সবার সাথে কথা বলবেন না, টপ লেভেলের চিন্তাশীল ও ইমোশনাল ইন্টিলিজেন্স সম্পন্ন মানুষদের সাথে কথা বলুন, যাদের চিন্তা স্ট্র্যাকচারাল। আপনি যখনই কোনো মানুষের সাথে কথা বলছেন, তখন আপনার মস্তিষ্কে নতুন নিউরাল কানেকশন তৈরি হচ্ছে, আর প্রতিটি অভিজ্ঞতা আপনার মস্তিষ্কে কোডিং হচ্ছে। ফেসবুকে র্যান্ডমলি সবার কন্টেন্ট পড়বেন না। সিলেক্টিভলি কিছু মানুষের কন্টেন্ট পড়ুন। আপনার মস্তিষ্ক খুবই ক্ষুদ্র একটি ডিভাইস। আপনি যদি অপ্রয়োজনীয় তথ্য সাক করে মস্তিষ্কে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কানেকশন তৈরি করেন, তাহলে আপনার মস্তিষ্কের পূর্ববর্তী কানেকশন ডিলিট হয়ে যাবে, আপনার সেলফ আইডেন্টিটি পরিবর্তন হয়ে যাবে। এটাকে বলে সিন্যাপ্টিক রিওয়্যারিং। আপনি যখন কোনো মানুষের সাথে কথা বলেন, সে মানুষটি আপনার অজান্তেই আপনার হিপোক্যাম্পাস ও প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের নিউরাল প্যাটার্ন চেঞ্জ করে দেয়। আপনি যত বেশি পরিমাণ মানুষের সাথে কথা বলবেন, আপনার "আমি" নামক ধারণাটি নমনীয় হয়ে যাবে।
এভাবে আপনি আপনাকে হারিয়ে ফেলবেন। মনে করুন, আপনি প্রতিদিন রিপন ভিডিও ও হিরো আলমের কন্টেন্ট দেখেন। আপনি ফান করে দেখলেও আপনার মস্তিষ্কের বিশাল একটি অংশ রিপন ভিডিও ও হিরো আলম হয়ে যায়, সাব-কনসাসলি তারা আপনার মস্তিষ্কের কয়েক বিলিয়ন কানেকশন দখল করে নেয়। আপনি যখন আপনার প্রেমিকার সাথে সেক্স করেন, আপনার মস্তিষ্কের ভেতর রিপন ভিডিও প্রেজেন্ট থাকে। আপনি দিনের মধ্যে কতজন টপ ক্লাস মানুষের সাথে কথা বলেন? আজকের দিনে কয়টি টপ লেভেলের কন্টেন্ট পড়েছেন? আপনি আপনার মস্তিষ্কের ভেতর আইনস্টাইন ও নিউটনকে রাখতে চান অথবা জাংক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর?
আপনি হলেন একটি নদীর মতো প্রবাহমান, আপনার “আমি” প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়। প্রতি সেকেন্ডেই আপনি নতুন। আমার “আমি” বলতে আমরা যা বুঝি তা হলো আমাদের মস্তিষ্কের সামগ্রিক তথ্যের যোগফল। কিন্তু আমরা সামগ্রিক স্মৃতি মনে রাখি না, আর তাই আমাদের মস্তিষ্ক বিক্ষিপ্ত ও বিশৃঙ্খল ডেটার মধ্যে একটি ইলুশনাল কানেকশন তৈরি করে, যেটাকে আমরা “আমি” বলে বিব্রান্ত হই। আপনি যত বেশি তথ্য সাক করবেন, আপনি ততই ইল্যুশনাল হয়ে উঠবেন। নিজের আমিত্ব ও অহংকারকে ভেঙে ফেলার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু এখানে সাবধানতা জরুরী। আপনাকে যুক্তিবিদ্যা ও বিজ্ঞান শিখতে হবে কারণ যুক্তি ও বিজ্ঞান হলো প্রকৃতির সর্বজনীন ভাষা। আপনার দেহের ইমিউন সিস্টেম না থাকলে আপনি যেমন ভাইরাস সংক্রমিত হবেন। তেমনি আপনার মস্তিষ্কে যুক্তি ও বিজ্ঞান না থাকলে আপনি মেন্টাল ইমিউনিটি হারিয়ে ফেলবেন আর তখন যে কোনো মানুষের পক্ষে আপনার আইডেন্টিটি লিখে দেয়া সম্ভব।
প্রতিটি মানুষের মস্তিষ্কে একটি কগনিটিভ ফিল্টার প্রয়োজন, যুক্তি ও বিজ্ঞান হলো সে পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনি আপনার সেলফ আইডেন্টিটি প্রিজার্ভ করতে পারেন। এটা ঠিক যে আপনি যদি সব মানুষের সাথেই কথা বলেন, তাহলে আপনি তাদের আবেগ, অনুভূতি ও টিকে থাকার কৌশলগুলো শিখতে পারবেন। কিন্তু আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, যার কথা শিক্ষনীয় নয়, তার পক্ষেও কি কানেকশন তৈরি করা সম্ভব? না। যার কাছে আপনি "Prediction Error" পাবেন না, সে আপনার মস্তিষ্কে কানেকশন তৈরি করতে পারবে না। আপনি যদি কারও সাথে কথা বলে তার কাছে যা প্রত্যাশা করেছেন, তার থেকেও অপ্রত্যাশিত ভালো কোনো আউটপুট পান, তখনই আপনার মস্তিষ্কে মিনিংপুল কানেকশন তৈরি হবে আর এটা আপনার ব্রেন থেকে ডোপামিন রিলিজ করে।
একজন টপ ক্লাসের মানুষের সাথে কথা বলেল, আপনার মস্তিষ্কে কেমিক্যাল ব্যালান্স তৈরি হয় ও আপনার দেহের ইমিউন পাওয়ার উন্নত হয়।
অন্যদিকে মিনিংলেস ও প্রথাগত চিন্তাভাবনা আপনার মস্তিষ্কে ইলেক্ট্রিক্যাল ডিস্টার্বেন্স তৈরি করে এবং সাময়িক নিউরাল স্পার্ক সৃষ্টি হয়। কোনটা নয়েজ আর কোনটা সিগন্যাল, পার্থক্য বুঝুন। মানুষের সাথে কনভারসেশন আপনার সৃজনশীলতা ও জাজমেন্ট উন্নত করে। কিন্তু সব মানুষের সাথে যুক্ত থাকলে আপনার মস্তিষ্কে নিউরাল স্পার্ক হবে এবং মেন্টাল নয়েজ তৈরি হবে। আপনি প্রতিটি মানুষের মতামত গ্রহণ করলে আপনার নিজের দৃষ্টিভঙ্গি হারিয়ে ফেলবেন। Explore everyone, attach to few, detach from noise.
No comments:
Post a Comment