Thursday, September 24, 2026

we cannot eat money.

 

আজকে থেকে ১২ হাজার বছর আগে হুট করে আমাদের পূর্বপুরুষরা সিদ্ধান্ত নিলেন যে, তারা শিকার করা ছেড়ে দিয়ে চাষবাস করবেন। আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা সঠিক কোন উত্তর বের করতে পারেন নাই কেনো হুট করে শিকার করা আমরা ছেড়ে দিয়েছিলাম। একে তো শিকার করা প্রাণী থেকে যেই পুষ্টি আসতো, সেটা লতাপাতা, ধান, গম থেকে কয়েকগুণ বেটার ছিলো। তার উপর এই শিকারটা করার সময় যেই সোশাল বন্ডিং হতো সেটা আমাদের স্পিসিসের আর্লি ডে গুলোতে সার্ভাইভালের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হয়ে উঠেছিলো। আর সবচেয়ে বড় জিনিসটা ছিলো, এড্রেনালিন। আজকের দিনেও পুরুষরা নারীদের থেকে অনেক বেশী রিস্ক নেয়ার যেই কোডিংটা সেটা ওই সময়েই হয়ে গিয়েছিলো। সেই সময় পুরুষেরা যখন থাকতো শিকারে, তখন পুরো এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকতো নারীদের হাতে। মেয়েদের সিক্সথ সেন্স বলে যে একটা ডেঞ্জার পারসিভ করার ক্যাপাসিটি সেটাও অনেকের মতে এই সময়টায় একদম পাকাপোক্ত হওয়া শুরু করে।
হান্টার গ্যাদারার থেকে ফার্মার হবার পরপর আমাদের বায়োলজীতে বেশ কিছু ড্রাস্টিক চেঞ্জ আসা শুরু করে। আমাদের দাঁত দূর্বল হয়ে পড়ে, মাংশপেশী হালকা হয়ে পড়ে, গড় উচ্চতা কমে আসে। বেসিকালী, আমরা নিজেরাই নিজেদের ডমেস্টিকেটেড করা শুরু করি। যে একটা লাভ হয় সেটা হচ্ছে খাবারের সহজলভ্যতা। পরবর্তী কয়েক হাজার বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া আমাদের মানুষদের খাবারের কখনো অভাব হয় নাই। পরিশ্রম কমে যাওয়া আর খাবার বেড়ে যাওয়ায় আরো একটা সুবিধা আসে। সেটা আমাদের ব্রেনে। এবার আমরা সভ্যতা গড়ে তোলা শুরু করলাম। যাযাবর জীবন বাদ।
ইউফ্রেতিস, দানিউব, নীল নদ আর সিন্ধুর জল গড়িয়ে সুমেরিয়ান, গ্রিক, মেসোপটেমিয়ান, সিন্ধ সভ্যতা দাড়ালো। কিন্তু কেউই টিকে থাকতে পারে নাই। ইতিহাস নিয়ে পড়াশুনা করতে থাকলে, একটা জিনিস বুঝতে পারবেন যে, দুনিয়া একটা লুপের মধ্যে চলে।
যেমন ধরেন, সুমেরিয়ানদের পতন এনেছিলো একটা জিনিস, লবণ। একই জমিতে বারবার একই ফসল ফলাতে ফলাতে তারা মাটির গভীরে থাকা লবণ তুলে নিয়ে এসেছিলো মাটিতে। কিন্তু এই যে ঘটনা ঘটছে সেটা জেনেও পাত্তা দেয় নাই তাদের রাজা আর রাজদরবারের সদস্যরা। অর্থবিত্তের জৌলসে তারা দেখে নাই, বুঝেও নাই যে কতোটা ক্ষুদ্র তাদের অস্তিত্ব এই পৃথিবীর বুকে। সিন্ধ নদীর পাড়ে বসেও সেই নদীকে পাত্তা না দিয়ে, দিনের পর দিন সেই নদীকে ধ্বংস করতে থাকা মাহেঞ্জো দারোর বাসিন্দারাও ভাবে নাই তাদের এতো নিঁখুত যত্নে বানানো শহরটাকেও ছেড়ে যেতে হবে। আরেকটু ঘাটলে কোরানে আমরা সোডোমের গল্প পাই। ব্যাভিচার আর করাপশন। এই দুই পাপে এক রাতে ধ্বংস হয়েছিলো সেই শহর। হারুত আর মারুতের গল্প পাই। আল্লাহর নূরে বানানো ফেরেশতারা পৃথিবীর মোহে ভুলে গিয়েছিলো তাদের অস্তিত্বের পরিচয়।
মিথ থেকে সরে এসে একদম কাঠখোট্টা ইতিহাস দেখি। মাইটি পারসিয়ান এম্পায়ারের পতন এসেছিলো নিজেদের মধ্যে গেঞ্জাম থেকেই। আরবের উত্থানকে অনেকে ইসলামের জৌলস হিসেবে দেখলেও, এরাবিয়ান পেনিনসুলা থেকে বের হয়ে আসা খালিদ ইবন ওয়ালিদের বাহিনী আহুর মাজদার পূজাকারীদের কাছে ছিলো কেয়ামতের লক্ষণ। আবার তার ১ শতক পার হতে না হতেই ইসলামের দুনিয়া তার রাসূলের রক্ত ঝরাইতেও একবার পিছপা হয় নাই। ইনায়ে বিনায়ে অনেকে অনেক কথা বললেও, ইয়াজিদ যে তার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একবারও অনুশোচনা করে নাই এটা ফ্যাক্ট। পুরা সুন্নী দুনিয়ায় একজনও কী ছিলো না যার কাছে এই মহাপাপটাকে পাপ বলার সাহস হয় নাই? ছিলো না আসলেও। তারপর যখন শিয়ারা এটাকে পুঁজি করে ১২ ইমামকে রাসূলের মর্যাদা দিয়ে দিলো সেখানেও কী একজন স্কলার ছিলো না বিরোধীতা করার? উত্তর হচ্ছে, ছিলো না। সভ্যতার পতন এই সময়টাতেই আসে। অটোমানরা নিজেদের ইতিহাসের গৌরবে ব্রিটিশদের পাত্তা দেয় নাই। গ্রিকরা নিজেদের আনটাচেবল ভাবতে ভাবতে ভুলেই গিয়েছিলো সাগর পার হলে পারসিয়ান এম্পায়ার।
এখন এই যে একটা সভ্যতা আসলে নিজেকে চেনবে, সেই পরিচয়টা ধরে রাখবে এই জিনিসটা ঘটে কোথায়? চার দেয়ালের মধ্যে। আরো স্পেসিফিকালী বললে বাবা আর মা এর হাত ধরে। যেই শিশু জানবে না মূল্যবোধ কী জিনিস, নৈতিকতা কী জিনিস সেটা ওই শিশুর দোষ না। দোষ তার বাপ মা এর। একটা শিশুকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার থেকে বেশী কষ্ট তাকে মানুষ হিসেবে বড় করে তোলাটা। ৪০ এর নিচের শিক্ষিত এডাল্টদের মধ্যে ৫৭% বাচ্চা নিতেই চায় না। ওই কষ্টটা করতে চায় না। কেনো? কারণ, তারা যতো জানতে পারে, ততো বুঝতে পারে তাদের কতোটা ড্যামেজ করে গিয়েছে তাদের বাবা মা রা। তারা ভয় পায় সেই একই কাজ তারাও হয়তো করবে। আর যারা বাচ্চা নেয়, তাদের সকাল সন্ধ্যা কাটে ভয়ে যে তার বাচ্চাটা ঠিক আছে তো। আমার এক কলিগ তার মেয়েকে সাইকেল কিনে দেয়ার সাহস পায় না যদি মেয়ে সাইকেল চালাতে চালাতে একটু দূরে চলে যায় সেই ভয়ে। যেই মানুষটার ভয় আমার কলিগ পাচ্ছে, সেই মানুষটারও তো বাপ মা ছিলো বা আছে, তাই না? হয়তো তার বিপথে যাবার কারণ সে নিজেই। কিন্তু একটা বাচ্চা জন্মের পর যে ভালো বা মন্দ কিছুই বোঝে না তাকে সেটা বোঝানোর দায়ভার কার তাহলে? যদি সে এই ভালো আর মন্দ বুঝতে না শেখে, তাহলে সেই না শেখার দায়ভার কাকে দেবেন? উত্তর একটাই৷
এবার একটু আশেপাশে তাকান। ১১২ বছরের মধ্যে প্রথমবার আমেরিকা সেপ্টেম্বরে কোন সাইক্লোন দেখছে না। যতোটুকু না সেলিব্রেশনের তার থেকে বেশী ভয়ের। ৪০০ বছরে প্রথমবার একই বছরের মধ্যে রিং অফ ফায়ার দুইবার জ্বলে উঠেছে। ডুমস ডে গ্লেশিয়ার গলে যাচ্ছে। ভাদ্র মাসের গরম আসছে ভাদ্র শেষ হবার পর। পৃথিবী থেকে উড়াল দিয়ে চাঁদে যেতে চাইলে টাকার থেকে বেশী ভাবতে হবে অরবিটে উড়ে বেড়ানো ডেড স্যাটেলাইট নিয়ে। মাটির নিচে বিষের মতো জমছে নিউক্লিয়ার ওয়েস্ট।
পৃথিবী আমাদের সংকেত দিচ্ছে। সমাজ আমাদের সংকেত দিচ্ছে। আমাদের সভ্যতাকে ধরে রাখা প্রতিটা পিলারে ক্ষয় ধরছে। ঠিক যেভাবে প্রাচীন সকল সভ্যতা তার উত্থান, রাজ আর পতনের লুপে চলেছে আমরাও সেদিকে যাচ্ছি। আর সবচেয়ে ভয়ের জায়গা হলো, এইযে আমার আপনার মতো মানুষ যারা এই ভয়টা পাচ্ছি, তাদের হাতে কিছুই করার নাই। যাদের করার ক্ষমতা আছে তারা ব্যস্ত তাদের প্ল্যান নিয়ে। কীভাবে আরো কয়দিন ক্ষমতায় থাকা যায় তা নিয়ে।

Only when the last tree has been cut down, the last fish caught and the last river poisoned will we realize that we cannot eat money.

No comments:

Post a Comment