Thursday, February 19, 2026

সেই সবুজ পাখিটার উড়ে আসার অপেক্ষায়।

 


আজকাল আমার ভোর হয় না আর, নির্ঘুম রাতে মাঝে মাঝে তন্দ্রা । আজ জানলা খুলে দেখলাম থইথই রোদ আবার এখন আকাশের মুখ ভার। মাথাটাও কেমন ভার হয়ে থাকে বেশিরভাগ সময়।
এক চিলতে বারান্দায় হাসনুহানা আর শিউলি আবার কুঁড়িতে ভরে গেছে। আমাদের আলিপুরদুয়ারের বাড়িতে শনি রবিবার সকালে একরকম দেরী করেই উঠতাম। একটা সবুজ পাখি বসে থাকত আম গাছের ডালে। মাঝেমধ্যে লুচি ছোলার ডাল,আলুর পরোটা বাদ দিয়ে রবিবারে আমার ছোটোমা (কাকিমা) বানাতো চাউচাউ।পেঁয়াজ আলু লম্বা লম্বা করে কেটে হলুদ নুন কাঁচা লংকা দিয়ে চাউচাউ।ডিম ভাজা বাদাম ভাজা ছড়িয়ে। সসের বালাই ছিল না সেই চাওমিনে। তখন মা ছোটোমা দের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান শাড়ি,তাঁতসিল্ক,তানচুই, স্বর্ণকাতানএসব শাড়ির পুজোর বাজার আর গার্ডেন ভরেলি... পন্ডস স্নো পাউডার ছিলো,ছিলো মাইসোর স্যান্ডল সাবান আর ছিল এক অদ্ভুত ভালোলাগার ছোঁয়া। বছর ঘুরেছে তাঁতসিল্ক,স্বর্ণকাতানের মত হলুদ রঙা বাদামভাজা দেওয়া চাউচাউ কবে হারিয়ে নুডলস হয়ে গেছে। বহু যুগ পর এই থেমে যাওয়া শরীরে আজ খুব মন চায় ওই হলুদ রঙা কাঁচালংকার চাউচাউ খেতে। আজকাল কিছুই খেতে পারিনা। অল্প ডাবের জল বা ফল দু এক কুচি৷ আজ মনে হল সেই আমার আলিপুরদুয়ারের বাড়ি আমার মা, বাবা, ঠাম্মা, ছোটোমা, বুনু কাকুকে নিয়ে ঝকঝকে কলপাড়, উঠোনের তারে মেলা গার্ডেন ভরেলি শাড়ি।চায়ের কেটলি,শরবতি লেবুর গাছ আর সেই সবুজ পাখিটার উড়ে আসার অপেক্ষায়।


No comments:

Post a Comment