যখন মাঝ গগনে সুর্য আমার খুব মনে হয় সেই দিন গুলোর কথা। আম গাছের ফাঁক ফোঁকরে রোদের জাফরি। টলটলে কালজানির জলে রুপোলি ঝিলিক। বেনে বৌ এর ইতিউতি উড়ান এক প্রাগৈতিহাসিক নকশা কাটা আমাদের শাক ভরা আনাচ কানাচ। নীলচে চিংড়ি আর তালশাঁস দিয়ে ঝোল রাঁধত ঠাম্মা। এই গরমে পেট ঠান্ডা করে। লিচু গাছে তখন সবে সিঁদুর খেলা। ঠাম্মার শাড়িতে চন্দন আর ধুপের গন্ধ। টগর আর বেল ফুল ভরা সাজি। লকলকে চালকুমড়ো শাকের ডগা ছিঁড়ে রাখা বারান্দার কোনের ঝুড়িটা। আর মাধুকরী চাইতে আসা বোষ্টমীর গলায় উদাস সুর। রোদ বাড়ে আমরা মিছরির পানা খেয়ে বই খুলি। পাকা আমের গন্ধ ধুপছাও মাখা সোনার বর্ণ খেজুর। আর দূরে কোথাও মেঘলা হাওয়া ভেসে আসা সোঁদা গন্ধ।
অনেকদিন পর খাবার পাঠালাম। আমবাটা দিয়ে মুরগী,বিলিতি ধনেপাতার কুচি দিয়ে যেমনটা ঠিক ঠাম্মা রাঁধত। কোয়াস ডগা শিলবিলাতি আলু আর বেগুন দিয়ে ছোটো মাছের পাতলা ঝোল। আর সেই তাল শাঁস চিংড়িটা অল্প নারকোলের দুধ আর কাঁচালংকার মিশেল। প্রতিটি স্বাদ আলাদা চেনার কথা, আলাদা স্মৃতির বুনোট এই তীব্র দাবদাহে আমার রূপকথার ঠাসবুনোট।
পুষ্পান্ন
No comments:
Post a Comment