্রতিচ্ছবি। অবৈধ উপায়ে পাকিস্তানিদের দেখেছি বাঙালি ক্যাডেটদের কোনঠাসা করতে। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন যেমন, আমি যখন শিক্ষক হলাম তখনো তেমনিভাবেই বাঙালি ক্যাডেটদের ভাগ্যে জুটতো শুধু অবহেলা, অবজ্ঞা আর ঘৃণা। আন্তঃসার্ভিস নির্বাচনী বোর্ডে গ্রহণ করা হতো নিম্নমানের বাঙালি ছেলেদের, ভালো ছেলেদের নেওয়া হতো না ক্যাডেটরূপে। রাজনৈতিক মতাদর্শ আর দরিদ্র পরিবারের নামে প্রত্যাখ্যান করা হতো তাদের। এর সবকিছুই আমাকে ব্যথিত করতো।”
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজগুলো সামরিক ক্যাডেট তৈরির লক্ষ্যেই তৈরি। সেনা প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলোতে যে মানসিকতা প্রচার হয়, সেগুলোই যে আরও অল্প বয়স থেকে ক্যাডেট কলেজগুলোতে প্রয়োগ করা হবে, সেটা শিশু বা পাগল না হলে সহজেই বোঝার কথা। ক্যাডেট কলেজগুলো যে টোটাল ইনস্টিটিউশন এবং সেগুলো যে ইঙ্গ-মার্কিন সেনা এলিট মানসিকতা তৈরির একটি মগজধোলাই কেন্দ্র, সেটা আমি আগেই লিখেছি। এবং পাকিস্তানে সেনাশাসন আসার পর স্থানীয় সংস্কৃতির রাজনৈতিক শক্তির প্রতি ঘৃণা তৈরিই যে তাদের মার্কিন স্থানীয় সংস্কৃতি উৎপাটন মডেলে হয়েছে, সেটাও আমি অন্যত্র লিখেছি। বাংলাদেশ স্বাধীর হবার পর সেটা পরিবর্তনের আগেই ঘটে ১৯৭৫ এর সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও বাংলাদেশকে পুনরায় নতুন নামে পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত করার ঘটনা। ক্যাডেট কলেজগুলো সেই বাঙালী সংস্কৃতিবিরোধী পাকিস্তানী মগজধোলাই কেন্দ্র হিসাবেই রয়ে যায় পাক মার্কিন ভূরাজনৈতিক প্রভাবে।
মনোবিদ্যার দৃষ্টিকোন থেকে আলবেয়ার কাম্যু যে সময়ের কথা বলেছেন, সেই সময়গুলোতে দেখা যায় অতিরঞ্জিত আড়ম্বরপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। যারা মনোবিদ্যার কালো ত্রয়ী বা ডার্ক ট্রায়াড সাইকোলজির ব্যক্তিত্ব। বাস্তবতাবোধ হারিয়ে যারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার, জিয়াউর রহমানের চেয়েও বড় বিএনপি এবং নবী মুহম্মদের চেয়েও বড় মুসলিম বনে যায়। কোরানে এদের নিয়েই সাবধান করা আছে যারাই হল ভুয়া হাদিসের মুসলমান। যাদের লক্ষ্য সত্যকে হত্যা করা।
সত্য বলা লেখককে ধ্বংস করা, হত্যা করা, তাকে নিঃশেষ করে দেওয়া পৃথিবীতে নতুন নয়। আমার নানা লেখা পড়ে অনেকে আবার মহা চিন্তায় পড়ে গেছেন, আমি আসলে কোন দলের। কেউ ভাবছেন আমি জামাত, কেউ ভাবছেন আমি রাশিয়ান, কেউ ভাবছেন আমি ইরানী, কেউ ভাবছেন আমি সুফি দরবেশ। অনেকে আবার ভাবছেন, আমি হয়তো নেতা হতে চাইছি। সত্য বলা কবি নজরুল “আমার কৈফিয়ৎ” কবিতায় যেন আমার কথাই লিখে গেছেন। কবিতাটি ১৩৩২ সালে ‘বিজলী’ পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে ৮২ পংক্তির এই কবিতাটি ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করে ১৯২৬ সালে প্রকাশ করা হয়।
কাজী নজরুল ইসলামের আমার কৈফিয়ৎ কবিতাটি অংশবিশেষ:
“বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!
কবি-বন্ধুরা হতাশ হইয়া মোর লেখা প’ড়ে শ্বাস ফেলে!
বলে, কেজো ক্রমে হচ্ছে অকেজো পলিটিক্সের পাশ ঠেলে’।
পড়ে না ক’ বই, ব’য়ে গেছে ওটা।
কেহ বলে, বৌ-এ গিলিয়াছে গোটা।
কেহ বলে, মাটি হ’ল হয়ে মোটা জেলে ব’সে শুধু তাস খেলে!
কেহ বলে, তুই জেলে ছিলি ভালো ফের যেন তুই যাস জেলে!
গুরু ক’ন, তুই করেছিস শুরু তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁছা!
প্রতি শনিবারী চিঠিতে প্রেয়সী গালি দেন, ‘তুমি হাঁড়িচাঁচা!’
আমি বলি, ‘প্রিয়ে, হাটে ভাঙি হাঁড়ি!’
অমনি বন্ধ চিঠি তাড়াতাড়ি।
সব ছেড়ে দিয়ে করিলাম বিয়ে, হিন্দুরা ক’ন, আড়ি চাচা!’
যবন না আমি কাফের ভাবিয়া খুঁজি টিকি দাড়ি, নাড়ি কাছা!
মৌ-লোভী যত মৌলবী আর ‘ মোল্‌-লা’রা ক’ন হাত নেড়ে’,
‘দেব-দেবী নাম মুখে আনে, সবে দাও পাজিটার জাত মেরে!
ফতোয়া দিলাম- কাফের কাজী ও,
যদিও শহীদ হইতে রাজী ও!
‘আমপারা’-পড়া হাম-বড়া মোরা এখনো বেড়াই ভাত মেরে!
হিন্দুরা ভাবে,‘ পার্শী-শব্দে কবিতা লেখে, ও পা’ত-নেড়ে!’
আনকোরা যত নন্‌ভায়োলেন্ট নন্‌-কো’র দলও নন্‌ খুশী।
‘ভায়োরেন্সের ভায়োলিন্‌’ নাকি আমি, বিপ্লবী-মন তুষি!
‘এটা অহিংস’, বিপ্লবী ভাবে,
‘নয় চর্‌কার গান কেন গা’বে?’
গোঁড়া-রাম ভাবে নাস্তিক আমি, পাতি-রাম ভাবে কন্‌ফুসি!
স্বরাজীরা ভাবে নারাজী, নারাজীরা ভাবে তাহাদের আঙ্কুশি!
নর ভাবে, আমি বড় নারী-ঘেঁষা! নারী ভাবে, নারী-বিদ্বেষী!
‘বিলেত ফেরনি?’ প্রবাসী-বন্ধু ক’ন, ‘ এই তব বিদ্যে, ছি!’
ভক্তরা বলে, ‘নবযুগ-রবি!’-
যুগের না হই, হজুগের কবি
বটি ত রে দাদা, আমি মনে ভাবি, আর ক’ষে কষি হৃদ্‌-পেশী,
দু’কানে চশ্‌মা আঁটিয়া ঘুমানু, দিব্যি হ’তেছে নিদ্‌ বেশী!
---
আমি বলি, ওরে কথা শোন্‌ ক্ষ্যাপা, দিব্যি আছিস্‌ খোশ্‌-হালে!
প্রায় ‘হাফ’-নেতা হ’য়ে উঠেছিস্‌, এবার এ দাঁও ফস্‌কালে
‘ফুল’-নেতা আর হবিনে যে হায়!
বক্তৃতা দিয়া কাঁদিতে সভায়
গুঁড়ায়ে লঙ্কা পকেটেতে বোকা এই বেলা ঢোকা! সেই তালে
নিস্‌ তোর ফুটো ঘরটাও ছেয়ে, নয় পস্তাবি শেষকালে।
বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!
পরোয়া করি না, বাঁচি বা না-বাঁচি যুগের হুজুগ কেটে গেলে,
মাথায় উপরে জ্বলিছেন রবি, রয়েছে সোনার শত ছেলে।
প্রার্থনা ক’রো যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,
যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!”
© সিরাজুল হোসেন