রূপশাল বাংলার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন ধানগুলোর অন্যতম। পুরুলিয়া জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আজ থেকে অর্ধশতাব্দী আগেও রূপশাল বহুল পরিমাণে চাষ হ'ত। এমনিতেই 'শাল' শব্দটি জুড়ে থাকে যে সকল ধানে, সেগুলো পুষ্টিগুণে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এই ধানের খড় অত্যন্ত সুন্দর। জীবনানন্দের কবিতাতেও আমরা রূপশালের প্রসঙ্গ পাই। খড় বড় হওয়ার কারণে বৃষ্টিতে বা ঝড়ে ধানগাছ পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু তবুও এখনও বাংলার কিছু কিছু কৃষক এই ধানের প্রেম থেকে বেরোতে পারেনি। প্রকৃত ব্রাউন রাইস বলতে যা বোঝায়, স্বাদে ও পুষ্টিগুণে রূপশাল একদম তাই।
আজ রূপশাল চালের ভাত, মৃদুল সেই আগের বছর পাঠিয়েছিলো, চাল আমি খুব যত্নে রাখি, মাঝেমধ্যে নেড়েচেড়ে দেখি। বড়মা থাকতে প্রতি বছর এই সময় রোজ তিতা করতো, শুক্তোনি, তিত বেগুন, উচ্ছে পাতা, আজ আমার সজনে ফুলের তিত-ঝুরি, বাহুল্য নেই রান্নায়, আলু,বেগুন, সীম কুচিয়ে নেওয়া, সীম দানাও আছে, তেলে কালোজিরা, মেথি, সবজি নুন হলুদ দিয়ে সাঁতলে নিয়ে মজে এলে ফুল, শেষে মটর ডাল আর চালকুমড়ার বড়ি ভেজে গুড়ো করে মেশানো, আর অল্প তেল। আর রাঁধি লাউ শোল রসা, রাঁধুনি ফোরন এর রান্না,লাউ ডুমো কেটে, আদা লংকা বাটায় হয়, হালকা ভাজা মাছ মেশাই লাউ মজে এলে, আর কালোজিরা বেটে, আতপ চালের পিঠালি গুলে শেষে মিশিয়ে রসা হয়, এ রান্না যুতের রান্না, ধীমে আঁচে হয়। বড়মা এতে মটর ডালের বড়া দিতেন, আর মিষ্টি।
মানুষের এই স্মৃতি মনে আঁকাও এক অপেক্ষা, মানুষের এই অপেক্ষাই তাকে বাঁচিয়ে রাখে, যত্ন করে সঞ্চয় করে মানুষ, স্মৃতি, অপেক্ষা, কখনো সুখের, কখনো দুঃখের, এ এক অনন্ত চলা, বালির দানার মতো গুড়ো গুড়ো জীবনের সঞ্চয়।
গাজর রোস্ট করা মধু দিয়ে, দই আর সরষে ফুলের ডিপ
আটা আর জোয়ানের লুচি, ফুলকপি আর আলুর চচ্চড়ি
রূপশাল চালের ভাত আর সজনে ফুল এর তিত ঝুরি
No comments:
Post a Comment