-----------------
একটি মানুষ ঘুমাচ্ছে। স্বপ্নে সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামছে, পিছনে বাবা, ভয় পাচ্ছে। জেগে ওঠে, ঘাম ঝরছে। সকালে বন্ধুকে বলল: এটা কি শুধু একটা র্যানডম স্বপ্ন? নাকি এর কোনো মানে আছে? সিগমুন্ড ফ্রয়েড এই প্রশ্নকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছিলেন। তার উত্তর: স্বপ্ন র্যানডম নয়। স্বপ্নের একটি অর্থ আছে। প্রতিটি স্বপ্ন আমাদের অচেতন মনের একটি বার্তা। ফ্রয়েড ছিলেন অস্ট্রিয়ান নিউরোলজিস্ট (আঠারো শত ছাপ্পান্ন থেকে উনিশ শত নয়)। তার মূল আবিষ্কার সহজ কিন্তু শক্তিশালী: আমরা যা মনে করি আমরা যা করি তার সাথে মেলে না। আমরা যা করি তার সত্যিকারের কারণ আমরা জানি না। আমাদের মনের একটি বড় অংশ আমাদের নিজেদের কাছে লুকানো। মন বরফের মতো — যা আমরা দেখি তা শুধুমাত্র শীর্ষ, বেশিরভাগ জলের নিচে লুকানো। এই লুকানো অংশের নাম অচেতন মন।
কেন মন নিজেকে লুকায়? একটি বাস্তব উদাহরণ দেখি। একটি স্ত্রী তার স্বামীকে বলল: আমি তোমাকে এত ভালোবাসি যে আমি তোমাকে kill করতে পারি। স্বামী চমকে গিয়ে বলল: তুমি "kiss" বলতে চেয়েছিলে নাকি "kill"? স্ত্রী লজ্জিত হয়ে বলল: হ্যাঁ, "kiss" বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ফ্রয়েড বলবেন এটা র্যানডম নয়। এটা meaningful। স্ত্রীর অচেতনে ছিল তার স্বামীর প্রতি একটি গভীর aggression, একটি লুকানো রাগ। সম্ভবত স্বামী তার সাথে কোনো কিছুতে ভুল করেছে, বা তার কোনো প্রত্যাশা পূরণ করেনি। কিন্তু স্ত্রী সরাসরি এই রাগ প্রকাশ করতে পারে না। তাই এটি একটি ভুল শব্দে বেরিয়ে আসে। "Kiss" এর জায়গায় "kill" বেরিয়ে আসে। এটাই Freudian উচ্চারণের ত্রুটি। এগুলি র্যানডম নয়, এগুলি অর্থপূর্ণ। এগুলি অচেতন মনের জানালা যেখান দিয়ে লুকানো অনুভূতি বেরিয়ে আসে।
সবচেয়ে বড় জানালা স্বপ্ন। ফ্রয়েড তার বই স্বপ্নের ব্যাখ্যায় প্রমাণ করেন যে প্রতিটি স্বপ্নের একটি লুকানো অর্থ আছে। প্রতিটি স্বপ্ন আমাদের গভীর কামনার একটি পূর্ণতা। যা আমরা জেগে করতে পারি না বা করতে ভয় পাই, স্বপ্নে আমরা তা করি এবং পূরণ করি। একটি উদাহরণ: একটি ছোট ছেলে তার বাবাকে মার ফেলার কল্পনা করে, কারণ তার বাবা তার মায়ের সাথে সময় কাটায় এবং ছেলেটি মায়ের একা সাথে থাকতে চায়। কিন্তু ছেলেটি সত্যিকারে এটি করতে পারে না কারণ বাবা তার চেয়ে অনেক বড় এবং শক্তিশালী। এই কামনা জেগে থাকার সময় দমিত থাকে। কিন্তু রাতে স্বপ্নে ছেলেটি তা পূরণ করে। স্বপ্নে ছেলেটি বাবার বিরুদ্ধে জয়ী হয় এবং মায়ের কাছে চলে যায়।
কিন্তু স্বপ্নগুলি সরাসরি কথা বলে না। তারা প্রতীক ব্যবহার করে কথা বলে। একটি সিঁড়ি নীচে যাওয়া মানে অচেতন মনের গভীরে যাওয়া। একটি বন্দুক মানে শক্তি এবং পুরুষত্ব। একটি ঘর মানে নারী শরীর। একটি নদী মানে জীবনের প্রবাহ। স্বপ্নে এই সব প্রতীক মিশে যায় এবং একটি গল্প তৈরি করে। ফ্রয়েড বলেন প্রতিটি প্রতীক বুঝতে হলে রোগীর ব্যক্তিগত ইতিহাস জানতে হবে, কারণ প্রতিটি মানুষের মন আলাদা এবং তাদের প্রতীকও আলাদা। কিন্তু কিছু সর্বজনীন ধরন আছে যা সবার মধ্যে পাওয়া যায়।
ফ্রয়েড বলেন সমস্ত মানুষের আচরণের মূলে দুটি মৌলিক প্রবৃত্তি আছে। প্রথমটি হলো যৌনতা এবং জীবনের কামনা। দ্বিতীয়টি হলো আক্রমণাত্মকতা এবং ধ্বংসের কামনা। এই দুটি প্রবৃত্তি সবসময় কাজ করছে, সচেতন মনে নয়, অচেতনে। আমাদের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি স্বপ্ন, প্রতিটি ভুল কথা এই দুটি প্রবৃত্তির কোনো না কোনো প্রকাশ। একটি মেয়ে স্বপ্নে দেখে তার মা তাকে আঘাত করছে। এটা অদ্ভুত, কারণ তার মা তাকে ভালোবাসে এবং কখনও মারে না। কিন্তু অচেতনে মেয়েটি তার মা-কে দেখে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে। পিতা মেয়েটিকে এবং মেয়েটি পিতাকে চায় নিজের জন্য, মায়ের সাথে ভাগ করতে চায় না। তাই স্বপ্নে মেয়েটি মাকে পরাজিত করে এবং নিজের করে নেয়।
ইডিপাস এবং মনের যুদ্ধ
-------------------------
প্রাচীন গ্রীকে রাজা ইডিপাস আছে। একটি ভবিষ্যদ্বাণী বলেছিল যে তিনি তার বাবাকে মার ফেলবেন এবং তার মায়ের সাথে বিবাহ করবেন। এই ভবিষ্যদ্বাণী এড়াতে তার পিতামাতা তাকে বিস্মৃত করে দেয়। কিন্তু ভাগ্য অনিবার্য। বড় হয়ে ইডিপাস রাস্তায় এক ব্যক্তির সাথে ঝগড়া করে তাকে হত্যা করে — সে জানত না এটি তার বাবা। তারপর তিনি একটি রাজ্য বাঁচান এবং পুরস্কার হিসাবে সেই রাজ্যের রাণীকে বিবাহ করেন — সে জানত না এটি তার মা। বছরের পর বছর তারা একসাথে থাকে। কিন্তু সত্য একদিন প্রকাশ পায়। মা আত্মহত্যা করে। ইডিপাস নিজের চোখ উপড়ে নেয় এবং নির্বাসনে চলে যায়।
ফ্রয়েড এই গল্পটা নেয় এবং একটি সাহসী দাবি করেন: এটা শুধু একটি গল্প নয়, এটা প্রতিটি ছেলের গভীর, অচেতন কল্পনা প্রকাশ করে। প্রতিটি ছেলে তার বাবাকে সরানো এবং তার মায়ের সাথে থাকার স্বপ্ন দেখে। এটা একটি সর্বজনীন মানব অভিজ্ঞতা যা সব সংস্কৃতিতে, সব যুগে ঘটে। কিন্তু এখানে একটি সমস্যা আছে। ইডিপাস অজান্তে এটি করেছিল। তার কোনো উদ্দেশ্য বা সচেতন ইচ্ছা ছিল না বাবাকে মারার। এটি ভাগ্য, দুর্ঘটনা। কিন্তু ফ্রয়েড বলছেন প্রতিটি ছেলে জেনে বুঝে এটা করতে চায়। তবুও, গল্পের core-এ একটি মনোবৈজ্ঞানিক সত্য আছে। গল্পটি বলে যে মানুষ তার গভীরতম ভয় এবং কামনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না। ভাগ্য এড়াতে গিয়েও ইডিপাস তার দিকে এগিয়ে যায়। এটি বলে যে কিছু শক্তি আছে যা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করে, আমাদের সচেতন ইচ্ছার বাইরে। এবং এটিই ফ্রয়েডকে আগ্রহী করেছে।
একটি শিশু প্রথমে শুধু মায়ের জন্য থাকে। মা সবকিছু, মা খাদ্য, মা আরাম, মা সুরক্ষা, মা পৃথিবী। এই সম্পর্ক সম্পূর্ণ এবং একচেটিয়া। তারপর বাবা আসে এবং সবকিছু বদলে যায়। বাবা মাকে নিয়ে যায়। শিশু যখন মাকে চায়, মা তখন বাবার সাথে থাকে। এটা বারবার ঘটে। শিশু ঈর্ষান্বিত হয়, হিংসা করে, ভাবে: যদি বাবা না থাকত তাহলে মা শুধু আমার হত। এই চিন্তা থেকে একটি প্রবৃত্তিমূলক ইচ্ছা আসে: বাবাকে সরানোর, মার ফেলার ইচ্ছা। কিন্তু একই সাথে শিশু বাবাকে ভয় পায়। বাবা শক্তিশালী, বড়, ভীতিপ্রদ, শক্তির প্রতীক। শিশু জানে যদি সে বাবাকে আঘাত করতে চায়, বাবা তাকে আঘাত করতে পারে, এমনকি শাস্তি দিতে পারে। তাই একটি গভীর দ্বন্দ্ব আসে: শিশু চায় বাবাকে সরানো কিন্তু বাবাকে ভয় পায়, এবং গভীরভাবে বাবাকে ভালোবাসেও, কারণ বাবা শক্তি এবং সুরক্ষার প্রতীক।
এই দ্বন্দ্ব সমাধান হয় কিভাবে? ফ্রয়েড বলেন শিশি একটি চতুর কৌশল করে: সে বাবাকে চিহ্নিত করে, অনুকরণ করে। শিশি ভাবে: আমি বাবার মতো হতে চাই। যদি আমি বাবার মতো হই, তাহলে আমিও মায়ের কাছাকাছি থাকব। যখন আমি বড় হই এবং শক্তিশালী হই, আমিও একজন মায়ের সাথে থাকব। শিশি এই উপায়ে তার বাবার সাথে প্রতিযোগিতায় জয়ী হয় — বাবার মতো হয়ে। এটাই কিভাবে ছেলেরা পুরুষ হয়ে ওঠে। পিতার চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে। কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে এটা অনেক বেশি জটিল এবং সমস্যাজনক।
ফ্রয়েড বলেন মেয়েরাও প্রাথমিকভাবে তাদের মাকে ভালোবাসে। কিন্তু তখন কিছু ঘটে যা সবকিছু বদলে দেয়। মেয়ে বুঝতে পারে তার কোনো penis নেই। এবং ফ্রয়েডের মতে এটি একটি আঘাত। মেয়ে নিজেকে incomplete, deficient, ত্রুটিপূর্ণ মনে করে। মেয়ে মাকে দোষ দেয় এই জন্য যে মা তাকে এই অসম্পূর্ণ শরীর দিয়েছে। তাই মেয়ে মাকে ঘৃণা করতে শুরু করে এবং বাবার দিকে ফিরে যায়, ভাবে: আমি আমার বাবাকে এমন একটি বস্তু দেব যা তার প্রয়োজন। এটাই লিঙ্গ-ঈর্ষা, ফ্রয়েডের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং আজকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করা ধারণা। এটি নারী-বিদ্বেষী, অপমানজনক এবং বৈজ্ঞানিকভাবে অসমর্থিত।
এই Oedipal সমস্যার পরে মনে একটি স্থায়ী যুদ্ধ থাকে সারাজীবন। এই যুদ্ধ তিনটি শক্তির মধ্যে। ফ্রয়েড মনকে তিনটি অংশে ভাগ করেন: Id, Ego এবং Superego। Id হলো সবচেয়ে আদিম অংশ, নবজাতকের মতো, যা চায় তা চায় এখনই, বিলম্ব নেই, চিন্তা নেই। ক্ষুধা, যৌনতা, আক্রমণাত্মকতা সব Id-এর জগত। Id কোনো আইন জানে না, নৈতিকতা জানে না, ফলাফল জানে না। Ego হলো ব্যবহারিক অংশ। এটা বাস্তবতা বোঝে, জানে যে সবসময় যা চাও তা পাও না, জানে যে অপেক্ষা করতে হবে, পরিকল্পনা করতে হবে। Ego হলো মধ্যস্থতাকারী যা বাস্তব পৃথিবীর সাথে মোকাবেলা করে। Superego হলো নৈতিক কর্তৃপক্ষ, পিতামাতা, সমাজ, ধর্ম যা আমাদের মাথায় বসে আছে এবং বলে কি ঠিক কি ভুল, কি লজ্জা কি সম্মান। Superego বলে: এটা করা যায় না, এটা পাপ, এটা লজ্জা, এটা অনৈতিক।
এই তিনটি সবসময় লড়াই করে। একটি কর্মচারীর উদাহরণ নেওয়া যাক। কর্মচারী তার বসকে বেশি বেতন চায় (Id চায়)। কিন্তু জানে যে সরাসরি দাবি করলে বস রাগ হবে এবং চাকরি হারাবে (Ego সতর্ক করে)। তাই সে শান্তভাবে অনুরোধ করে। কিন্তু Superego বলে: এমনকি এই শান্ত অনুরোধও একটি চ্যালেঞ্জ। তুমি তোমার বসের hierarchy-কে অসম্মান করছ। তুমি ungrateful। ফলে কর্মচারী উদ্বিগ্ন এবং অপরাধী অনুভব করে। তিনটির এই লড়াই মানুষকে neurotic, উদ্বিগ্ন এবং বিষণ্ণ করে তোলে। এই লড়াই থামে না, সারাজীবন চলে।
কিন্তু ফ্রয়েডের তত্ত্বে গভীর সমস্যা আছে যা তিনি কখনও সরাসরি দেখেননি বা দেখতে চান্নি। প্রথমত এটা একটি চক্রীয় যুক্তির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যা কখনও মিথ্যা হতে পারে না। একজন রোগী আসে এবং বলে: আমি বিষণ্ণ এবং জানি না কেন। থেরাপিস্ট (ফ্রয়েডের পদ্ধতিতে) বলে: আপনার অচেতনে কিছু আছে যা আপনি দমন করছেন, সম্ভবত আপনার মাকে হত্যা করার ইচ্ছা বা আপনার পিতার সাথে যৌন সম্পর্কের গোপন কামনা। রোগী বলে: এটা ভয়ংকর এবং সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করি না। থেরাপিস্ট বলে: আপনার অস্বীকার এটাই প্রমাণ যে এটি সত্য। যত বেশি অস্বীকার করেন, তত বেশি এটা সত্য, কারণ অস্বীকার হলো দমনের একটি চিহ্ন। এই যুক্তিটি একটি নিখুঁত ফাঁদ। কোনো সম্ভাব্য উত্তর ফ্রয়েডের কথা খণ্ডন করতে পারে না। তুমি স্বীকার করলে তা সত্য, অস্বীকার করলেও তা সত্য। এই ধরনের তত্ত্ব খণ্ডনযোগ্য নয়। বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হতে হলে কিছু এমন থাকতে হবে যা তাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারে। ফ্রয়েডের তত্ত্বে এটা নেই। তাই এটা বিজ্ঞান নয়, এটা বিশ্বাস।
দ্বিতীয়ত ফ্রয়েড সম্পূর্ণভাবে সাংস্কৃতিকভাবে নির্দিষ্ট ছিলেন। তিনি ভিক্টোরিয়ান অস্ট্রিয়ায় থাকতেন যেখানে যৌনতা কঠোরভাবে দমিত ছিল, মহিলারা তাদের শরীর এবং আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলতে পারত না, পুরুষরা তাদের আক্রমণাত্মকতা প্রকাশ করতে পারত না, প্রতিটি জিনিস লুকানো এবং গোপন ছিল। তিনি সেই সমাজে অনেক রোগজনক মানুষ দেখেছেন এবং ভেবেছেন এটাই সর্বজনীন মানব প্রকৃতি। কিন্তু অন্য সংস্কৃতিতে কী ঘটে যেখানে যৌনতা আরও খোলামেলাভাবে আলোচিত হয় এবং মানুষ তাদের আবেগ স্বাধীনভাবে প্রকাশ করে? নৃতাত্ত্বিক গবেষণা দেখায় যে ফ্রয়েডের তত্ত্ব সর্বত্র কাজ করে না। কিছু সংস্কৃতিতে Oedipal সমস্যা দেখা যায় না। কিছু সংস্কৃতিতে মানুষ কম রোগজনক থাকে যদিও তারা তাদের প্রবৃত্তি আরও প্রকাশ্যভাবে প্রকাশ করে। এটা দেখায় যে ফ্রয়েড তার নিজের সংস্কৃতির উপসর্গগুলিকে সর্বজনীন মানব প্রকৃতি হিসেবে ভেবেছেন।
তৃতীয়ত তার নারী সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি। ফ্রয়েড বলেছেন নারীরা হলো অসম্পূর্ণ পুরুষ কারণ তাদের লিঙ্গ নেই, এবং তাদের লিঙ্গ-ঈর্ষা সারাজীবন তাদের সংজ্ঞায়িত করে। এটা শুধু ভুল নয়, এটা গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী এবং দমনকারী। এটা নারীদের তাদের অভাবের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করে, তাদের যা আছে তার জন্য নয়। এবং এটা ক্লিনিক্যাল ক্ষতি করেছে। ফ্রয়েডের অনুসরণকারীরা নারীদের চিকিৎসা করেছেন এই ধারণা নিয়ে যে তারা মৌলিকভাবে অপর্যাপ্ত এবং অসম্পূর্ণ।
চতুর্থত গবেষণা দেখায় মনোবিশ্লেষণ অন্য যেকোনো চিকিৎসার চেয়ে বেশি কার্যকর নয়। আরও খারাপ, এটা দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল। রোগী বছরের পর বছর তাদের ভয় এবং আঘাত নিয়ে কথা বলে। কখনও এটা উপকার করে না, বরং ক্ষতি করে। রোগী আরও বিষণ্ণ হয়ে যায়। কারণ শুধু অন্তর্দৃষ্টি বা বোঝা যথেষ্ট নয়। পরিবর্তন আসে অনুশীলন এবং নতুন আচরণের মাধ্যমে, শুধু তত্ত্ব বা বোঝার মাধ্যমে নয়। ফ্রয়েড এই বিষয়ে খুব কম মনোযোগ দিয়েছেন।
পঞ্চমত ফ্রয়েড একটি মৌলিকভাবে নির্ধারণবাদী বিশ্বদর্শন তৈরি করেছেন যা মানুষকে অসহায় এবং দায়িত্বহীন বানায়। তিনি বলেছেন আমরা সম্পূর্ণভাবে নির্ধারিত আমাদের অচেতন এবং শৈশবের আঘাত দ্বারা। আমরা পুতুল এবং তারগুলি অতীতের হাতে। এর অর্থ আমরা দায়বদ্ধ নয়। সবকিছু আমাদের পিতামাতার দোষ, সবকিছু আমাদের শৈশবের দোষ, আমরা শুধু শিকার। এটা আকর্ষণীয় কারণ এটা আমাদের অপরাধবোধ এবং অপরাধী সচেতনতা থেকে মুক্ত করে। আমি যা করেছি তা আমার দোষ নয়, এটা আমার মায়ের দোষ, আমার বাবার দোষ। কিন্তু এটা বিপজ্জনক কারণ এটা আমাদের অসহায় বানায়। যদি সবকিছু পূর্বনির্ধারিত হয়, তাহলে কেন পরিবর্তনের চেষ্টা করি? এটা সমাজে পরিবর্তনের সম্ভাবনাকেও অস্বীকার করে। যদি আমরা সব দ্বারা নির্ধারিত হই, তাহলে কিভাবে আমরা একটি নতুন সমাজ তৈরি করব? কিভাবে আমরা নিজেদের মুক্ত করব? ফ্রয়েড এই প্রশ্নের কখনও সরাসরি উত্তর দেন না।
ষষ্ঠত ফ্রয়েড সবকিছুকে যৌনতায় ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। একটি খেলনা একটি লিঙ্গের প্রতীক। একটি সিঁড়ি একটি লিঙ্গের প্রতীক। একটি সাপ একটি লিঙ্গের প্রতীক।
এমনকি একটি কলম একটি লিঙ্গের প্রতীক। এটা পয়েন্টের পরে হাস্যকর হয়ে যায়। এটা দেখায় একটি গভীর পক্ষপাত। ফ্রয়েড এত বেশি যৌনতার কথা চিন্তা করছেন (বা যৌনতার বিরুদ্ধে দমিত ছিলেন — যা একই কথা) যে তিনি সবকিছুকে যৌন করে তুলেছেন। কিন্তু মানুষ শুধু যৌন প্রাণী নয়। মানুষ চায় শক্তি, চায় স্বীকৃতি, চায় অর্থ, চায় নিরাপত্তা এবং লক্ষ্য। ফ্রয়েড এই সবকিছু তুচ্ছ করেছেন বা যৌনতায় সংকুচিত করে দিয়েছেন।
ফ্রয়েডের প্রধান শক্তি এটাই যে তিনি দেখিয়েছেন মন একটি একীভূত, স্বচ্ছ জিনিস নয়। গভীরে কিছু ঘটছে যা আমরা সচেতনভাবে জানি না। এই গভীর প্রক্রিয়াগুলি আমাদের আচরণ গঠন করে, আমাদের কথা, আমাদের স্বপ্ন, আমাদের সম্পর্ক। এটা বিপ্লবী ছিল এবং আমাদের মানব প্রকৃতি সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য বলে। কিন্তু তার প্রধান সীমাবদ্ধতা সমানভাবে গভীর এবং হতাশাব্যঞ্জক। তিনি দেখিয়েছেন আমরা কিভাবে আটকা পড়া এবং বন্দী, কিন্তু দেখাননি কিভাবে পালানো বা মুক্ত হই। তিনি দেখিয়েছেন আমরা কিভাবে নির্ধারিত এবং নিয়ন্ত্রিত, কিন্তু দেখাননি কিভাবে আমরা স্বাধীন এবং মুক্ত হতে পারি। তার দৃষ্টিভঙ্গি মৌলিকভাবে হতাশাবাদী: সভ্যতা আমাদের মার করছে, আমাদের প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করছে, আমাদের শৈশব নষ্ট করেছে এবং এখন আমরা রোগজনক, উদ্বিগ্ন এবং অসহায়। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ গল্প নয়। মানুষ শুধু অচেতন প্রবৃত্তির দাস নয়। মানুষ সচেতন, চিন্তা করতে পারে, নিজেদের পরিবর্তন করতে পারে এবং প্রতিদিন করে। এই পরিবর্তনের সম্ভাবনা ফ্রয়েডের বিশ্লেষণের বাইরে। এবং এটি তার তত্ত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অসম্পূর্ণতা।
সূত্র: The Interpretation of Dreams, Civilization and Its Discontents, The Ego and the Id। Peter Gay: Freud: A Life for Our Time। Karl Popper: The Logic of Scientific Discovery। Jacques Lacan: Seminar XI।
See less
Kuloda Roy
No comments:
Post a Comment