Monday, July 6, 2026

কৌশলগত বহুগামিতা বা Strategic Polygamy.

 বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক অসাধারণ প্রজাতির জন্ম হয়েছে, কৌশলগত বহুগামিতা বা Strategic Polygamy.

সকালে America Caucus, দুপুরে strategic partnership, বিকেলে anti-imperialist বক্তৃতা, রাতে আবার পশ্চিমা আধিপত্যবিরোধী বিপ্লব। সংসদের সামনে মার্কিন স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানেও থাকবেন, আবার খামেনির প্রতি শোকও জানাবেন। আমেরিকার সঙ্গে “নতুন দুয়ার, নতুন সম্ভাবনা” দেখবেন, আবার জনসভায় সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আগুন ঝরাবেন।
এই ধরনের রাজনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা এরা simultaneously victimhood, resistance এবং access politics সব এক সাথে খেলতে চায়।
মানে প্রেমও করব, ব্রেকআপ পোস্টও দেব, আবার anniversary dinnerএও যাব। এটা রাজনীতি না বলে, diplomatic situationship বলা ভালো।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ থাকবে, trade, security, migration, technology, সব ক্ষেত্রেই engagement দরকার। কিন্তু জাতীয় সংসদের ককাস এ সদস্য হওয়া, এই engagement কি রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভিত্তিতে, নাকি রাজনৈতিক সুবিধাবাদের ভিত্তিতে?
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় Congressional Caucus হলো আইনপ্রণেতাদের একটা প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক, এখানে নির্দিষ্ট অঞ্চল, ইস্যু বা কৌশলগত স্বার্থকে কেন্দ্র করে policy coordination, lobbying, agenda setting এবং legislative influence তৈরি করা হয়। এগুলো রাজনৈতিক প্রভাব তৈরির প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশ সেখানে নিজের কৌশল নিয়ে যাচ্ছে, নাকি অন্যের কৌশলের অংশ হয়ে যাচ্ছে?
যে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের নামে ককাসে ঢোকা হচ্ছে, সেই আমেরিকার ভেতরেই এখন Sharia-Free America Caucus mainstream হচ্ছে বলে গর্ব করা হচ্ছে। আপনি যে ঘরে ঢুকে strategic friendship করতে যাচ্ছেন, সেই ঘরের এক কোণে আপনার ধর্মীয় পরিচয়কে নিরাপত্তা সমস্যা হিসেবে ফ্রেম করা হচ্ছে।
আপনি আসলে কোন রাজনীতি করছেন? আপনি কি anti-imperialist? নাকি pro-Washington?
আপনি কি রাজনৈতিক ইসলামের প্রতিনিধি? নাকি Congressional networking এর অংশ?
দুই দিকেই একসঙ্গে দাঁড়ানো অবশ্য অসম্ভব না। রাষ্ট্রগুলো সেটাই করে। এই কারণেই আমি একে বলছি, Strategic Polygamy।
আমরা সম্পর্ককে স্ট্রাটেজি বানাই না; সিম্বোলিজম বানাই। কেউ আমেরিকার সঙ্গে ছবি তুললে ভাবে রাষ্ট্রক্ষমতার দরজা খুলে গেছে। কেউ চীনের পাশে দাঁড়ালে ভাবে multipolar revolution হয়ে গেছে। আসলে এগুলো emotional outsourcing।
বাংলাদেশ এখন একটা পরিণত রাষ্ট্র, এই রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, কিন্তু শর্তহীনভাবে না। চীনের সাথে, ভারতের সাথে কাজ করবে, কিন্তু নির্ভরশীল হয়ে না। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সংযোগ রাখবে, কিন্তু nostalgic identity politics দিয়ে না।
রাষ্ট্রের কাজ হলো নিজের স্বার্থ বোঝা। দলের কাজ হলো নিজের অভিনয় চালানো। এখন যারা আমেরিকা ককাসে ঢুকে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন, এই সম্ভাবনা কার জন্য? বাংলাদেশের কৃষক? ওষুধশিল্প? ডিজিটাল sovereignty? নাকি শুধু রাজনৈতিক access economy?
আমরা ভুলে যাই নাই, strategic partnership শব্দটার আড়ালে trade deal হয়, policy space সংকুচিত হয়, waiver নিয়ে তেল আনতে হয়, আর তারপর বলা হয়, সবই জাতীয় স্বার্থে। জাতীয় স্বার্থ যদি এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়, তাহলে সেটার সংজ্ঞা কোথায়? সংসদে? নীতিপত্রে? জনগণের আলোচনায়? নাকি ককাস, লবিস্ট, closed-door meeting এর মধ্যে?
ওইদিক দিয়ে চাচা আরও দুই কদম এগিয়ে আছে।
উনি বলছেন, ১৯৭১ থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র। কিন্তু চাচামিয়া, ইতিহাসের সঙ্গে এই বক্তব্যের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।
১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের foreign policy বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল না। বরং রিচার্ড নিক্সন প্রশাসন এবং হেনরি কিসিঞ্জারের নীতিতে পাকিস্তান ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র, এমনকি মার্কিন সপ্তম নৌবহরের অংশ বঙ্গোপসাগরে পাঠানো হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রীয় অবস্থান এবং আমেরিকার সাধারণ মানুষের মানবিক অবস্থান এক ছিল না, ফাইন লাইনটা এখানে।
The Concert for Bangladesh হয়েছিল। জর্জ হ্যারিসন, রবিশঙ্কর এবং অসংখ্য মার্কিন নাগরিক বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু American civil society আর U.S. foreign policy তো এক জিনিস না চাচা। রাষ্ট্রের নীতি এবং জনগণের সহানুভূতিকে এক করে ফেললে ইতিহাস বিকৃত হয় যেটা বরাবরের মতো আপনারা করে আসছেন চাচা।
১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছিল ভূরাজনৈতিক স্বার্থে। আজকেও যদি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চায়, সেটাও Indo-Pacific strategy, supply chains, China competition এবং আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থের কারণেই।
রাষ্ট্রের স্থায়ী বন্ধু থাকে না, থাকে স্থায়ী স্বার্থ।আর এখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। আমরা সম্পর্ককে strategy বানাই না, বানাই loyalty।
বাংলাদেশের দরকার আমেরিকা-বিরোধিতা না। আবার আমেরিকা-পূজাও না। দরকার mature statecraft, যেখানে সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু মাথা থাকবে নিজের কাঁধে। কিন্তু এখন তো মাথা নিজের কাঁধ থেকে নামতে নামতে যুক্তরাষ্ট্রের কেদারার নিচে চলে যাচ্ছে।
যত যাই বলুন, ওয়াশিংটনে কেউ কাউকে ফ্রি লাঞ্চ দেয় না। সেখানে সব বন্ধুত্বের সঙ্গে invoice থাকে। রাষ্ট্র যদি সেই invoice পড়তে না শেখে, তাহলে একদিন দেখা যাবে আমরা partnership করছি, কিন্তু bill দিচ্ছে কৃষক, শ্রমিক, রোগী আর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

No comments:

Post a Comment