১৫ বছর সংসার করছি,,,,, আমার একমাত্র সন্তান আমার একমাত্র মেয়ে বয়স ১০ বছর,,,, আমার সন্তান যখন আমার গর্ভে আসে চার মাসের সময় বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় কোন কাজ করতে পারতাম না বলে।
আমি স্বাস্থ্যবান মানুষ সব সময় অস্থিরতায় ঘুরতাম সবসময় পা ফুলে থাকতো প্রচন্ড পরিমাণ বমি করতাম। বাবা মায়ের অনেক আদরের সন্তান আমি। বাড়ির বড় বউ আমি।
বাবা মায়ের কাছে গেলে তাদের সাধ্যমত যথেষ্ট যত্ন সেবা করেছে। কিন্তু তারপরেও দুর্ভাগ্য বলে একটা কথা আছে খারাপ ভাগ্য তো পিছু ছাড়ে না। আমার সন্তান অষ্টম মাসের প্রথম সপ্তাহে হলো। অবস্থা খুবই দুর্বিষহ। রাজবাড়ি আমার বাবার বাড়ি সেখানেও হলো না। অ্যাম্বুলেন্স করে বাবা মা আমাকে ফরিদপুর নিয়ে গেল। সব থেকে ভালো শিশু হসপিটালে আমাকে রাখল কিছুই চেনে না জানে না। আমার বর তখন ঢাকায় চাকরি করে। রাজনীতি করে ব্যবসা থেকে বের করে দিল শ্বশুর। তারপরে সে ঢাকায় চাকরি শুরু করলো। সে ঢাকা আমি রাজবাড়ী।
হসপিটালে যাইহোক এডমিট করল সবথেকে ভালো গাইনি সে আমাকে সাজেস্ট করলেন আমার ওটি করলেন। কিন্তু সেই আবার দুর্ভাগ্য। যেহেতু আমার সন্তান অষ্টম মাসে হয়েছে তার জন্য তার ওজন একেবারেই নেই এক কেজি ৮০ গ্রাম আর আমি অজ্ঞান হয়ে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আছি। যখন আমার মেয়েকে পৃথিবীর আলো দেখানো হলো ৩০ মিনিটের মধ্যে লাইভ সাপোর্টে দিয়ে দেওয়া হলো। যাইহোক সর্বপরি শেষ যার কেউ নেই সৃষ্টিকর্তা আছে। আস্তে আস্তে মেয়ে সুস্থ হল আমি সুস্থ হলাম। জীবনের সবথেকে কষ্টদায়ক বিষয় সন্তান হবার সময় বাবা মায়ের কাছে চলে যেতে হয় এত জায়গা এত ঘর এত প্রাচুর্য কিন্তু আমার জায়গা হয়নি থাকার কারণ তখন কাজ করতে পারতাম না। মেয়েদের ভাগ্যটা আসলেই খারাপ। দিন চলে গেছে কথাগুলো এখনো মনে দোলা দেয়। সত্যি মেয়েরা অসহায়।
মেয়েরা সত্যি অসহায়। কি বলবো মাঝেমধ্যে সত্যি বাক্যহীন হয়ে পড়ি। সব থেকে বড় জ্ঞানের জায়গা বড় অভিজ্ঞতার জায়গা বড় রাজনীতির জায়গা """সংসার"""""
No comments:
Post a Comment