-
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা উপনিবেশ ব্যবস্থার পতন ঘটে। ব্রিটেনের মতো বৃহৎ ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলো এত দরিদ্র ও দুর্বল হয়ে পড়ে যে, উপনিবেশগুলো শাসন করার ক্ষমতা তারা হারিয়ে ফেলে। তারা জানত যে পরিস্থিতি এমন হতে পারে। পরিস্থিতি তেমন হলে উপনিবেশগুলো হারানোর আগেই যাতে সেখানে মীর জাফরের দল এবং চাকর-নফর গোষ্ঠী তৈরি করে রাখা যায়, সেই ব্যবস্থা তারা করতে শুরু করে। বিশ্বযুদ্ধের পর উপনিবেশগুলো ছেড়ে দেওয়ার সময় তারা দেখে, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যে যদি দুটি প্রক্সি সেনাশাসিত রাষ্ট্র তৈরি করা যায়, তাহলে সেই দুটি বিশাল ভূখণ্ড হারালেও সেগুলো তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাবে না। প্রক্সি দেশগুলো তাদের হয়েই কাজ করবে। জন্ম থেকেই সেই দুটি মার্কিন প্রক্সি রাষ্ট্র হলো পাকিস্তান ও ইসরায়েল।
এটিই হলো ভূয়া হাদিসের মুসলিম জাতি-তত্ত্ব। অপরদিকে, হিন্দু নামে কোনো ধর্ম নেই। ভারতের সিন্ধু নদীর তীরের সভ্যতাকেই ইরানের ফারসিরা 'হিন্দ' লিখত, যেহেতু ফারসি ভাষায় 'স' কে 'হ' বলা হয়, অনেকটা বরিশালের ভাষার মতো। সেই কারণে সিন্ধু নদীর তীরের সভ্যতার মানুষদের নাম হয়ে গেল 'হিন্দু' -যারা হিন্দ (সিন্ধু) নদের পাড়ে বাস করে। সেই হিন্দের ইতিহাস যখন গ্রিকরা লিখল, তারা লিখল 'ইন্ডাস', কারণ গ্রিক ভাষায় আবার 'হ' কে 'অ' বলা হয়। সেই কারণে সিন্ধু নদীর তীরের সভ্যতার নাম হয়ে গেল 'ইন্ডাস' সিভিলাইজেশন।
সুতরাং হিন্দু ধর্মের নাম নয়, সভ্যতা, সংস্কৃতি বা জাতির নাম। অথচ মুসলিম ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের নাম—তারা যে জাতিসত্তার বা যে ভৌগোলিক অবস্থানেরই হোক না কেন; আরব, আফ্রিকান, পার্সিয়ান, মিশরীয় অথবা আফগান। কিন্তু গোঁজামিলের ভূয়া হাদিসের মুসলিম জাতি-তত্ত্ব আওড়িয়ে, মিথ্যা বলে লোক ক্ষেপিয়ে হয়ে গেল দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ভাগ।
মজার বিষয় হলো, সিন্ধু নদ পাকিস্তানের ওপর দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে। সেই হিসাবে পাকিস্তানিরাও হিন্দু। তার প্রতি এত দিন নাক সিটকানোর পর এখন ভারত যখন সিন্ধু-তীরের হরপ্পা, মহেঞ্জোদারো বা ইন্ডাস সভ্যতার পরিচয়ে পরিণত হয়েছে, তখন পাকিস্তানিরা বলছে, 'আমরাই তো ইন্ডাস সভ্যতার বৃহত্তম অংশ। আমি বলি, কিরে, তোরা না মুসলিম সিভিলাইজেশনের মুসলমান জাতি? ১৪০০ বছর আগে যাদের জন্ম, তোরা পাঁচ হাজার বছর আগের ইতিহাস নিয়ে কী করবি?
© সিরাজুল হোসেন
No comments:
Post a Comment