আমরা ভাল নেই। একথা প্রমাণের জন্য যুক্তি তথ্য হাজির করা সময়ের অপচয়। দুনিয়াতে নানা সময়ে নানা সমাজ মন্দ সময় কাটিয়েছে। সমাজ যখন অন্ধ ক্ষমতা, অবিচার, জবরদস্তি এবং শঠতার নিয়ন্ত্রণে চলে যায় তখন শুদ্ধ আত্মরা বিপর্যস্ত হয়। তারা চিন্তায় দুশ্চিন্তায় নিমজ্জিত হয়। সমাজে তখনই রচিত হয় অমূল্য সব সাহিত্য, সঙ্গীত, চিত্রকলা এবং নানা সাংস্কৃতিক সম্পদ।
মধ্যযুগের ইউরোপ, উনবিংশ শতাব্দীর রাশিয়া ভাল ছিল না। তখনই আমরা পেয়েছি অসাধারণ সব সাহিত্য, সঙ্গীত, চিত্রকলা ও দর্শন যেগুলো মানুষকে পথ দেখিয়েছে। এখন আমরা ভাল নেই তাহলে আমাদের সাহিত্য, সঙ্গীত, চিত্রকলা ও দর্শন উন্নত হচ্ছে না কেন? আমরা দেখছি চিত্রকলা শিল্পীরা হয় বিদেশি দুতাবাসে ধর্না দেয় অথবা ধনীর গৃহ সাজানোর শিল্পকর্ম তৈরিতে কত না ব্যস্ত, গর্বিত তারা। শিল্পে মানুষের মনের ব্যথা, অন্যায়ের প্রতিবাদ আর ন্যায় বিচারের দাবী কোথায়? সাহিত্য পেলব কৌতুক আর হাস্যরসের বিনোদনে ক্যারিক্যাচারে পরিণত হয়েছে। গান, নাটক সিনেমা এদেশেই একসময় প্রতিবাদের মাধ্যম ছিল, এখন সেগুলো সস্তা আবেগ, যৌন সুড়সুড়ি, নারীদেহ প্রদর্শন বা সিনোম্যাটিক ম্যারেজ কমেডি শোতে পরিণত হয়েছে। প্রতারিত, নিগৃহিত এবং শোষিতের মনের কান্না এবং অবিচারের ক্ষোভ এই সমাজে শিল্পী সংস্কৃতি কর্মীরা আর প্রকাশ করে না কেন?
এটা বুঝতে হলে আমাদের পনারোলজি বুঝতে হবে। "পোনারোলজি" শব্দটি গ্রীক শব্দ পোনেরোস থেকে উদ্ভূত হয়েছে যেটা ধর্মতত্ত্বের শয়তান, ইভিল বা মন্দ মনের অধ্যয়নের সাথে সম্পর্কিত বিষয় থেকে এসেছে। ধর্মগ্রন্থগুলোতে পরিষ্কার করা হয়েছে শয়তান দ্বৈত চেহারার। তার যেমন একটি কুশ্রী ভয়ংকর রূপ আছে আবার তার একটি পেলব আকর্ষনীয় স্মার্ট সেক্সি মোহিনী রূপ আছে। মেধা আর শিক্ষার অভাবে শয়তানের এই দ্বৈত চেহারায় বিভ্রান্ত হয়ে গেলে এমন পরিস্তিতি তৈরি হবে যে শোষিত ও নিগৃহিত শ্রেনী আবেগতাড়িত হয়ে শয়তানের পুজাতেই নিজেকে নিয়োগ করবে এবং নিজের শোষিত হবার পথ প্রশস্ত করবে। ধর্মগুন্থগুলোর শয়তান এবং আধুনিক শিক্ষার সাইকোলজিক্যাল ডার্ক ট্রায়াডের নার্সিসিস্ট, সোশিওপ্যাথ ও ম্যাকিয়াভেলীয়ানের মধ্যে কোন তফাৎ নেই।
No comments:
Post a Comment