সক্রেটিসের প্রশ্নবানে এথেন্সের কথিত বুদ্ধিজীবীরা নাজেহাল হয়ে পড়তো। কিন্তু সক্রেটিস কখনো ‘দাসপ্রথা’ নিয়ে প্রশ্ন করেননি। কেন করেননি? কারণ অমানবিক হলেও দাস প্রথা এথেন্সবাসীকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা দিতো। এথেন্সের বসবাসকারীদের অর্ধেকই ছিলেন দাস! নাগরিকগণ দাসদের দিয়েই বিভিন্ন কাজ করাতো। আর নিজেরা নিয়োজিত থাকতো আরাম-আয়েস ও জ্ঞানচর্চা নিয়ে। দাসরাই এথেন্সের অর্থনীতিকে সচল রেখেছিলেন। কিন্তু দাসদের পক্ষে কথা বলারতো কেউ ছিলেন না এমনকি সক্রেটিসও নন। সক্রেটিসও ধর্ম বিশ্বাসী ছিলেন৷ আরবে জন্ম হলে হয়তো নবীই হয়ে উঠতেন৷ এমনটা আমরা ইসলামেও দেখি। ইসলামেও দাসপ্রথাকে বৈধতা দিয়েছিল। এমনকি দাসরা পালিয়ে গেলে তাদের এবাদতও কবুল হবে না— বলা হতো। এবাদত কবুল হওয়ার জন্য দাসদের মনিবের কাছে ফিরে আসতে হতো। বিয়ে না করেও দাসীদের সাথে সেক্স করার অধিকার রয়েছে মনিবের। সেখানেও দাস প্রথা নিয়ে প্রশ্ন উঠেনি ওই সুবিধার জন্যই। দাসীদের ভোগ করার বৈধতা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। তবে শত বছর আগেও দাসীদের ভোগ করার অধিকার পুরুষের ছিল এবং তারা সেটা করতোও। হুমায়ূন আহমেদ অয়োময় নাটকে দাসীর গর্ভে জন্ম নেয়া এমন সন্তান হিসেবে মতিকে দেখিয়েছেন। দাসীর গর্ভে জন্ম নেয়া এমন সন্তানরা পৈতৃক সম্পত্তির ওয়ারিশ হন না। তারাও দাস হিসেবেই চিহ্নিত হন। বাংলাদেশের একজন বিখ্যাত প্রয়াত লেখক/সাংবাদিকও দাসীর গর্ভে জন্ম নিয়েছিলেন। আমাদের গ্রামেও গৃহকর্মীদের গর্ভবতী করার অনেক ঘটনার কথাই শুনেছি। গত শতাব্দীতে ধনী পরিবারের কন্যাকে বিয়ে দেয়ার সময় সাথে কয়েকজন দাসীও দিয়ে দেয়া হতো। সেসব দাসীর সাথে যৌন সংসর্গে মিলিত হতে পারতো স্বামীরা।
Sunday, August 16, 2026
কোন ঈশ্বরই দাস প্রথার বিরুদ্ধে ছিলেন না!
রোমান সভ্যতায় আমরা বারবারই দাস বিদ্রোহ দেখি। অনেক গবেষকই দাবি করেন যে, ‘দাস বিদ্রোহ দমন করতেই, সম্রাট কনস্টান্টাইন (২৭২-৩৩৭ খ্রিস্টাব্দ) মৃতপ্রায় খ্রিস্ট ধর্মকে জাগরিত করেন এবং সর্বত্র গীর্জা স্থাপন করে দাসদের ধর্মে বুঁদ হয়ে থাকার ব্যবস্থা করেন। এতে দাসরা জাগতিক সুখ ত্যাগ করে পরকালের সুখের আশায় অক্লান্ত পরিশ্রম করতে থাকেন। দাস বিদ্রোহও থেমে যায়। দাসরাও ভাবতে থাকেন, 'ইহকালে যত সম্পদ কম, পরকালে ততই কম হিসাব দিতে হবে। ইহকালে যত কষ্ট পরকালে ততই সুখ আসবে।' চিরকালের জন্য দাস বিদ্রোহ শেষ হয়ে যায়। বিশ্বব্যাপী চলতে থাকে রমরমা দাস-বাণিজ্য। দাস নারী-পুরুষকে হাঁটে-বাজারে বিক্রি করা হতো। আমরা দেখি সেখানে নারীদের নগ্ন করে তাদের স্পর্শকাতর অঙ্গ দেখে স্পর্শ করে কেনা হতো। এখন যেভাবে হাঁটে গরু ছাগল কেনা-বেচা হয়।
আমরা মুন্সিগঞ্জেও দাস ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল দেখেছি। ভারতের হিন্দু ধর্মগ্রন্থেও দাসপ্রথা থাকার নিদর্শন মিলে। বলা হয়, আর্যরা এদেশের অসুর রাজাদের পরাজিত করে তাদের লোকদের দাসে পরিণত করতো। ফলে তারা বেদে/পুরাণে দাস প্রদানের কথা বলেছেন। যেমন ঐতরেয় ব্রাহ্মণের অষ্টম খণ্ডে মাহভিষেক অধ্যায়ে ১০ হাজার দাসী দান করার কথা বলা হয়েছে। আবার শ্রীকৃষ্ণের যে ১৬১০৮ জন স্ত্রী ছিলেন তার মধ্যে ১৬১০০ জনই ছিলেন রক্ষিতা/দাসী যা তিনি যুদ্ধে অন্য রাজার নিকট হতে পেয়েছিলেন। আবার কালী/ছিন্নমস্তা দেবীর নিকট যে মানুষকে বলি দেয়া হতো তারাও হতো দাস। অনেক সময় গরুর বিনিময়ে কিনে দাস বানিয়েও বলি দেয়া হতো। খ্রিস্টান ধর্মেও ইসলামের মতোই দাস/দাসী রাখার বিরুদ্ধে কিছু বলে না। তবে দাসদের সাথে কিরূপ আচরণ হবে সে নিয়ে তাদের বক্তব্য রয়েছে। হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সেবাদাসী/যৌনদাসীরাও দাসীদের মতোই ছিল৷ তারা পতিতার চেয়ে মন্দ ও পরাধীন জীবন যাপন করতো৷
বিস্ময়কর যে পৃথিবীর কোন ধর্ম প্রবর্তকই দাস প্রথার বিরুদ্ধে কথা বলেননি। সব ধর্মের স্রষ্টাও দাসদের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত ছিলেন। মনে হবে মানুষ ঈশ্বরের সৃষ্টি হলেও দাসরা যেনো তার সৃষ্টি নন অথবা দাসরা যেনো মানুষ নন। কোন ধর্ম প্রবর্তক বা স্রষ্টা যে মানুষকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলেন না সেই দাস মানুষকে রক্ষার জন্য এগিয়ে আসলেন কিছু মানুষ। অষ্টাদশ শতাব্দির শেষ দিকে মানবিক মানুষরাই দাস প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া শুরু করে। সরকারগুলোর প্রতি বিশ্বজুড়ে চাপ তৈরি হয়। উনবিংশ শতাব্দীতে আইন করেই বিভিন্ন দেশ দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন অনেক ঝুঁকি নিয়েই দাসপ্রথা নিষিদ্ধ করে। তাতে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তবুও দেশে দেশে দাসপ্রথা নিষিদ্ধ হয়। বিভিন্ন ধর্মের ঈশ্বর নিজের সৃষ্টিকে দাস বানিয়ে রাখলেও মানবিক মানুষ তাদের মুক্তি দেয়। আমরা বলি না এখন জোরপূর্বক শ্রমদাস নেই। এখনো দরিদ্র দেশগুলোতে বহু মানুষ শ্রমদাস হিসেবে বন্দী রয়েছে। অনেক স্থানে নিজেদেরই বিক্রি করে দেয় টাকার জন্য। একদিন মুক্তি আসবে অবশ্যই
Mojib Rahman
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment