Wednesday, October 7, 2026

২০২১ সালের অপরাধের বিচার ২০২২ সালেই শেষ। তাহলে ২০২৬ সালে এসে সেই ঘটনাটি হঠাৎ এত বড় করে আবার সামনে আনার কারণ কী?

 


সাল ২০২১, ৩০ জুন।
ঘটনাস্থল জাপানের মিয়াগি প্রিফেকচারের
সেন্দাই শহরের আওবা ওয়ার্ড।
সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক আল আমিন।
তখন বয়স ২৬/২৭ বছর।
তিনি আগে একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরে কাজ করতেন। সেই দোকানের নিয়মিত ক্রেতা ছিলেন ২০-এর কোঠার এক জাপানি নারী।
পরবর্তীতে ওই নারীর প্রতি একতরফা আকর্ষণ তৈরি হয় এবং তিনি তাকে অনুসরণ করে তার বাসার ঠিকানা বের করেন।
এরপর বিষয়টি ভয়াবহ দিকে মোড় নেয়।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ইন্টারনেটে তালা খোলার পদ্ধতি খুঁজে শেখেন এবং ৩০ জুন ভোররাতে ওই নারীর অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন। নারীটি তখন বাসায় ছিলেন না। তিনি ঘরের টয়লেটে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লুকিয়ে তার ফিরে আসার অপেক্ষা করেন।
নারীটি বাসায় ফেরার পর তাকে ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখানো হয়। এরপর তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় এবং প্রায় ৮ ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।
পুলিশি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নগদ প্রায় ৪৫ হাজার ইয়েন এবং কিছু ব্যক্তিগত জিনিস নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
এরপর মামলাটি যায় সেন্দাই জেলা আদালতে।
২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর আদালত বলেন, নারীর বাসা খুঁজে বের করা, তালা খোলার উপায় শেখা, ঘরে প্রবেশ করা এবং দুই ঘণ্টারও বেশি সময় অপেক্ষা করা,সবকিছু মিলিয়ে এটি আকস্মিক কোনো অপরাধ ছিল না; বরং পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছিল।
প্রসিকিউশন তার ১৭ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আদালত তাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়।
অর্থাৎ ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১ সালে, আর বিচার শেষ হয়ে ২০২২ সালেই ১৫ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রায় চার বছর পর ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে সেই পুরোনো ঘটনাটিই আবার জাপানের X-সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
এমনকি ভাইরাল পোস্টগুলোর নিচে আলাদাভাবে মানুষকে মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে,এটি বর্তমানের ঘটনা নয়, ২০২১ সালের ঘটনা।
এখানেই প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ।
একজন অপরাধী যে অপরাধ করেছে, তার দায় অবশ্যই তার নিজের। এমন ভয়াবহ অপরাধের কোনো ধরনের সমর্থন বা অজুহাত থাকতে পারে না। কিন্তু বহু বছর আগের একটি নিষ্পত্তি হওয়া অপরাধকে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে আবার সামনে এনে যখন অপরাধীর “বিদেশি” বা “বাংলাদেশি” পরিচয়কে বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়, তখন সেটি শুধু পুরোনো অপরাধের স্মৃতিচারণে সীমাবদ্ধ থাকে না।
জাপানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু অংশে পুরোনো বিদেশি-সম্পৃক্ত অপরাধগুলো আবার সামনে আনার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এর ফলে সাধারণ জাপানিদের কাছে “বিদেশি মানেই নিরাপত্তার ঝুঁকি”,এমন ধারণা বা ভয় তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে।
তবে এটাকে জাপান সরকার পরিচালিত কোনো পরিকল্পিত প্রচারণা বলা যাবে না।
কিছু সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট পুরোনো বিদেশি-সম্পৃক্ত অপরাধ পুনরায় সামনে এনে বর্তমানের বিদেশি নাগরিকদের ঘিরে চলা উদ্বেগ ও বিতর্ককে আরও দৃশ্যমান করছে।
তাই আসল প্রশ্নটি হয়তো এই,
২০২১ সালের অপরাধের বিচার ২০২২ সালেই শেষ। তাহলে ২০২৬ সালে এসে সেই ঘটনাটি হঠাৎ এত বড় করে আবার সামনে আনার কারণ কী?

অপরাধীর বিচার হওয়া অবশ্যই প্রয়োজন।
কিন্তু একজনের অপরাধের দায় দিয়ে পুরো একটি দেশের মানুষ বা জাপানে বসবাসরত লাখো বিদেশিকে বিচার করা কতটা যুক্তিসংগত,সেই প্রশ্নটিও একই সঙ্গে করা প্রয়োজন।

Sahin No Sekai

No comments:

Post a Comment