Saturday, October 11, 2025

ফুঁ_দেওয়া_বাটি_আর_কষামাংস

 


এই স্টিলের বাটিটা মনে পড়ে? ছোট্টোবেলায় বাড়িতে মাংস আসতো ঠিক রবিবারেই। সকালে সাদা লুচি আলুর চচ্চড়ির পরে, মহাভারত,জয় গঙ্গা মাইয়া টিভিতে আর ঠিক তারপরেই সারা বাড়ি জুড়ে এক স্বর্গীয় সুঘ্রাণ। লোহার কড়াইতে ডুমো ডুমো আলু দিয়ে কষা পাঁঠার মাংস। রেয়াজির চল ছিলনা সেভাবে মাংস বলতে কচি পাঁঠা। তেজপাতা, পেঁয়াজ, রসুন,শুকনো লংকা বাটা গরম মশলা গোটা দু পলা ঝাঁঝালো সর্ষের তেলে নুন হলুদে রগড়ে মাখা আর তারপর কষানো মাংস। মাংস ধুয়ে বেছে যে তেল চর্বি বেরোতো সেই তেলের মুচমুচে বড়া। আমরা পায়ে পায়ে ঘুরতাম এই বাটিটা নিয়ে। কখন এক টুকরো এই বাটিতে দেবে আর পা ছড়িয়ে বসে তাড়িয়ে তাড়িয়ে খাবো৷ ঠিক কষানোর পরে গরম জল দেওয়ার আগের মুহুর্তে এমন একটা টুকরো বাটিতে পরতো আর বলতো ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করে খাবি, নয়ত মুখ পুড়বে।
শুধু মাংস নয়,যখন ঘুর ঘুর করতাম রান্নাঘরে আবোল তাবোল প্রশ্ন সাথে এটায় ওটায় হাত দিতাম, তখন এই বাটিতেই দেওয়া হত একটু আলুভাজা, ডালের বড়া,ডালনার ঝোল,কাঁকরোলের পুর বা একটু চাটনি। কিন্তু নিয়ম একই... ফুঁ দিয়ে খাওয়া। বৃষ্টির পরে আকাশটা যখন নারকোল কোরার মত মেঘ ভাসায় তখন এই ফুঁ দেওয়া বাটিটা খুব মনে পরে। শীতের রোদে কুলের আচার, ঠাম্মার সজারুর কাঁটা দিয়ে বোনা ঝালর,গরমে আমের মুকুলে মৌমাছি,বোলতার চাক সব মনে পরে। এই বাটিটা হারিয়ে গেছে জীবন থেকে যেমন কলতলা,জিগার আঠা,আমের আঁটির বাঁশি। ফু দিয়ে ঠান্ডা করাটা স্মৃতির এক কোনে থেকেই যায় আর থেকে যায় ওই ঝকঝকে স্টিলের ছোট্ট বাটিটা। আজকাল মাংস কষতে রবিবারের প্রয়োজন হয়না। মাসের শেষের রবিবারে কেউ বলেনা এই সপ্তাহ মাছ হোক আবার সামনের মাসেই তো....কচি পাঁঠা, লোহার কড়াই আবছা হয়ে মিলিয়ে যায়৷ একটা ছোট্ট স্টিলের বাটিতে এক মুঠো স্মৃতি সেই সময়ের মশলা মাখিয়ে ধোঁয়াটে হয়ে চুপ করে ফুঁ এর অপেক্ষা করে।

No comments:

Post a Comment