Monday, July 6, 2026

দুই আর দুই আসলেই চার হয় কি না—সেই বিভ্রান্তিই আর কাটে না।"

 এখন আমার ২,১০,০০০ ফলোয়ার, যার মধ্যে প্রায় ৫,০০০ জন বন্ধু তালিকায় আছেন। এর অর্থ হলো, ফলোয়ার বনাম বন্ধুর অনুপাত ৪১:১। আমি যখন একটি লেখা প্রকাশ করি, তখন সেই অনুপাতেই প্রতিক্রিয়া আসে, যদিও আমার ধারণা ছিল বন্ধুদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া বেশি আসা উচিত।

যদিও আমি বর্তমানে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে বেশি লিখি এবং আমি যেহেতু রাজনীতিবিদ নই, তাই আমার বেশিরভাগ বন্ধু রাজনীতি-জগতের নন। তাই হয়তো তারা লেখায় প্রতিক্রিয়া জানান না। সে কারণে হয়তো তাদের হোমপেজেও আমার লেখা পৌঁছায় না।
তবে এর আরেকটি কারণও থাকতে পারে। নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত ফরাসি-আলজেরীয় সাহিত্যিক আলবেয়ার কাম্যু মানুষের মানসিক পরিস্থিতি ও তার সামাজিক পতনের উপাখ্যান *দি প্লেগ*-এ লিখেছেন, "নির্বুদ্ধিতা থেকেই জগতের সব অপকর্ম ঘটে, এবং বোধের ঘাটতি হলে ভালো উদ্দেশ্যও অশুভ প্ররোচনার মতোই ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।"
তিনি আরও লিখেছেন, "দুই আর দুইয়ে চার হয়—এ কথা শেখানোর জন্য হয়তো কোনো শিক্ষককে বিশেষভাবে অভিনন্দিত করা হয় না; তবে এ কারণেও তাকে কারাগারে পাঠানো হয় না কিংবা মৃত্যুদণ্ডও দেওয়া হয় না। কিন্তু ইতিহাসে এমন সময় বারবার আসে, যখন যে ব্যক্তি সাহস করে বলে যে দুই আর দুইয়ে চার হয়, তাকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। শিক্ষক তা খুব ভালো করেই জানেন। প্রশ্নটা হলো, তখন দুই আর দুই আসলেই চার হয় কি না—সেই বিভ্রান্তিই আর কাটে না।"
ইতিহাসের সেই সময় এখন বাংলাদেশে, যখন আমাদের সাধারণ মানুষের সাধারণ বোধ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে ৫০ বছরব্যাপী শিক্ষক, সেনা কর্মকর্তা এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের মিথ্যাচারের মাধ্যমে—যাদের মানুষ সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করত।
সাধারণ মানুষের সত্যের প্রতি এই বিভ্রান্তি যখন আর কাটে না, তখন তাদের কাছে সবচেয়ে অসহ্য হয়ে ওঠে সেই ব্যক্তি, যে নিশ্চিতভাবে, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে, "দুই আর দুইয়ে চার হয়।" তখন তাকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। রাজনীতিতে যেমন শেখ মুজিব বা শেখ হাসিনাকে দেওয়া হয়েছে, লেখালেখির ক্ষেত্রে তেমনি আমাকে দেওয়ার প্রবণতাও বেশিরভাগ মানুষের অবচেতনে বিদ্যমান; কারণ আমি যা বলছি, তা তাদের প্রতিষ্ঠিত কিন্তু ভুয়া অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলে।
ধর্মগ্রন্থগুলোতে এটাকেই বলা হয়েছে শয়তানের প্ররোচনা, যার কাজ মানুষকে বিভ্রান্ত করা। বাংলাদেশে আজ যা হয়েছে, ফরাসি সমাজে একশ বছর আগেই তা ঘটেছিল। বেশিরভাগ মানুষ শয়তানের প্রভাবে আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে। এর কারণ, আমাদের যে পরিমাণ শিশু এখন বিদ্যালয়ে যায়, একশ বছর আগেই ফরাসি শিশুরা সেই একই হারে বিদ্যালয়ে যেত। ফরাসিরাই বিশ্বে প্রথম শতভাগ বিদ্যালয়মুখী জাতি। তারাই প্রথম শয়তানবাদী সমাজ, যারা তাদের অস্তিত্ব হারিয়ে হাওয়ায় ভাসা মানুষে পরিণত হয়েছে, যাদের তারা নাম দিয়েছে 'অস্তিত্ববিহীন', 'আগন্তুক' বা *দ্য স্ট্রেঞ্জার*।
© সিরাজুল হোসেন

No comments:

Post a Comment