যারা বাঙালির মূলধারার ইতিহাস সম্বন্ধে আদৌ ওয়াকিফহাল নয় তারা-ই এখন বাঙালি মুমিনদের কাছে আইডল। তারা মাইক্রোফোন হাতে পেয়ে যা-তা হাবিজাবি লম্বা-চওড়া সবক দিয়ে বেড়ায়। যাকে বলে জাতেওঠা উস্তাদগিরি। আর কিছু দু'পায়া জন্তুবিশেষ সেগুলো কাঁঠাল পাতা ভেবে চিবিয়ে খায়। একটু পরপর 'ঠিক' ও 'জ্বি-হুজুর' করে পৌষালি শিয়ালের মতো হুঁ দেয়। এসব নামদারি মুসলিমরা যে কতবড়ো কূপমণ্ডূক তা একটু পড়াশোনা করা যেকোনো মানুষই বুঝতে পারবে।
আপনি যতই মক্কার খেজুর-খুর্মুজ 'সুন্নাহ' বলে গলা ফাটান না কেন দিনশেষে বাঙালি হিশেবে ভাত-মাছে আপনার শান্তি। ভাষাও তার ব্যতিক্রম নয়। একটি জাতির সাথে তার ভাষা হচ্ছে গাছ ও শেকড়ের মতো ওতপ্রোত সম্পর্ক। প্যালেস্টাইন ইহূদি ছাড়াও অনেক হিব্রু ভাষাভাষী আছে, কিন্তু ইহূদিরা হিব্রুকে জাতি ও ধর্ম হিসেবে পুনর্জন্ম দিলো, যেভাবে মুসলিমরা আরবি টিকিয়ে রেখেছে। একইভাবে বাংলা হচ্ছে প্রাচীন অপভ্রংশ (প্রাকৃত) দ্বারা হতে আগত, যার মূল সাক্ষী হচ্ছে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও কবিদের লেখা 'চর্যাপদ'। তাই বাংলা হিন্দুয়ানী নয়, বলুন বাংলা হচ্ছে বৌদ্ধদের জাতি ও ধর্মীয়গত মৌলিক ভাষা। এখানে আগতরা এসে মাত্র সেই ভাষা ধারণ করেছে।
এ ভূখণ্ডে নানান জাতি আগত করে, সেইসাথে মুখে করে ভাষাও আগত হয়। তাই বর্তমান বাংলা হচ্ছে শত ভাষার মিশ্রিত এক শব্দ-ভাণ্ডার। এই ভাষাগুলো নদীর মতোই পরস্পর মেলবন্ধন সেতু সৃষ্টি করে। এখন তিনি যদি হিন্দুয়ানী শব্দগুলো ছাটাই করে তাহলে মৌলিক বাংলা শতকরা কত থাকবে? এভাবে যদি খ্রিষ্টান পাদ্রী উইলিয়াম কেরি'র বাংলা লেখ্যরূপ ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বাংলা ব্যাকরণ বাতিল করি, তাহলে কিভাবে লিখবেন? উদাহরণস্বরূপ প্রাক ইসলামী আলেমগণ ইসলামের গ্রন্থাবলীসমূহ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করাকে ঘৃণা করতেন। সেইসূত্রে তারা ফার্সি ভাষাকে পবিত্র ভেবে প্রচুর বই লিখেন, এখনও কওমী সম্প্রদায় (প্রোথিত মূলধারী) বাংলা অনুবাদের চেয়ে ফার্সিকে পবিত্র মনে করে। যদিও বর্তমানকালে অন্ধকার গুহাবাসী চিন্তাধারা হতে আলেমরা বেরিয়ে এসেছে।
দ্বিতীয়ত, আরেকটি হাস্যকর দাবি 'মুসলিমবঙ্গ' হতে হবে। আপনি কী জানেন, তথাগত গৌতমবুদ্ধ-এর একজন ঘনিষ্ঠ শিষ্যের নাম ছিল 'বঙ্গ বা বঙ্গীস' (সূত্রপিটক, সংযুক্তনিকায় (সগাথা বর্গ), বঙ্গীশ সংযুক্ত-০৮, নিষ্ক্রান্ত্র সূত্র-১, স্কন্ধঃ ২০৯)। তাহলে বর্তমান 'বাংলাদেশ' নামটিই বুদ্ধের শিষ্য হতে প্রাপ্ত। যেমনঃ আমেরিকা নাবিক আমেরিকো, রামায়ণ-এর রামের ভাই 'ভারত' হতে ভারত, ইজরায়েল জাতিগত নাম হতে 'ইজরায়েল' ভূখণ্ড (যদিও সামগ্রিক স্বীকৃত নয়)। এখন কী তিনি বুদ্ধের দেশ 'বঙ্গদেশ' (বাংলাদেশ) বলবেন?
Ruhul Amin
No comments:
Post a Comment