Wednesday, September 9, 2026

মহামায়ার সংসারের অগোছালো দিন

 


শ্রাবণ মাস, মহামায়ার সংসারের অগোছালো দিন, রাতভর বৃষ্টি হয় আজকাল, উঠোনের দিকের আমগাছটা জলে ভিজে অচেনা লাগে, কেমন আঁধার সকালের দিকেও,তারই মধ্যে বেলা থাকতে দুবেলার রান্না সারতে হয়, আঁধার হলে সাপ আসে, ব্যাঙের ডাক ঘরের আনাচে কানাচে। বেলা থাকতেই মাখনবালা ওঁচনাতে কুপি বসিয়ে দেন, রান্না সারেন মহামায়া, উনুনের আগুন জ্বালানো মহা হ্যাপা, উঠোনময় জল, ঘরের সিঁড়ি ইস্তক ডুবে গেছে, জল পেরিয়ে ঘুঁটে আনতে হয়। দুই বোনের নিত্য কাজ, সেই খরার দিনে যা শুকিয়ে গুছিয়ে রেখেছিলেন হাঁড়িতে, কাপড়ের বিড়ার মাথায় সব রাখা। তার থেকেই মটর ডাল পারেন, ভিজিয়ে রেখে বেটে নেন, উঠোনের লাউ গাছ জলে ডুবে গেছে,তাই তার শাক কেটে নিতে হয়, ও গাছ আর থাকবে না। তেলে পাঁচ ফোরন, লংকা দিয়ে আলু বেগুন ভেজে শাক দেন মহামায়া, নুন হলুদ আর কাঁচা লংকা, ঢাকা দিয়ে রাখেন, আরেক উনুনে জল ফোটে, তাতে নুন দিয়ে বেটে রাখা মটর ডালের মুঠ দেন, ভাপিয়ে তুলে রাখেন মুঠ।
শাকপাতা সেদ্ধ হয়ে এলে ওতে কাঁঠাল দানা আর ডালের মুঠ দেন, একটু মিষ্টি আর তেল ছড়িয়ে নামাতে হয় এই শাক। শাক হলে ভাত ফোটে, মাটির হাঁড়িতে ভাত হয়, তাতে কাপড়ের পুঁটলি বাঁধা ডাল, ভাতের মাড়ে সেদ্ধ হয়, গরম ভাতে সরষের তেল আর লংকা পুড়িয়ে মাখা।
স্নান সেরে দুই বোন ঠাকুর সেবা দেন, বাতাসা গুলো কেমন স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে জলের দিনে, তাই সেই যে আমসত্ত্ব বানিয়ে রেখেছিলেন মহামায়া তাই দেন ঠাকুরকে, পুজো দিয়ে দেশলাইখানা যত্ন করে কাপড়ে মুড়ে রাখেন, নাহলে কাল আবার হ্যাপা অনেক। এইবার খেতে বসা, ছেলেপিলের জন্য রসুন দিয়ে ডিমের রসা হয়েছে আজ।
সাদা নরুন পাড়ের শাড়ি পরে দুই বোন ভাত খান, ডাল সেদ্ধ আর শাক মুঠ দিয়ে।
মহামায়ার জীবন অলীক, তার নাতি খোঁজে ওই জলময় উঠোন, একটা ঘাস জমি, আর খোঁজে ভাতের গন্ধ, ভাত ফুটলে জীবন নোঙর ফেলে। আর ঘরেও আজ নকশীকাঁথার টুকরো, তাতে সেই অচেনা আম গাছটা।

আজ পাতে তুলসী ভোগ চালের ভাত, এই ভাত সুগন্ধি, কিন্তু আঠালো, সাথে শাক মুঠ, ডাল সেদ্ধ।

Samita Gopal Halder

No comments:

Post a Comment