Wednesday, January 14, 2026

Taslima Nasrin এর ক লাম



নারীদের পর্দা প্রথাকে প্রায়ই চিরন্তন ধর্মীয় বিধান হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, কিন্তু ইতিহাস ভিন্ন কথা বলে। ইসলামের অনেক আগেই প্রাচীন মেসোপটেমিয়া, পারস্য, গ্রিস ও রোমে পর্দা প্রথার অস্তিত্ব ছিল। এটি কখনোই আধ্যাত্মিকতার বিষয় ছিল না। এটি ছিল শ্রেণি, মালিকানা ও পিতৃতন্ত্রের চিহ্ন। অভিজাত নারীদের পুরুষের ‘সম্মান’ রক্ষার জন্য পর্দা করতে বাধ্য করা হতো, অথচ দাসী ও পতিতাদের পর্দা করা নিষিদ্ধ ছিল। শুরু থেকেই পর্দা ছিল নারীর দেহ ও দৃশ্যমানতার ওপর নিয়ন্ত্রণের একটি ব্যবস্থা।

ইসলাম এই ব্যবস্থার উদ্ভাবক নয়। সপ্তম শতকের আরবে নারীরা সামাজিক, অর্থনৈতিক ও জনজীবনে প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ করতেন। কুরআন লজ্জাশীলতার কথা বলে, চেহারা মুছে ফেলার কথা বলে না। কুরআন নারীদের বক্ষ ঢাকতে বলে, এবং এমনভাবে পোশাক পরতে বলে যাতে তাদের চেনা যায় আর তাদের হেনস্থা হতে না হয়। কুরআনে চুল ঢাকার কোনো নির্দেশ নেই, আর মুখ ঢাকারও কোনও নির্দেশ নেই।
নিকাবের আবির্ভাব পরে, পুরুষ ফকিহদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে এবং পারস্য ও বাইজান্টাইন সংস্কৃতির প্রভাবে। এটি কখনোই সর্বজনীন ছিল না, সব মুসলিম নারীর চর্চা ছিল না, এবং শাস্ত্র দ্বারা কখনো বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বোরকা আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়। এর শিকড় মধ্য এশিয়ার উপজাতীয় সংস্কৃতিতে, যা রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে—সবচেয়ে কুখ্যাতভাবে তালেবানের শাসনে—জোরদার করা হয়েছে। বোরকার কোনো ধর্মীয় ভিত্তি নেই; এটি ধর্মের ছদ্মবেশে সামাজিক কারাবন্দিত্বের একটি হাতিয়ার।
সময়ের সঙ্গে ধর্মীয় কর্তৃত্ব প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত হয়ে ওঠে। যা একসময় ছিল সাংস্কৃতিক প্রথা, তা কঠোর মতবাদে পরিণত হয়। পোশাক হয়ে ওঠে আনুগত্যের পরীক্ষায়, আর নারীর শরীর পরিণত হয় সম্মান, ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের যুদ্ধক্ষেত্রে। আধুনিক যুগে পর্দা অস্ত্রে পরিণত হয়েছে—রাষ্ট্রের দ্বারা আরোপিত, ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা রক্ষিত, এবং আইডেনটিটির রাজনীতিতে ব্যবহৃত। ‘চয়েজ’-এর ভাষ্য প্রায়ই গভীর সামাজিক চাপকে আড়াল করে।
ইতিহাস ও যুক্তির দৃষ্টিতে হিজাব, নিকাব ও বোরকা কোনো ঐশী বিধান নয়। এগুলো পিতৃতন্ত্র, ক্ষমতা ও নারীর স্বাধীনতার ভয়ের ফল। এগুলোকে প্রশ্ন করা মানে বিশ্বাসের ওপর আক্রমণ নয়; বরং সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, যা নারীকে মানুষ না ভেবে প্রতীকে পরিণত করে।

No comments:

Post a Comment