এই মানুষ টা আমার হাজবেন্ড ছিলো। তার সাথে বিয়ে হয় ২০১৯ এ। তখন সে ইন্টার্ণ ডা: ছিলো এবং তাকে বিয়ে করার প্রধান এবং একমাত্র কারণ ছিলো - সে আগে হিন্দু ছিলো এবং তার ভাষ্যমতে সে ইসলাম ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করে মনে হয়েছে একমাত্র এই ধর্মটাই সত্য তাই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। তারপর তার পরিবার জেনে যাওয়ার কারণে তাকে বাসা থেকে বের করে দেয় এবং সমস্ত যোগাযোগ এবং সম্পত্তি সবকিছু থেকে বঞ্চিত করে দেয়। তার অনেক স্ট্রাগলের কাহিনি যা শুনে সম্পূর্ণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাকে বিয়ে করি এবং বিয়ের আগে তার বংশও যাচাই করে নিই।
তার পরিবার যথেষ্ট শিক্ষিত, ভদ্র ও সম্পদশালী তাই বংশমর্যাদাও দেখি আমরা, যেহেতু সম্পত্তি পাওয়ার ইচ্ছে নেই কিন্তু ছেলে তার ব্যবহার তো পরিবার থেকেই পাবে তাই বংশমর্যাদা খুবই গুরুত্বের সাথে দেখি।
এবং আমি সহ আমার বিয়ে যেসব মুরুব্বি রা দেখে দিয়েছেন সবাই অনেক বার ইস্তিখারার নামাজ পরি। এবং আসলেই আল্লাহ সবকিছু সহজ করে দেন। বিয়ের পর তার দ্বীনদারিত্ব দেখার মতো ছিলো, আমার চেয়েও বেশি সচেতন বলা যায়। ২০২৪ সাল পর্যন্ত সে যথেষ্ট ভালো হাজবেন্ড ছিলো এবং আমাদের পরিবারের মূল কেন্দ্রবিন্দু বলা যায়।
কিন্তু ২০২৪ এর নভেম্বর থেকে সে যা কান্ড করছে এখন পর্যন্ত যা আগের ভালো গুলোর সবকিছু ছাড়িয়ে গেছে। তাকে নিয়ে আমি তবুও ফেইসবুকে লিখতাম না, এতোদিনও কিছু লিখি নি। কিন্তু আজ কিছুদিন তার ফেইসবুক, টিকটকের পোস্ট গুলো আমি দেখি নি, কিন্তু বিভিন্ন পরিচিত মানুষ রা দেখছে ও আমাকে নানান প্রশ্ন করছে, এতে আমার দোষ না থাকা স্বত্তেও সম্মানহানি হচ্ছে। সবকিছুর ছবি সহ প্রুভ এখানেই দিয়ে দিবো।
সে ২০২৪ সালে আবুধাবিতে তার অফিসের স্টাফ একজন পাকিস্তানি মহিলা যার স্বামী ও ৩ জন বাচ্চা সহ সংসার আছে, এমন মহিলার সাথে আমার আড়ালে প’র’কি’য়া শুরু করে। হঠাৎ তার সন্দেহজনক আচরণে তার ফোন থেকে সে ধরা খায়। ওইসময় সে আমাকে এবং আমার মেয়ে আয়েশাকে আবুধাবিতে কি পরিমাণ মা’ন’সি’ক য’ন্ত্র’ণা দিছে তা লিখে প্রকাশ করা অসম্ভব! সে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত বাসায় আসতো না। কখনো যদি আসেও তবুও আমার সাথে কথা বলতো না, আর প্রচুর খারাপ ব্যবহার তো আছেই। আর ওইদিক দিয়ে ওই মহিলার হাজবেন্ড ও পরিবারেও তাকে নিয়ে ঝামেলা হয়। সে ওই মহিলাকে লেটেস্ট আইফোন কিনে দেয়া সহ বিভিন্নভাবে ৯-১০ লক্ষ টাকা খরচ করে। তারপর এই সবকিছু নিয়ে ওই মহিলা চলে যায়।
তারপর তার মাথায় ঢু’কে সে ২য় বিয়ে করবে, সে মর্ডান মেয়ে একজন চায় বউ হিসেবে হালাল ভাবে। সে নিজেও পুরোপুরি চেঞ্জ হয়ে যায়, যেখানে সে আগে পরিপূর্ণ সুন্নাহ পালন করতো সেখানে সে এখন পুরোপুরি তার বিপরীত। গান বাজনা শুনা, লাইফস্টাইলে সবকিছু তে ১০০% চেঞ্জ। তার সুন্নতি দাড়িও কেটে ফেলে। সে ২য় বিয়ের আরও একটা কারণ বলে, আমার বাচ্চা মানে আয়েশা যে হলো, এই প্রেগ্ন্যাসি টা অনেক ট্রিটমেন্টের পর হয়েছিলো। তাই সে আমার আত্নীয় দের বলে তার নাকি অনেক বাচ্চা লাগবে, অনেক বংশধর লাগবে কিন্তু নিগারের তো আর বাচ্চা হবেনা। তাই নাকি তার বিয়ে করতে হবে আরও বাচ্চার জন্য।
কিন্তু আল্লাহর কি হুকুম, সে এটা যে মাসে বলেছিলো সেই মাসেই আমি প্রে’গ’ন্যা’ন্ট হয়ে যাই। এটাতে সে খুশির বদলে যেনো মন খারাপ করে ফেললো। তারপরও তার ২য় বিয়ে করতেই হবে, এইবার বাংলাদেশে মেয়ে দেখতেছে। তার ম’র্ডা’ন মেয়ে লাগবে। গাড়িতে একসাথে গান শুনবে, মুভি দেখতে যাবে, পেন্ট শার্ট পরবে , নাচ দেখাবে। এইগুলো নাকি তার শখ। অথচ আল্লাহ ২য় বিয়ে হালাল করেছেন, হালাল চাহিদা পূরনে। আর তার যখন শুন্য পকেট ছিলো তখন আরও ভালো ভালো ডাক্তার প্রস্তাব বাদ দিয়ে তাকে বিয়ে করলাম, স্ট্রাগল শেষ হয়ে যখন বিদেশ গিয়ে টাকা হলো তখন সে আল্লাহর থেকেই দূরে সরে গেলো। অথচ টাকার প্রতি লোভ থাকলে ওইসব সবদিক থেকে স্যাটেল প্রস্তাব তো নিজ হাতে বাদ দিতাম না। আমার পরিবার শুধুমাত্র "আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং একজন নওমুসলিমের হাতে নিজেদের মেয়ে দেয়ার মাধ্যমে জান্নাত পাওয়ার উসিলায়" ওর কাছে বিয়ে দেয়। সত্যি বলতে তখন ওর মেডিকেল কলেজ সহ বিভিন্ন জায়গায় ওর ব্যাপারে খবর নিয়ে সবকিছু পজিটিভ ই পেয়েছিলো। সাথে ডা হবার পরও সবকিছু পরিপূর্ণ সুন্নাহ মোতাবেক পালন করা দেখে আমিও আর দুনিয়াবি সম্পদের কথা ভাবিনি।
যাইহোক আমি ২য় বার প্রেগন্যান্ট হবার পর জোড় করে আমাকে বাংলাদেশে রেখে চলে যায় এবং প্রতিটি দিন-রাতে আমাকে শুধু ফোনে ২য় বিয়ের কথা বলতো, তার নাকি একটা মেয়ে পছন্দ হইছে। তাকে বিয়ে করবে। আমি একদিকে প্রে’গ’ন্যা’’ন্ট আর অন্যদিকে সে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন কোনো রাত যেতো না কা’’ন্না না করে থাকতাম আর মানসিক অশান্তি ত আছেই। তারপর হঠাৎ সাড়ে পাচ মাসে বাচ্চা ডে’লিভারি পে’ই’ন উঠে যায় এবং একজন ছেলেবাবু ডেলিভারি হয়ে যায়। অথচ ডেলিভারির ২ দিন আগেও এনোম্যালি স্ক্যান করি, সবকিছু নরমাল ছিলো, সার্ভাইক্যাল লেন্থও। ডা: নিজেও অবাক....!
তারপর সে ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ আমাকে না জানিয়ে দেশে এসে বিয়ে করে এক টিকটকার ও প’তি’’তা মেয়েকে। ওই মেয়ের বয়ফ্রেন্ড কিভাবে যেনো আমার ফেইসবুক পায় সে আমাকে মেসেজ দিয়ে বলে " আপু আপনার হাজবেন্ড তো আমার ওয়াইফ কে বিয়ে করে ফেলছে আজকে " তারপর সে তাদের অনেক ঘ'নি'ষ্ট ছবি পাঠায় এবং বলে ওই মেয়ের সাথে অনেক বার তার শা'রী'রি'ক সম্পর্ক হইছে, ইভেন জুনায়েদ ওই প'তি'তা'কে বিয়ের ১০ দিন আগেও ওই মেয়ে তার বয়ফ্রেন্ডের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। তখন আমি জুনায়েদ কে ফোন দেই কিন্তু সে অস্বীকার করে সে বাংলাদেশে আছে কিন্তু আমি তো ধারণা করে বুঝেছি এবং প্রমানও পেয়েছি। তাই তাকে চিল্লাই চিল্লাই কান্না করে বললাম " ঠিক আছে আপনি বিয়ে করেন কিন্তু এই মেয়ের এই অবস্থা, অন্তত দ্বীনদার না হোক কিন্তু ভালো প্রফেশনাল, ভদ্র দেখে কাউকে বিয়ে করেন, এই মেয়ে আপনার জীবন শেষ করে দিবে" কিন্তু আসলে সে ততক্ষণে বিয়ে করে ফেলে। তারপর আমার এই কষ্টে কি অবস্থা গেছে সেটা নাহয় না-ই বলি! আর হ্যা আমি তাকে বারবার ডি’ভো’র্স দিতে চাইছি কিন্তু সে আমাকে ডি’ভো’র্স দিতে রাজি ছিলো না, আমার পরিবারও আরও ধৈর্য ধরতেই বলছিলো যেহেতু একটা বা’চ্চা আছে। ও হ্যা, সে এই মেয়েকেও বিভিন্ন দামি গিফট সহ, স্বর্ণ, লেটেস্ট আইফোন ও ১০ লক্ষ টাকা কাবিন পরিশোধ করে দেয়।
অথচ আমার কাবিন কিন্তু এখনো পরিশোধ করে নি।আমাকে বাংলাদেশেই ফেলে রাখে। আবুধাবিতে নিতে বললে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অযুহাত ও শর্ত দেয়। বাংলাদেশে আমার ও আমার মেয়ের খরচ ঠিকমতো দিয়েছে কিন্তু আড়ালে তারচেয়ে অনেক গুন বেশি খরচ করে ওই মেয়ের পিছনে এবং তার লাইফস্টাইলে। আর হ্যা, ওই প'তি'তা মেয়ে রেগুলার সিগ্যারেট ও ম'দ খায়। ও নিজে বলেছে, ওই মেয়েকে নিয়ে যেখানেই ঘুরতে যায় সেখানেই ম'দ আর সিগারেটের জন্য পাগল হয়ে যায়। জুনায়েদ ওই মেয়েরে বিভিন্ন 5 star হোটেলের বারেও নিয়ে গেছে।
তারপর জুনায়েদ ওই মেয়েকে বিয়ের পর আবুধাবিতে চলে যায়, যেহেতু ওই মেয়ের ভিসা হচ্ছিলো না তাই দেশেই রেখে যায়। ও যাওয়ার একমাসের মধ্যে ওই মেয়ে বয়ফ্রেন্ডের কাছে আবার চলে যায় এবং জুনায়েদ কে জানুয়ারি তে ডি’ভো’র্স দিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে বয়ফ্রেন্ড কে বিয়ে করে কোনো প্রকার ইদ্দদ পালন করা ছাড়াই। মানি ইসলাম মতে ওই বিয়ে টাও হারাম। তারপর ওইখানে বয়ফ্রেন্ডের সাথে ৫/৬ মাস সংসার করে, সেখানেও প্রচুর ঝামেলা হয় তাদের মধ্যে, সেটা আর না বলি। বয়ফ্রেন্ড পয়সা ওয়ালাও না,মা’ই’র’পি’ট হইতো প্রচুর। তারপর ওই মেয়ে আবার জুনায়েদ এর কাছে যাইতে পাগল হয়ে যায়। অবাককর বিষয় হলো এই জুনায়েদও তারে আনার জন্য পাগল হয়ে যায় কিন্তু আমাকে প্রতিনিয়ত মিথ্যা বলে, যদিও আমি বুঝতাম কিন্তু আমি দূরে থাকার কারনে কিছু করতেও পারতাম না আর মানুষ কে জোড় করে ধরে রাখার ইচ্ছেও আমার নেই। আমি অনেক বার তাকে ডি'ভো'র্স' দেয়ার এটেম্প নেই কিন্তু পারিনি। আর ওই মেয়ে বাংলা তে ডিগ্রি পাশ করছে, ইংরেজিও রিডিং পারেনা। শুধু টিকটকে ফিল্টার দিয়ে ভিডিও করে। টিকটকের মতো ছাপড়ি এপ এখনো আমার ফোনে নেই। আমাদের পুরা গুষ্টিতেও কেউ এই এপ চালায় না। কিন্তু জুনায়েদ ডা: হিসেবে ওর সব পার্সোনালিটি শেষ করে দিছে,
তার টিকটকের পোস্ট, বিভিন্ন ইডিট, ভিডিও এইগুলা দেখলে মনেহয় না সে যে একজন শিক্ষিত পার্সন। তার চলাফেরা, স্টাইল সব ওই মেয়ের মতোই ছাপড়ি হয়ে গেছে। আজ প্রায় ২ বছর হয়ে যাচ্ছে আমাকে দেশে রেখেছে, প্রতিবার আবুধাবি নিতে বললে বিভিন্ন অজুহাতের শেষ নেই।
এখন আজকে কয়েকদিন সে টিকটক ফেইসবুকে সরাসরি ওই মেয়েকে নিয়ে রোমান্টিক পোস্ট দিচ্ছে। তার সাথে আমি এড নেই। তার প্রতি আমার রুচি, ভালোবাসা একদম উঠে গেছে কিন্তু আমার কিছু পরিচিত মানুষ তার ফেইসবুক, টিকটকে এড আছে তারা আমাকে এইগুলো পাঠিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করছে এবং আমাদের পুরো ফ্যামিলি ল’জ্জা’য় পরে যাচ্ছে। সে যা করছে আমার সাথে সেগুলো কখনো ই বলতাম না যদি না সে নিজে অনলাইনে এইরকম শুরু না করতো, যেহেতু সে আমার মেয়ের বাবা। মেয়ের কাছে আমি সবসময়ই ওর বাবাকে হিরো বানিয়ে রেখেছি। ভাবছি বাবা হিসেবে সে আসলে কতটা হতভাগ্য, নিজের এতো কিউট একটা বাচ্চা মেয়ে কে দূরে সরিয়ে আরেক প'তি'তা'র সাথে লু'তু'পু'তু করছে। অথচ বাচ্চাটা কত অভিনয় করে, কত পাকা পাকা কথা বলে, এই নিয়ামত সে দূরে ঠেলে রেখেছে।
যাই হোক দুই বছর অনেক কা''ন্না করেছি, মানুষের সামনে ভালো থাকার অভিনয় করেছি,সব ঠিক করার চেষ্টা করেছি কিন্তু i'm tired. এখন বুঝতে পারছি আসলে ছেড়ে দেয়াই শান্তি তাই তাদের এইসকল পোস্ট দেখে কেউ আমাকে নক দিবেন না প্লিজ। ওর সাথে আমি আর নেই। ওর সাথে জোড় করে থাকলে হয়তো দুনিয়ার চাকচিক্য পেতাম কিন্তু আল্লাহ কে হারিয়ে ফেলতাম।
আর হাস্যকর কথা হচ্ছে -- সে এখন ওই প'তি'তা মেয়ে কে বিয়ে করলে এটাও তো হালাল হবেনা,তাদের বাচ্চা হলে সেগুলোও
। কারণ ওই মেয়েতো ওরে একবার ডি'ভো'র্স দিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে বয়ফ্রেন্ড কে বিয়ে করে.. !
যাই হোক এই ব্যপারে আমার অতি উৎসাহি আত্নীয় রা আমার আব্বুকে কল দিবেন না প্লিজ। আর নওমুসলিম ও পরিবারের সহচর্চ ছাড়া মানুষকে বিয়ে করার আগে হাজার বার ভাববেন..!
বি দ্র : স্বামীর একাধিক বিয়ে মানা খুব কঠিন হলেও মেনে নিয়ে থাকা যেতো যদি তার ২য় বিয়ের উদ্দেশ্য হালাল হতো। আর বর্তমানে তো তাদের এই সম্পর্ক টাই হারাম হবে, যতই কবুল বলে বিয়ে হোক। এই হারামের মধ্যে থেকে কখনোই আমি শান্তি পেতাম না তাই আর কেউ অন্তত এটা বলিয়েন না বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে হয়তো সবর করতে পারতাম।
***লেখা: Nigar Tabassum ***
*** ছবি: Nigar Tabassum ***
No comments:
Post a Comment