এর মধ্যেই বাঙ্গু মুসলমানের ইতরামীর জন্য নিষিদ্ধ হয়েছে ভারতীয় গরু আর বাধ্যতামূলক হয়েছে আমেরিকান শুকরের মাংস। তবে যারা চিকেন বিরিয়ানি খেতে খেতে ডিম আগে না মুরগি আগে এমন আলোচনাও চালিয়ে যেতে খুব মজা পায় তাদের জন্য মুরগি কীভাবে এল, এটা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সত্য যেন ধরা দিচ্ছিল না। যদিও ডারউইন বলে গেছেন, চমৎকার রঙিন বনমোরগ বা জাঙ্গল ফাউল থেকেই গৃহপালিত মুরগি এসেছে। বর্তমানে হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা গরু হত্যা ও গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে হিস্টিরিয়ায় ভুগলেও বেদ-উপনিষদের আমলে, মানে হিন্দু আদি ধর্মে গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ ছিল না। বরং নিষিদ্ধ ছিল মুরগি খাওয়া বা হত্যা করা, কারণ মুরগি ছিল রামের পালিত পাখি। মুরগির অপর নাম কিন্তু রাম পাখি।
ডারউইন ভেবেছিলেন, আমাদের বন মোরগ বা জাঙ্গল ফাউল থেকেই গৃহপালিত মুরগি এসেছে, যেহেতু তারা দেখতে ও আচরণে খুব কাছাকাছি। ডারউইন এটাও বলে গেছেন যে, মুরগি গৃহপালিত হয়েছে ভারতে। এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে অনেক তত্ত্ব এসেছে যে, মুরগি আফ্রিকায় গৃহপালিত হয়েছে ৯,০০০ বছর আগে অথবা চীন বা ভারত-পাকিস্তানের ইন্দাস ভ্যালিতে চার হাজার বছর আগে। কিন্তু এগুলোর পেছনে শক্ত প্রমাণ কখনও মেলেনি। সম্প্রতি এই ২০২০ সালে মাত্র বিজ্ঞানীরা অনেক চেষ্টার পর খুঁজে পেয়েছেন যে, গৃহপালিত বা পোষা মুরগি কীভাবে এল। জিনগত ডিএনএ বিশ্লেষণে তারা খুঁজে পেয়েছেন যে, *Gallus gallus spadiceus* প্রজাতির বনমোরগ থেকেই প্রধানত গৃহপালিত মুরগিরা এসেছে।
সম্প্রতি আরেক গবেষণায় পাওয়া গেছে আরেক চমকপ্রদ তথ্য। সেটি হলো, মুরগি গৃহপালিত হওয়া ধান চাষের সঙ্গে সম্পর্কিত। আমাদের বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত এলাকায় জঙ্গল কেটে যে ধানের চাষ হতো, সেখানে বনমোরগ ও বনমুরগিরা পাকা ধান বা চাল খেতে আসত। এরপর তারা কার আশেপাশেই বাসা বানিয়ে ডিম পাড়ত। ধানচাষী পরিবারগুলোর সেই ডিম ও বাচ্চা নিয়ে গিয়েই হয়তো গৃহপালিত করার চেষ্টা সফল হয়।
এই ঘটনা ঘটে মাত্র ৩,২০০ থেকে ৩,৬০০ বছর আগে। আগে যে ধারণা করা হয়েছিল, চিকেন বিরিয়ানি বা চিকেন ফ্রাইয়ের চিকেন তত পুরোনো নয়। এই সমস্ত ধানচাষীদের বাড়ির পাশেই *Gallus gallus spadiceus* প্রজাতির বনমোরগের দেহাবশেষ আবিষ্কৃত হয়েছে সাম্প্রতিক গবেষণায়। ইউরোপের প্রথম মুরগি ৩,০০০ বছরের পুরোনো। উল্লেখ্য, বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টে মুরগির কোনো উল্লেখ নেই।
ধান চাষ ও চিকেনের এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই মনে হয় চিকেন বিরিয়ানি এত সুস্বাদু। আর এটা আমাদের এলাকায় ঘটেছে বলেই হয়তো আমরা এটি এত পছন্দ করি।
No comments:
Post a Comment