, যা বিস্তৃত হয়েছিল লেফ্ট লিবারাল ইতিহাসবিদদের সক্রিয় সহযোগিতায়
আমরা যারা মহাভারত সেই ভাবে পড়তে পারিনি কিন্তু ছোটবেলায় মহাভারত দেখেছিলাম তারা সকলেই জানি যে বীরদের 'আর্য' বলে সম্বোধন করা হচ্ছিলো। সংস্কৃততে আর্য শব্দের অর্থ 'নোবেল ম্যান'। একটি শব্দ কিভাবে একটি জাতিতে রূপান্তরিত হলো এবং কেন হল তার একটি ছোট্ট ব্যাখ্যা নিচে দিলাম।
বিশপ জেমস উসের ১৬৫০ সালে 'ওল্ড টেস্টামেন্ট' থেকে প্রমাণ করেছিলন যে আদম এবং ইভ পৃথিবীর বুকে আবির্ভাব হয়েছে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০৪ এ (গুগুল সার্চ করে দেখে নিন) । অর্থাৎ আজ থেকে মাত্র ৬০০০ বছর আগে। বাইবেল যদি বিশ্বাস করে পৃথিবীর বুকে প্রথম মানুষ ছয় হাজার বছর আগে এসেছিল তাহলে তো সমগ্র সভ্যতার ইতিহাস হতে হবে তার পরে।
কিন্তু ক্রিশ্চান মিশনারীরা যখন এ দেশে ধর্ম বিস্তার করতে এসেছিল তারা দেখল ভারতবর্ষের ইতিহাস আদাম এবং ইভ এর পৃথিবীতে আবির্ভাব হওয়ার অনেক আগের। রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তীতে খনন কার্যের মধ্য দিয়ে তো প্রমাণ করে দিয়েছিলেন যে আজ থেকে সাড়ে চার হাজার বছর আগে একটি আস্ত আধুনিক নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো'তে। তারও আগে সরস্বতী সভ্যতার নিদর্শন ও পাওয়া গেল। মহা সমস্যায় পড়লেন ক্রিশ্চান মিশনারীরা। তাহলে তো বাইবেল মিথ্যে হয়ে যায়? ব্রিটিশরা ওদের ব্রিটিশ বুদ্ধি খাটানো শুরু করলো।
প্রথম যদি কারো নাম করতে হয় এই ষড়যন্ত্রের হোতা হিসেবে তাহলে স্যার উইলিয়াম জোনস এর নাম করতেই হবে। ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতাতে তৈরি করেছিলেন 'এশিয়াটিক সোসাইটি'। তিনি তার তথাকথিত গবেষণা দিয়ে প্রমাণ করলেন সংস্কৃত ভাষা, গ্রিক ভাষা, ল্যাটিন ভাষা, পার্সি ভাষা এগুলো সব ইন্দো-ইউরোপিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ ফ্যামিলির অংশ। অথচ পৃথিবীর সবচাইতে পুরাতন ভাষা হিসেবে তামিল সর্বজন স্বীকৃত এবং তার পরেই সংস্কৃত।
তারপরের কুখ্যাত নায়ক হচ্ছেন জেমস মিল, একজন স্কটিশ ইতিহাসবিদ, দার্শনিক এবং অর্থনীতিবিদ যিনি একটি বই লিখলেন 'দ্য হিস্ট্রি অফ ব্রিটিশ ইন্ডিয়া' ১৮১৭ তে। ছটি খন্ডে এই বই প্রকাশিত হলো যেখানে প্রাচীন ভারতীয় সনাতন সভ্যাতাকে দেখানো হলো নিশ্চল, স্বৈরাচারী, নিষ্ঠুর হিসেবে।
পরবর্তীতে মুসলিম শাসনব্যবস্থাকে দেখানো হলো তুলনামূলকভাবে উন্নত কিন্তু স্বেচ্ছাচারী শাসন হিসেবে। আর ব্রিটিশ শাসনব্যবস্থাকে দেখানো হলো আলোকিত যুগ হিসেবে যেখানে শাসন ব্যবস্থা এবং আধুনিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এত খুশি হয়েছিল যে জেমস মিলকে ১৮১৯ এ এডমিনিস্ট্রেশনের সর্বোচ্চ পোস্টে (চিফ এক্সামিনার) বসিয়ে দিয়েছিল। আপনারা সকলে ম্যাক্স মুলারের নাম শুনেছেন। ১৮৫০ সালে ইনি হিসেব করে বলে দিলেন খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালে আর্যরা ভারতে এসেছিল। এরা যাযাবর এবং এদের ভাষা ছিল সংস্কৃত। এর ঠিক পরেই আর্থার ডি গোবিনিউ ১৮৫৩ সালে একটি আর্টিকেল লেখেন। 'An Essay on the Inquality of the Human Races' সেখানে তিনি খুব বুদ্ধি করে আর্যদের বায়োলজিক্যাল রিসিয়াল ধারণায় রূপান্তরিত করলেন এবং দাবি করলেন আর্যরা শ্বেতাঙ্গ। এই জাতি ইওরোপ থেকে এসে ভারতবর্ষে বৈদিক যুগের সূচনা করেছিল।
এরপরে তো থমাস ব্যাবিংটন ম্যাকলে ১৮৩৫ এ তার শিক্ষা নীতির দ্বারা আমাদের রক্তে উপনিবেশিক দাসত্ব ঢুকিয়ে দিতে ভালো মতো সফল হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে চার্চিল তো বলেই দিলেন যে ভারত বর্ষ একটি দেশ নয়। 'India was merely a geographical expression brought together by British administration'. আর লেফ্ট লিবারেল ইতিহাসবিদরা যোগ্য সঙ্গত দিলেন এই তত্ত্বে। তাদের গবেষণা দিয়ে প্রমাণ করলেন যে ভারতবর্ষ কোন দেশই নয় এটি বারবার বিভিন্ন রাজা, সুলতানদের দ্বারা শাসিত একটি ভূখণ্ড মাত্র। ইংরেজ শাসনে এটি একক শাসনব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে এক হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে চীনের যুদ্ধের সময় চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান বলাটা কেবলমাত্র দেশদ্রোহিতা লক্ষণ নয়। সবথেকে বড় দেশদ্রোহীতার লক্ষণ দেখা যায় যখন তথাকথিত লেফ্ট বুদ্ধিজীবীরা ভারতবর্ষের ঐতিহাসিক পরম্পরা, সভ্যতা এবং গৌরবকে ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার জন্য একযোগে কাজ করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হীনমন্যতায় ডুবিয়ে দেয়।
কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা বাংলার বুকেই প্রথম এর যোগ্য জবাব দেওয়া শুরু করেছিলেন বেশ কয়েকজন বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদী শিক্ষাবিদ এবং গবেষক। তাদের মধ্যে অন্যতম রাধা কমল মুখার্জি এবং রাধা কুমুদ মুখার্জি, ডক্টর প্রমথনাথ ব্যানার্জি, রাধা কুমোদ সরকার, ক্ষিতি মোহন সেন, নন্দলাল বোস, সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, বিপিনচন্দ্র পাল, সুনীতি কুমার চ্যাটার্জি এই রকম অসংখ্য বঙ্গ সন্তান।আপনারা যদি জানতে চান তাহলে এক এক করে এদের গবেষণা এবং লেখার মধ্যে দিয়ে কিভাবে এরা ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্রের জাল কেটে প্রমাণ করেছিল যে ভারত বর্ষ এক প্রাচীন সভ্যতা। এই উপমহাদেশ সকলের কাছে ছিল এক পণ্যভূমি। Ancient Indians held a precise conscious concept of entire subcontinent as a single mother land - Bharatvarsha, long before European arrival.
সত্যিকারের জাতীয়তাবাদী ভারতীয় নাগরিক হিসেবে আমাদের এই ইতিহাস জানা উচিত। লেফ্ট লিবারেল ইতিহাসবিদরা যে ইতিহাস আমাদের থেকে লুকিয়ে রেখেছিল। আমি চেষ্টা করব এক এক করে এইসকল বঙ্গ সন্তানদের ভূমিকা পর্যালোচনা করতে। এবং জানার চেষ্টা করব কিভাবে এরা প্রমাণ করেছিলেন যে ভারতবর্ষের সভ্যতা পৃথিবীর মধ্যে সবচাইতে প্রাচীন এবং যা সমগ্র পৃথিবীকে আলো দেখিয়েছিল।
No comments:
Post a Comment