ডিনারের আগে সামান্য মদ্যপান আপনি অপছন্দ করেন না। এটা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য, দুশ্চিন্তা রোধ ও ঘুমের জন্যও ভালো কিন্তু আপনার স্ত্রী কোনো কারণ ছাড়াই মদ্যজাতীয় পানীয় বাসায় ঢুকতে দেবেন না কারণ এটি ইসলাম ধর্মে নিষেধ বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু আপনার হিন্দু বা খ্রিস্টান বন্ধুদেরও একই অবস্থা। তার মানে ধর্ম মূল কারণ নয়।
বাসার টেলিভিশনটায় দিনরাত ভারতীয় সিরিয়াল চলে। এটা আপনার একদম পছন্দ নয়। বাসার মেয়েরা, কাজের লোকেরা পর্দার কাল্পনিক জটিল কুটিল মানুষের হিংসা দলাদলির এই সিরিয়ালগুলোতে নিয়ে মেতে থাকে। আপনার বাড়ন্ত ছেলে-মেয়েদুটোর মনেও মানুষ সম্পর্কে মারাত্মক নেতিবাচক ধারণা তৈরি করছে এই টিভি সিরিয়ালগুলো। মদ কেন, আফিমের চেয়েও এগুলো ক্ষতিকর এটি আপনি নিশ্চিত। নানা সামাজিক গবেষণাও তাই বলে। তবুও আপনি এটি বন্ধ করতে পারেন না কারণ সমাজ যতই পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত বলে টিভিতে পত্রিকায় গরম গরম বক্তৃতা হোক, বাসা কার নিয়ন্ত্রণে উপরের দুটি উদাহরণের তুলনাই সেটা বলে দেয়।
হল ভর্তি শ্রোতাদের অবাক হতভম্ব করে পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ঘোষণা করেছিলেন বিগ ব্যাংয়ের সময় মহাশূন্যে পদার্থের এক মহাবিস্ফোরণে সবকিছু সৃষ্টি হলো এটা ভুল ধারণা। আসলে পদার্থের ভেতরেই শূন্যস্থান বিস্ফোরিত হয়েছিল ওই সময়। উপনিষদের রচয়িতা পণ্ডিতেরা এটাকেই বলেছিলেন মায়া। অর্থাৎ আমরা যা দেখি, ভাবি সত্য বলে, সেগুলো আসলে বিভ্রান্তি। সত্য আসলে বাস্তবে যা দেখি তার বিপরীত। মনোবিশ্লেষক কার্ল ইয়ুং-এর কাজের মৌলিক ধারণাই হলো মনের বিপরীত বোধ – আপনি সচেতনে যা প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট, তার বিপরীতটাই সত্য ও বিরাজমান।
চারদিকে চেয়ে দেখেন। ২০২৪-এর জুলাইয়ের আগে যাদের ভেবেছিলেন ভালো, জ্ঞানী ও সত্যিকারের দেশপ্রেমী, ও সৎ। তারা আসলে চরম মন্দ, দেশের চরম ক্ষতিকারক এবং সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্থ এবং খুনি। যাদের ভেবেছিলেন মন্দ, তারাই আসলে সত্যিকারের দেশপ্রেমী, ত্যাগী এবং সৎ। যে দেশকে ভেবেছিলেন দেশের শত্রু, তারাই সহায়তাকারী, যাদের ভেবেছিলেন সভ্য, আধুনিক, যুক্তিশীল, তারা আসলে শয়তানবাদী।
ছোটবেলায় বাবা-মা আপনাকে নিরাপদ ও মানসিকভাবে স্থিত রাখার জন্য অনেক সরল, আদর্শ এবং গোছানো একটি নকল দুনিয়া নির্মাণ করে তার ভেতরে আপনাকে বড় করেছেন। আপনি সত্যিকারের বুদ্ধিমান হলে ১২ বছর বয়স থেকে সেই নকল দুনিয়া আপনার ধরতে পারার কথা। তখন থেকেই শুরু হওয়ার কথা একটি মানসিক যুদ্ধ, যেটাকেই পবিত্র কোরআনে জিহাদ বলা হয়েছে। কোরআনে “জিহাদ” শব্দটি মূলত আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির সংগ্রাম যা অন্তরের অন্যায় ও মনের ভ্রান্ত প্রবণতার বিরুদ্ধে লড়াই। আপনি আস্ত বুদ্ধু হওয়াতে সেই নকল দুনিয়া ধরতে পারেন নাই। আসল জিহাদ বাদ দিয়ে আপনাকে বোঝানো হয়েছে জিহাদ মানে অন্য ধর্ম বা অন্য রাজনৈতিক আদর্শের ভালো মানুষদেরও হত্যা করা। অযথা উপকারী দেশ ভারতের বিরুদ্ধে গাজওয়াতুল হিন্দ লড়তে যাওয়া।
কোনোদিনই আপনি সেটা করতে পারবেন না। এর কারণ মদ খেতে চাইলেও বাড়িতে এক বোতল মদ এনে খাওয়ার মতো সাহস আপনার নাই। কারণ আপনি শৈশবের মায়ার জগত থেকে বের হতে পারেন নাই। এই দুনিয়া যারা সত্যকে আবিষ্কার করে এবং যারা সাহসী তাদের। এখানে আপনার কোনো স্থান নাই শয়তানের সহায়তাকারীর কাজ ছাড়া। কারণ তার কাজই হল হলো মায়া দিয়ে বিভ্রান্ত করে মানুষকে বিপথে পরিচালিত করা।
Abm Sirajul Hossain
No comments:
Post a Comment