জাতীয় পতাকা মাথায় বেধে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙার মত জাতীয় পর্যায়ে লালন উত্সব করে বাউল বয়াতিদের গ্রেফতার করাটা শিবিরের সিগনেচার রাজনীতি। জামাত শিবিরের সহযোগী প্রতিষ্ঠান খুবই শক্তিশালী। যেমন ধরেন বুয়েট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোচিং সেন্টারগুলো শিবিরের সিস্টার কনসার্ন কিন্তু কারোর বাপের সাধ্য নাই ধরতে পারে এগুলো শিবির চালায়। তেমন জীবনেরও নামাজ পড়েনি, সুদ খায়, পশ্চিমাদের সঙ্গে ঢলাঢলি করে, হারাম জীবনযাপন করে, কাফের বিয়ে করেছে, এনজিও চালায় এমন লোক যে শিবিরের এজেন্ট কার বাপের সাধ্য ধরার? এন্টি-আওয়ামী লীগ যে কেউ আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে শিবিরের সঙ্গে শুতে দুবার ভাবে না। মজাটা এখানেই। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যাদের এখনো বেচাবিক্রি আছে সেগুলোও ধ্বংস করার জন্য শিবির যা খেলে বাকীরা কেবল দর্শক। এই যেমন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস কিন্তু জিয়াকে ২৭ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন করে জিয়াকে নিয়ে বিএনপির এতদিনের স্বাধীনতার ঘোষক ন্যারেটিভের যে পোঁদ মেরে দেওয়া হয়েছে খোদ খালেদা জিয়া সামনে বসেও ধরতে পারেননি!
Saturday, November 22, 2025
তাতে তাদের কিছু যায় আসে না।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে জাতীয় পতাকা কপালে বেধে একটা পৈশাচিক উত্তেজনা বোধ করে জামাত শিবির। লালনকে জাতীয়ভাবে রবীন্দ্রনাথের জায়গায় বসানোর অভিনয় হচ্ছে এক ঢিলে দুই পাখি মারা, রবীন্দ্রনাথকে দূরে সরিয়ে রাখা, ওদিকে মাঠের লালনকে মব করে দমন করে রাখা। লালনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বড় করে স্মরণ করার প্রশংসা পেলো, কেউ তাদেরকে মৌলবাদী বলতে পারলো না, অন্যদিকে লালন ভক্তদের মামলা দিয়ে, গানবাজনা স্কুল থেকে বাদ দিয়ে, মামলা দিয়ে বয়াতীদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে আসল কাজটা সারা হলো।
আপনারা ভাবেন যেসব মেয়েরা জীবনেও মাথায় ঘোমটা দিলো না, টিভিতে সেমিনারে ভার্সিটিতে কপালে টিপ দিয়ে ক্লাশ নেয় তারা শিবিরের এইসব খেলায় জেনেবুঝেও কেন খেলছে? এটা তো খুব সোজা। বিশ্বের নারীবাদের আইকন সিমোন দ্য বোভোয়ারের নাম তো শুনেছেন? উনি নারীবাদের রীতিমত ‘জাতির মা’ বলতে পারেন! ভদ্রমহিলা ইরানের খোমিনির ক্ষমতা গ্রহণের অন্যতম সমর্থক ছিলেন। খোমিনি যে ইসলামী মৌলবাদী ছিল তারা জানতো। ফ্র্যান্সে খোমিনির আশ্রয়ে উনাদের বিরাট সমর্থন ছিল। খোমিন ক্ষমতা গ্রহণের পর ইরানের নারীদের লেখাপড়া পোশাকআশাক রাজনীতি ব্যবসা বাণিজ্যে যখন বেড়ি পরানো হলো সিমোন ম্যাম তখন একদম চুপ! একটি কথাও আর বলেননি। কারণ সিমোন ম্যাম ও উনার হাজব্যান্ড জাঁ পল সাত্র দুইজনেই মার্কসবাদী ছিলেন। উনারা ইরানের মার্কিন সমর্থিত রেজা শাহের পতনকে একমাত্র কাম্য বলে মানতেন। ইরান থেকে সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনদের পরাজয়ই তাদের একমাত্র কাম্য ছিল। উনারা মুখে যা বলেননি আরেক মার্কসবাদী দার্শনিক মিশেল ফুকো মুখ ফুটে বলেছিলেন, ইরানে মোল্লা শাসন আসল কিনা সেটা আমাদের বিবেচ্য নয়, সেখানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পতন হয়েছে এটাই আমাদের কাছে বড় কথা...। হুবহু কোট করতে পারলাম না ফুকোর বক্তব্য, তবে সারমর্ম ছিল এটাই।
এবার চ্যানেল আইতে ‘আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছিল’ বলে চিত্কার করা দীপ্তি চৌধুরী কি জামাত শিবিরের রাজনীতি করে বলুন? আরে নাহ্। সে এন্টি-আওয়ামী লীগ। ঐতিহাসিকভাবে ভারতের বন্ধু সুহৃদয় আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য এটাই সঠিক রাজনীতি। কিন্তু এখানে ভারত বিরোধী (মতান্তরে মুসলিম জাতীয়তাবাদের নিমিত্তে হিন্দু বিরোধী) রাজনীতিতে বিশ্বাসীরা আওয়ামী লীগ খেদিয়ে মোল্লার শাসন হলেও তাদের কিছু যায় আসে না। সমস্যা হচ্ছে সিমোন দ্য বোভোয়ারদের খোমিনির সাপোর্ট করলে ইরানের ডাইরেক্ট সমস্যা হয়, ফ্রান্সের নয়। কিন্তু এখানকার সিমোনদের কারণে বাংলাদেশে আসবে নারী বিরোধী সরকার। ইরানের সিমোনরা খোমিনির বিপ্লবের পর হুডখোলা গাড়িতে রাস্তায় হর্ণ বাজিয়ে সেলিব্রেট করেছিল তার ছবি দেখেছেন? ঐ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া আধুনিক মেয়েরা তারপর এক বছরের মাথায় বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। গত বছর জুলাইতে আমি সেটাই দেখলাম। কোন সাংবাদিক পেশাদারিত্ব থেকে তাকে কোন হোস্ট মৌখিক আক্রমন করলেও তিনি থাকেন পেশাদারিত্বে অটল, কিছুতে আবেগপ্রবণ হন না। কিন্তু দীপ্তি চৌধুরী বিচারপতি মানিককে মব উশকে দিতে, তার প্রতি তীব্র ক্ষোভ উশকে দিতেই সেদিন টিভি সেটে কেলেংকারিটা করে। সেই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এখন রোজ একটা করে গুপ্ত জামাতকে বসিয়ে টকশো করে। জামাত পুরোপুরি তাদের মত রাষ্ট্র চালাতে পারলে দীপ্তির মত ‘বেপর্দা সাংবাদিকের’ জন্য কি বাংলাদেশ সহনীয় হবে? হবে না। তারাও জানে। কিন্তু আওয়ামী লীগের একটা চোখ কানা করতে এরা নিজেদের দুইটা চোখ কানা করতেও প্রস্তুত!
বয়াতীদের গ্রেফতার বলেন, নারী কোটা বিলুপ্ত বলেন, মেয়েদের ঘরে থাকার আহ্বান বলেন, আহমদিয়াদের নিষিদ্ধ, এইসব কিছু ঘটলেও বাকীরা চুপ করে কেন বলেন তো? ঐ যে মিশেল ফুকোর কথা বললাম। সিমোন ম্যামের কথা বললাম, তাদের মতই তারা মনে করেন, ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ কুটনৈতিক সরকারের পতন হয়েছে এটাই তাদের কাছে বড় কথা, নারীরা ঘরে ঢুকলে কি মরলো, বাউল বয়াতী ভিন্ন মতালম্বীরা এদেশে থাকলে কি পালালো তাতে তাদের কিছু যায় আসে না।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment