এ সিনেমায় আমরা দেখি রণবীর চরিত্রটি তার বাবার (dominant alpha) স্বীকৃতি চায়। প্রাইমেটদের বিবর্তনে এটাকে বলা হয় “ডমিন্যান্স অ্যাপ্রুভাল”। পৃথিবীর প্রায় সকল প্রজাতির প্রাণীর মধ্যেই আলফা রিকগনিশন মেকানিজম আছে, যেখানে সন্তানের মস্তিষ্ক এমন একজন ব্যক্তির অনুমোদন পেতে চায়, যাকে সে শক্তি ও ক্ষমতার প্রতিক মনে করে।
প্রাগৈতিহাসিক সময়ে একজন আলফা পুরুষ অন্য আর একজন আলফা পুরুষকে প্রতিস্থাপন করার জন্য যুদ্ধ করতো। উদাহরণস্বরূপ, একটি নতুন সিংহ পুরাতন আলফাকে হত্যা অথবা বহিস্কার করে, এটাকে বলে জেনেটিক রিসেট মেকানিজম বা টেরিটরিয়াল ডিসপ্লেসমেন্ট ড্রাইভ। রণবীর মূলত তার বাবার প্রতি আসক্ত ছিল না, সে তার বাবাকে অবচেতনে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল কিন্তু আমরা এ সিনেমায় এই প্রাগৈতিহাসিক ড্রাইভের একটি সিভিলাইজড ভার্সন (civilized lion takeover) দেখতে পাই। ফ্রয়েডের মনোবিজ্ঞানে যেটাকে ম্যানিফেস্ট কন্টেন্ট বলা হয়। মনে করুন, আপনি স্বপ্ন দেখেছেন, আপনি আপনার স্টেপ মমের পা ছুঁয়ে সালাম করছেন। ফ্রয়েড আপনাকে বলবে, আপনি অবচেতন মনে ফুট ফেটিশে আক্রান্ত, আপনি মূলত তার সাথে সাবমেসিভ রোল প্লে করতে চাইছেন।
আমরা এ সিনেমায় দেখি, রণবীর তার প্রেমিকাকে বলছে, তোমার বিগ পেলভিস (নিতম্বের হাড়) , তুমি অধিক সন্তান জন্ম দিতে পারবে। এটি রণবীরের আলফা বৈশিষ্ট্য। সেক্সচুয়াল সিলেকশন বলছে, “Alpha male notices heroine’s figure”।
এখানেও জীববিজ্ঞানের প্রাণী চরিত্রের একটি কমন টেন্ডেন্সি দেখা যায়। নারীর ওমেগা হিপের প্রতি পুরুষের তীব্র আকর্ষণ। বড় পেলভিস ইঙ্গিত দেয় — ওই নারীর শিশু জন্মদানের ক্ষমতা বেশি, কারণ পেলভিক ক্যানাল প্রশস্ত।
যে সব নারীর পিনোন্নত ব্যাকসাইড আছে, তাদের শরীরে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড জমা থাকে যা সন্তানের মস্তিষ্কের প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স, হিপোক্যাম্পাস, ভিজুয়াল কর্টেক্স, কার্পাস কলোসাম, এমিগডালা ও লিম্বিক সিস্টেম উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তাদের মস্তিষ্কে নতুন নিউরন তৈরি ও নিউরোপ্লাস্টিসিটির ক্ষমতা অসাধারণ। যে নারীর পেলভিসে ওমেগা ফ্যাট আছে, পুরুষ তার প্রতি এক্সট্রিম অবসেশন ফিল করে, তার সাথে সেক্স করলে পুরুষের মস্তিষ্কে তীব্র ভেসোপ্রেসিন ও ডোপামিন লুপ তৈরি হয়। আর এখান থেকে জন্ম নেয় প্যাটারনিটি প্যারোনিয়া। পুরুষটি নারীর গর্ভাশয়কে বিশ্বাস করে না, সে মনে করে, তার প্রেমিকার গর্ভাশয়ে অন্য কারও সন্তান, কারণ বিগ পেলভিসের নারীর পেছনে অসংখ্য পুরুষ ঘুরে বেড়ায় যা প্যাটারনিটিকে অনিশ্চিত করে তোলে। এখান থেকে তৈরি হয় সেন্স অব ওনারশিপ, প্রেম ও ঈর্ষা।।
রণবীর তার প্রেমিকাকে অন্য কারও সাথে শেয়ার করতে পারে না, যেটাকে বলে ম্যাট গার্ডেনিং স্ট্র্যাটেজি কিন্তু সে নিজে তার ক্ষমতা, ক্যারিশমা ও আগ্রাসন প্রদর্শন করে অন্য নারীর সাথে সেক্স করতে চায়। আমরা এই গল্পে দেখেছি, রাশ্মিকার সাথে রণবীরের গভীর রোম্যান্টিক কানেকশন কিন্তু একবার সোশ্যাল গেদারিং অথবা ক্রাইম রিলেটেড একটি মিশনে বের হওয়ার পর রনবীর একজন আকর্ষণীর নারীর দেখা পায় যে তার ডোপামিন ও টেস্টোস্টেরন স্পাইক করে। একদিকে তার মস্তিষ্কে লং টার্ম অক্সিটোসিন লুপ খেলছে আর অন্যদিকে শর্ট-টার্ম ডোপামিন ও টেস্টোস্টেরন স্পাইক। রণবীর কিছুক্ষণ সময়ের মধ্যে মেন্টালি ডিস্ট্র্যাক্ট হয়ে যায়, তার সাথে সেক্সচুয়াল সম্পর্ক গড়ে তোলে কিন্তু সচেতন মনে সে তার নিজের প্রেমিকার সাথেই রোম্যান্টিক সম্পর্ক ধরে রাখতে চায়। জীববিজ্ঞানে এটাকে বলা হয় ডুয়েল ম্যাটিং স্ট্র্যাটেজি।
আলফা পুরুষ রোম্যান্টিক সম্পর্ক চায়, আবার সে একইসাথে শর্ট টার্ম সম্পর্কেও জড়িত হয়। শর্ট-টার্ম সম্পর্কের মাধ্যমে সে তার আলফা জিন অন্যান্য নারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়, যেন জেনেটিক ভ্যারিয়েশন বৃদ্ধি পায় ও প্রজাতির ইমিউন সিস্টেম ও সার্ভাইভাল চাঞ্চ বুস্ট হয়।
এদিকে রণবীরের প্রতি রাশ্মিকার অক্সিটোসিন ও ভেসোপ্রেসিন লুপ কাজ করে, তীব্র কানেকশন, সংযুক্তি ও ইর্ষা। এ ঘটনার পর রাশ্মিকা রনবীরকে থ্রেট দেয়, যদি আমিও অন্য কারও সাথে সেক্স করি? ( অর্থাৎ অন্য কোনো আলফা পুরুষের সাথে?)
সে বুঝিয়ে দেয়, আমার জিনেও ক্রিপ্টিক বহুগামিতা লেখা আছে। কিন্তু এই থ্রেট রণবীরের মধ্যে ইমোশনাল স্পাইক বাড়িয়ে দেয়, তার টেস্টোস্টেরন বুস্ট হয়। রণবীর বলে, তুমি যদি অন্য কারও সাথে সম্পর্ক কর, আমি তোমাকে গুলি করে মেরে ফেলব। এখানে রাশ্মিকা মূলত রণবীরের মস্তিষ্কের “ডারউইনিয়ান টেনশন লুপ” টেস্ট করেছে। রাশ্মিকা অবচেতনে জানে, রনবীর আলফা পুরুষ, সে বহুগামিতা করবেই। কিন্তু সে দেখতে চেয়েছে ডুয়েল ম্যাটিং স্ট্র্যাটেজি ও প্রাইম্যারি রিলেশনশিপের মধ্যে___কোনটাকে রণবীর সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়।ন্যাচারাল সিলেকশন বলছে, Female brain programmed to optimize emotional & genetic benefits separately।
এজন্য আপনি দেখবেন, প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আলফা পুরুষ একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক করেছে আর নারী সেটা মেনেও নিয়েছে। এখনো ডেটিং এপে ৯০% নারী মাত্র ১% পুরুষকে লাইক করে। এখান থেকে প্রমাণ হয়, নারী বহুগামী আলফা পুরুষের থার্ড ক্লাসের পার্টনার হতে প্রস্তুত কিন্তু একজন বিশ্বস্ত ও একগামী পুরুষকে গ্রহণ করতে রাজি নয় কারণ তার আলফা ট্রেইট নেই। একজন নারী আলফা পুরুষের বহুগামী পেনিসের জন্য উন্মাদ কারণ যে সব পুরুষকে সবাই ভালোবাসে, নারীর কাছে সে পুরুষটি ফার্স্ট চয়েজ। এটাকে বলে ম্যাট কপিং স্ট্র্যাটেজি। পুরুষ একাধিক নারী গ্রহণ করলে সে হয় আলফা আর নারী যদি একাধিক পুরুষ গ্রহণ করে সে হয় ব্যাশ্যা কারণ একাধিক পুরুষ নারীকে ডোপামিন দেয়, অধিক সংখ্যক সন্তান দেয় না। ঈশ্বর বলেছেন, আমি সব অপরাধ ক্ষমা করি কিন্তু শের্কের অপরাধ ক্ষমা করি না। জীববিজ্ঞানের ভাষায় ট্র্যান্সলেট করলে এ কথাটির অর্থ দাঁড়ায়, তুমি আমার পেনিস ছাড়া অন্য কোনো পেনিসের উপাসনা করতে পারবে না। কেন পৃথিবীর প্রতিটি ঈশ্বরকে ডমিন্যান্ট আলফা ক্যারেক্টারে দেখা যায়?
এ গল্পে আমরা রণবীর কাপুর ও ববি দেওলের মধ্যে একটি লড়াই দেখতে পাই। একজন শিল্পপতি বালবীর সিংহের ছেলে, যিনি দীর্ঘদিন বিদেশে কাটানোর পর দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে তিনি জানতে পারেন যে তার বাবা হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন, এবং তিনি সেই হত্যাচেষ্টার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে চান। এখানে আমরা দেখি রণবীর তার পুরাতন রিলেটিভ এবং পরিবারের পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। এটি একটি কৌশলগত অবস্থান। এখানেই আমরা হিরোর মধ্যে দায়িত্বশীলতার উপস্থিতি দেখতে পাই।
সে সোশ্যাল অ্যালিয়েন্স ও কিন সাপোর্ট নিচ্ছে, তার পরিবারকে প্রোটেক্ট করার জন্য। এটাকে বলে কিন সিলেকশন থিওরি, যেখানে একই জেনেটিক ফিচারের মানুষ একে অন্যের সাথে গ্রুপিং করে প্রতিযোগী জেনেটিক গ্রুপের সাথে প্রতিদ্বন্ধীতা করার জন্য। রণবীর তার আগ্রাসন ও বহুগামী আচরণের মাধ্যমে রাশ্মিকাকে মেন্টাল থ্রেট ও ট্রমার মধ্যে রাখে, বিপজ্জনক পরিবেশে তার স্থিরতা ও বিশ্বস্ততা পরীক্ষা করার জন্য। রনবীর দেখতে চায়, চূড়ান্ত বিপজ্জনক পরিবেশের মধ্যে থেকেও তার প্রেমিকা তার জন্য বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য।
প্রতিযোগী আলফা পুরুষ আব্রারের উপস্থিতি রণবীরের উপর জেনেটিক থ্রেট তৈরি করে। তার প্রেমিকা অবচেতন স্তরে রণবীরের বীরত্ব ও জেনেটিক ফিটনেস দেখতে চায়। প্রাগৈতিহাসিক সময় থেকে নারীর গর্ভাশয়ের উপর একসেস পাওয়ার জন্য পুরুষ পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা করত, এটাকে বলে স্পার্ম কম্পিটিশন থিওরি।
আর এ প্রতিযোগিতার বিচারক ছিল নারী। নারী দুজন পুরুষের লড়াইয়ের সময় তাদের স্ট্রেস ও পেইন রিসিভ করার ক্ষমতা টেস্ট করতো, একইসাথে সে দেখতো তার ইমোশনাল ইন্টিলিজেন্স, ট্যালেন্ট ও এথিক্স। লড়াই শুধু মাশল পাওয়ার নয়, প্লান, টাইমিং এবং টেকনিক্যাল ইন্টিলিজেন্স প্রদর্শন করে। নারী অবচেতনে তার সমস্যা সমাধান, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ও কৌশলগত চিন্তা জাজ করে। পুরুষের লড়াইয়ের কৌশল দেখে নারী বুঝতে পারে, পুরুষটির সেক্স ডিউরেশন ও পারফর্ম্যান্স কেমন। দর্শক অবচেতনে দেখছে male competition → female mate assessment → hero’s genetic & emotional quality।
প্রতিযোগী আলফা পুরুষকে পরাজিত করার মাধ্যমে রণবীর তার জেনেটিক, ইমোশনাল ও ইন্টেলেকচুয়াল ফিটনেস প্রমাণ করে, সে তার পিতার কাছে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে। সে তার প্রেমিকাকে প্রমাণ করে, আমি হাজার হাজার মেয়ের সাথে সেক্স করতে পারি কিন্তু আমি একইসাথে আলফা পুরুষকে পরাজিত করার ক্ষমতা রাখি । আমি আমার জেনেটিক্সের জন্য আমার জীবন বিসর্জন দিতে পারি, আমি একটি পারফেক্ট জানোয়ার ।
রণবীর আব্রারকে হত্যা করেনি, সে অবচেতন স্তরে রাশ্মিকাকে থ্রেট দিয়েছে, সাবধান! আর একবারও অন্য কোনো আলফার নাম নিবি না। আব্রারের লাশ ছিল, রাশ্মিকার ভ্যাজাইনার উপর আল্টিমেট অ্যাকসেস নেয়ার জন্য রণবীরের একটি জেনেটিক কৌশল।
লিহন প্রাইম (নোভা)
Reference:
1) Mate guarding in primates arises due to partner scarcit
2) Dual Mating Strategies Observed in Male Clients of Female Escorts
3) The myth of the alpha male: A new look at dominance-related beliefs and behaviors among adolescent males and females
4) Polyandry: the history of a revolution
5) Mate choice and sexual selection: What have we learned?
6) Costs of and Investment in Mate-Guarding in Wild Long-Tailed Macaques
7) Ovulation, Sex Hormones, and Women's Mating Psychology
9) Sexual selection and mate choice in evolutionary psychology
No comments:
Post a Comment