Monday, July 13, 2026

যোগ্যতা

 


আমার বিয়ে ভাঙার পর মানুষ আমাকে দেখে খুব দুঃখ পেত। অন্তত আমার সামনে। আমার পেছনে কী পেত, সেটা পরে জেনেছি। কেউ বলত, বিদেশে থাকা মেয়েদের এই এক সমস্যা—স্বাধীনতা বেশি। কেউ বলত, বয়স ত্রিশ পার হলে মেয়েদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। আমার এক খালা মাকে ফোন করে খুব গোপনীয় গলায় বলেছিলেন, “বুঝলা আপা, পুরুষ মানুষরে একটু হাতে রাখতে হয়। সারাক্ষণ সমান সমান করলে সংসার টেকে না।”

আমি অবশ্য আদনানকে কোনোদিন সমান সমান করিনি। আমি তাকে নিজের চেয়ে একটু বেশিই রেখেছিলাম।
আদনানের সঙ্গে আমার পরিচয় ফেসবুকে। আমার একটা পোস্টে সে কমেন্ট করেছিল, “প্রবাস মানুষকে স্বাধীন করে না, আরও একা করে দেয়।” বাক্যটা পড়েই আমার মনে হয়েছিল, ছেলেটা গভীর। এখন বুঝি, একটা মানুষকে গভীর ভাবার জন্য আমরা মেয়েরা মাঝে মাঝে খুব অল্প পানিতেই ডুব দিই।
তখন আমি কানাডায় চার বছর ধরে থাকি। ভালো চাকরি করি, নিজের গাড়ি আছে, দুই বেডরুমের একটা কন্ডো ভাড়া নিয়েছি। দেশে গেলে আত্মীয়রা আমাকে দেখে এমনভাবে কথা বলত, যেন আমি মানুষ না, সফল অভিবাসনের একটা জীবন্ত বিজ্ঞাপন। “সামারা তো কানাডায় থাকে”—আমার নামের আগে এই কথাটা বসে গিয়েছিল। কেউ আমার চাকরি সম্পর্কে বিস্তারিত জানত না, আমি কী খেতে পছন্দ করি জানত না, রাতে আমার ঘুম হয় কি না জানত না। শুধু জানত, আমি কানাডায় থাকি।
আদনানও জানত।
আমাদের কথা শুরু হলো। সে খুব মন দিয়ে আমার কথা শুনত। অফিসের ঝামেলা, শীতের দিনে গাড়ির উইন্ডশিল্ড থেকে বরফ পরিষ্কার করার বিরক্তি, অসুস্থ হলে একা ফার্মেসিতে যাওয়া—সব। একদিন আমি বলেছিলাম, “জানো, মাঝে মাঝে খুব ক্লান্ত লাগে।” আদনান সঙ্গে সঙ্গে বলেছিল, “তুমি অনেকদিন একা সব সামলাচ্ছ। এখন তোমার একজন নিজের মানুষ দরকার।”
নিজের মানুষ।
দুইটা শব্দ।
দুইটা শব্দ দিয়ে একটা শিক্ষিত, স্বাবলম্বী, মোটামুটি বুদ্ধিমান নারীকে কত সহজে বোকা বানানো যায়, সেটা নিয়ে সম্ভবত গবেষণা হওয়া দরকার।
আমার মা প্রথম থেকেই আদনানকে পছন্দ করেননি। কারণ হিসেবে তেমন কিছু বলতে পারতেন না। শুধু বলতেন, “ছেলেটা কানাডা কানাডা বেশি করে।” আমি মাকে বুঝিয়েছিলাম, মানুষ নতুন একটা দেশ নিয়ে কৌতূহলী হতেই পারে। মা বলেছিলেন, “তোরে নিয়া কৌতূহল কম কেন?”
আমি রেগে গিয়েছিলাম।
আমাদের মায়েদের একটা বিরক্তিকর স্বভাব আছে। তারা মাঝে মাঝে এমন প্রশ্ন করে, যেগুলোর উত্তর আমাদের কাছে থাকে না। তখন আমরা প্রশ্নটাকেই সেকেলে ঘোষণা করে দিই।
আদনান আমাকে অনেক কিছু জিজ্ঞেস করত। কানাডায় বাড়ির দাম কেমন, নতুন ইমিগ্র্যান্টদের চাকরি পেতে কতদিন লাগে, ড্রাইভিং লাইসেন্স করতে কী লাগে, স্পাউস স্পনসরশিপে কত সময় লাগে। এর ফাঁকে ফাঁকে সে আমাকে মিসও করত। খুব দক্ষতার সঙ্গে। “আজ তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে,” বলার দশ মিনিট পর জিজ্ঞেস করত, “আচ্ছা, স্পাউস ভিসায় গেলে কি ওপেন ওয়ার্ক পারমিট লাগে?”
আমি উত্তর দিতাম।
কারণ আমি শিক্ষিত মেয়ে। তথ্য জানি। সরকারি ওয়েবসাইট পড়তে পারি। এবং প্রেমে পড়েছি।
এই তিনটা জিনিস একসঙ্গে থাকলে মানুষ ভয়ংকর কর্মদক্ষ হয়ে ওঠে।
আমাদের বিয়ে হলো আট মাসের মাথায়। দেশে গিয়ে আমি তিন সপ্তাহ ছিলাম। বিয়েতে আদনানের বন্ধুরা আমাকে “কানাডার ভাবি” ডাকত। প্রথম প্রথম মজা লাগত। একদিন বলেছিলাম, “আমার নামও কিন্তু আছে।” সবাই হেসেছিল। আদনানও। সে আমার কানের কাছে মুখ এনে বলেছিল, “ওরা মজা করে।”
আমি তখনও জানতাম না, কোনো কোনো রসিকতা ভবিষ্যতের সাক্ষী হয়ে থাকে।
কানাডায় ফিরে আমি স্পনসরশিপের কাগজপত্র শুরু করলাম। আদনান খুব সাহায্য করত। আমাদের সম্পর্কের তারিখ, প্রথম কথা, প্রথম দেখা—সব তার মনে ছিল। আমি অবাক হয়ে বলেছিলাম, “তোমার এত কিছু মনে থাকে?” সে হেসে বলেছিল, “তোমার ব্যাপারে কিছু ভুলি?”
এখন ভাবলে সত্যিই অবাক লাগে। লোকটার কিছুই ভুলে যাওয়ার অভ্যাস ছিল না। বিশেষ করে ডকুমেন্টের ডেডলাইন।
আদনানের ভিসা হওয়ার দিন সে ভিডিও কলে কেঁদেছিল। আমি স্ক্রিনশট নিয়েছিলাম। ছবিটা অনেকদিন আমার ফোনে ছিল। পরে ডিভোর্সের সময় ছবিটা ডিলিট করতে গিয়ে প্রায় দশ মিনিট তাকিয়ে ছিলাম। মানুষ আনন্দে কাঁদলে ঠিক কোন আনন্দে কাঁদছে, সেটা ছবিতে বোঝা যায় না।
আদনান কানাডায় এলো নভেম্বরের শেষে। আমি এয়ারপোর্টে লাল কোট পরে গিয়েছিলাম। লাল আমার পছন্দের রং নয়, কিন্তু সে একবার বলেছিল আমাকে লালে সুন্দর লাগবে। প্রায় এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার পর তাকে দেখলাম। আমার বুকের ভেতর কেমন করে উঠেছিল। আদনান বের হয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরল, তারপর মাথা তুলে চারপাশে তাকাল।
আমি ভেবেছিলাম, নতুন দেশ।
নতুন দেশ দেখে মানুষ তাকাবেই।
গাড়িতে ওঠার পাঁচ মিনিটের মধ্যে সে জিজ্ঞেস করেছিল, “এখান থেকে ডাউনটাউন কত দূর?” আমি হেসে বলেছিলাম, “আগে বাসা দেখবা না?” সেও হেসেছিল। “বাসা তো তোমার সঙ্গে। দেশটা একটু দেখি।”
কথাটা শুনে আমার খুব ভালো লেগেছিল।
প্রেমে থাকা অবস্থায় সাধারণ বাক্যের ভেতর কবিতা খুঁজে পাওয়ার একটা বদভ্যাস আমার ছিল।
প্রথম কয়েক মাস আমি আদনানকে কানাডা শেখালাম। সিন নম্বর, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, হেলথ কার্ড, ড্রাইভিং টেস্ট, রেজুমে—সব। তার রেজুমেতে “excellent communication skills” লিখেছিলাম আমি নিজে। ইন্টারভিউয়ের আগের রাতে বসে সম্ভাব্য প্রশ্নের উত্তর প্র্যাকটিস করাতাম। আদনান নার্ভাস হলে বলতাম, “তুমি পারবা।”
সে সত্যিই পেরেছিল।
একটা ভালো চাকরি পেল।
আমি সেদিন বিরিয়ানি রান্না করেছিলাম। আদনান ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছিল—“Alhamdulillah. Hard work always pays off.”
আমি স্ট্যাটাসে লাভ রিয়েক্ট দিয়েছিলাম।
আমার নাম সেখানে ছিল না।
অবশ্য থাকার কথাও না। হার্ড ওয়ার্কটা তারই ছিল। আমি শুধু রেজুমে লিখেছি, ইন্টারভিউ প্র্যাকটিস করিয়েছি, ছয় মাস বাসা ভাড়া দিয়েছি, গাড়িতে করে জায়গায় জায়গায় নিয়ে গেছি এবং প্রতিদিন বলেছি—তুমি পারবা।
এসব কাজ সম্ভবত সফট ওয়ার্কের মধ্যে পড়ে।
চাকরির পর আদনান বদলাতে শুরু করল—এই বাক্যটা আমি বহুবার বলেছি। আসলে বাক্যটা ভুল। আদনান বদলায়নি। আমার প্রয়োজন কমতে শুরু করেছিল।
প্রথমে সে নিজে গাড়ি কিনল। তারপর নিজের বন্ধু হলো। শুক্রবারের আড্ডা শুরু হলো। জিম। অফিস পার্টি। ওভারটাইম। আমি মাঝে মাঝে বলতাম, “আমরা কোথাও যাই না কেন?” সে বলত, “তুমি এত needy কেন?”
শব্দটা আমি প্রথমবার শুনে চুপ হয়ে গিয়েছিলাম।
Needy.
যে নারী ছয় মাস একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে ডেন্টিস্ট খুঁজে দেওয়া পর্যন্ত সব করেছে, সে সপ্তাহে একদিন একসঙ্গে বাইরে খেতে চাইলে needy হয়ে যায়।
ইংরেজি ভাষা সত্যিই সমৃদ্ধ।
এক রাতে আদনান বাসায় ফিরল প্রায় দুইটায়। আমি সোফায় বসে ছিলাম। সে দরজা খুলে আমাকে দেখে বিরক্ত হলো। “তুমি এখনও জেগে?” আমি বললাম, “ফোন ধরছিলা না।” সে জুতা খুলতে খুলতে বলল, “এইটা বাংলাদেশ না। এখানে একজন আরেকজনরে পুলিশিং করে না।”
আমি সেদিন প্রথমবার তার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়েছিলাম।
এই লোকটার জন্য আমি সরকারের কাছে লিখেছিলাম, আমাদের সম্পর্ক genuine। প্রমাণ দিয়েছিলাম। ছবি দিয়েছিলাম। চ্যাট দিয়েছিলাম। বিয়ের সার্টিফিকেট দিয়েছিলাম। বন্ধুদের চিঠি দিয়েছিলাম।
একটা দেশের সরকারকে বোঝাতে আমার অনেক কাগজ লেগেছিল যে আদনান আমাকে ভালোবাসে।
নিজেকে বোঝাতে একটাও লাগেনি।
আমাদের ডিভোর্সের কথাটা আদনান তুলেছিল তার ইমিগ্রেশনের সব ঝামেলা শেষ হওয়ার চার মাস পর।
চার মাস।
আমি ক্যালেন্ডার খুলে হিসাব করেছিলাম। মানুষ বড় কোনো সত্যের সামনে দাঁড়ালে অদ্ভুত ছোট ছোট অঙ্ক করে। কয় মাস। কয় দিন। কোন তারিখে কী বলেছিল। কোন রাতে আমার কপালে হাত রেখে বলেছিল, “তুমি না থাকলে আমি কী করতাম?”
আমি বসে বসে হিসাব করেছিলাম—ঠিক কোন দিন থেকে সে আমাকে ব্যবহার করা শুরু করেছিল?
পরে বুঝেছি, প্রশ্নটাই ভুল।
কিছু মানুষ আপনাকে মাঝপথ থেকে ব্যবহার করে না। তারা শুরু থেকেই জানে আপনি কী কাজে লাগবেন।
শুধু আপনি নিজের ব্যবহারবিধি জানেন না।
আদনান বলেছিল, “আমাদের কম্প্যাটিবিলিটি নাই।”
আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, “কবে থেকে?”
সে উত্তর দেয়নি।
আমি আবার বললাম, “বাংলাদেশে থাকতে ছিল?”
চুপ।
“ভিসার সময় ছিল?”
সে বিরক্ত হয়ে বলেছিল, “সামারা, প্লিজ। ড্রামা করো না।”
ড্রামা।
আরেকটা চমৎকার ইংরেজি শব্দ।
একজন মানুষ আপনার জীবনের তিন বছর নিয়ে চলে গেলে আপনি যদি তিনটা প্রশ্ন করেন, সেটাকে ড্রামা বলা যায়।
আমি আর প্রশ্ন করিনি।
ডিভোর্স হয়ে গেল।
দেশে খবর পৌঁছানোর পর সবাই কারণ খুঁজতে শুরু করল। আমাদের সমাজে একটা বিয়ে ভাঙলে মানুষ বিমানের দুর্ঘটনার তদন্তের মতো মেয়েটার চরিত্র বিশ্লেষণ করে। নিশ্চয়ই কোথাও পাইলট এরর ছিল। এক খালা বললেন, “বিদেশে থেকে মেয়েটা একটু বেশি স্বাধীন হয়ে গেছে।” এক চাচি বললেন, “পুরুষ মানুষরে অত সাহায্য করতে নাই। মাথায় উঠে।” একজন খুব শিক্ষিত আত্মীয় আমাকে বোঝালেন, “Men need to feel needed.”
আমি মাথা নেড়ে কথাটা শুনেছিলাম।
মনে মনে হিসাব করার চেষ্টা করেছিলাম—ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, রেজুমে লেখা, ইন্টারভিউ প্র্যাকটিস, ছয় মাসের খরচ চালানো, ডেন্টিস্ট খুঁজে দেওয়া—ঠিক কোন কাজটার পর একজন পুরুষের নিজেকে needed মনে হওয়ার কথা?
সম্ভবত আমি কোনো একটা ফর্ম পূরণ করতে ভুলে গিয়েছিলাম।
কথাটা মুখে বলিনি।
ডিভোর্সের পর আমার সবচেয়ে বেশি কষ্ট আদনানের জন্য হয়নি। এই কথাটা বুঝতে আমার প্রায় এক বছর লেগেছিল। আমি কাঁদতাম এয়ারপোর্টে লাল কোট পরে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটার জন্য। যে মেয়েটা এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে বারবার ফোনের ক্যামেরায় নিজের চুল ঠিক করছিল। যে ভাবছিল, একজন মানুষ আট হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে তার কাছে আসছে।
মেয়েটা জানত না, মানুষটা তার কাছে আসছে না।
তার মাধ্যমে আসছে।
এই দুইটার মধ্যে দূরত্ব ঢাকা থেকে টরন্টোর চেয়েও বেশি।
ডিভোর্সের ছয় বছর হয়ে গেছে।
আমি এখনও কানাডায় থাকি। আগের কন্ডোটা ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমার নিজের ছোট একটা টাউনহাউস আছে। সামনে অল্প একটু জায়গা। গ্রীষ্মে সেখানে হাইড্রেঞ্জা ফোটে। আমি গাড়িটাও বদলেছি। অফিসে দুবার প্রমোশন হয়েছে। গত বছর একা পর্তুগাল ঘুরে এসেছি। ছবিতে আমাকে বেশ সুখী দেখায়।
আমি সম্ভবত সুখীই।
শুক্রবার রাতে মাঝে মাঝে নিজের জন্য স্যামন বেক করি। নেটফ্লিক্সে কিছু একটা ছেড়ে দিই। পুরোটা দেখি না। ফোন স্ক্রল করি। মা ফোন করলে বলি, “অনেক ভালো আছি মা।”
মা এখন আর বিয়ের কথা বলে না।
আমিও না।
আমার বাড়িতে দুইটা বেডরুম। দ্বিতীয় ঘরটায় একটা ডেস্ক, বুকশেলফ আর ট্রেডমিল রেখেছি। মাঝে মাঝে কাপড় শুকাতে দিই। প্রথম প্রথম ঘরটাকে গেস্ট রুম বলতাম।
এখন বলি, আমার অফিস।
নামের সঙ্গে মানুষের প্রত্যাশাও বদলে যায়।
কখনও কখনও রাতে ঘুম আসে না। আমি নিচে নেমে কিচেনে পানি খেতে যাই। বাড়িটা তখন অদ্ভুত চুপচাপ থাকে। ফ্রিজ শব্দ করে।
প্রবাসে একা থাকলে ফ্রিজ শব্দ করে।
এই কথাটা আমি অনেক বছর আগে আদনানকে বলেছিলাম।
সে বলেছিল, “আমি আসলে আর ফ্রিজের শব্দ শুনবা না।”
মজার ব্যাপার হলো, সে ঠিকই বলেছিল।
আদনান যে দুই বছর আমার সঙ্গে ছিল, আমি সত্যিই ফ্রিজের শব্দ শুনিনি।
এখন আবার শুনি।
তবে এখন শব্দটা আমাকে আগের মতো কষ্ট দেয় না। মানুষ সবকিছুর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যায়। শীতের সঙ্গে। একা গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সঙ্গে। নিজের জন্মদিনে নিজের জন্য কেক কেনার সঙ্গে। একটা বাড়ির দ্বিতীয় বেডরুমকে অফিস বলার সঙ্গে।
শুধু মাঝে মাঝে, খুব গভীর রাতে, ফ্রিজের মোটরটা হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে পুরো বাড়িটা কয়েক সেকেন্ডের জন্য একেবারে নিঃশব্দ হয়ে যায়।
সেই নিঃশব্দের মধ্যে আমি কখনও কখনও এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে থাকা লাল কোট পরা মেয়েটাকে মনে করি।
তার ওপর আমার আর রাগ হয় না।
খুব মায়া লাগে।
ইচ্ছা করে তার কাছে গিয়ে বলি, “সামারা, মানুষটা তোমার জন্য আসছে না।”
কিন্তু তারপর মনে হয়, বলেই বা কী হতো?
সে বিশ্বাস করত না। কারণ তার হাতে তখন ফুল ছিল।
আর যে মানুষের হাতে ফুল থাকে, সে সাধারণত দরজাকে দরজা ভাবে না। ঘর ভাবে।
ফ্রিজটা আবার শব্দ করতে শুরু করে।
আমি পানি খেয়ে উপরে উঠে যাই। কাল অফিস আছে।

Nabila Noshin Shejuti

No comments:

Post a Comment