Saturday, October 11, 2025

নেই।



 "সবই তাহলে আছে। জানালার বাইরে সকাল আছে, রোদ আছে, বাতাবি লেবুর সবুজ ছায়া আছে, খঞ্জনা দুটিও আছে, খাবার-টেবিলটা আছে, তার ওপর পাতা খয়েরি ওয়েলস্কিনের ঢাকনাটা আছে, সে ঢাকনার ওপর পানিভর্তি স্মার্নফের বোতল আছে, রয়্যাল হালাল চানাচুরের বৈয়াম আছে, পাঁচ-ছটা সোজা ওল্টানো পানির গ্লাস সাজানো আছে, ডাবরের চ্যবনপ্রাসের কৌটা আছে, প্রাণের মধুর বোতল আছে। সবই তো আছে। প্লাস্টিকের চামচ-স্ট্যান্ড, দেশলাইয়ের বাক্স, অখোলা বিয়ের দাওয়াতপত্র, লবণদানি, মার্জারিনের কৌটা, তেরোটি পিঁপড়া—না, আরও—মার্জারিনের কৌটা বেয়ে লাইন ধরে উঠছে। কোথায় যাচ্ছে তারা? অথবা ফিরছে? ফিরছে তাদের তিন কামরার ফ্ল্যাটটিতে, যেখানে সবই আছে, আগের মতোই? শুধু একজন নেই?...

সেই কথা নেই, হাসি নেই, প্রাণের সাড়া নেই।
নেই।
ইক্যুয়ালের শিশিটা আছে, আমার চায়ের বাদামি পোরসেলিনের কাপটা আছে, টেবিলের ওপর ঘুরতে থাকা সিলিংফ্যানের ছায়াটা আছে, টেবিলের এক কোণে ওয়ান ব্যাংকের ক্যালেন্ডারটা আছে, আটটা কোস্টারের একটা সেটও আছে।
কোথাও এসবের থাকার কোনো বিড়ম্বনা নেই, বিরতি নেই, নড়চড় নেই। শুধু বোবা এই জিনিসগুলোকে একজন যে আনন্দিত ভাষা দিত প্রতিদিন, যে ভাষায় সারা সকাল-দুপুর এগুলো আমার সঙ্গে কথা বলত, সে-ই নেই।
নেই।"
[গল্প: নেই, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম]

No comments:

Post a Comment