আফগানিস্তানে তালিবান শাসনের পাঁচ বছর হয়ে গেলো। এই পাঁচ বছরে একটি কন্যা সন্তানও হাই স্কুলের চত্বরে পা রাখতে পারেনি। কেননা তালেবানি বয়ান হচ্ছে মেয়েদের শিক্ষা "ইসলামে জায়েজ নয়"। গত পাঁচ বছরে পঁচিশ লক্ষ কন্যা সন্তান প্রাইমারী স্কুল পেরিয়ে নিজ বাড়ীতে চিরবন্দী হয়ে আছে, এরা হাইস্কুলে পড়ার স্বপ্ন বাস্তব হতে দেখেনি।
ক্ষমতায় আসার পরপরই ২০২১ সালে টিভি ও সংবাদপত্র থেকে সকল নারী কর্মীকে ছাটাই করে দেয় তালিবান রাষ্ট্র। এদের বয়ান ছিলো নারীর মুখশ্রী আরও অনেক মানুষ দেখবে এটা "ইসলামে জায়েজ নয়"। আর ২০২৪ সাল থেকে রেডিওতেও নারীদের কথা বলা নিষিদ্ধ করে দেয়। এর স্বপক্ষে বয়ান ছিলো নারীর কন্ঠ্যস্বর সকল মানুষ শুনবে এটা "ইসলামে জায়েজ নয়"। নারীর কণ্ঠ্য শুধু ঘরের ভেতরে শোনা যাবে এবং সেই কন্ঠ্য হতে হবে অতিশয় নিচু স্বরে। তালেবানি সমাজে নারীর তিনটি দায়িত্ব - ১) স্বামীকে "আনন্দ" দান করা, ২)সন্তান জন্মদান করা ৩) ঘরকন্যা করা।
দোহায় আমেরিকার সাথে যুদ্ধ শেষের চুক্তি করে আফগানিস্তানে ক্ষমতায় আসে তালেবান। তালেবানের ক্ষমতার আসাকে "বিপ্লব" হিসাবে সেলেব্রেইট করেছিলেন আমাদের দেশের প্রধান "পোষ্ট মডারনিস্ট" দার্শনিক গুরু। এ বিষয়ে ওনার একটি সাক্ষাতকারও দেখেছিলাম ইউটিউবে।
বাংলাদেশে একটি নীরব তালেবানাইজেশন ঘটে গেছে। এই তালেবানীকরনকে গোপন রাখা হয়েছে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। গত চল্লিশ বছর ধরে চলছে এই তালেবানিকরণ। এই তালিবানীকরণের বিরুদ্ধে দাড়ায়নি মূলধারার কোনও রাজনৈতিক দল। বরং কথিত "বড়ো দল" গুলো এই তালেবানিকরণকে ব্যবহার করেছে নির্বাচনী হাতিয়ার হিসাবে।
আর সাংস্কৃতিক চত্বরে এই তালেবানি শক্তিকে "মাজ-লুম" হিসাবে, "সাবঅল্টারন" হিসাবে হাজির করেছে, এদের স্বপক্ষে সম্মতি উৎপাদন করেছে আমাদের দেশের বাম ও ডান পোষ্টমডারনিস্টরা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকেরা দল বেঁধে।
কোনও দেশ ও জাতি আপাদমস্তক অন্ধকারে ডুবে যাওয়ার শর্ত প্রধানত ঐ দেশ ও জাতির মাঝেই থাকে, তৈরী হয়। বাংলাদেশের যাত্রাও সেপথেই এগুচ্ছে।
বাংলাদেশের কন্যাসন্তানের মা-বাবার হাতে অপশন কেবল দুটো আছে - হয় আপনাদের সকল শক্তি দিয়ে এই তালেবানিকরণের বিরুদ্ধে দাঁড়ান, সকল শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করুন নয়তো নিজেরাই তালেবান হয়ে যান।
বাংলাদেশের এই অব্যাহত তালেবানিকরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধে দাঁড়াতে হবে, আজ থেকেই।
(ছবিটি আফগান নারীদের নয়, বাংলাদেশের নারীদের)
মুহাম্মদ গোলাম সারওয়ার
No comments:
Post a Comment