আরেকটা হেমন্তের দিন, বিষন্ন আকাশ, ভোরের দিকে টুপটুপ শিশির পড়ে পার্কের ঘাসে, যতটুকু মাটি ততটুকু গাছ লাগাই, মরসুমি ফুলের গাছ, আজকাল দিন ছোটো, কাজের শেষ নেই, গাছপালার যত্ন লাগে, এখানে শীত পড়ে খুব তাই ফি বছর সোয়েটার, চাদর শীতের আগে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রোদে দিতে হয়। কাজ সারা হলে ফরিদা মাসি ডাকে, দুটো খেয়ে যাও। আজ রান্না হয়েছে লাজনি চালের ভাত আর সজনে পাতা বাটা, আর হয়েছে শীতের সবজি দিয়ে পালং শাক। আলু, গাজর, মুলো শাক সব ধুয়ে রাখা ছিলো, তেলে পাঁচ ফোরন, লংকা দিয়ে সবজি আর নুন হলুদ, মিষ্টি আর কয়েকটি কাঁচা লংকা, আর কিছু নেই, স্বাদের সবজি শীতের, কত কি খাই বাইরে গেলে, বন্ধুরা ডাকলে কিন্তু দুটো ভাত খেতে বড় ভালো লাগে, বুড়ি ঠাকুমা যখন ছিলো, বেড়ার ওপার থেকে ডাক দিতো, রূপা আয় খাবি, কি খাই? চারটি গরম ভাত, শীতের বেগুন পোড়া কি কাঁচা টোমাটর ডাল, কি সুন্দর ডাল ফোটে উনুনে, চারিদিকে সরষে আর শুকনো লংকা ফোরনের সুবাস। গরম ভাতে ডাল আর ভাজা, নিতান্ত অকিঞ্চিকর জীবনের আয়োজন, বড় প্রিয়, বড় আপনার। ফরিদা মাসিও ডাকে, আসো মা দুটো মুখে দাও। ওর নাতিন সজনী হাতে সেলাই করে রুমাল আর বালিশের ওয়ার পাঠিয়েছে, সাথে মুড়ির মোয়া, সেও বড় ওম জড়ানো।
No comments:
Post a Comment