রেনুদির বাড়ি ছিল তালদিতে ,ঠিক তালদি নয় আরো একটু ভেতরে একটা নদীর পাড়ে। আমি যখন গিয়েছিলাম চার দিকে ভেরি। ওপরে জাল পাতা তবুও ফাঁকফোকর দিয়ে পানকৌড়ি মাছরাঙা ছোঁ মারে। রানুদির বর মাছ ধরে আড়তে জমা দেয় অন্ধকার রাতে মুলতঃ চিংড়ি মাছ।
রেনুদির বাড়িতে আমার যাওয়ার কারন মুলত ভেরি দেখা। দু দিকে যতদুর চোখ যায় থৈ থৈ জল। মাঝে খেজুর নারকোল বাবলা গাছের আল। শামুকখোল, কাদাখোঁচা মদনটাক,তিলেমুনিয়া আর বক। রানুদির বাড়িতে নিকোনো উঠোনের এক কোনে জাল। খড়ের চালে লকলকেপুঁই গাছে মিটুলি ধরেছে। ভরভরন্ত মাখন সিমে ঝুঁকে পরেছে মাচা৷ দূরে পিকনিক করতে এসে মাইকে গান বাজাচ্ছে একদল। মাটির দাওয়ায় কাঠের পিড়ে। কাঁসার গ্লাসে জল।
সেদিন দুপুরে ঝোপ থেকে ইয়াব্বড়ো খাম আলু তুলে এনেছিল রেনুদির ছেলে। রেনুদির ইচ্ছে ছিল বৌদিমনিকে শহরের মত মাংস রেঁধে খাওয়াবে। আমার জোরজুলুমে চাল থেকে কাচুমাচু মুখে পেড়ে আনলো পুইমিটুলি,মাচা থেকে ছিড়লো মাখন সিম।খাম আলু,মিটুলি,মাখন সিম আর চিংড়ি দিয়ে ভাজাভাজা বেশ ঝাল ঝাল তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়া। পাতের একধারে গাছের কামরাঙা মাখা।
সেদিন দাওয়ায় পা ছড়িয়ে পরন্ত বিকেলে মনের কত কথা উজাড় করে দিয়েছিল রেনুদি। রেনুদিদের গ্রামের নাম ভুলে গিয়েছি। রেনুদি এখন আর ট্রেন ধরে আসেনা। শুনেছিলাম ছেলে ভালো কাজ করে, মা কে আর বাসন মাজতে হয়না। আমার রোজকার রান্নাগুলো স্মৃতি আর গল্প থেকে উঠে আসে। কত কিছু হারিয়ে যায়।সুখ দুঃখের পাঁচফোড়নে। টক ঝালের স্বাদে।
পুষ্পান্ন
No comments:
Post a Comment