Friday, February 6, 2026

রাশিদার রাশিফল

 


টানে সেকি মজা” মানে হলো টাংগাইল, নেত্রকোনা, শেরপুর,কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর

এই জেলাগুলোর আদ্যক্ষর! এই টানে সেকি মজা - এলাকার মানুষের গায়ের রং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গাঢ় শ্যাম বর্ণ! সেইখানে রাশিদা জন্ম নিলো টকটকে ফর্সা রং নিয়ে ! আশেপাশের গাঁয়ের লোকেরা ভীড় করে নবজাতককে দেখতে এলো !
মাটির পাতিলের তলার মতো কালা ঈমান ব্যাপারি- তার বউ তিব্বত বল সাবান আর বর্ডার পার করে চোরাই পথে আসা ভারতীয় পার্ল ক্রিম দুবেলা মাখা সত্তেও গাঢ় শ্যমা বরণ! তাদের ঘরে এলো চাঁদ বদনী কইন্যা!
গাঁয়ের মানুষ যে কোন অস্বাভাবিক ঘটনাতেই অতিপ্রাকৃত ধ্যান ধারনা আরোপ করে ! বোধকরি, তাদের নিস্তরঙ্গ একঘেয়ে জীবনে রোমাঞ্চের স্বাদ আনার জন্যই !
টকটকে গায়ের রং আর মেঘবরণ কোঁকড়ানো চুলের জন্য রাশিদাকে তারা জ্বিন পরী ভাবা শুরু করলো! রাশিদা য়েখান দিয়ে হামাগুড়ি দেয় সেখানে গাছ লাগালে গাছ তড়তড় করে বড় হয় ! উঠানের বাজা পেঁপে গাছের গোড়ায় রাশিদা বমি করেছিলো - এরপর থেকে গাছ ভর্তি করে পেঁপের বাম্পার ফলন শুরু হলো ইত্যাদি ইত্যাদি!
চুরখাই মাজারের খাদেম রাশিদাকে গোটা তিনেক ঝাড়ুর বাড়ি দিয়ে বিরবির করে দোয়া পড়ে মাথায় পানি ছিটিয়ে দিলেন ! ইয়া বড় সাইজের তাবিজ গলায় হাতে ঝুলতে লাগলো !
বয়স বাড়ার সাথে সাথে রাশিদাও নিজেকে আলাদা কিছু ভাবা শুরু করলো ! তার পরে ঈমান বেপারীর আরও চারটা সন্তান হলো কিন্তু সবাই খেদিপেচি! রাশিদার মতো আগুন রংয়ের কেউ না! রাশিদার গুরুত্ব বাড়তে লাগলো সেই সাথে তার বায়নাও!
হাটের সবচেয়ে ভালো লাল জামা, ফিতা তার চাই! হাটের গোকুলচাঁন ময়রার দোকানে বসে সে একা রসগোল্লার রসে ডুবিয়ে নিমকি খেত - তার ভাইবোনরা দূর থেকে হ্যাংলার মতো তাকিয়ে থাকতো !
সমবয়সীরা রাশিদাকে সমীহ করে এড়িয়ে চলতো ! এক্কাদোক্কা , পুতুল খেলায় তাকে কখনও ডাকতো না! রাশিদাও তাদের সাথে মিশতো না - নিজের মনে কথা বলতো , একা একা বনবাদাড়ে হেঁটে বেড়াত! একটা সময় সে নিজেও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করা শুরু করলো তার সাথে জ্বিন বসত করে!
একদিন হঠাৎ রাশিদাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না ! তিনদিন ধরে ঝুম বৃষ্টি! হাটও তেমন জমেনি। একজন বললো,হাট থেকে রাশিদাকে এক অচেনা পুরুষের সাথে ত্রিশালের পথে যেতে দেখা গেছে ! ঈমান বেপারী লোকজন নিয়ে ছুটলেন ত্রিশাল! সেই আমলে ঐ এলাকায় লোকবসতি তত বেশি না!
জনা বিশেক লোক মিলে ভর সন্ধ্যায় রাশিদাকে ডোবার পাড়ে বাঁশ ঝাড়ে খুঁজে পেলো! আপনমনে বকবক করছে ! ফ্রকের কুচি ছিঁড়ে ফর্সা পেটের খানিকটা দেখা যাচ্ছে! সেদিকে তার নজর নেই।অদূরে এক ভিনদেশি পুরুষ নি:সাড়ে পড়ে আছে! মুখে ফেনা! গলায় গভীর ক্ষত ! কোন প্রাণীর কামড়? না , অন্য কিছু ??!!
পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা মানুষটির অপমৃত্যু মামলা করে! আর, পুরো এলাকায় চাউর হয়ে যায় রাশিদার কোন অলৌকিক ক্ষমতা আছে! রাশিদার রাশিফল সেদিনই বদলে গেল- তাঁর বয়স তখন মাত্র নয়! গালে লালচে আভা আর বুকের কাছে সামান্য উচু ছাড়া সমগ্র শরীরে নারীত্বের আর কোন লক্ষণ এখনও নেই!
অতি বড় সুন্দরী না পায় বর - এই প্রবাদটা অক্ষরে অক্ষরে সত্যি! সুন্দরী বউ মানেই পাকা বড়ই ভর্তি গাছ! যেখানে ফলের আশা থাকুক না থাকুক প্রেমিকরা ঢিল ছুঁড়বেই ! সন্তানের মা হয়ে যাবার পরও তাদের আগে পিছে সুযোগ সন্ধানী পুরুষ ঘুরঘুর করে। এদিকে, সুন্দরীরা ভাবে, মুই কি হনু রে! তাই তারা সংসারে মন দেয় না। তাদের মন সবসময় উড়াল পংখির মতো উচাটন !
তাছাড়া , গাও গেরামে সুন্দরীদের নামে নানাকরম মুখরোচক গাল গল্প প্রচলিত থাকে ! নামে বেনামে কেউ না কেউ বিয়ে ভাঙ্গানি দেয়!
রাশিদা ডাকসাইটে সুন্দরী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বিয়ের সম্বন্ধ তেমন আসতো না ! এলাকায় সবাই জানে, তার বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা আছে ! বেডা মানুষ বউ হিসেবে দাসী চায়, দেবী কেউ চায়না!
বিশ বছর বয়স হয়ে গেল উপযুক্ত পাত্র পাওয়া গেল না ! পরে, গৌরিপুরে ফুপুর শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে গৌরিপুরের এক অবস্থাপন্ন গৃহস্থের সাথে রাশিদার তড়িঘড়ি করেই বিয়ে দিয়ে দেয়া হলো! রাশিদার দৈহিক গঠন ছোট খাটো বলে অনায়াসে বিশ বছরকে পনের বছর বলে চালিয়ে দেয়া সম্ভব হয়েছিলো!
তবে, রাশিদার সাথে জ্বিন বসত করে এটা যেমন পাত্রপক্ষ জানলো না তেমনি তার স্বামী খালেকের মনে যে অন্য নারী বসত করে এমনকি ভালো মতো খুঁটি গেড়েই বসত করে -এটাও রাশিদা আর তার পরিবারের অগোচরে রয়ে গেল ! সেই নারী আর কেউ না - রাশিদার আপন জা!
রাশিদার ভাসুর মালেক ছিলো ভোদাই কিসিমের ! হয়ত তার অটিজম ছিলো - অজ পাড়া গাঁয়ে কবিরাজের জ্ঞানে বেশিকিছু কুলায় না!
ধানক্ষেতের বর্গা দেয়া, হিসেব নিকেশ, ধান বেচার টাকা সুদে খাটানো এসব বিষয়ে মালেক বিলকুল অজ্ঞ! রাশিদার স্বামীই সব দেখাশোনা করতো! টাকা পয়সা জমিজমার বিষয়ে কথা বললে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকতো!
সকাল হলেই সে গরুর পাল নিয়ে মাঠে চলে যেত! কেমন করে সে দুই ছেলে পয়দা করেছে সে এক রহস্য ! স্ত্রী আংগুরির সাথে তার তিনবেলা খাবার ছাড়া আর বিশেষ কোন অন্তরঙ্গতা দেখা যেত না!
রাশিদার জা আংগুরি শ্যামলা বরণের ! মুখের গড়নও তেমন আহামরি নয় ! তারপরও ,তার দিকে তাকালে চোখ ফেরানো যায় কিন্তু মন সরানো দায় ! নারীশরীরে যেখানে যতটুকু আঁক বাঁক থাকলে তাকে চরম আকর্ষণীয় লাগে আংগুরির ঠিক ততটাই আছে ! তার যৌবনের ঝলক, রূপের চমক, নিতম্বে ঢেউ তুলে কলসি কাখে হেঁটে যাবার ঠমক সবকিছু যেন চোখে ধাঁধা লাগায় !
তার আবেদনের কাছে রাশিদাও বড্ড ফিকে!
(চলবে)

রাশিদার রাশিফল ( তৃতীয় পর্ব)
নব দম্পতিকে বরণ করতে চৌকাঠে শাশুড়ির সাথে আংগুরিও ছিলো! তার পানের রসে লাল পুরু ঠোঁটে দুর্বোধ্য হাসি, চোখে কৌতুকের ঝিলিক ! দেবরের গালে হালকা ঠোনা মেরে বলে, “কি গো ছোটমিয়া, নতুন বউ পাইয়া আমগোরে ভুইলা যাবা নি?? -খালেক অপ্রস্তুত হয়ে বাড়িয়ে দেয়া শরবতের গ্লাসে চুমুক দেয়!
নতুন বউ রাশিদাকে ভিড় করে দেখতে সবাই এলো! আদর আলহাদ, খাতির , যত্ন হলো। প্রথম দিকে রাশিদা ভেবেছিলো, বাপের বাড়িতে যেভাবে সে একচ্ছত্র আধিপত্য করে এসেছে এখানেও বুঝি তাই হবে। ভুল ভাঙ্গলো যেদিন খালেক গৌরিপুর হাট থেকে ধান বেচার টাকা থেকে সোনালী পাড় দেয়া দুটি শাড়ি নিয়ে এলো- একটি লাল, একটি নীল ! রাশিদা লাল রং ছাড়া কিছু পরেনা - সে স্বভাবতই লাল শাড়ির দিকে হাত বাড়াতে খালেক স্পষ্ট ভাষায় জানায় সে লাল রং এর শাড়ি এনেছে আংগুরিজানের জন্য !
খালেক সারাদিন কাজ সেরে মাদুর পেতে হারিকেনের আলোয় ভাত খেতে বসে ! আংগুরি ভাত বেড়ে দেয়। রাশিদা এটা সেটা এগিয়ে দেয় ! তারপর, খাওয়া শেষে এটো হাতেই রাজ্যের গল্প চলে !
রাশিদা ঘুমে ঢুলু ঢুলু করে- আংগুরি আর খালেকের গল্প ফুরায় না। হারিকেনের আলো আংগুরির টানটান শ্যামলা ত্বকে পড়ে এক অপার্থিব জ্যোতি ছড়ায় ! মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে খালেক !
রাশিদা রূপবতী কিন্তু কলাবতী নয়, ছলাবতীও নয় । রাশিদার রূপ মুগ্ধ করে ! কিন্তু আংগুরির রূপ বুকের মধ্যে ধিকি ধিকি জ্বলে ! এক অদ্ভুত কষ্ট কষ্ট ভাব হয় যার জন্ম পৃথিবীতে নয় - অন্য কোন ভূবনে !
আংগুরি শুধু মুখ নিয়ে কথা বলেনা- চোখ দিয়ে, ভ্রূ দিয়ে, ঠোঁট দিয়ে, চুল দিয়ে, আংগুল দিয়ে , বুকের খাঁজ দিয়ে , আঁচলের ভাঁজ দিয়ে, নাকের নিচের প্রতি ফোঁটা ঘাম দিয়ে কথা বলে! আংগুরির দুই পোষা বিড়াল কালু আর ধলু আংগুরির পায়ের কাছে বসে গল্প শোনে ! রাশিদা উঠে ঘুমাতে চলে যায়- তবু তাদের গল্প শেষ হয়না!
ধীরে ধীরে রাশিদা বুঝতে পারে, এই বাড়ির সবকিছুর উপর আংগুরির অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ! সে ছটফট করে কিন্তু আংগুরির সাথে ঝগড়া করার সাহস পায়না !
শাশুড়ি নীরিহ তাই তার সাথে কটু কথা বলে মনের ঝাল ঝাড়ে ! নিজে নিজে সারাক্ষণ বিরবির করে বকে ! অকারণে ধান মাড়াই করতে আসা নারীদের সাথে চিৎকার করে ঝগড়া করে ! কখনও আংগুরির ফলন্ত পেঁপে গাছের গোড়া কেটে দেয় ! সে রাগ করতে জানে, অনুরাগের ভাষা তার জানা নাই !
রাশিদা যখন পোয়াতি হলো তখন তার নিজের মনে কথা বলা আরও বেড়ে গেল ! ঘরের মধ্যে বিশাল বিশাল ছায়া দেখতে পেত ! পুকুরে গোসলে নামলে কে যেন তার পা ধরে টেমে নিয়ে যায়! কে যেন ফিসফিস করে ভরদুপুরে কথা বলে ! ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে উঠতো ! খালেক সারাদিন ক্লান্ত হয়ে রাতে ঘুমাতে পারে না !
তাই রাশিদা ঘুমাতে শুরু করলো তার শাশুড়ির সাথে! রাশিদার কণ্যা সন্তান হবার পরও রাশিদা শাশুড়ির সাথেই থাকতো !
একদিন হঠাৎ রাশিদা যেন নিশির ডাকে মাঝ রাতে খালেকের ঘরে যায় ! কে জানে , কোন জ্বিন তাকে ডেকে নিয়েছিলো! দরজা অল্প ভেজানো! দরজায় বসে আছে কালু আর ধলু! অসফুট কিছু শব্দ আসছে ঘর থেকে যা চিনতে কোন বিবাহিত নারীর কখনও ভুল হয়না !
অতি সন্তর্পণে দরজা খোলে রাশিদা ! কুপির মৃদু আলোয় ঘর্মাক্ত দুটি শরীর চকচক করে ! ভূতগ্রস্থের মতো ফিরে আসে রাশিদা ! সমস্ত শরীর কাঁপছে !
কিছু বলে না সে ! কোন জবাবদিহি না! কোনো ঝগড়া না।
শুধু পরদিন কালু আর ধলুর জবাই করা প্রাণহীন নিথর দেহ উঠানে পাওয়া যায় !

রাশিদার রাশিফল ( চতুর্থ পর্ব)
আংগুরিজান দাওয়ায় হেলান দিয়ে উদাস চোখে উঠানের দিকে তাকিয়ে আছে। তার ডগমগে লাউ গাছটাতে লাউ ফলেছিলো জব্বর! মাচা জুড়ে শুভ্র লাউ ফুলগুলো হিম হিম হাওয়ায় গর্বিত সৌন্দর্যে দোল খেত ! এই গাছটির গোড়া আজ সকালে কে যেন নিষ্ঠুরভাবে কেটে রেখেছে। কে করেছে, কেন করেছে আংগুরি বোঝে ! কিন্তু সংসারে সব বুঝলেও বোঝাতে নেই ! বুঝেও না বোঝার ভান করে থাকা বুঝদারের পরিচয়!
আংগুরির বাবা হতদরিদ্র! শুধু বসতভিটার এক কানি জমি ছাড়া কিছুই নেই ! ছোট ভাইএর জন্ম দিতে গিয়ে তার মা মারা যায় ! হাড় জিরজিরে রুগ্ন শরীর পরপর এতগুলো বাচ্চা বিয়ানোর ধকল সামলাতে পারেনি! মা মরা ছোট ভাইটাও বাঁচে নি! এক মাসের মাথায় নিউমোনিয়ায় মারা যায় ! যে কয়দিন বেঁচে ছিলো আংগুরি এর ওর ঘর থেকে গাই এর দুধ চেয়ে মেগে পানি মিশিয়ে খাইয়েছে! ভাই মরাতে কাঁদেনি আংগুরি ! বরং হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে ! আরেকটি ভাই মানে খাবারের আরেকটা বাড়তি মুখ! আরেকটি বুভুক্ষু পেট!
তার বাপে পেটের ক্ষুধা ঠিকমতো মিটাতে পারেন না কিন্তু শরীরের ক্ষুধা মিটাতে দু মাসের মাথায় সৎ মা ঘরে আনেন ! নিত্য অভাবের সংসারে আপন মাও যেখানে বিমাতাসুলভ আচরণ করে সেখানে সৎমা তো ডাইনী হতে বাধ্য ! সৎ মার সংসারেই আংগুরিজান শিখেছে, “বেড়ে না দিলে কেড়ে খেতে হবে !”
গায়ে গতরে বেড়ে ওঠার সাথে সাথে আংগুরির রূপ খোলতাই হয়। গরীবের ঘরে যৌবনবতী কণ্যা ঢাকনা ছাড়া কাঁঠালের কোয়ার মতো- মাছির মতো লুচচা পুরুষ ভনভন করে ! তারা অবশ্য কেউ বিবাহ করতে চায় না! কেউ পাটক্ষেতে আবার কেউ খড়ের পালায় টেনে নিতে চায় ।
খালেকদের বাড়ি তার বাবা কামলা খাটতে যেত ! একদিন, আংগুরি বাপের কাছে ভাত নিয়ে গিয়েছে তখন খালেকের মা বড় ছেলে মালেকের জন্য এক দেখাতেই আংগুরিকে পছন্দ করেন!
বিয়ের প্রস্তাবে আংগুরির বাপ যেন আসমানের চাঁদ হাতে পেলেন। মেয়েকে নিয়ে বড় ভেজালে ছিলেন! মেয়ে সেয়ানা হলে এমনিতেই সব বাপের বুক ধড়ফড় করে সেখানে তার মতো হাভাতে ঘরের মেয়ে কে নিবে ! শুনেছে, এই বাড়ির বড় পোলা বেক্কল! তাতে কি ? আংগুরি তিনবেলা খেতে পারবে , ভুখা ঘুমাতে হবে না- মন চাইলে বাপের বাড়িও কিছু পাঠাতে পারবে !
বিয়ের সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই আংগুরি বোঝে তার স্বামী হাবলা ভ্যাবলা ! শারিরীকভাবে সে পুরুষ বটে কিন্তু পুরুষত্ব জাহির করার বোধ আর সক্ষমতা তার বিলকুল নাই ! তার কাছে গোয়ালের গরু আর ঘরের বউ একই !
বড় ধরনের ধাক্কা খায় আংগুরি - শরীরের স্পর্শের কাংগাল নয় সে! কিন্তু একটু সোহাগ,একটু ভালবাসা পাওয়ার জন্য মনটা টাটায়! তাছাড়া মালেকের আরও দুই ভাই আছে ! এই ভোদাই এর বউ হয়ে থাকলে বেহুদা জীবনভর সকলের বান্দিগিরি করে কাটাতে হবে এটা সে বোঝে!
হাতটা প্রথম দেবর খালেকই বাড়িয়েছে ! আংগুরি জানে, “কুড়িয়ে পাওয়া ধন আর সহজে পাওয়া নারীর মন “- দুটাই পুরুষের কাছে মূল্যহীন ! কাজেই সে খালেকের কাছে সহজে ধরা দেয়নি ! বড়শিতে গাঁথা মাছের মতো খেলিয়েছে!
এখন আংগুরিকে দু দন্ড কাছে না পেলে খালেকের শরীর মন তড়পায় ! দুই শতক ধানী জমি এখন আংগুরির ! তার দুই ছেলে মোমেনশাহী দারুসসুন্নাত কামিল মাদ্রাসা -ময়মনসিংহ জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসায় পড়ে! সংসারের নিয়ন্ত্রণ তার আঁচলের গিটে বাঁধা!
পাপ পূণ্যের কিতাবি পাঠ সে পড়ে নি ! তার বাপজান তো একটা স্লেট পর্যন্ত কিনে দিতে পারেনি । রাশিদার জন্য তার করুনা হয় - এর বেশি কিছু নয় ! টিকে থাকার তাড়নার কাছে করুনার কোন বেল নাই !
রাশিদার রাশিফল (পঞ্চম পর্ব)
রাশিদা নুরির হাত পিছনে মুচরে ধরে ঠাস ঠাস করে গালের উপর চড় কষিয়ে দিয়ে বলে, “খবরদার কানবিনা কইলাম, কানলে কাইট্যা লামু! “
নুরি রাশিদার বড় মেয়ে - বয়স চার বছর ! নুরি জানে, মায়ের উপর জ্বিনের আছর আছে , তাই সে কাঁদে না! কান্না চেপে রাখতে গিয়ে হেচকি ওঠে - ফরসা মুখ কান্নার দমকে টকটকে লাল হয়ে যায় !
আংগুরিজান গোবর দিয়ে ঘুঁটে বানায় আর আড়চোখে রাশিদার কান্ড কারখানা দেখে ! সে নুরিকে বাঁচাতে গেলে বেচারি আরও বেশি মাইর খাবে ! শাশুড়িকে ইশারা দেয় রাশিদাকে থামাতে!
এসময় রাশিদার ছয় মাস বয়সী দ্বিতীয় কন্যা জরি ঘর থেকে ডুকরে কেঁদে উঠতে রাশিদা নুরির পিঠে দুম দুম করে আরও দুটা কিল মেরে ঘরের দিকে যায় !
আংগুরি বোঝে - আজকের মাইর গতরাতের জের !
নুরি ছোটবেলা থেকেই আংগুরির কোল ঘেষা! আংগুরিকে সে ডাকে আম্মু ! রাশিদা কত মেরেছে জেঠি ডাকার জন্য - নাহ! তার মুখে ঐ এক ডাক আম্মু ! আম্মু কত সুন্দর গল্প শোনায় - তেপান্তরের মাঠে এক ঠেংগা তালগাছে শাকচুননি থাকে তার গল্প ,বিলের পাশ দিয়ে বড় মাছ নিয়ে ভরদুপুরে কেউ হেঁটে গেলে মাছখেকো পেত্নী মিহি সুরে ডাকে, “এঁই মাঁছ দিঁয়ে যাঁ! “ আংগুরি কী যে সুন্দর করে চোখ গোল গোল করে মাছখেকো পেত্নীর অভিনয় করে দেখায় ! নুরি ভয়ে আতঁকে উঠে আংগুরির গলা জড়িয়ে ধরে- তারপরও শোনে- বড় ভালো লাগে!
গৌরিপুর থেকে বহুদূরে ময়মনসিংহ নামের শহর আছে -সেখানে মেলা বসে! বায়স্কোপ আছে, বান্দর নাচ আছে, নাগরদোলা আছে ! নুরির শিশু মন রূপকথার পংখীরাজে সওয়ার হয়ে ময়মনসিংহ শহরে চলে যায় !
রাতে আংগুরির বুকে মুখ লুকিয়ে সে ঘ্রাণ নেয় ! বাবা হাট থেকে জবাকুসুম তেল নিয়ে এসেছে! সেই জন্যই বুঝি আংগুরির বুকে ফুলের সুবাস!
সেই সুবাসেই বুকের ওমে সে ঘুমিয়ে পড়ে! খালেক রাতে ঘুমুতে যাবার সময় কোলে করে নুরিকে নিজের ঘরে নিয়ে যায় !
খালেকের সাথে রাশিদার শারিরীক অন্তরঙ্গতা হয় বটে তবে তা নিছক দাম্পত্যের খাতিরে ! শয্যায় রাশিদা এক টুকরো কাঠের মতোই নির্জীব! তার কোন উচ্ছ্বাস নেই , নেই কোন উত্তেজনার আবেশিত শীৎকার! চরম মুহূর্তেও সে মাঝে মাঝে বিরবির করে - কি বলে, কাকে বলে সেই জানে ! খালেক ক্লান্ত হয়ে পাশ ফিরে শোয় ! রাশিদার সাথে মিলিত হতে তার বড্ড একঘেয়ে লাগে!
দেহের সাথে দেহের ঠোকাঠুকি হলে কেবল ভোঁতা শব্দ হয় - অংগের সাথে হৃদয়ের সংগ না মিললে জলতরংগের মধুর বাজনা সৃষ্টি হয়না !
গতরাতে খালেক প্রায় দিনের মতোই ঘুমন্ত নুরিকে আনতে আংগুরির ঘরে যায় ! একটু পরে রাশিদাও জরির দুধ গরম করতে ওঠে ! আংগুরির ঘর পেরিয়ে চুলার কাছে যেতে গিয়ে দেখে আংগুরির ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ! খালেক কি নিয়ে যেন গল্প করছে আর হেসে গড়িয়ে পরছে আংগুরি ! তার হাসির শব্দ কাঁচের চুড়ির রিনঝিনের মতো ! হাসি শেষ হয় কিন্তু তার রেশ রয়ে যায় !
গায়ে গরম ভাতের মাড় ঢেলে দেয়া কুকুরের মতো ছিটকে সরে আসে রাশিদা ! মাথা থেকে পা পর্যন্ত প্রতিটি রোমকূপে, শিরায় শিরায়, প্রতি রক্ত কণিকায় ছলকে ওঠে দুর্দমনীয় ঈর্ষা!
নুরির উপর তখন থেকেই প্রবল জেদ হয় - ওর বাহানায়ই তো রোজ তার স্বামী জা এর ঘরে যায় !
নিজেকে ভীষণ পরাজিত মনে হয় - স্বামী, সন্তান , সংসার সব তার হয়েও কেন যেন কিছুই তার নিজের নয় ! চারপাশে কালো অশুভ ছায়া ফিসফিসিয়ে কি যেন বলে ! রাশিদার অন্তরে ফণা তোলে বিষাক্ত ক্ষোভ! এই ক্ষোভ ধ্বংসের আলামত !!!
রাশিদা কচ কচ করে কাঁচা পেঁপে খাচ্ছে! মেজো মেয়ে জরি দূরে দাঁড়িয়ে ভয়ে ভয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে ! ক’দিন ধরে মায়ের সাথে থাকা জ্বিনটা বড্ড উৎপাত করছে!
গতকাল রাশিদা নুরি আর জরির পুতুলের বাক্সের সবগুলো কাপড়ের পুতুল কাঁচি দিয়ে কেটে ফালাফালা করেছে ! পুতুলের শাড়িগুলোকে পর্যন্ত রেহাই পায়নি ! সে কথা ভাবতেই জরির চোখে পানি চলে আসে ! সে দ্রুত হাতের তালু দিয়ে চোখের পানি মোছে ! চোখে পানি দেখলেই মা আবার রেগে যাবে!
একগাদা কাঁচা পেঁপের কষে রাশিদার ঠোঁটের কোন ছিলে গেছে ! তারপরও সে থামছেনা ! শুনেছে কাঁচা পেঁপে খেলে পেটের বাচ্চা নষ্ট হয় ! আনারস খেলেও হয় কিন্তু এ এলাকায় আনারস নেই !
সে টের পাচ্ছে সে আবার পোয়াতি! তার তৃতীয় কন্যা স্বপ্নার বয়স দুই ! সে এখনও বুকের দুধ ছাড়েনি !
এর মধ্যে আবার ? টের পাবার পর থেকে সে ঢেঁকিতে প্রবল শক্তিতে পার দিয়েছে, পুকুরে গিয়ে লাফালাফি করেছে - পেঁপে খেয়েছে- পেটের বাচ্চা নষ্ট হয়নি !
এখন কবিরাজের কাছ থেকে বাচ্চা নষ্ট করার ঔষধ আনতে যেতে হবে ! গোপনে কেমনে যাবে এই বিষয়টা নিয়ে সে গত কয়েকদিন ধরে ভাবছে- এজন্যই তার মেজাজটা তিরিক্ষি হয়ে আছে !
স্বামী খালেক যখন তাকে স্পর্শ করে তখন রাশিদার প্রতিটি রক্তকনিকায়, শরীরের প্রতি রোমকূপে এক অদ্ভুত শিহরণ জাগে! মাতাল মাতাল লাগে ! কিন্তু পরমুহূর্তেই কুপির আলোয় তার সাথের জ্বীনটার ছায়া দেখা যায়! টিনের চালে কে যেন ঢিল মারে !
রাশিদা তৎক্ষণাৎ নিথর হয়ে যায় ! জ্বিনটার সামনে খালেকের সাথে অন্তরঙ্গ হতে রাশিদার সংকোচ হয় ! খালেক খানিকক্ষণ তার শরীর নিয়ে ছানাছানি করে কোন সাড়া না পেয়ে পাশ ফিরে শোয় !
এই তিন কন্যা তার আর খালেকের ভালোবাসায় পৃথিবীতে আসে নি, খালেক তাকে কখনও ভালোবাসতে পারেনি - এই মাইয়ারা জ্বিনের সহবতে এসেছে !
এতগুলো পেঁপে খেয়ে আর ঢেঁকিতে পার দিয়ে রাশিদার গা গুলায় ! কুয়ার পাড়ে বসে সে হড়হড় করে বমি করে সব উগরে ফেলে!
দুরে বসে শাশুড়ি আর পাশের বাড়ির ময়নার দাদী সব দেখছিলো ! ময়নার বুড়ি দাদী ভারি কূটনী স্বভাবের - লাঠি ঠকঠক করে পাড়াময় ঘোরে আর এ বাড়ির খবর ও বাড়ি করে ! চরম ঠোঁটকাটা !
সে পিচ করে একদলা পানের পিক ফেলে ফোকলা দাঁতে হেসে বলে, ও খালেকের মা, তোর পোলার বউ দেহি পোয়াতী- আবার মাইয়া হইব- প্যাট দেইখাই বুঝি ! চার মাইয়া - বলেই খিকখিক করে আসে ! সুপারি গলায় আটকে না যাওয়া পর্যন্ত হেসেই চলে !
কোনমতে হাসি কাশি সামলাতে সামলাতে আবার বলে, “তাবিজ কবজে লাভ হইব না! খালেক বাপজান - জোয়ান মদদ - হের বংশ থাকলো না - বড় আফসোস!!!”
বুড়ি লাঠি ঠকঠকিয়ে রওনা হয় ! বড় ফূর্তি লাগে ! রাশিদার পুনরায় মাইয়া বিয়ানোর গফটা পুরো পাড়ায় জানাতে হবে !
বের হবার রাস্তাটা চিপা- কে জানি এই মাত্র পানি আর ভাতের মাড় ফেলে পিছল করে রেখেছে ! বুড়ির পা পিছলে যায় - ঐ মুহূর্তে কে যেন তার হাতের লাঠি ধরে হ্যচকা টান দেয়! ময়নার দাদী তাল সামলাতে না পেরে চিৎ হয়ে মাটিতে পরে ! হাডডিসার শীর্ণ দেহ কাপড়ের পোটলার মতো পড়ে থাকে !
মাথা কেটে রক্ত ঝরে- বাম পা কোমর থেকে ভেঙেছে মনে হয় ! নাড়তে অসম্ভব কষ্ট হয় ! তার গোংগানি কেউ শোনে না ! জরি দূর থেকে পুরো বিষয়টি দেখে ! সে ভয়ে থরথর করে কাঁপে !
ঘন্টাখানিক পর আংগুরি পুকুর থেকে ফেরার পথে ময়নার দাদীকে ঐ অবস্থায় দেখতে পায় - কবিরাজ ডাকা হয় !
বুড়ি সেই যে বিছানা নিল আর বিছানা থেকে উঠতে পারেনি, বাম পায়ের হাড় আর কোমর ভেঙেছিলো ! দুই মাস পর মৃত্যু হয় ! মরনের আগে বাম পাশ, পিঠ ঘা হয়ে ছিলো - বিটকেলে ইঁদুর পচা গন্ধে কেউ তার ধারে কাছে ঘেষতো না !
শেষ কটা দিন সে কেবল ছটফট করতো আর বলতো,রাশিদার যে জ্বিন তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলেছিলে সে তার আশেপাশে ঘুরছে - সে তার গলা টিপে ধরতে চায় ! বুকের উপর চেপে বসতে চায় !
একদিন ঘোর অমাবস্যার রাত ! ময়নার দাদী ককিয়ে ওঠে - রাশিদার জ্বিন তার গলা টিপে ধরেছে ! গো গো শব্দ হয়! সংসারে বুড়ো মানুষের কথা এমনিতেই কারও কানে ঢোকে না - আর সে তো রোগ জর্জর অথর্ব!
পরদিন সকালে তাকে ব্যাকাতেড়া অবস্থায় মরে পরে থাকতে দেখা গেল !

রাশিদার ভাসুর মালেক তড় তড় করে নারকেল গাছে উঠে নারকেল কাটছে ! ধারালো দা এর আঘাতে কাটা নারকেল নিচে পড়ছে ! রাশিদার মন চাইছে দা টা নিয়ে নিজের পেটে বসিয়ে দেয়। পেটের বাচ্চাটা হাজার চেষ্টা করেও সে নষ্ট করতে পারেনি ! কবিরাজের দেয়া পানি পড়া খেয়েছিল বটে তবে অনেক দেরিতে! পেটের সন্তান ততদিনে নড়াচড়া শুরু করে দিয়েছে।
রাশিদার শাশুড়ি পাশের গ্রামের দরবার শরীফ থেকে ছেলে হওয়ার তাবিজ এনে কোমরে, হাতে বেঁধে দিয়েছে! নাতি হবে এই নিয়তে এক মন চাল দিয়েছে ওরসে।
রাশিদাকে তিনটি দোয়া আর আমল নিয়মিত করতে বলেছে কিন্তু রাশিদার জ্বিন দোয়া কালাম মুখস্থ করতে দেয় না - ভুলায় দেয়! তারপরও রাশিদার ক্ষীণ আশা ছিলো, ছেলে হবে। সম্পত্তির মালিক হবে তার ছাওয়াল ! কিন্তু গত কদিন ধরেই জ্বিন তার কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করছে - মাইয়া হইব, মাইয়া…।
প্রসবের দিন ঘনিয়ে এসেছে। খালেক গৌরিপুরের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দাইকে নিয়ে এসেছে । শেষ ক’দিন সে রাশিদার সাথেই থাকবে !
রাশিদার মনে হয়, তার পেটে সন্তান এলে খালেক খুব মৌজে থাকে ! রাশিদার কাছ থেকে দূরে থাকার একটা জবরদস্ত অজুহাত পেয়ে যায় সে! দুইবেলা খাবার বেড়ে দেয়া, খাবার সময় তালপাতার পাখার বাও দেয়া, গোসলে যাবার সময় তেল, গামছা এগিয়ে দেয়া কোন কাজেই রাশিদাকে ডাকে না সে ! মুখে বলে, রাশিদার বিশ্রামের দরকার কিন্তু রাশিদার মনে হয় এটা যত্ন না রাশিয়াকে দূরে রাখার কৌশল মাত্র !
কুয়ার পাশে গোসলের সময় পিঠ ডলে দিতেও আংগুরির ডাক পড়ে ! আংগুরির প্রতিটি আংগুলের ডগায় যেন ছন্দ আছে ! সে যখন কানের কাছে মুখ এনে “কি গো ছোটমিয়া”বলে আদুরে গলায় ডাকে তখন পৃথিবী ওলট-পালট হয় ! প্রতিটি রক্তকণিকা আদিম উচ্ছ্বাসে নাচে!
রাশিদা দূর থেকে দুজনকে লক্ষ্য করে! খালেকের মুখের রেখায় তখন অন্যরকম আভা ফুটে বের হয় ! তার চোখে নিখাদ মুগ্ধতা! এ শুধু দেহের প্রতি দেহের আকর্ষণ নয় - দেহ তো রাশিদাও দেয় ! এ অন্য কিছু ।
ভালোবাসা মুখে জানান দিতে হয় না! দুজনের শরীরি ভাষা দেখেই মনের কথা বোঝা যায় !
রাশিদার জ্বিন কত বার চেয়েছে আংগুরির ভাতের সানকিতে ইঁদুর মারা বিষ মিশিয়ে দিতে ! কিন্তু আংগুরি কখনও আলাদা করে কিছু খায়না। নুরি, জরি আর স্বপ্নাকে ভাত মাখিয়ে খাইয়ে ঐ এটো সানকিতেই সে খেয়ে নেয় ! তাছাড়া আংগুরির ঘ্রান শক্তি কুকুরের মতো ! একবার গোসল করে এসে যে শাড়ি পরবে তার আঁচলে চুপিচুপি কুপির তেল ঢেলে রেখেছিলো - আংগুরি বাতাস শুকে রাজ্যের বিস্ময় নিয়ে বলে,” ও ছোট বউ - শাড়িতে তেল আসলো কেমনে?? “
একবার শুধু অসাধারনতার ভান করে অতি সাবধানে মাছ ভাজার গরম তেল কড়াই থেকে আংগুরির গায়ে ঢেলে দিয়েছিলো ! আংগুরি পিছন ফিরে চাল বাছছিলো। ঠিক সেই মুহূর্তেই আংগুরি কূলা নিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছিলো বলে তেলটা শরীরে না পড়ে পায়ের পাতায় পড়েছিলো !
সাথে সাথে চামড়া ঝলসে মাংস বেরিয়ে যায় ! খালেক ঐ সময় পুরো পাগল হয়ে যায় ! এই বাড়ির কেউ কখনও কবিরাজ বৈদ্য ছাড়া কারও কাছে চিকিৎসা নেয়নি! কিন্তু খালেক আংগুরিকে ময়মনসিংহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় ! তিন সপ্তাহ চিকিৎসা চলে! দুই জন মহিলা রাখা হয় তার সার্বক্ষণিক সেবার জন্য ! খালেক নাওয়া খাওয়া আড়ত সব বাদ দিয়ে আংগুরির ব্যানডেজ করা পায়ের কাছে বসে থাকতো !
আংগুরি মুচকি মুচকি হেসে মৃদু আলহাদী কন্ঠে বলতো, “কি গো ছোটমিয়া, কামে যাইবা না ?”
খালেক শুধু কাজকর্ম নয়; সমগ্র দুনিয়াদারি এই শ্যামল বরণ , কাজল নয়না, কিন্নরকন্ঠী লাস্যময়ী নারীর পদতলে কুরবান করতে পারে !!

(চলবে)

Sabrina Husain 

No comments:

Post a Comment