বীভৎসময় ব্যস্ততায় দিন পার করছে বাংলাদেশ।
কেউ - নতুন বইয়ের পাতার ঘ্রাণ নেয় না। কবিতা নিয়ে গল্প করে না। শখের ছবি আঁকবার জন্য জলরং কিনতে যায় না। কাঠালচাঁপা খোপায় গোঁজে না। বিকেলে চায়ের কাপে ঝড় তোলে না। খালি গলায় সিনেমার গান গেয়ে ওঠে না। সব্জী দোকানদার ছোট রেডিওতে কান পেতে খবর শোনে না। মধুমাসে মহল্লার ফলের গাছে ঝাঁকি দিয়ে আম জাম খায় না। মাটির হাড়ি পাতিলে চড়ুই ভাতি খেলার সাথী পায় না।
কাপড়ের পুতুলের চুল দীর্ঘ করতে মুদি দোকানে কালো কায়তন খোঁজে না। মায়ের শাড়ী ভাঁজ করে ফ্রকের ওপর শাড়ী পরবার চেষ্টা করে না। অলস দুপুরে দীর্ঘ কেশের কিশোরী ফিতা দিয়ে কলাবেনী বাঁধে না। রঙ্গন ফুলের মধু খাওয়ার কাড়াকাড়ি হয় না। রোদে শুকাতে দেওয়া আচারের কাঁচা আমের ঘ্রাণ নেয় না। শিউলী ফুলের ডাঁটি জ্বাল দিয়ে সাদা রুমাল রাঙায় না। বৃষ্টিতে জমে থাকা জলে কাগজের নৌকা ভাসায় না। পুতুল বিয়ের দাওয়াত দেয় না। দিস্তা কাগজ সূঁইসুতা দিয়ে গেঁথে নোট বই বানায় না। কালির কলম জলে ধুঁয়ে শুকাতে দেয় না। দুপুরের ভাত ঘুমের সময় সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে একা জেগে থাকবার প্রবল আকাংক্ষা করে না।
Shawan Mahmud
No comments:
Post a Comment