Tuesday, October 28, 2025

উত্তাপের বাড়া কমা

 


কার্তিকের হাওয়ায় একটা ঝিম ধরা ভাব। শ্যামা পোকারা কোথায় ফিরে যায় কে জানে। খরিশ, কালাচ,চিতি গর্তে ঢোকে, বিসন্নতা মাঠ পেরিয়ে বটের ডালে। শীত ঘুমে যাওয়ার আগে শেষবার ফুল ফুটিয়ে নেয় পদ্ম বন।
কারা যেন বাক্সো প্যাটরা গুছিয়ে রওনা দেয় ভিনমুলুকে। ধানক্ষেতটাও কেমন নিঝুম। আর কদিন বাদেই জড়ো হবে শিউলির দল,খেজুর গাছে কপালি পরিস্কার করে ঢুকিয়ে দেবে বাঁশের কঞ্চি। টুপ টুপ করে রস পরে মধ্য হেমন্তে। আস্তে আস্তে সোনালী হয় ধান। দামোদর মাসের ভোরে প্রদীপ জ্বালিয়ে সংকীর্তনের সুর ভেসে আসে মাধুকরীর।
পাতা ঝরা শুরু হয় দুরের বনে লাল জলপাই পাতা হলুদ বটের পাতা মাঠ জুড়ে কেমন অবসন্নতা। দুরের বটের ডালে রাতজাগা প্যাঁচা ঝিমিয়ে চমকে ওঠে।
হালকা জ্বরে ঝিম নেশা লাগে। মনে হয় শুয়ে থাকি। দুপুরের রোদের তেজ কম। বড়িহাত হবে আর কদিন পরেই। জ্বর কমলে ঘুরে দাঁড়াতেই হয়। দুমুঠো ফুটিয়ে নিতে হয় নিজের জন্য। রুপশালি চালের ভাত ফুটে ওঠে ক্লান্ত দুপুরে। লংকা পুড়িয়ে ঝাঁঝালো সর্ষের তেলে ওল সেদ্ধ মাখা। কাঁচালংকা নুন ডলে নিই ওই লাল টুকটুকে পাকা কুমড়ো সেদ্ধতে। কাঁচা পেঁয়াজ ধনেপাতা লংকা দিয়ে চিংড়ি,কটা নদীর মাছ ভাজা। থালা সাজিয়ে বসতে বসতে পরন্ত রোদ। জ্বরের মুখে একটা মশলা মাখা তেলে ভাজা জলপাই বেশ লাগে।
জীবনের অনেকটা পথ পার করে। অনেকগুলো স্মৃতি মিলিয়ে, জীবনের সব স্বাদের মশলা ধুয়ে বেছে রেঁধে ফেলা এই শেষবেলার ভাতের থালা। একটু গুছিয়ে বসতে হয়। নিজের জন্য যা কিছু পাওনা গন্ডার হিসেবটুকু শুধু পরে থাকে। আর তারপর শুধুই উত্তাপের বাড়া কমা।

পুষ্পান্ন 

No comments:

Post a Comment