আব্রাহামিক ধর্মের প্রভাবিত বহু দেশের ইতিহাসে দেখা যায় পুরুষদের দাড়ি রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এর একটা বড় কারণ ছিল যাদের দাড়ি ওঠেনি সেই পুরুষ শিশু তরুণেরাও বয়ষ্ক পুরুষদের যৌন আগ্রহের বস্তু হয়ে উঠত। এর কারণ কিন্তু সমকামীতা বা পুরুষের প্রতি আকর্ষণ নয়। ঘরের বাইরে নারী দুর্লভ ও তাদের সাথে মেশা নিষিদ্ধ (প্রাচীন ইহুদি, খ্রীস্টান এবং ইসলাম তিন ধর্মেই)। তাই শিশুদের নারীসূলভ কমনীয়তাকে নারী হিসাবে প্রতিস্থাপিত করাই ছিল একপ্রকার খোলা কিন্তু গোপন চর্চা।
অটোমান তুরষ্ক, তুর্কিক কাজার শাসন আমলের ইরান, মধ্যপ্র্যাচ্যর নানা দেশ, আফগানিস্তান ইত্যাদি দেশে যেখানে নারী-পুরুষের কঠোর সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, নারীর যৌন প্রকাশেের উপর নিয়ন্ত্রণ, নারী পুরুষদের জন্য আলাদা প্রতিষ্ঠান, বালকেদের পরিবারের বাইরের পুরুষদের সন্নিকটে নিয়মিত উপস্থিতি, এবং পুরুষের বয়স, সামাজিক অবস্থান ও ক্ষমতা ভিত্তিক সামাজিক ক্ষমতার প্রভাব এই পরিস্থিতি তৈরি করার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
এই প্রভাব থেকে বাঁচতে দাড়ি রাখার প্রচলন ছিল যেন তার মুখ নারীসূলভ কমনীয় না দেখায় এবং সে যৌন তৃষ্ণার্ত পুরুষের কাছে নারী হিসাবে প্রতিস্থাপিত হয়ে আক্রান্ত না হয়।
আশ্চর্য হচ্ছে এর বিপরীতটাও ছিল। তুরষ্কের কাজার শাসিত ইরানে আমীর সমাজে মোচ দাড়ির রেখা সম্বলিত নারীদের সুন্দরী ও বিশেষ কদর করা হত পুরুষের সমকক্ষ হিসাবে।
তার বইতে নাজমাবাদী বর্ণনা করেছেন, উনিশ শতকের পারস্যে নারী-পুরুষেরা সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড মেনে চলত। নারীরা তাদের ঘন ভ্রু এবং ঠোঁটের উপরের চুলকে এতটাই কদর করত যে, কখনও কখনও তারা মাস্কারা দিয়ে তা এঁকে নিত।
একইভাবে, ‘কোমল’ চেহারার দাড়িবিহীন পুরুষদেরও অত্যন্ত আকর্ষণীয় বলে মনে করা হতো। দাড়িবিহীন যুবক ‘আমরাদ’ এবং মুখে প্রথম দাড়ি গজানো কিশোর ‘নওখাত’ সৌন্দর্যের প্রতীক ছিল।
আফসানেহ নাজমাবাদী হলেন একজন ইরানি বংশোদ্ভূত আমেরিকান ইতিহাসবিদ, জেন্ডার স্টাডিজ একাডেমিক, আর্কিভিস্ট এবং শিক্ষাবিদ। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস এবং নারী, লিঙ্গ এবং যৌনতার অধ্যয়নের ফ্রান্সিস লি হিগিনসন অধ্যাপক।
ছবির রাজকুমারী ফাতেমেহ খানম "এসমাত আল-দোলেহ" ছিলেন তুর্কিক কাজার শাসিত পারস্যের রাজকন্যা। তিনি ছিলেন বাদশাহ নাসির আল-দিন শাহ কাজার এবং তার স্ত্রী তাজ আল-দৌলেহের কন্যা। জ্ঞান বিজ্ঞান এবং নানা বিদ্যায় তিনি এগিয়ে ছিলেন রাজ্যের সেরা পুরুষদের মধ্যে।
Abm Sirajul Hossain

No comments:
Post a Comment