Wednesday, September 2, 2026

ইসলামে ফুল খুবই অনুল্লিখিত একটি বিষয়।


কটা জিনিস ভেবে অবাক লাগে। ইসলামে ফুল খুবই অনুল্লিখিত একটি বিষয়। আরবের মরুভূমিতে ফুল ফুটে না। ইসলামে তাই ফুলের কোন গুরুত্ব নেই। ভারতবর্ষে ইসলাম আসার পর দেখে এখানে ফুল পূজার প্রধান অনুষঙ্গ। ফুল ছাড়া দেবতা তুষ্ট হয় না। ফলে এখানে ইসলামের চোখে ফুল হয়ে গেছে পূজা! কাউকে ফুল দেয়াও তাদের কাছে পূজা! গ্রামবাংলার মুসলমানদের বাড়িতে ফুল গাছ থাকে না। কবি জসিমউদদীন লিখেছেন, হিন্দু বাড়ি মানেই ফুল গাছ। মুসলমানদের বাড়ি ন্যাড়া ফুলহীন। গাছ নিয়েও তাদের তৈরি হয়েছিল এলার্জি। তুলসী, লাল জবা মানেই হিন্দু গাছ! তুলসী গাছ লাগিয়ে জসিমউদদীন ছোটবেলা নিগৃহীত হয়েছিলেন।

হিন্দু বাড়িতে ফুল গাছ থাকলেই তারা খুব উচ্চ মনের মানুষ হয়ে গেছে তা নয়। আমি বলছি ধর্ম কি করে সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে। আপনি কখনো কোন হুজুরকে ফুল কিনতে দেখবেন না। কোন মাদ্রাসা ফুলের বাগান নেই। কোন মসজিদে ফুলের বাগান থাকে না। মসজিদ কখনো ফুল দিয়ে সাজায় না। কিন্তু মন্দির গির্জায় ফুলের বাগান পাবেন। শহীদ মিনারে ফুল দেয়া মানে পূজা এক মুসলমান ছাড়া কেউ বলে না। মুসলমানদের সংস্কৃতি ফুলহীন। তাদের ধর্মীয় কোন কাজে ফুল লাগে না।
তার মানে মুসলমান ফুল কিনে না তা নয়। বাংলাদেশের এত ফুল তাহলে কেনে কারা? আমি আসলে ধর্মের সংস্কৃতির উপর প্রভাব বলছি। রোজার মাস বৈশাখ একুশে ফেব্রুয়ারিকে ম্লান করে দেয়। আগামী তিন বছর নাকি বইমেলা রোজার সময় পড়বে। এর মানে হচ্ছে বইমেলায় রোজা মন্দা এনে দিবে।
ইসলাম স্থানীয় সংস্কৃতির উপর উপনিবেশ চালায়। নোবেল জয়ী লেখক ভিএস নাইপল ইসলামকে ভাষা সংস্কৃতি উপর উপনিবেশ চালায় বললে মার্কসবাদী লেখক এডওয়ার্ড সাঈদ তাকে ইসলাম বিদ্বেষী বলেছিলেন। সাঈদ নিজে ফিলিস্তিন খ্রিস্টান ছিলেন। আরব থেকে ইসলাম কিভাবে ভিন্ন সংস্কৃতি ভাষাকে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে এটা তো তার অজানা নয়। সাঈদ যে সঠিক ছিলেন না খোদ বাংলাদেশে বসেই আমরা জানি। নাইপল কত সত্য বলেছেন তা এদেশের মুক্তচিন্তার মানুষজন তাদের জীবন দিয়ে জানে।
২.
মুসলিম লীগের সবকটা গ্রুপ, মুসলম লীগের কমিউনিস্ট গ্রুপ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গ্রুপ, বাঙালী জাতীয়তাবাদী গ্রুপ, সুফি গ্রুপ, নাস্তিক গ্রুপ, এমনকি হিন্দু গ্রুপ আমাকে মিথ্যাবাদী প্রমাণের চেষ্টা করছে। এটা সুখবর। কোন কিছু না বলে কেবল বিজেপির টাকায় লিখি, আরএসএস, মোসাদ, র-এর এজেন্ট বলার চাইতে আমার লেখার সমালোচনা করুক বক্তব্য ধরে।
সেদিন ফুল নিয়ে লিখলাম। লেখার একদম শুরুতেই লিখেছিলাম, ‘ইসলাম যখন ভারতবর্ষে এলো এসে দেখে এখানে ফুল দিয়ে পূজা দেয়া হয়, ফুল হচ্ছে দেবতাকে তুষ্ট করার প্রধান অনুসঙ্গ। ফলে ফুল সুফিদের কাছে পুজা দেয়ার মতই মনস্তত্ব গড়ে উঠল। ভারতবর্ষে মুসলিম সমাজে ফুলের কোন ধর্মীয় সংস্কৃতি তাই গড়ে উঠেনি। করবে ফুল দেয়া বিদাত। মসজিদ মাদ্রাসা ফুলের শোভায় শোভিত হয় না…। কবি জসিমউদ্দীনের আত্মজীবনীতে মুসলমানদের ফুলহীন জীবনের স্বীকৃতি আছে। এটা গ্রামবাংলার চিত্র ছিল। মুসলমানদের বাড়িতে ফুল থাকত না এটা কবির নিজের লেখা।
তো, মুসলিম লীগের শাখাগুলি এখন বলছে আমি অর্ধসত্য লিখছি, মিথ্যাকে সত্য বানাতে নাকি অর্ধসত্য প্রয়োজন। হতে পারে। আমার জানা নেই। মুসলিম লীগের এসব ফর্মূলা ভালো জানা। মুসলিম লীগের শাখাগুলো বলছে, তুরস্ক, মিশর, তাজাকিস্তান অমুক তমুক দেশের মসজিদের পাশে ফুল শোভা পায়। সেখানকার মুসলমানরা ফুল ভালো না বাসলে এগুলো কিভাবে সম্ভব…। অথচ লেখার শুরুতেই আমি ভারতীয় উপমহাদেশের ইসলামের আগমনকে উল্লেখ করেছি। এরা যে মুসলিম জাতীয়তাবাদী, এদের যে নিজেদের জাতির সমালোচনা হলে কখনো তুরস্ক, কখনো ইরান, কখমো মিশর দেখিয়ে মুখরক্ষা করতে চায় সেটি আবার প্রমাণ হলো।
পারস্য মুসলমানরা তো পৌত্তলিক থাকার সময় প্রার্থনাকে নামাজ বলত, উপোষকে রোজা বলত, মুসলমান হওয়ার পর্ ওরা আরবী সালাত-সওম গ্রহণ করেনি। ওরা শাহনামাকে পৌত্তলিকদের বলে অস্বীকার করেনি। আমার কি করেছি? মনসামঙ্গলকে নিজেদের সাহিত্য বলেছি? বলেছি এগুলো হিন্দুদের আমরা কেন পড়বো! এসব বলে কারবালা-সোহরা রুস্তমকে মুসলমানদের লেখা বলে গর্ব করেছি। ইসলামের একটি অনুসঙ্গের বাংলা সমার্থক শব্দ নেই। মুসলমানদের নিজস্বতা বলে মুসলিম লীগের আহমদ ছফা গ্রুপ সাহিত্যে পানি, আব্বা, আম্মা, গোসল, গোস্ত… ব্যবহার করেছে। এগুলোর কোনটাই নিজদের শব্দ নয়! ‘খোদা হাফেজ’-কে এখন ‘আল্লাহ হাফেজ’ কারা বানিয়েছে? পারস্যের মুসলমানদের নিজস্বতা আছে। তারা আরবদের ইতিহাসকে নিজেদের ইতিহাস বলেনি। আমি সেই কথাই বলি। এদেশের মুসলমানদের চাবকে সেটাই মনে করিয়ে দেই। কিন্তু মুসলিম লীগের শাখাগুলোর ভয় সেখানেই। আমার লেখা পড়লে ‘মুসলমান’ এই পরিচয়টিই লুপ্ত হয়ে যাবে। তাহলে আর হিন্দুদের সঙ্গে তারা লড়াই করবে কি করে? ফলে আমাকে হিন্দুত্ববাদী বানাতেই হবে! বারবার বলা মিথ্যা সত্যের মত করে সাময়িক সময়ের জন্য হলেও একটা ভিত্তি পায়। এতে আমি বিব্রত নই। আমার কথা আমি বলে যাবোই। আমার লেখা কাকে খুশি করছে, কাকে জ্বলুনি দিচ্ছে সেটি নিয়ে আমি আগেও ভাবিনি, কখনোই ভাববো না। লেখালেখিই আমার কাজ। লেখার প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভাবা নয়।
নোট: এখন প্রচুর ছাদবাগান হয়। সেখানে ফুলের গাছের ছড়াছড়ি। আর এসব মুসলিম পরিবারগুলোতেই হয়। কিন্তু তাতে উপরের ঐতিহাসিক সত্য মিথ্যা হয়ে যায় না। এখনো মুসলিমদের মধ্যে গাছপালার প্রতি অনিহা প্রচুর। গ্রামে এখনো মুসলিম বাড়িতে কোন ফুলের গাছ দেখাই যায় না।
-সুষুপ্ত পাঠক
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

No comments:

Post a Comment