Wednesday, July 9, 2025

যে সহজ আমলে রিজিক বৃদ্ধি হয়

 ইসলামের অফুরন্ত সম্ভারে এমন তিনটি আমল রয়েছে, যেগুলো পালন করলে আল্লাহ রিজিকের দরজা খুলে দেন। এ তিনটি আমলের সুস্পষ্ট গ্যারান্টি দিয়েছেন বিশ্বনবী (সা.) নিজেই।

এক. ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ’ বেশি বেশি পাঠ করা। দিনে অন্তত একশত বার।  কারণ এটি জান্নাতের ধনভাণ্ডার। এটি ব্যক্তির দারিদ্র্য নাশকারী জিকির।

রাসুল (সা.) বলেছেনন,

 “لا حول ولا قوة إلا بالله” জান্নাতের কোষাগারের একটি ধনভাণ্ডার।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪২০৫)

আরেক হাদিসে এসেছে-, 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ أَكْثِرْ مِنْ قَوْلِ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ فَإِنَّهَا كَنْزٌ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ ‏"‏ 

“আবু হুরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আমাকে মহানবী (সা.) বললেন, তুমি ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বেশি বেশি বল। কেননা তা জান্নাতের রত্নভাণ্ডারের অন্তর্ভুক্ত।” 

(তিরমিজি, হাদিস: ৩৬০১)

উপরোক্ত হাদিসের বাকি অংশে বিবৃত হয়েছে যে, যদি কেউ

لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ وَلاَ مَنْجَا مِنَ اللَّهِ إِلاَّ إِلَيْهِ

“লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ ওয়ালা মানজায়া মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি” -এইসবটুকু পাঠ করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তার সত্তর প্রকারের বিপদ দূর করেন এবং এগুলোর মাঝে সবচেয়ে ক্ষুদ্র বিপদ হলো দরিদ্রতা।

কাজেই প্রত্যুষে সূর্য ওঠার আগেই যদি একজন মুমিন এ জিকিরটি ১০০ বার পাঠ করেন, তার আত্মা শুদ্ধ হয়, মন প্রশান্ত হয় এবং আধ্যাত্মিক এক আলোয় দিন শুরু হয়—যা রিজিক বৃদ্ধির উপযুক্ত ভূমি প্রস্তুত করে।

দুই. ফজরের দুই রাকাআত সুন্নাত নিয়মিত আদায় করা। কারণ এর মূল্য পুরো দুনিয়ার চেয়েও বেশি।
আম্মাজান আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন,

رَكْعَتَا الفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا

‘ফজরের দুই রাকাআত (সুন্নাত) নামাজ দুনিয়া ও তাতে যা কিছু আছে তার চেয়েও উত্তম।”

(সহিহ মুসলিম, হাদিস ৭২৫)

এই নামাজ কেবল একটি ইবাদতই নয়, বরং তা এক অফুরন্ত বরকতের উৎস।

এরপর কিছু সময় জিকির, কোরআন তিলাওয়াত ও ইস্তেগফারে লিপ্ত থাকা রিজিক বাড়ানোর অন্যতম কার্যকর উপায়।

তিন. নিয়মিতদ সামর্থ্য অনুযয়ী সদকা করা। পরিমাণ কম হলেও। কারণ সদকা অদৃশ্য এক এন্টিবায়োটিক যা রিজিক বাড়ায়।

মহান আল্লাহ বলেন: 

وَ مَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَهُوَ یُخۡلِفُهٗ ۚ وَ هُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ 

‘আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় কর তিনি তার বিনিময় দেবেন এবং তিনিই উত্তম রিয্কদাতা।’
(সুরা সাবা, আয়াত : ৩৯)

আর মহানবী (সা.) বলেছেন:

 مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ 

‘সদকা কখনো ধন কমায় না’ 

(সহীহ মুসলিম: ২৫৮৮)

একটি খেজুরও যদি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করা হয়, তাতেও আল্লাহ সন্তুষ্ট হন এবং বহুগুণে রিজিক ফিরিয়ে দেন। তাই প্রতিদিনের সদকা হোক একজন মুসলিমের নিয়মিত অভ্যাস।

আজকের অর্থনির্ভর ও উদ্বেগপূর্ণ জীবনে এই তিনটি আমল হতে পারে এক স্বস্তির জানালা। এগুলো শুধু রিজিক বাড়ায় না, বরং অন্তরের অস্থিরতা দূর করে, আখিরাতের জন্যও সঞ্চয় হয়ে থাকে। তাই আসুন, রাসুল (সা.)-এর শেখানো এ সুন্নাত আমলগুলো আস্থা ও বরকতের প্রত্যয়ে নিজেদের জীবনে আত্মস্থ করি।

No comments:

Post a Comment