Saturday, November 29, 2025

বোয়াল টসা

 



সে এক দিন ছিল বটে, এমন শীত পড়লে মামার বাড়ি- দেশের বাড়ি যাওয়া পড়ত। লিচু আঁশের মতো কুয়াশা জড়ানো সকালে উঠে পান্তা আর টকটকে লাল আলু মাখা খেয়ে মাঠের পুকুরে যাওয়া...
অগ্রহায়ণে ধান কাটা আর খোরো চাষের ভেতর দিন কয়েকের ব্যবধান মাত্র। ওইটেই সময় মাঠ পুকুর থেকে মাছ ধরার... নাহলে, তো জল সমান।
চুপচুপে করে তেল মেখে জলে নামত মামারা। হুড়ুমদুড়ুম করে জাল ফেলা হত। শীতের দিনেও উৎসবের ওমে সেঁকে নিতুম নিজেদের। সবচাইতে মজা ছিল বোয়াল ধরা, মহা ধড়িবাজ মাছ। ব্যাটাচ্ছেলে জাল ছেঁড়ে খুব। অনেক কষ্টে পাকড়াও করা হত।
♦পদ~
একটা প্রমাণ মাপের বোয়ালই যথেষ্ট। কারণ যে পদটি হত, সেটি বিরল। বোয়ালটাকে অল্প করে হলুদ, নুন আর কাঁচালঙ্কা চ্যাঁছা দিয়ে মাখা হত। কাঁচা তেল দেওয়া হত তিন পলা। তারপর টিফিন কৌটোয় করে হাঁড়ির ভেতর জলের ওপর ভাপাতে দেওয়া হত।
অন্যদিকে, কড়ায় দেড় চামচ তেলে দুইটা কোয়া রসুন আর কালোজিরা সাম্বার বানাতেন দিম্মা। বোয়ালের ভাপায় ওটা ঢেলে দিতেন মোক্ষম সময়ে। ভালো করে টিফিন কৌটোটা নাড়িয়ে পাঁচমিনিটের মাথায় ভাতে ফেলা হত।
বোয়ালের চর্বির নির্যাস আর সরিষার ঝাঁঝ মিশে গিয়ে মাথায় চাঁট মারত। তুলতুলে মাছের পিস আঙুলের চাপে মিশে গিয়ে ভাতের স্বাদ মোহময় করে তুলত। জিভে টাসকি মেরে স্বর্গের কাছাকাছি কোথাও গিয়ে উঠতুম...
আজ সেসব দিন নেই, নেই সেসব পদ। তবুও এরা আজীবনকাল জিভে রয়ে যাবে। ভাগ্যিস সেদিন এক লেখক দাদা মনে করালেন, নাহলে এ পদ মনের অতলে তলিয়ে গেছিল।

তমোঘ্ন নস্কর 

No comments:

Post a Comment