“Hiraeth”
এই শব্দটা ওয়েলশ ভাষার একটা শব্দ, যার কোনও ইংলিশ ট্রান্সলেশন নাই, বাংলা তে আমাদের রবি বাবু হয়তো কোনো শব্দে প্রকাশ করে গিয়েছেন, এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না । নস্টালজিয়ার সাথে কিছুটা মিল আছে যদিও।
“এমন এক ঘরেফেরা, যা হয়তো হারিয়ে গেছে সময়ের স্রোতে, কিংবা বাস্তবে কোনোদিন ছিল ই না।” অনেক দিন ধরে এই অনুভূতি কে কি নামে প্রকাশ করা যায় ভাবছিলাম !
আমার টাইম ট্র্যাভেলের অপশন থাকলে, আমার ছোট বেলার কিছু স্পেসিফিক সকালে আমি হয়তো বারবার ফিরে যেতে চাইতাম ।
নানা বাড়ির সদর দরজা টা ফজরের ওয়াক্তে খুব যত্নে প্রায় নিঃশব্দে খুলে আমার নানা বের হতেন মসজিদের উদ্দেশ্যে । আমার বয়স তখন সবে পাঁচ কি ছয় হবে । নানার আতরের ঘ্রাণেই হোক আর শিউলি ফুলের তীব্র আকর্ষনেই হোক, ঘুম থেকে উঠে চুপচাপ পর্দার আড়ালে দাড়িয়ে থাকতাম, যেনো কেউ দেখতে না পায় ।
নানা বেড়িয়ে গেলে, তার কয়েক সেকেন্ড পরেই বের হয়ে যেতাম সবার অগোচরে । খুলনার নিউজপ্রিন্ট কলোনির এক বিশাল গাছের এক উঠান শিউলি ফুলের একচ্ছত্র অধিকারী সেই সুবহে সাদিকে তখন আমি! জামার কোচর ভরে যেতো ফুলে তবু এক আকাশ নক্ষত্রের মতো অগুনিত পড়ে থাকতো তখনও! তখন জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিলো একদিন সারাদিন ধরে এই সব ফুল কুড়ায় যদি নিতে পারতাম! ওই বাড়ির আন্টি টা ভুল করে একদিন ঝাড়ু না দিতো যদি!
কলেজে পড়ার সময় যখন হোস্টেল থেকে বাড়ি ফিরতাম, দাদি আধা মাইল হেঁটে রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন।
কখন থেকে অপেক্ষা করতো কে জানে ।
রেগে গিয়ে বলতাম কেনো আসছো! বাড়িতে কি একা যাইতে পারতাম না! পান খাওয়া ফোকলা দাঁতে এক গাল হেসে দাদি বলতো, “এই যে, মাত্রই আইলাম।”
সময় হারিয়ে যায়, অথবা হারায় না । পুরাতন দিনের সিনেমাটোগ্রাফির মতো আমাদের অসংখ্য মুহূর্তের স্থির চিত্র একটার পর একটা চলতে থাকে । রিল যত আগায়, আমাদের যাপিত মুহূর্ত, পারিপার্শিকতা, তার সাথে ওই সময়ে আমাদের কে যারা ভালোবাসতো তারাও পরিবর্তন হয় । খুব সহজেই পাওয়া কিছু মায়া টেকেন ফর গ্র্যান্টেড নিতে নিতে খুব সহজেই অভ্যস্ত হয়ে, একদিন হঠাৎ অনেক পথ পাড়ি দিয়ে আশেপাশের দৃশ্যপট আমুল পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত বুঝতেই পারিনা, ঠিক কবে কোথায় কি হারিয়েছি!
এখন আমার কাছে ২০১৮ সাল টা কে মনে হয়, আমার আগের ভার্সন আর এখনকার ভার্সনের কমন এনসেস্টর । এরপর আমরা সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে দুইটা প্যারালাল ইউনিভার্সে ইভলভ হচ্ছি! মেডিকেলের পরে আর পড়ালেখা করতে না চাওয়া আমি টা এখনও হয়তো কোনও জংলার পারে হিজল গাছের ফুল পারছি, অথবা আরও যত স্বপ্ন ছিলো তার পেছনে পরে আছি ।
জাস্ট মাঝে মধ্যে নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি হয় আর তখন হিরায়েথ এ ভুগি! কোথাও যাইতে চাই, যা আর বাস্তবে নাই ।
No comments:
Post a Comment