Wednesday, December 2, 2020

 

আজকের ভাবনা

২/১২/২০২০


রবিবারে অনেকে এসেছিল বাসায়। কত কিছু রান্না ক র লাম। যারা এসেছিল চিকেন ফ্রাই আর ব্লাক টাইগার ব লে চিংড়ী মাছ পাওয়া যায়, তার সবচেয়ে বড় সাইজের দোপেয়াজা

করেছিলাম তাই দিয়ে সব ভাত খেয়ে নিয়ে, পরের তরকারী দিয়ে ভাত না খেতে পারার জন্য আফসোস করছিল। আমার উনি আবার হাঁস খুব ভাল রান্না করে। তা একেবারে ধরা থাকল।

যেহেতু বেশীর ভাগ সিঙ্গেল থাকে কোন 

রকম এক ভাগের রান্না করে খায় তাই নাকি এমন অভ্যাস। কি তৃপ্তি নিয়ে সবাই খায় যে খুব মায়া লাগে।

সেদিন একজন দেশে চলে গেল, যাওয়ার আগে আমার রান্না খেতে চাইল। রান্না করলাম

কত কিছু। শুধু ডিমের তরকারি দিয়ে সব ভাত খেয়ে নিল। কেমন লাগে? 

কারও জন্য কিছু করতে পারিনা। এইটুকুই আমার ক্ষমতা, একটু ভাল রান্না করা, তাইই মন প্রাণ দিয়ে করি, আর আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি সবাই যেন আমার হাতের রান্না পেট ভরে আর মন ভরে খেতে পারে। 

সবাই যখন চেটেপুটে মন ভরে খায় আমার মন টা ও ভরে যায়।


Tuesday, December 1, 2020

 

মো. গোলাম সারোয়ার: ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক অনাকাঙ্ক্ষিত, ইসলামে নিষিদ্ধ বহু জিনিস ইসলামী বিশ্ব এডাপ্ট করেছে

মো. গোলাম সারোয়ার: ভাস্কর্য নিয়ে এই বিতর্ক ছিলো অনাকাঙ্খিত। ইসলামে নিষিদ্ধ বহু জিনিস ইসলামী বিশ্ব এডাপ্ট করেছে। যেমন ইসলামে ছবি তোলাও হারাম ছিলো। কিন্তু এটি বর্তমান পৃথিবীর সব আলেম-ওলামা তোলেন এবং ব্যবহার করেন। আসলে যুগের প্রয়োজন আপনি না মিটিয়ে পারবেন না। আপনি চলমান বিশ্বকে উপেক্ষা করে টিকতে পারবেন না। এটি করতে খোদা আপনাকে বলেনওনি। পৃথিবীর বড় বড় নবীদের আমলে এগুলো ছিলো। যেমন দাউদ নবী, সুলাইমান নবীর আমলে এসব শিল্পের পরিচর্যা ছিলো। আগেই বলেছি, যুগের প্রয়োজনে আপনি ছবি না তুলে পারলেন না। তেমনি সায়েন্স না পড়ে পারলেন না, ঘোড়া উট রেখে গাড়িতে না উঠে পারলেন না, ভিড়িও না করে পারলেন না, বিমানে না উড়ে পারলেন না। অমুসলিমদের বই না পড়ে পারলেন না, তাদের জ্ঞান আহরণ না করে পারলেন না। এগুলো হলো যুগের ডিমাণ্ড। এগুলোকে যদি আপনি গ্রহণ না করতে পারেন, তবে সভ্যতা আপনাকে গ্রহণ করবে না। পরিণামে আপনি হবেন বিচ্ছিন্ন। ইউরোপ-আমেরিকাতে চরমপন্থী জঙ্গিদের আজকের অবস্থার কারণ হলো এটাই। তারা সে সামজে মিশতে পারেনি। তারা মূসা নবীর উম্মত, ইসা নবীর উম্মতদের সম্মান স্নেহ করতে পারেনি। অথচ তারা ছিলো আহলে কিতাব। এখন কথা হলো, ভাস্কর্য হলে আমাদের লাভ কী? ক্ষতিটাই বা কী? লাভ হলো সৌন্দর্য,স্মৃতিরক্ষা, ললিতচর্চা, সম্মান প্রদর্শন। এগুলো না করলেও তেমন ক্ষতির ব্যাপার নেই। কারণ এগুলো আমাদের ভাত কাপড় দেবে না। তবে জাতি হিসেবে আমাদের মানদণ্ড বাড়বে, মূল্যবোধ বাড়বে। কিন্তু সমস্যা হলো অন্য জায়গাতে।

তারা লালনের ভাস্কর্য আটকে দিলো। তারপর তারা এককদম এককদম করে এগোতে লাগলো। এগোতে এগোতে তাদের ধৃষ্ট্রতা এতোদূর বাড়লো যে, তারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দিলো। দেখলেন অবস্থা। একজন মানুষ সারাজীবন খরচ করে ফেললেন একটি জাতির মুক্তির জন্যে। শেষে জীবনও দিয়ে গেলেন স্বপরিবারে। তার প্রতি ন্যূনতম সম্মানটুকুও রাখতে হবে না? এবং তার মেয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। এটাও তারা পরোয়া করার ধার ধারলো না। এখানেই তাদের থামাতে হবে। না হলে তারা আধুনিক সভ্যতাকেই ফেলে দিবে। তারা স্কুল-কলেজকে বাতিলের জ্ঞান বলে অফ করে দিবে। কম্পিউটারকে শয়তানের বাক্স বলে ফেলে দেবে। মেয়েদের শিক্ষাকে হারাম ঘোষণা দিয়ে তাদের ঘরে বন্দী করবে। অনৈসলামিক রাষ্ট্রগুলোর সাথে যোগাযোগ অফ করে দিবে। ব্যাংক-বীমা, শিল্প-কারখানা, জ্ঞান-বিজ্ঞান সবই তারা অব করে দিয়ে পেছনের দিকে যাত্রা শুরু করবে। পরিণামে জাতির অবস্থা হবে এ যুগের আফগানিস্তানের মতো। এই জ্ঞানহীনতাকে থামাতে হলে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য তো বানাতেই হবে, উপরন্তু লালন, হাসন রাজা, নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, চণ্ডীদাস-সহ সকল বাঙালি রত্নের ভাস্কর্য বানাতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে এগুলো ইসলামি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও আছে। আমরা আসমান থেকে পড়া ইসলামী দেশ নয়।

যা সৌদি আরবে আছে, আরবের বাকি দেশে আছে, পাকিস্তান তুরস্ক ইন্দোনেশিয়া মালয়েশিয়াতে আছে, তা আমাদেরও থাকতে পারে। তবে সবচেয়ে যেটা বেশি করতে হবে তা হলো, আগামী প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। যারা আজ জ্ঞান-বিজ্ঞানে পিছিয়ে গেলো, যারা আজ আধুনিক পৃথিবীর আলো বঞ্চিত হয়ে নতুন আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকারে ডুবে গেলো, তাদেরও টেনে তুলতে হবে। জাতিকে এগোতে হলে দেশের সব সন্তানকে একই শিক্ষার রূপলেখায় বড় করে তুলতে হবে। ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা, বাংলা মাধ্যম শিক্ষা, কওমি মাধ্যম শিক্ষা- এই তিনটি ধারাকে একই ধারায় নিয়ে আসতে হবে। না হলে আগামী দিনে দ্বিধাবিভক্ত জাতি গৃহযুদ্ধে মেতে উঠবে। ভাইয়ে ভাইয়ের রক্ত ঝরাবে। একই ধরনের শিক্ষা ছাড়া এর থেকে মুক্তি নেই। 

 

মুনশি জাকির হোসেন: কাঠমোল্লার এ কাল সে কাল


মুনশি জাকির হোসেন: এই উপমহাদেশে প্রথম রেল চালু হলে সেই সময়ের কাঠ মোল্লার দল রেলের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলো, ফতোয়া জারি করেছিলো। তাদের দাবি ছিলো, মাটির ওপর দিয়ে রেল চললে নাকি কবরে আজাব বেশি হবে। এর পর কাঠ মোল্লার দল ফতোয়া দিয়ে বললো, ইংরেজি পড়া হারাম। তারপর কাঠ মোল্লার দল, চিকিৎসা বিজ্ঞান, বিজ্ঞানসহ সকল আধুনিক শিক্ষার বিরুদ্ধে চলে গেলো। নিজেরা শতভাগ মাদ্রাসায় ঢুকে গেল। তারা মাইকের বিরুদ্ধেও এক সময়ে ফতোয়া দিয়েছিলো। এর পর ছবি তোলা শুরু হলে, তারা বললো ছবি তোলা হারাম। কাঠ বলদের দল, সিনেমা, মুভি, নাটক, চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধেও ফতোয়া দিয়েছিলো। তারা টিভিকে শয়তানের বাক্সে বলতো। মানুষ যখন চাঁদে যাওয়া শুরু করলো তখন এই কাঠ মোল্লার দল বলা শুরু করলো, এসব মিথ্যা, বানোয়াট, গুজব। কিছুদিন পর, তারাই বললো, নীল আর্মস্ট্রং নাকি চান্দে যেয়ে আজান শুনেছিলো। তারা নাকি মরার আগে মুসলিমও হয়েছিলো, শিবির এটিও প্রচার করেছিলো। তারা আধুনিক অর্থনীতি, ব্যাংকিং, শেয়ার বাজার সবকিছুর বিরুদ্ধেই ফতোয়া দিয়েছিলো। তারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে আজীবন ঘৃণা করে এসেছে। তারা গণতন্ত্র হারাম, ভোট দেওয়া হারাম বললো। তারা বললো, ইসলামে গণতন্ত্র নিষিদ্ধ। এখন তারা ভোটে দাঁড়াতে চায়, মানুষের কাছে ভোট চায়, নির্বাচন করে। তারা এখন ছবি তোলে, পোস্টারে ছবি দিয়ে ছয়লাব করে, মসজিদে মাইক বাজায়, মাইকে ওয়াজ করে, ভিডিও করে, নাটক বানায়, গল্গ দিয়ে ইন্টারনেট চালায়, মুভি দেখে (বলে ইসলামি মুভি), ট্রেনে চড়ে, বিমানে চড়ে, হেলিকপ্টারে চড়ে, রোগ হলে ঝাঁড় ফুঁ না দিয়ে ডাক্তারের কাছে যায়। এই সকল কাঠ বলদ, কাঠ মোল্লার দল নিজেরাও জানে ভাস্কর্য কি, মূর্তি কী। তারা ২০০ বছর আগেও যে তিমিরে ছিলো এখনো সেই তিমিরেই আছে। তবে তাদের পরের দান, খয়রাতের টাকায় চলার অভ্যাস দিন দিন আরও সুসংহত হয়েছে। ফেসবুক থেকে