Monday, August 31, 2026

Corn and Dried Baby Sardine Fried Rice

 


【Ingredients】

Corn... 1 ear

Unroasted (light) sesame oil... 1 1/2 tbsp

Dried baby sardines (*jako*)... 40g

Sake & Black vinegar... 1 tbsp each

Cooked rice... 400g

Coarse salt... 1/4 tsp

Soy sauce... 1/2 tbsp

Sesame oil... 1/2 tsp

Coarsely ground black pepper... A small amount

Shiso leaves... 10 leaves


【Instructions】


【1】 Cut along the cob with a knife to remove the corn kernels.


【2】 Place the unroasted sesame oil and dried baby sardines in a frying pan over medium heat and sauté, ensuring the oil coats the sardines. Once fragrant, add the sake and black vinegar, and sauté until the liquid has evaporated.


【3】 Add the corn from step 【1】 and sauté briefly.


【4】 Add the rice and sprinkle with coarse salt; sauté slowly over low heat until the moisture evaporates and the rice grains separate and become fluffy. Drizzle the soy sauce around the edge of the pan, season with the sesame oil and coarsely ground black pepper, and mix in the finely chopped shiso leaves.

একটি বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থীদের কী হিসেবে দেখে- স্বাধীন নাগরিক? নাকি অভিভাবকত্বের অধীনে থাকা এমন এক শ্রেণি, যাদের নিরাপত্তার নামে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব?


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং এর বক্তব্য হিসেবে প্রচারিত একটি কথা আমাকে বিশেষভাবে ভাবিয়েছে, “আমার পরিবারের কোনো নারী রাতে ১০টার পর বাইরে থাকেন না।”
রাত দশটার ব্যাপারটা বেশ রহস্যময়। একজন নারী ৯টা ৫৯ মিনিটে যদি দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হন, তাহলে ১০টা ১ মিনিটে ঠিক কোন constitutional transformation ঘটে যে তাঁকে আর নিজের হলে ঢোকার সিদ্ধান্তটুকুও স্বাধীনভাবে নিতে দেওয়া যায় না? ঘড়ির কাঁটা দশটা ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে কি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের adulthood এর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়?
যদি তাই হয়, তাহলে ভর্তি ফরমের সঙ্গে ছোট অক্ষরে লিখে দেওয়া উচিত, “আপনার প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকত্ব প্রতিদিন রাত ১০টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
আর “আমার পরিবারের কোনো নারী রাত দশটার পর বাইরে থাকেন না”, এইটা যদি পাবলিক পলিসি তৈরির গ্রহণযোগ্য যুক্তি হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোকে অযথা জটিল রাখারই বা প্রয়োজন কী?
একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট, স্ট্যাটিউটস রেগুলেশনস, কনস্টিটিউশনাল প্রিন্সিপলস, এসবের বদলে প্রত্যেক প্রশাসকের পারিবারিক রুটিন সংগ্রহ করলেই তো একটি পূর্ণাঙ্গ গভর্নেন্স ম্যানুয়াল তৈরি হয়ে যায়।
একজনের পরিবারের মেয়েরা দশটার পর বের হন না, আরেকজনের পরিবারের মেয়েরা হয়তো জিন্স পরেন না, তৃতীয়জনের পরিবারের মেয়েরা পুরুষ সহপাঠীর সঙ্গে কফি খান না। বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে সেটির নাম দিতে পারে- Personal Household Values-Based Higher Education Policy.
একজন ব্যক্তি তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য কী ধরনের জীবনযাপন উপযুক্ত মনে করেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মূল্যবোধের বিষয়। কিন্তু একজন প্রক্টরের পরিবারের নারীরা কখন বাড়ি ফেরেন, সেটি একটি রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থীর স্বাধীনতা নির্ধারণের কোনো নীতিগত, আইনগত বা সাংবিধানিক মানদণ্ড হতে পারে না।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পারিবারিক অভিভাবক না। একজন প্রক্টর কোনো শিক্ষার্থীর বাবা, ভাই বা স্বামী নন। নারী শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হননি কারও “মা-বোন” পরিচয়ে। তাঁরা ভর্তি হয়েছেন শিক্ষার্থী, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং নাগরিক হিসেবে।
নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বারবার “আমাদের মা-বোন” বলা আপাতদৃষ্টিতে সম্মানসূচক শোনালেও এর মধ্যে একটি গভীর paternalistic politics আছে। এই কথাটিও শুনতে খুব সিনেম্যাটিক মমতাময়ী শাবানা টাইপ।
কিন্তু একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে নাগরিক থেকে “মা-বোনে” রূপান্তর করার এই সাংস্কৃতিক দক্ষতা সত্যিই বিস্ময়কর। বাংলাদেশে নারীর স্বাধীনতার সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক ট্র্যাজেডি এই যে, তাঁকে এত বেশি “সম্মান” করা হয় যে মাঝে মাঝে স্বাধীন হওয়ার জায়গাটাই আর থাকে না। তাঁকে বেদিতে তুলে রাখব, রক্ষা করব, সম্মান করব, শুধু নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার মতো করে মাটিতে নামতে দেব না।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদ নারী-পুরুষের সমতার কথা বলছে, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ আইনানুগ আচরণ ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষার কথা বলছে, ৩৬ অনুচ্ছেদ যুক্তিসংগত আইনগত বিধিনিষেধ সাপেক্ষে চলাফেরার স্বাধীনতার কথা বলছে।
আর তার বিপরীতে প্রশাসনিক যুক্তি যদি দাঁড়ায়, “কিন্তু আমাদের বাড়ির মেয়েরা তো দশটার পর বের হয় না”, তাহলে আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এটা অন্তত অসাধারণ একটা কেস স্টাডি হতে পারে: রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণে সংবিধান বনাম বাসার নিয়ম- কোনটির ওজন বেশি?
তবে এর অর্থ অবশ্যই এই নয় যে আবাসিক হলে কোনো নিয়ম থাকতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয় হল কোনো হোটেল নয়; সমষ্টিগত আবাসিক জীবনের জন্য প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থী নীতি, পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা, সবই প্রয়োজন।
কিন্তু যুক্তিসংগত নিয়ন্ত্রণ আর লিঙ্গভিত্তিক অভিভাবকসুলভ কর্তৃত্ব এক জিনিস না। নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীর চলাচলের ওপর যদি উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন মাত্রার বিধিনিষেধ ও দায় চাপানো হয়, তাহলে শুধু “এটাই হলের নিয়ম” বলে আলোচনা শেষ করা যায় না।
আরও মৌলিক প্রশ্ন হলো, রাত দশটার পর আসলে কী ঘটে? নিরাপত্তা যদি প্রকৃত যুক্তি হয়, তাহলে কারফিউ নিরাপত্তার একটি অদ্ভুত সংজ্ঞা। কারণ গেট বন্ধ করলে ক্যাম্পাস নিরাপদ হয় না। বরং দেরিতে ফেরা একজন নারী শিক্ষার্থীকে গেটের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে কোনো ফ্লোর টিচার বা হল প্রশাসকের ফোন ধরার অপেক্ষায় রাখা তাঁর নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়াতে পারে। নিরাপত্তার নামে যে ব্যবস্থা একজন নারীকে অপেক্ষাকৃত অনিরাপদ অবস্থায় ফেলে, সেটিকে নিরাপত্তানীতি বলার আগে নিয়ন্ত্রণনীতি কি না, সেটাও পরীক্ষা করা দরকার।
একটা খুব সাধারণ উদাহরণ ধরা যাক। একজন ছাত্রী সন্ধ্যায় লাইব্রেরিতে থিসিস বা গবেষণা নিয়ে কাজ করছেন। কেউ নাটকের রিহার্সাল করছে। কেউ ডিবেটিং কম্পিটিশন এ অংশ নিয়েছে। কেউ ডিপার্টমেন্টাল প্রোগ্রাম বা সেমিনার এ ছিল।কেউ টিউশন করে নিজের পড়াশোনার খরচ চালায়। কেউ সাংবাদিকতা করে। কেউ রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক সংগঠনের কাজে ছিল। কেউ অসুস্থ বন্ধুকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। আর ঢাকা শহরের যানজট তো আলাদা বাস্তবতা। এসব কাজের কোনটি রাত দশটার পর হঠাৎ অনৈতিক হয়ে যায়?
একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পুরুষ শিক্ষার্থী রাত পর্যন্ত লাইব্রেরিতে থাকতে পারেন, বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিতে পারেন, রাজনৈতিক সভা করতে পারেন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারেন। তাঁর রাতের ক্যাম্পাস, ফ্রেন্ডশিপ, নেটওয়ার্কিং, পলিটিক্স, ইন্টেলেকচুয়াল এক্সচেঞ্জ- সবই ইউনিভার্সিটি লাইফ এর অংশ।
কিন্তু একজন নারীকে যদি দশটার মধ্যে হলে ফেরার জন্য নিজের একাডেমিক এবং সোশ্যাল লাইফ অরগানাইজ করতে হয়, তাহলে আমরা তাঁর চলাচল সীমিত করছি, এবং একই সাথে আমরা তাঁর university experience, social capital, networking, cultural participation, political participation এবং public-space citizenship ও সংকুচিত করছি।
বৈষম্য শুধু হলের গেটে ঘটে না। তার প্রভাব ভবিষ্যতের opportunity পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। Feminist geography আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝিয়েছে, space কখনো gender-neutral না। কে কোথায় যেতে পারে, কখন যেতে পারে, কতক্ষণ থাকতে পারে এবং উপস্থিত থাকার জন্য কাকে explanation দিতে হয়, ক্ষমতা এসবের মধ্যেও কাজ করে।
“রাত নারীদের জন্য নিরাপদ নয়”, এই কথা যদি আমরা অপরিবর্তনীয় সামাজিক সত্য হিসেবে মেনে নিই, তাহলে সমস্যার সমাধান করার বদলে সমস্যাটিকেই প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিই। পাবলিক স্পেস কে নারীর জন্য নিরাপদ করার বদলে নারীকে পাবলিক স্পেস থেকে সরিয়ে দিই।
সমস্যা হয়রানি? সমাধান:মেয়েকে ঘরে ঢোকাও।
সমস্যা অনিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা? সমাধান:মেয়েকে আগে ফিরতে বলো।
সমস্যা অপর্যাপ্ত ক্যাম্পাস নিরাপত্তা? সমাধান:মেয়েদের হলের গেট বন্ধ করো।
অপরাধীর চলাচলের স্বাধীনতা অক্ষত থাকে, কিন্তু ভুক্তভোগীর চলাচলের ওপর কারফিউ বসে। এটা নিরাপত্তার রাজনীতি না, এটা victim management।
এখানে সাংবিধানের সমান অধিকারের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যদি নারী ও পুরুষের জন্য বাস্তবে ভিন্ন মাত্রার স্বাধীনতা তৈরি করে, তাহলে শুধু কাগজে-কলমে সমতা, “দুজনেই তো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী”যথেষ্ট না।
দেখতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের প্রকৃত চাপ ও সীমাবদ্ধতা কার ওপর পড়ছে। একজনের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন যদি অবাধ প্রাপ্তবয়স্ক স্বাধীনতার ওপর দাঁড়ায়, আর অন্যজনের প্রাপ্তবয়স্ক জীবন যদি প্রতিনিয়ত অনুমতিনির্ভর হয়, তাহলে সেখানে সমতার প্রশ্ন উঠবেই।
এখানে একজন প্রক্টরের ভূমিকা নিয়ে আমার সবচেয়ে বড় আপত্তি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রক্টরিয়াল বিধিমালায় প্রক্টরের দায়িত্বকে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও আচরণ এবং ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা রক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে; বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত বর্ণনায় প্রক্টরিয়াল এখতিয়ারও আবাসিক হলের বাইরের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আচরণ ও শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পর্কিত।
একজন প্রক্টরের কাজ শিক্ষার্থীদের নৈতিক অভিভাবক হয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত প্রাপ্তবয়স্কত্বের সীমারেখা নির্ধারণ করা না। তাঁর কাজ নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, অধিকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।
আর একজন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বটি আরও বড়। বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটা জায়গা, যেখানে একজন শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে নিজের বিচারবোধ ব্যবহার করতে শেখে, কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করতে শেখে, মতবিরোধ সামলাতে শেখে এবং নিজের সিদ্ধান্তের দায় নিতে শেখে। বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক সেই জায়গা, যেখানে অভিভাবকত্বের ধারণা ধীরে ধীরে নাগরিকত্বের ধারণাকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার কথা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব ঐতিহাসিক বিবরণে ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের পর গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও স্বায়ত্তশাসনকে প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে চিহ্নিত করে।
সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই ২০২৬ সালে এসে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিক্ষার্থীর স্বাধীনতা নিয়ে প্রশাসনিক যুক্তি যদি শেষ পর্যন্ত দাঁড়ায়, “আমার পরিবারের নারীরা এটা করেন না”-
তাহলে আমরা কি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাধীন ও স্বশাসিত নাগরিক গড়ে তোলার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখি, নাকি একটি বৃহৎ পারিবারিক বাড়ি হিসেবে, যেখানে প্রশাসকের ব্যক্তিগত পারিবারিক মূল্যবোধই হাজার হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রাপ্তবয়স্কত্ব, স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার সীমারেখা নির্ধারণ করবে?
আমি বরং একজন প্রক্টরের কাছ থেকে অন্য ধরনের কথা শুনতে চাই-
-রাত দশটার পর নারী শিক্ষার্থীরা কি নিরাপদে হলে ফিরতে পারছে?
-ক্যাম্পাসের কোন জায়গাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই? যথেষ্ট নিরাপত্তা টহল কি আছে?
-রাতে নিরাপদ পরিবহন কীভাবে নিশ্চিত করা যায়?
-হয়রানির অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা কি কার্যকর?
-জরুরি পরিস্থিতিতে হলে প্রবেশ কেন একজন শিক্ষক ফোন ধরবেন কি না, তার ওপর নির্ভর করবে?
-রাতে শিক্ষা, গবেষণা বা সাংস্কৃতিক কার্যক্রম শেষে ফেরা শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল প্রবেশব্যবস্থা বা নিবন্ধনপদ্ধতি কি চালু করা যায়?
-নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে তথ্য-প্রমাণনির্ভর, নারী-পুরুষের সমতার প্রতি সংবেদনশীল নীতিমালা কি তৈরি করা যায়?
এগুলো একজন প্রক্টরের কাজ। “আমার মা-বোন কখন বাড়ি ফেরেন”- এটা না।
নারী স্বজনদের হলে প্রবেশ, এক হলের শিক্ষার্থীর অন্য হলে যাওয়া কিংবা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রেও সার্বিক নিষেধাজ্ঞা প্রশাসনিক চিন্তার একমাত্র সমাধান হতে পারে না।
পরিচয় যাচাই করা যায়, দর্শনার্থীদের নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা যায়, নির্দিষ্ট সাধারণ স্থান নির্ধারণ করা যায়, জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা যায়, ডিজিটাল প্রবেশের নথি সংরক্ষণ করা যায়। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো ঝুঁকির উৎস চিহ্নিত করে তার মাত্রা অনুযায়ী যুক্তিসংগত ও আনুপাতিক ব্যবস্থা নেওয়া। সবাইকে আটকে দেওয়া কোনো উন্নত নিরাপত্তানীতি না ।
দক্ষিণ এশিয়ায় নারীর সম্মানযোগ্যতার ধারণা দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর স্থানিক শৃঙ্খলা ও চলাচলের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত। “ভালো মেয়ে” কোথায় যায়, কার সঙ্গে যায়, কী পরে, কতক্ষণ বাইরে থাকে, কখন বাড়ি ফেরে, এসব দিয়েই তাঁর চরিত্রের সামাজিক মূল্যায়ন করা হয়। একজন পুরুষ রাত বারোটায় ফিরলে প্রশ্ন হতে পারে, “এত দেরি হলো কেন?” একজন নারী একই সময়ে ফিরলে প্রশ্নটি খুব সহজেই বদলে যায়, “এত রাতে বাইরে কী করছিলে?”
সময় একই। নাগরিকত্ব একই। কিন্তু moral judgement আলাদা। আমরা মেয়েদের বলি, পড়াশোনা করো। গবেষণা করো। নেতৃত্ব দাও। রাজনীতি বোঝো। ডিবেট করো। কালচারাল লাইফ এ অংশ নাও। পাবলিক ইন্টেলেকচুয়াল হও। পৃথিবী বদলাও। তারপর রাত দশটায় বলি, এবার গেটে ফিরে এসো। তোমার পৃথিবী বদলানোর সময় শেষ।
বেগম রোকেয়া বেঁচে থাকলে ‘অবরোধবাসিনী’ নামটি দেখে হয়তো অবাক হওয়ার চেয়ে continuity টাই বেশি চিনতেন। একসময় নারীকে অন্দরমহলে রাখার যুক্তি ছিল ইজ্জত ও নিরাপত্তা। এক শতাব্দী পরে আমরা শব্দভাণ্ডার মডার্নাইজ করেছি, এখন বলি পলিসি, ডিসিপ্লিন , সেফগার্ডিং, সিকিউরিটি। সফটওয়্যার আপডেট হয়েছে; অপারেটিং সিস্টেম বদলায়নি।
নারীর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত? বেশ ভালো কথা। কিন্তু তাঁর স্বাধীনতা এবং নিরাপত্তা কে পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী বানাচ্ছেন কেন?
নারীকে নিরাপদ রাখা রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, সেই নিরাপত্তার মূল্য হিসেবে নারীর স্বাধীনতাকেই সীমিত করে দেওয়া সমাধান না, নিয়ন্ত্রণ।
নারীর জন্য রাত অনিরাপদ হলে রাতকে নিরাপদ করুন।
Harassment হলে harasser এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।
অন্ধকার হলে আলো বাড়ান। ট্রান্সপোর্ট অনিরাপদ হলে সেফ ট্রান্সপোর্ট দিন।সিকিউরিটি দুর্বল হলে সিকিউরিটি শক্তিশালী করুন। Emergency response ব্যর্থ হলে সেটি কার্যকর করুন। নারীকে সরিয়ে দিয়ে পাবলিক স্পেসকে নিরাপদ ঘোষণা করবেননা।
গেট বন্ধ করা খুব সহজ প্রশাসন। ক্যাম্পাস নিরাপদ করা কঠিন প্রশাসন। একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষার্থীর জন্য দরজা বন্ধ করার মানুষ নন, তাঁর কাজ জ্ঞানের দরজা খুলে দেওয়া। আর একজন প্রক্টরের সাফল্য এই দিয়ে মাপা উচিত নয় যে রাত দশটার মধ্যে কতজন নারীকে গেটের ভেতরে ঢোকানো গেল।
কৃতিত্ব এখানে যে, রাত দশটার পরও বিশ্ববিদ্যালয়টি তার নারী শিক্ষার্থীদের জন্য কতটা নিরাপদ, স্বাধীন এবং সমান রাখতে পারল?
কারফিউ বানাতে একটা ঘড়ি আর একটা তালা যথেষ্ট। নিরাপদ, সমান এবং স্বাধীন বিশ্ববিদ্যালয় বানাতে লাগে গভর্নেন্স।

লুবনা তুরিন

Sunday, August 30, 2026

Tender, Succulent Chicken Breast and Celery with a Sweet-and-Sour Honey Mustard Sauce

 


Ingredients

・Chicken breast…1 piece (350g)


・Liquid *shio-koji* (salted rice malt)…1 tbsp


・Potato starch…1 tbsp


・Celery (stalk)…1 stalk


[Sweet & Tangy Honey-Mustard Sauce]


・Grain mustard…1 tbsp


・Apple cider vinegar…1 tbsp


・Soy sauce…2 tsp


・Honey…2 tsp


Preparation

・Rub the liquid *shio-koji* into the chicken breast and let it marinate.


・Remove the tough fibers from the celery and slice it thinly.


Instructions

1. Cut the chicken breast in half lengthwise, then slice it thinly against the grain. Coat the pieces thoroughly with potato starch.


2. Bring water to a boil, then turn off the heat. Add the chicken breast and let it cook slowly in the hot water (aim for an internal temperature of 75°C). Once cooked through, transfer the chicken to cold water to cool.


3. Drain the chicken breast and place it in a bowl along with the celery.


4. Add the mixed [Sweet & Tangy Honey-Mustard Sauce] and toss everything together well.

Octopus Rice

 


Ingredients (Serves 4–5)


Rice: 3 cups (approx. 540 ml)


Boiled octopus (tentacles): 2


Ginger: 2 cloves


Thin green onions: 2 stalks


Vegetable oil: 2 tsp


Toasted white sesame seeds: 2 tbsp


A


Sake: 80 ml


Soy sauce: 50 ml


Gochujang (Korean chili paste): 1 tbsp


Instructions


1. Rinse the rice, place in a colander, and drain well. Cut the boiled octopus tentacles into roughly 2 cm chunks and coarsely chop the ginger.


2. Heat the vegetable oil in a pot. Sauté the ginger until fragrant, then add the octopus and sauté briefly.


3. Add the ingredients listed under A to the pot. Bring to a boil, then turn off the heat and remove the octopus. Add water (not included in the ingredient list) to the remaining liquid to bring the total volume to 540 ml.


4. Place the rice (from Step 1) and the liquid (from Step 3) into the pot and cook.


5. Once the rice is cooked, add the reserved octopus, mix well, and let it steam briefly. Serve in bowls and garnish with finely chopped green onions and toasted white sesame seeds, if desired.

Saturday, August 29, 2026

আগামী ১৫ বছরে বাঙলাদেশের চিত্র কেমন হতে পারে?

 



একটি সমাজের সংস্কৃতি শুধু পোশাক, গান, উৎসব বা খাদ্যাভ্যাসের সমষ্টি নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে সেই সমাজের ইতিহাস, স্মৃতি, ভাষা, নান্দনিকতা, জীবনযাপন এবং মানুষের নিজস্ব পরিচয়। তাই কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক মতাদর্শের নামে যখন মানুষের স্বাভাবিক সাংস্কৃতিক জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করা, নির্দিষ্ট পোশাক চাপিয়ে দেওয়া, নারীর চলাফেরা ও চেহারা নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা কিংবা শিল্প-সংগীত ও উৎসবকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়, তখন সেটি কেবল ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর আঘাত নয়; এটি একটি সমাজের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপরও আঘাত।
বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে ধর্মীয় রক্ষণশীলতা ও রাজনৈতিক ইসলামবাদের উত্থানের সঙ্গে সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণের নানা রূপ দেখা যায়। কোথাও রাষ্ট্র সরাসরি কঠোর ধর্মীয় বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, কোথাও রাজনৈতিক ইসলাম ও সামাজিক রক্ষণশীলতা জনজীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে উগ্রপন্থীদের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়েছে, আবার কোথাও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রয়েছে, তবে এর সংখ্যা কম।
আফগানিস্তানে— তালেবান ক্ষমতায় আসার পর নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান, চলাফেরা, পোশাক এবং জনপরিসরে উপস্থিতির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে আফগান নারীদের ব্যক্তিস্বাধীনতা যেমন সংকুচিত হয়েছে, তেমনি সমাজের বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক জীবনও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তালেবানরা নিজস্ব আফগান সংস্কৃতিকে পুরোপুরি মুছে ফেলার সাথে যুক্ত। বাঙলাদেশেও একই পরিকল্পনা চলমান। ধীরেধীরে সকল সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের ওপর আক্রমণ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে রাজনৈতিক ইসলাম ফ্যাসিবাদ হিসেবে রূপান্তর হচ্ছে।
ইরানেও ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় বিধিবিধানকে জনজীবনের কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। বিশেষ করে নারীদের পোশাক ও আচরণের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরে একটি অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা বিরাজমান। ইসলামিস্ট নারীরা কী পরিমাণ ভয়ংকর ও হিংস্র— তা ইরানের কট্টরপন্থী নারীদের কর্মকাণ্ডে প্রকাশ পেয়েছে একাধিকবার। অথচ ইরানের ইতিহাসে পারস্যের সমৃদ্ধ শিল্প, সাহিত্য, সংগীত, পোশাক ও সামাজিক জীবনের বহুমাত্রিক উপস্থিতি ছিল। এখন সংস্কৃতি ও স্বাধীনতার কথা তুললেই ফাঁসি আর জেলভর্তি।
পাকিস্তানের ইতিহাস বেঈমানের ইতিহাস— তাদের দেশ ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে সেনা ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। ইসলামের সাথে যে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তা পাকিস্তানিরা মূলত বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে নিজেদের কর্মকাণ্ডে ও সিদ্ধান্তে— তাদের নীতিগত ও আদর্শগতভাবে অনুসরণ করে বাঙলাদেশের একটি বিরাট ইসলামিক গোষ্ঠী, তাদের চাওয়া পাওয়া স্বপ্ন সবই পাকিস্তানের সেনাদের মতই। অথচ পাকিস্তানের নিজস্ব দুর্দান্ত সংস্কৃতি আছে, সেটি ইতিহাস স্পষ্টভাবে দেখায়—সিন্ধি, পাঞ্জাবি, বেলুচ, পশতু ও অন্যান্য আঞ্চলিক সংস্কৃতির রয়েছে নিজস্ব ভাষা, পোশাক, সংগীত ও ঐতিহ্য।
বাঙলাদেশের ক্ষেত্রে তাই সতর্ক হওয়া জরুরি। বাঙলাদেশের সংস্কৃতি আরব উপদ্বীপ থেকে আমদানি করা কোনো একরৈখিক সংস্কৃতি নয়। এটি বাঙলা ভাষা, বাউল, ভাটিয়ালি, পল্লিগীতি, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, লোকশিল্প, বৈশাখী ঐতিহ্য, শাড়ি, লুঙ্গি, গ্রামীণ উৎসব, নদী ও কৃষিনির্ভর জীবন এবং হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-নাস্তিকসহ বহু সম্প্রদায়ের দীর্ঘ সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে।
সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানকে কট্টরপন্থীরা শত্রু মনে করে, যার ফলে তারা নিজস্ব ভাবনাকে সকলের ওপর চাপিয়ে দেয়। সংস্কৃতি থাকলে ধর্ম থাকবে না— এটা সংস্কৃতিবাদীরা মনে করে না, কিন্তু কট্টরপন্থীরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে— ধর্ম যেখানে থাকবে, সেখানে নিজস্ব সংস্কৃতি থাকতে পারবে না। ধর্মের আগ্রাসন যেখানে শুরু হয়, সেখানে ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, সেখানে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা লোপ পায়।
সুতরাং কোনো নির্দিষ্ট পোশাক বা জীবনধারাকে বাধ্যতামূলকভাবে সবার ওপর চাপিয়ে দেওয়া যৌক্তিক নয়। একজন মানুষ যেন নিজের পছন্দের পোশাক পরতে পারেন, একজন নারী যেন নিজের চুল খোলা রেখে রাস্তায় হাঁটতে পারেন, মানুষ যেন গান শুনতে, সিনেমা দেখতে, নাচতে, উৎসব করতে এবং নিজের ঐতিহ্য অনুসরণ করতে পারেন—এর জন্য অন্যের ধর্মীয় বা রাজনৈতিক অনুমতির অপেক্ষার প্রয়োজন নেই।
যখন কোনো একটি ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক বাধ্যবাধকতায় পরিণত করা হয়, তখন ভিন্নভাবে জীবনযাপন করা মানুষকে নৈতিকভাবে নিকৃষ্ট, পাপী কিংবা সমাজের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তখন আর মানুষের স্বাভাবিক সৃষ্টিশীল বিকাশের ক্ষেত্র থাকে না; সেটি পরিণত হয় নিয়ন্ত্রণের একটি হাতিয়ারে।
একসময় যে পোশাক, চুলের বাঁধুনি, গান, নৃত্য, উৎসব বা সামাজিক আচরণ একটি দেশের মানুষের কাছে একেবারেই স্বাভাবিক ছিল, দীর্ঘদিনের সামাজিক চাপ ও নৈতিক পুলিশিংয়ের ফলে সেটিই মানুষের কাছে অস্বাভাবিক বলে মনে হতে শুরু করে। এক্ষেত্রে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, মিশর, ইরান, লিবিয়া, জর্ডান, উজবেকিস্তান, সুদান, আলজেরিয়া, তিউনেশিয়া উদাহরণ।
এই নিয়ন্ত্রণ যখন দীর্ঘস্থায়ী হয় তখন মানুষ নিজেরাই নিজেদের সংস্কৃতিকে অশালী’, অশ্লীল, অগ্রহণযোগ্য, বিদেশি বলে ভাবতে শুরু করে, তখন সাংস্কৃতিক মুছে যাওয়া আর বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না; মানুষ নিজেরাই সেই প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে যায়।
বাঙলাদেশে একই পরিস্থিতি চলছে; চোখ থাকা স্বত্বেও অন্ধ হয়ে থাকা মানুষের সংখ্যা বিপুল ......
Ananya Azad

পুনরাবৃত্তি

 


প্রাক্তন স্বামীর উপর আমার কোন রাগ নেই, ভুলটা আমারই। ডিভোর্স হয়েছে বছর চারেক। আদনানের সাথে কাটানো সেই দুই বছর তিন মাসের স্মৃতিগুলো এখন ঝাপসা হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অদ্ভুতভাবে সেগুলো প্রতি রাতে আরও উজ্জ্বল হয়ে ফিরে আসে।

​মুমু পাশের ঘরে ছবি আঁকছে। পাঁচ বছরের ছোট্ট মেয়েটা দেখতে হুবহু ওর বাবার মতো হয়েছে। আদনান নিয়মিত ব্যাংক মারফত মুমুর খরচ পাঠিয়ে দেয়। আমার দেনমোহরের সাত লক্ষ টাকাও সে শোধ করে দিয়েছে। আমি ওকে ভালোবাসি, প্রচণ্ড ভালোবাসি। কিন্তু আদনানের চোখে শেষের দিকে আমি আমার ছায়া আর দেখি নি। সেখানে কেবল একরাশ ক্লান্তি আর আতঙ্ক।
আমি কিন্তু সংসারটা মনপ্রাণ দিয়েই করতে চেয়েছিলাম, আদনান নিজেও। কিন্তু আমার ভেতরের এক আদিম অন্ধকার বারবার সব তছনছ করে দিয়েছে।
​
​আমার ট্রমার শুরুটা ছিল এক যৌথ পরিবারের ঘুপচি ঘরে। ছয় কি সাত বছর বয়স তখন। এক রাতে বিকট চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘুম ভেঙে গিয়েছিল আমার। ড্রয়িংরুম থেকে ভেসে আসছিল ভাঙচুরের শব্দ। আমি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে যা দেখলাম, তা আজও আমার স্বপ্নে হানা দেয়।
​আব্বা পাগলের মতো ছুটে গিয়ে রান্নাঘর থেকে ধারালো বঁটিটা নিয়ে এলেন। তারপর আম্মার গলার কাছে ওটা চেপে ধরে গর্জন করে উঠলেন,
-আজ তোকে শেষ করেই ছাড়ব, অনেক সয়েছি আমি।
​আমি চিৎকার করে ফুপিকে জাপ্টে ধরলাম। বড় চাচী আর দাদী মিলে আব্বাকে পেছন থেকে শক্ত হাতে টেনে সরাচ্ছিলেন। দাদী ফিসফিস করে বলছিলেন,
-পারু, তুমি ঘরে যাও। লক্ষ্মী মা আমার, ঘরে যাও।
​কিন্তু আম্মা সরেননি। তিনি রক্তবর্ণ চোখ করে ঘাড় বেঁকিয়ে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই চাহনিতে ভয় ছিল না, ছিল এক পৈশাচিক চ্যালেঞ্জ। আশ্চর্যের বিষয় হলো যেই দৃশ্য দেখে আমি এতটা ভয় পেয়েছিলাম বিয়ের মাত্র আট মাসের মাথায় একই কাজ আমিও করেছিলাম।
​আদনানের সাথে সেদিন তুচ্ছ এক ঝগড়া হয়েছিল। কিন্তু এতোটুকুই যেন যথেষ্ট ছিল। আমার কানে তখন শুধুমাত্র আদনানের শান্ত স্বরে পাল্টা জবাব দেওয়া ঢুকছিল না বরং কানে বাজছিল শৈশবের সেই রণহুঙ্কার। অবচেতনে আমি দৌড়ে রান্নাঘরে গেলাম। বঁটি নিয়ে আদনানের দিকে তেড়ে যেতেই আমার শাশুড়ি আর ননদ রিনা আমাকে জাপ্টে ধরল। আদনান অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেছিল,
-এ তুমি কি করছো অহনা!
​আমি সেদিন জবাব দিতে পারিনি। আমি নিজেও জানতাম না, আমার হাতের বঁটিটা আসলে আদনানের জন্য ছিল না। ওটা ছিল আমার আব্বার প্রতি জমানো হাজারো ক্ষোভের এক বিস্ফোরণ।
​
​যখন ক্লাস ফাইভের বৃত্তির কোচিংয়ের জন্য রেডি হচ্ছিলাম, তখন আব্বা-আম্মার মধ্যে কি নিয়ে যেন প্রচণ্ড ঝগড়া হলো। আম্মা চিৎকার করে বলছিলেন,
-করলাম না তোর এই সংসার। আজকে আমি ম*রব আর তোদের সবকটাকে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়ব।
​আম্মা সজোরে ঘরের দরজা বন্ধ করে খিল তুলে দিলেন। আব্বা কিছুক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে রুক্ষ স্বরে আমাকে বললেন,
-তোর দেরি হয়ে যাচ্ছে অহনা, চল তোকে আগে দিয়ে আসি।
আমি কাঁদো কাঁদো সুরে বলেছিলাম,
-আগে আম্মাকে বের করো...
-ম*রলে ম*রুক। জীবনটা আমার বিষ করে দিল। চল তুই আমার সাথে।
​আব্বার সেই রাগী দৃষ্টি উপেক্ষা করার সাধ্য আমার ছিল না। কোচিংয়ে বসে কলম চলেনি আমার। আমি শুধু ভাবছিলাম, বাড়ি গিয়ে আম্মার ঝুলে থাকা লা*শ দেখতে হবে। বাসায় ফিরে দেখি বড় চাচি আর ফুপি মিলে আম্মার মাথায় জল ঢালছে। আম্মা বেঁচে আছে, এই স্বস্তিটুকু পেলেও আমার ভেতরে এক গভীর ভীতি বাসা বেঁধেছিল। রাতের পর রাত কেউ জোরে দরজা বন্ধ করলেই ভয়ে আমার গা কাঁটা দিয়ে উঠত।
কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ​একই কাজ আমি করেছিলাম আমার প্রিয় সংসারে। ননদ রিনার সাথে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল আমার। আমি সরাসরি আদনানকে বিচার দিলাম। ও নিরপেক্ষ থাকতে গিয়ে বলল,
-অহনা, তোমার কাছে যেটা ছয় আমার কাছে সেটা নয় হতেই পারে। প্রত্যেকের ভিউ সমান হয় না। তোমার কাছ থেকে শুনলাম এখন রিনার কাছ থেকে শুনবো তারপরে আমি কথা বলব।
​আমার প্রচণ্ড রাগ উঠে গেল। আমার মনে হলো ও আমাকে বিশ্বাস করছে না, আমাকে মিথ্যেবাদী ভাবছে। ঠিক যেমন আব্বা আম্মাকে কোনোদিন বিশ্বাস করতেন না। আমি দৌড়ে ঘরে গিয়ে সজোরে দরজা আটকে দিলাম। আদনান বাইরে থেকে চিৎকার করছিল দরজা খোলার জন্য। কিন্তু আমার কানে তখন আব্বার সেই কণ্ঠস্বর বাজছে "ম*রলে ম*রুক!"
​আমি ড্রয়ার থেকে ব্লেড বের করলাম। আমি তখন গর্ভবতী। পেটে মুমু। তবুও আমি ভাবলাম না। এক টানে হাতের শিরাটা চিরে ফেললাম। আমি চেয়েছিলাম আদনানকে অপরাধী করতে, ঠিক যেভাবে আম্মা আব্বাকে করতে চেয়েছিলেন। যখন জ্ঞান ফিরল, আমি হাসপাতালে। আদনান পাশে বসে অঝোরে কাঁদছিল। ও শুধু বলেছিল,
-কেন করলে এটা অহনা? আমাদের বাচ্চাটার কথা একবারও ভাবলে না?
​
​আমি তখন ভার্সিটিতে পড়ি। ততদিনে যৌথ পরিবার ভেঙে গেছে। আম্মা আর আমি শপিং থেকে ফিরেছি। বেল বাজানোর আগেই হেল্পিং হ্যান্ড রুনা দরজা খুলে দিল। সে জানালা দিয়ে আমাদের দেখেছে। ভেতরে ঢুকতেই বেডরুম থেকে আব্বার কণ্ঠস্বর ভেসে এল। আম্মা আমার হাত চেপে ধরে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বললেন। আব্বা ফোনে বলছিলেন,
-হ্যাঁ সুরাইয়া, আমি তো গিয়েছিলাম, তুমি এলে না কেন? আমি আর কতক্ষণ অপেক্ষা করব?
​আম্মা অনেকদিন ধরেই বলছিলেন আব্বার চরিত্রের সমস্যার কথা। আমি হেসেই উড়িয়ে দিতাম। কিন্তু সেদিন নিজের কানে শুনে আমি পাথরের মতো জমে গেলাম। এরপর যা ঘটেছিল তা কেবল ঝগড়া নয়, ছিল এক ঝড়। পাড়ার মোড় পর্যন্ত সেই ঝগড়া গড়িয়েছিল।
​বিয়ের পর আদনান একদিন অফিস থেকে ফিরতে লেট করছিল। ফোনটাও বন্ধ ছিল। আদনান ঘরে ঢুকতেই আমি তলোয়ারের মতো তীক্ষ্ণ স্বরে প্রশ্ন করলাম,
-কোথায় ছিলে? কার সাথে চক্কর চলছে তোমার?
আদানন অবাক হয়ে বলল,
-অফিসের কাজে ব্যস্ত ছিলাম অহনা, কথা তো হলো তোমার সাথে। আর আসার পথে জ্যামে পড়ে গেলাম । তোমাকে তো শেষবার কথা বলার সময়ই বলেছিলাম যে ফোনের চার্জ প্রায় শেষ তাই দেখো ফোনটা এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
-মিথ্যে বলবে না! কোন মেয়ের সাথে ছিলে বলো? নিশ্চয়ই কোনো মেয়ের সাথে তোমার চক্কর চলছে।
​আমি কুৎসিত সব কথা বলতে শুরু করলাম। আমি ওর শার্টের গন্ধ শুঁকছিলাম, পকেট চেক করছিলাম। আদনান নিজেকে সামলাতে না পেরে আমাকে প্রায় থাপ্পড় মারতে উদ্যত হয়েছিল। শাশুড়ি এসে ওকে একটা চড় মেরে ঘর থেকে বের করে দিলেন। আমি তখন রাগে ফুঁসছিলাম। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম না যে, আদনান আসলে আমার আব্বার মতো না। আদনান আমাকে সত্যিই ভালোবাসত। কিন্তু আমি ওর মধ্যে সারাক্ষণ আমার আব্বার স্বত্বা খুঁজতাম।
​
​ছোটবেলায় একবার দেখেছি, আব্বা ডিনার টেবিলে বসে ভাতের থালা ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন কারণ তরকারিটা একটু ঝাল হয়েছিল। আম্মা সেই রাগ ঝাড়তে টেবিলের সব তরকারি মেঝেতে ফেলে দিয়েছিলেন। সবাই ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিল। আব্বা সেদিন আম্মাকে ধরে প্রচন্ড মার দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে গেছিলেন। আর আম্মা পরে ঠাটিয়ে থাপ্পড় লাগিয়ে দিয়েছিলেন ফুপির গালে। সেই হুলস্থুল রাতটা আজও আমার রাতের ঘুম কেড়ে নেয়।
​একবার আদনান অফিস থেকে খুব ক্লান্ত হয়ে ফিরেছিল। আমি তখন সারাদিন মুমুর সাথে একা সামলাতে গিয়ে বিরক্ত। ও ডাইনিং টেবিলে বসে বলল,
-অহনা, একটু পানি দাও তো।
আমি খিটখিট করে বললাম,
-নিজে নিয়ে খেতে পারো না? আমি কি তোমার চাকর?
আদনান অবাক হয়ে বলল,
-আমি তো জাস্ট পানি চেয়েছি, জগটা খালি।
-জানি তো,পানির বাহানায় তুমি আসলে আমাকে চাকরানী বানাচ্ছো। বলে আমি ডিনার টেবিলের সব গ্লাস-প্লেট ঝনঝন করে ফেলে ভেঙে দিলাম। মুমু ভয়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগল।
​আদনান সেদিন আর রাগ করেনি। ও শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলে টেবিলে পড়ে থাকা ভাঙা কাঁচগুলো পরিষ্কার করতে শুরু করল। ও বলেছিল,
-অহনা, তুমি আসলে সুখী হতে জানো না। তুমি অশান্তি তৈরি না করলে শান্তি পাও না।
​
​আদনান যখন ডিভোর্স লেটার পাঠাল, আমি ওর অফিসে গিয়েছিলাম। ওর হাত ধরে পায়ে ধরেছিলাম।
-আদনান, আমি বদলে যাব। প্রমিজ করছি। তুমি ফিরে এসো।
আদনান শান্তভাবে আমার হাতটা সরিয়ে নিয়ে বলেছিল, -অহনা, তুমি বদলে যাওয়ার কথা এর আগেও দশবার বলেছ। তুমি আসলে নিজের ট্রমার মধ্যে আটকে আছ। কতবার তোমাকে বলেছি সাইকিয়াট্রিক কাউন্সেলিং এর কথা, কিন্ত তুমি তোমার কথাতেই অবিচল। তুমি হয়তো আমাকে ভালোবাসো কিন্তু সেই ভালোবাসাটা বিষাক্ত। আমি তোমার পাশে থাকতে গিয়ে আমার নিজের সুস্থ মানসিকতা হারিয়ে ফেলছি।
​আজ চার বছর পর আমি উপলব্ধি করি, বাবা-মায়ের সেই রক্তবর্ণ চোখ, সেই বঁটি, সেই অবিশ্বাসের শব্দগুলো আসলে আমার অবচেতনে গেঁথে গিয়েছিল। আমি আমার সাজানো ঘরটা নিজ হাতে ভেঙেছি।
​আদনান অসম্ভব ভালো একটা মানুষ। তাই তো সে আজও মুমুর জন্মদিনে সবার আগে উইশ করে। কিন্তু সে আমার ছায়াও সহ্য করতে পারে না। আমি এখন থেরাপিস্টের কাছে যাই। আমি শিখছি কিভাবে সেই শৈশবের স্মৃতিগুলো মাথা থেকে মুছে ফেলতে হয়। ​আমি চাই না মুমু কোনোদিন জোরে দরজা বন্ধ করার শব্দ শুনে আঁতকে উঠুক। আমি চাই না ও কোনোদিন ওর স্বামীর দিকে বঁটি নিয়ে তেড়ে যাক। বাবা-মায়ের সম্পর্কের বিষ যেন আমার মেয়ের ধমনীতে না পৌঁছায়, এটাই এখন আমার একমাত্র লড়াই।
আমি এখনো আদনানকে ভালোবাসি। কিন্তু আমি এখন জানি, সুস্থ না হয়ে কাউকে ভালোবাসা যায় না, কেবল আঁকড়ে ধরে রাখলে তাকেও শুধু ডুবিয়েই দেয়া যায়।
(গল্প ভালো লাগলে লাইক,কমেন্ট,শেয়ার করে পেইজটা ফলো করে পাশে থাকবেন আর হ্যাঁ প্লিজ কপি করবেন না)

কলমে:সুবর্না শারমিন নিশী

No-Mold . Pan-Seared Rice Balls

 


[Ingredients (Serves 2)]

Warm cooked rice: 400g

Soy sauce: 1 tbsp

Mirin: 1 tbsp

Granulated Japanese-style dashi stock: 1/2 tsp

Sesame oil: 1 tbsp

White sesame seeds: To taste

[Instructions]

(1) Mix the soy sauce, mirin, and granulated Japanese-style dashi stock into the warm rice.




(2) Heat the sesame oil in a frying pan (20cm size) and add the rice mixture from step (1). Spread it out to fill the pan, pressing down with a spatula. Cook over medium heat for 4–5 minutes; once it has browned nicely, place a large plate over the pan, flip the pan over to transfer the rice onto the plate, and then slide it back into the pan. Cook for another 3–4 minutes until both sides are fragrant and browned.




(3) Use a spatula to cut it into bite-sized pieces.



Garlic Pepper Beef Rice

 



Ingredients

・Thinly sliced ​​beef (chopped pieces, round, or brisket/plate are all fine)... approx. 80g


・Frozen corn... approx. 2–3 tbsp


・Garlic... 1 clove


・Rice... approx. 1.5 rice-bowl servings (a generous amount)


・Butter or margarine... approx. 1 tbsp


・Salt and pepper... to taste


・A: Yakiniku sauce... approx. 1 tbsp


・A: Water... approx. 1 tbsp


・A: Soy sauce... approx. 1 tsp


・Coarsely ground black pepper... plenty


・Chopped green onions (scallions)... to taste (optional)


Instructions

1. Finely chop the garlic.


2. Add oil (not listed in ingredients) and the garlic to a frying pan and heat. Once the aroma rises (though it’s already strong from the chopping), add the beef. When the meat changes color, add the rice. Let the rice sear without stirring until it develops a nice golden-brown crust. Then, add the butter, corn, and salt and pepper, and mix vigorously. Pour in mixture A (adjusting to taste as you go), mix well, and turn off the heat.


3. Serve in a bowl, sprinkle with pepper, and scatter the green onions on top.

আর ও একটা নুত ন হালাল ফুডের দোকান

 

আমাদের পাশের সিটিতে আর ও একটা হালাল দেশি দোকান ওপেন হ লো । তাদের অভিনব প্রচারণা অনেকের ম ন জয় করেছে। শু ক্রবার জুমার পর সবাই কে বিরিয়ানি , লিটিল ম্যাংগো জুস আর কোক ক্যান দিয়েছে । বিরিয়ানি প্যাকেট যে যা্র ম নের ম ত নিতে পারবে। স ব চেয়ে ব ড় ক থা বিরিয়ানিটা 

খুবই সুস্বাদু ছিল । 








চিন্তার আত্মসর্বস্বতা ও মিথ্যার বিপ্লব

 


জাপানী চলচিত্রকার আকিরা কুরোসাওয়ার রসোমন ছবিটি হলো সেই সমাজের এমনই এক অপরাধের গল্প যেখানে কেউ সত্য বলে না। ১১ শতকের শহুরে জাপানের গল্পে রসোমন শহরের যে চিন্তার আত্মসর্বস্বতা তা যেন একুশ শতকের বাংলাদেশকে গ্রাস করেছে যেটাকে বলা যায় রসোমন ইফেক্ট। রসোমন ছবিটির চরিত্ররা কেউই যে সত্য বলে না এর কারণ তারা যে মিথ্যাবাদী বা মন্দ লোক সেটা নয়। তারা সত্য বলে না কারণ তারা প্রত্যেকে নিজেদের তৈরি যে বুদ্বুদের মধ্যে বাস করছে সেই জগতটাই কৃত্রিম বা বানানো বা মিথ্যা। নিজ নিজ ভাব, বড়াই বা ইগো ইনফ্লেশন ও ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজ নিজ চক্র আছে বর্তমান বাংলাদেশেও অনেক। যারা নিজেদের আবেগ আর লোভ লালসা আর তার সাথে ক্ষমতার মিশ্রণে এক একটি ফাঁপা ডক্টরিনের বুদ্বুদ তৈরি করে রেখেছে অনেকটা পীরতন্ত্রের মত। পীর যা ব্যাখ্যা দেন সেটাই ধর্ম সেখানে, সেই ব্যাখ্যার মধ্যে যুক্তি বা সমালোচনা খুঁজতে গেলে মুরিদরা সমালোচনাকারীকে পিটিয়েই মেরে ফেলবে। এদেশে এখন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেনানিবাস পর্যন্ত সবাই ফাঁপা ডক্টরিনের বুদ্বুদ।

কুরোসাওয়ার রসোমন ছবিটিতে প্রথমে দৃশ্যে বর্ষার দিনে ঝুম বৃষ্টিতে রসোমন শহরের প্রধান দুয়ারের ছাউনিতে বসে আছে এক কাঠুরে আর এক ধর্মযাজক। সেখনে এসে যোগ দিল এক ভবঘুরে। তারা তাকে কথাচ্ছলে বলল কি বিভৎস এক ঘটনা ঘটেছে এখানে তিনদিন আগে। বনে কাঠ কাটতে গিয়ে কাঠুরে দেখেছে এক সামুরাইকে যে মরে পড়ে আছে। সে বলে মৃতদেহ দেখে ভয়ে সে কতৃপক্ষকে খবর দেয়। ধর্মযাজকটি বলে খুনের দিনই সে দেখেছে এক সামুরাইকে তার স্ত্রী সহ বনের পথে যেতে। এই দুজনের ডাক পড়ে আদালতে এই খুনের সাক্ষী হিসাবে। সেখানে তারা পরিচিত হয় তোজোমারু নামে এক দস্যুর সাথে। তোজোমারু দাবী করে সে রশির বাঁধন থেকে মুক্ত করেছে ঐ সামুরাইকে।
দস্যু তোজোমারুর জবানবন্দী:
ভয়ংকর দস্যু তোজোমারু তার জবানবন্দীতে বলে লুকানো স্থানে আছে দামী এক তরবারী এই লোভ দেখিয়ে সে গাছের সাথে বেঁধে ফেলে সামুরাইকে। তখন সামুরাইয়ের স্ত্রীকে সে সেখানে নিয়ে আসে। যদিও সামুরাইয়ের স্ত্রী প্রথমে একটি দামি ড্যাগার উঁচিয়ে তাকে ভয় দেখিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে চায় কিন্তু তোজোমারুর পৌরুষে পরিশেষে সে মোহিত হয় ও নিজেকে সমর্পণ করে। এর পর সামুরাইয়ের স্ত্রী ভাবে দুটো পুরুষ তার লজ্জা দেখে ফেলেছে এটা তার জন্য মানহানীকর। সে অনুরোধ করে দুজনের মধ্যে ডুয়েল লড়তে। এই অনুরোধে তোজোমারু বীরের মত সামুরাইয়ের বাঁধন খুলে দেয় এবং লড়াইতে আহ্বান জানায়। যদিও তুমুল লড়াই হয় কিন্তু লড়াইতে সে জেতে। এমন সময় সামুরাইয়ের স্ত্রী দৌড়ে পালিয়ে যায়। আদালত তাকে প্রশ্ন করে দামী ড্যাগারটি কোথায়? সে বলে ঠিক মনে করতে পারছে না তবে সেটা ফেলে আসা তার বোকামি হয়েছে।
সামুরাইয়ের স্ত্রীর জবানবন্দী:
সামুরাইয়ের স্ত্রীর বর্ণনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে বলে ডাকু তোজোমারু তাকে ধর্ষণ করে চলে যায়। সে তার স্বামীর কাছে করুণা ভিক্ষা করে যেন সে তাকে ক্ষমা করে দেয়। কিন্তু তার স্বামী তার দিকে শীতল চোখে তাকিয়ে থাকে। সে তখন তার স্বামীকে বন্ধন মুক্ত করে। তারপর ড্যাগার হাতে স্বামীকে অনুরোধ করে তাকে মেরে ফেলতে কারণ তার স্বামীর শীতল দৃষ্টি তার অসহ্য লাগে। কিন্তু তবুও তার স্বামী তার দিকে শীতল দৃষ্টিতে ঘৃণাভরে তাকিয়ে থাকে। তখন সে অজ্ঞান হয়ে যায় হাতে ড্যাগার নিয়েই। জ্ঞান ফিরলে সে দেখে তার স্বামী মৃত পড়ে আছে এবং ড্যাগারটা তার বুকে বিদ্ধ।
সামুরাইয়ের জবানবন্দী:
এক মাধ্যম দ্বারা প্ল্যানচেট করে সামুরাইয়ের আত্মাকে আদালতে ডাকা হয়। সামুরাই বলে তার স্ত্রীকে ধর্ষনের পর দস্যু তোজোমারু তার স্ত্রীকে তার সাথে যেতে অনুমতি দেয়। তার স্ত্রী সেটাতে রাজীও হয়, কিন্তু বলে দুইজন জীবিত পুরুষের ভোগ করা নারী হবার লজ্জা সে নিতে পারবে না। দস্যু তোজোমারুকে সে অনুরোধ করে তার স্বামীকে হত্যা করতে। এ কথায় বিস্মিত হয় দস্যু তোজোমারু। ক্ষিপ্ত হয়ে সে তার স্ত্রীকে ধরে ফেলে এবং সামুরাইকে বলে এখন তোমার সিদ্ধান্ত, ওকে মেরে ফেলতে পার বা চলে যেতে দিতে পার। সামুরাইয়ের আত্মা তখন আদালতকে বলে শুধু এই কথাটুকুর জন্য আমি দস্যু তোজোমারুকে ক্ষমা করে দেই। এরপর তার স্ত্রী পালিয়ে যায়। দস্যু তোজোমারু তার বাঁধন খুলে দেয়। এবং ড্যাগারটি দিয়ে সে আত্মহত্যা করে।
কাঠুরের বর্ণনা:
কাঠুরে বলে সে আসলে ধর্ষণ খুন সবই দেখেছে। উক্ত তিন জনই ডাহা মিথ্যা বলেছে। আদালতের ঝামেলা এড়াতে সে সব চেপে গেছে। ধর্ষণের পর দস্যু তোজোমারু আসলে সামুরাইয়ের স্ত্রীকে তাকে বিয়ে করতে অনেকে সেধেছে। কিন্তু সামুরাইয়ের স্ত্রী তার স্বামীর বাঁধন খুলে দেয়। আসলে দুজন পুরুষের কেউই ডুয়েল লড়তে চায় নি। সামুরাই বলে একজন নষ্ট নারীর জন্য লড়তে মোটেই রাজী নয় সে। সামুরাইয়ের স্ত্রী তাদের নানা কথা বলে লড়াইতে প্ররোচিত করতে থাকে। বলে কেমন পুরুষ তারা যে একজন নারীর জন্য ডুয়েল লড়েতে পারে না। বারবার উত্ত্যক্ত করাতে তারা উভয়ে শেষমেষ অনিচ্ছায় কম্পিত হস্তে তাদের তরবারী বের করে। তরবারী দেখার পর সামুরাইয়ের স্ত্রী নিজেই ভয় পেয়ে যায়। লড়াকু দুজনও হাস্যকর ভীতির মধ্যে একে অপরের দিকে অগ্রসর না হয়ে একে অপরের থেকে পালিয়ে বেড়ায়। একদমই তোজোমারু যা বলেছে লড়াই তেমনটা হয়নি। এরপর অনেকটা দুর্ঘটনাক্রমে সামুরাই আহত হয়। তার স্ত্রী এটা দেখে ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়। সামুরাই প্রাণ ভিক্ষা করে কিন্তু তোজোমারু তাকে দ্বিধা দ্বন্দ্বের মধ্যেই খুন করে তরবারীটা নিয়ে পালিয়ে যায়।
রসোমন শহরের প্রধান দুয়ারের ছাউনিতে বসে যখন কাঠুরে তার বর্ণনাটি দিচ্ছিল তখনই একটি বাচ্চা কেঁদে ওঠে। তারা দেখে একটা পরিত্যাক্ত শিশু একটি ঝুড়িতে রাখা। শিশুটিকে দেখতে গিয়ে ভবঘুরেটি শিশুর সাথে থাকা পোশাক কিমানো ও যে পোঁটলাটি ছিল সেটা গায়েব করে ফেলে। এটি কাঠুরে দেখে ফেলে। সে এর জন্য ভৎসনা করে ভবঘুরেটিকে। ভবঘুরেটি বলে খুব তো আমাকে চোর বলা হচ্ছে, আমরা জানিনা যে কেন তুমি আদালতে স্বাক্ষী দাও নি কেন? ড্যাগারটা কে মেরে দিয়েছে? এই বলে রসোমন শহর ছেড়ে চলে যেতে উদ্যত হয় ভবঘুরেটি। সে বলে, এখানে সব মানুষ আত্মসর্বস্ব, এখানে সে থাকতে চায় না।
কোটা পরিবর্তনের আন্দোলন থেকে শুরু করে সেটা থেকে আরব স্প্রিং কায়দায় সরকার ফেলে দিল এমনই কিছু আত্মসর্বস্ব বুদ্বুদ গ্রপ। এর পর রাতারাতি রাষ্ট্র পরিবর্তন শুরু হয়ে গেল, ভেঙে ফেলা হল প্রশাসন যন্ত্র যার উদ্দেশ্য রাষ্ট্র বাংলাদেশকে দূর পরাশক্তির কলোনি বানানো যারা একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র তৈরি করে এই এলাকায় ভূরাজনৈতিক সুবিধা নেবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণে রিয়ালিজম বা বাস্তববাদ বলে একটি দৃষ্টিকোন আছে। এটি হল রাজনীতির মত জটিল বিষয়ে নানা তত্ত্ব আদর্শ দর্শন বা দিয়ে ক্ষমতার প্রতিযোগিতার দিকে নজর দেওয়া। আগষ্টের ৫ তারিখের রেজিম চেঞ্জের দাবিদার যেন এক বাক্যে এমনই অনেকগুলো আত্মসর্বস্ব বুদ্বুদ গ্রপের সবাই। ঘটনটিকে সবাই নিজ নিজ বিপ্লব ভাবছে।
অন্তর্বর্তী রেজিম চলে গেলে দেশ কেমন হবে সেটার জন্য এক এক পীরতন্ত্রের এক এক পরিকল্পনা। ছাত্রদের মিলিট্যান্ট গ্রুপের পরিকল্পনা একইভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সরকার ফেলে দুই বাংলার মানচিত্র এক করে বখতিয়ারের ঘোড়া দাবড়ানো। এরা আহমদ ছফার বইগুলোই শুধু পড়েছে আর প্রচুর ওয়াজ শুনেছে বলে মনে হয়। সাধারণ ছাত্রদের দল এত রাজনীতি বোঝে না, তাদের মনে শুধু ঘৃণা যেটা আত্ম ঘৃণার প্রতিফলন। হতাশ ও অকর্মণ্য ও আনন্দ বিহিন মুখস্তবিদ্যার জগতে তাদের কোন বর্তমান নেই, আগের জীবন দোজখ, সামনে বেহেশত – এটাই জীবনের মডেল। ছাত্রদের আর এক দল সিআইএ-আইএসআই এজেন্ট চালিত হয়ে কিশোর গ্যাং নেটওয়ার্ক এবং জামাত বিএনপির সমর বিভাগের নিয়ন্ত্রণে। আর এক অংশীদার সামরিক বাহিনীর কর্মকান্ড যেন শীতল যুদ্ধের সময়কার আন্ডারগ্রাউন্ড বিপ্লবী দলের মত। বাইরে আইনসিদ্ধ আর ভেতরে তাদের মত ক্ষমতাশালী হতে পারে কে? তাদের সহায় ছাড়া প্রশাসন তছনছ করতে পারে কেউ?
রেজিম চেঞ্জ হলেই অন্তর্বর্তী সরকার আসবে, তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দেবে এই আশাতে যোগ দিয়েছিলেন যারা তাদের গুড়ে বালি। অতিবামেরা মনে করছেন বাম বিপ্লব তাদের পরিকল্পনাতেই হয়েছে, নতুন সাম্যবাদের সংবিধান লেখা কেবল বাকি। অতি ডান ইসলামি সন্ত্রাসী দলগুলো কেয়ারই করে না সরকার কে বা কিভাবে স্থায়ী হবে। তারা জানে এই 'বিপ্লব' যেই করুক এটা তাদেরই জন্য। এর মধ্যেই তাদের সাজাভোগী সন্ত্রাসীরা অনেকেই মুক্ত। তারা সবার আগে দেশ গড়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে কোন দ্বিধা ছাড়াই।
ক্ষমতার প্রতিযোগিতার দিকে নজর দিলে দেখা যায় যা কিছু এখন ঘটছে সেটা তাদের পক্ষে। প্রশাসন ভেঙে ফেলা, সর্ব স্থানে সন্ত্রাসী ইসলামে সমর্থন বা এতে আপত্তি নাই এমন লোক নিয়োগ হচ্ছে। কল কারখানা জ্বালাও পোড়াও করে ভীতির রাজ্য কায়েম চলছেই। এতে সবচেয়ে ভীত পত্রিকাগুলো, কারণ তাদের মালিকদের আছে বড় বড় সব কল কারখানা। রিয়ালিজম বা ক্ষমতার প্রতিযোগিতার দিকে নজর দিলে আইএসআই-সিআইএ এর পরিকল্পনাই ফুটে ওঠে যাদের কথা নয়, ক্ষমতা পরিস্ফুটিত। এর সাথে এই প্রজেক্টে অর্থলগ্নি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা কারা করেছে সেটা যোগ করলে আসল খেলোয়াড় কারা সেটা পরিস্কার হয়ে যায়। কিন্তু এই যজ্ঞের ফলে আমাদের আম জনতার কি হবে?
সিরাজুল হোসেন

মুখি-আমড়ার সোহাগ

 

উপকরণ

  • কচুর মুখি ২০০ গ্রাম

  • আমড়া ২টি

  • শর্ষের তেল ২ টেবিল চামচ

  • শুকনা মরিচ ২টি

  • আস্ত জিরা আধা চা-চামচ

  • হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ

  • লবণ স্বাদমতো

  • মরিচগুঁড়া সামান্য

  • ভাজা মাষকলাই ডালের গুঁড়া আধা কাপ

  • পানি ২ কাপ

  • ধনেপাতাকুচি সামান্য

  • প্রণালি

    • কচুর মুখি ও আমড়া আলাদাভাবে সেদ্ধ করে রাখুন।

    • কড়াইয়ে শর্ষের তেল গরম করে শুকনা মরিচ ও আস্ত জিরা দিয়ে ফোড়ন দিন।

    • এরপর হলুদগুঁড়া, লবণ ও মরিচগুঁড়া ও ভাজা মাষকলাই ডালের গুঁড়া দিয়ে তেলের সঙ্গে ভালোভাবে ভেজে নিন।

    • অল্প গরম পানি দিয়ে ঢেকে দিন।

    • ডাল সেদ্ধ হয়ে এলে সেদ্ধ কচুর মুখি ও আমড়া দিন।

    • এবার ২ কাপ পানি দিয়ে ঢেকে মাঝারি আঁচে রান্না করুন।

    • ডাল, কচুর মুখি ও আমড়া ভালোভাবে নরম হয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

    • ঝোল ঘন থকথকে হয়ে এলে ধনেপাতাকুচি দিয়ে চুলা বন্ধ করে দিন।

    • লাল চাল বা আতপ চালের গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।