চট্টগ্রামের আনাচে কানাচে হেঁসেলের রূপকথা। কার্তিকে আকাশ প্রদীপ জ্বলে চাল বা আটার তিল আর তেলে ওম পৌঁছয় আকাশ গঙ্গায়। দুধেলা পথে নেমে আসে তারা গুলো। ধান কাটার আগে মাঠের নব বধু রূপ আকাশটা দেখে আর দেখে,দিন শেষে কালো বেনারসির শামিয়ানা টাঙায়,দিকচক্রবাল রেখা মুছে হয় নহবতখানা সুর ভেসে আসে ওই দূর থেকে।
ঠিক এই কার্তিকেই জালা চালে রান্না হয় মধুভাত নারকেলের দুধে আবার এই সংক্রান্তির দিনে রাঁধা হয় ব্রতের ভাত। সুর্য আর সঙ্গার পুত্র অশ্বিনীকুমার দ্বয়।এ ব্রত তাদের পুজোর। আশ্বিনের শেষ তম দিনে পার্বতী দু মুঠো চাল দিয়ে নাকি বলেছিলেন এই পুজো করতে।
আশ্বিনে রাঁধে কার্তিকে খায়
যে বর মাঙে সে বর পায়
আগের দিন রেঁধে রাখা ভাত কলাপাতা মুড়ে রেখে দেওয়া হয়। সকালে এই ভাতের সাথে খায় নারকোল আর গুড়ের ঝুরো, কলা আর দই।অশ্বিনীকুমার দ্বয় দেব চিকিৎসক। হয়ত ঋতুপরিবর্তনের সময় বিভিন্ন রোগ ব্যধি থেকে আরোগ্যলাভের জন্য এই ব্রত। ব্রতের ভাত বড়ই মিঠে।
আমাদের গ্রাম বাংলার কত যে ঐতিহ্য এই সব পালাপার্বণ আর গল্প কথা সবই শুরু ওই হেঁসেল থেকে। এত সব রান্নার বৈচিত্র,এত স্বাদ হাতের যাদু যে মায়াবী।এই সব শেষে কার্তিকের হিম পরে গভীর রাতে। ঈশ্বর এসে বসেন ধানক্ষেতের পাশে।চাষীর চোখে ঘুম নামে। বাঁশে জ্বলা আকাশ প্রদীপের তিলের তেলের আলো মেখে শেষ শিউলি ঝরে যায়। হাড়ি ভরা ব্রতের ভাত আর উঠোনের আলপনা অপেক্ষা করে আরেক বার সুর্য ওঠার। পৃথিবীর আলাই বালাই দূর হোক,রোগ শোক দূরে যাক।
No comments:
Post a Comment