Friday, October 30, 2026

লক্ষ্মীর পাঁচালীর সাথে দেবী লক্ষ্মীর কোনো সম্পর্ক নাই। লক্ষ্মীর পাঁচালী লিখেছে মূলত একজন ঘোরতর নারী বিদ্বেষী পুরুষ।

 


🌺 লক্ষ্মী দেবীর পরিচয় টা এরকম যে, লক্ষ্মী দেবী ধন সম্পদের দেবী। অথচ ওই পাচালীতে নারীদের ধন সম্পদ অর্জনের কোনো কথাই বলা হয় নাই।
🌺 দেবী লক্ষ্মী চঞ্চল। তিনি কারোর কথা শুনেন না, তাকে আটকে রাখা যায় না। অথচ ওই পাঁচালীতে বলছে যে নারী এটা করে না, ওটা করে না, কারোর কথা শুনে না , পতির পারমিশন ছাড়া কিছু করে বা পতির আগে খাবার খায় এরা লক্ষ্মী না। মানে একজন গোলাম যেভাবে থাকে সেভাবে না থাকলে নারী লক্ষ্মী হতে পারবে না।
🌺 লক্ষ্মী ঠাকুরের পুত্র সন্তানের কোনো হদিস পাওয়া যায় না। অথচ ওই পাঁচালিতে বলেছে লক্ষ্মী ব্রত করলে অপুত্রের পুত্র হয়। আমি বুঝি না পুত্রের সাথে লক্ষ্মী দেবীর কি সম্পর্ক? এখন যারা বলবেন যে এখানে পুত্র বলতে ছেলে না, সন্তান বুঝানো হয়েছে তাদের উদ্দেশ্যে আমার ছেঁড়া জুতা নিক্ষেপ করা হলো।
যে হরিদাস পাল এই পাঁচালী লিখেছে সে নিশ্চয়ই ভাতের বদলে ঘাস খেয়ে পাঁচালী লিখে নি। যে লোক এত ছন্দ মিলিয়ে মিলিয়ে নারীদের দোষ ত্রুটি নিয়ে একটা পুস্তিকা লিখে ফেলতে পারে তাঁর নিশ্চয়ই " নিঃসন্তান" আর " সন্তান" এই দুইটা শব্দের সাথে পরিচিতি আছে। বাংলা ভাষায় লেখা সত্ত্বেও তিনি এটা কেনো লিখেন নাই " নিঃসন্তান এর সন্তান লাভ হয় তাহাতে।" ??
🌺 পাচালিতে লেখা আছে, স্বামীর পিতা মাতা আর আত্মীয় স্বজনের সেবা করে যে নারী হাসি মুখে তার ঘরে লক্ষ্মী বিরাজ করে। নিঃসন্দেহে ভালো আর সুন্দর উপদেশ। কিন্তু নারীর পিতা মাতা আর আত্মীয় স্বজন নিয়ে পতির কর্তব্যের কোনো ব্যাখ্যা দেয় নি কেনো লেখক? নারীর পক্ষের মানুষ জন কি জলে ভেসে গেছে?
🌺 পাঁচালি তে লেখা আছে যে নারী অট্টহাসি আর সাজগোজ করে সে নারী লক্ষ্মীর কাতারে পড়ে না। কিন্তু দেবী কালী, দুর্গা এঁরা নিজ নিজ সাজে সুন্দর ভাবে সজ্জিত। অট্টহাসি তাঁদের তেজ ও বীরত্বের প্রতীক। তাহলে তাঁরা কি অলক্ষ্মী?? কি বলতে চায় এই লেখক?
🌺 শুধুমাত্র পতির পিতা মাতা সেবা করার কথা উল্লেখ করেছেন পাঁচালী লেখক। কিন্তু লক্ষীদেবীর শাশুড়ি বা শশুরের কোনো উল্লেখ কোথাও নেই। উল্টে প্রতি দুর্গা পূজায় দেবী লক্ষ্মী দুগ্গা ঠাকুর এর মেয়ে রূপে মামার বাড়ি আসেন এবং দশমীর শেষে মণ্ডপে নারায়ণ পূজা করা হয়।
🌺 এরকম আরো অনেক লেখা আছে যেগুলো দেখলে মনে হয় পৃথিবীর বুকে নারী জন্ম নিয়েছে দোষের কলস ভরে।
🌺 পাঁচালী তে লজ্জাকে নারীর ভূষণ বলছে। লেখক মনে হয় কখনও কালী ঠাকুরের কাহিনী জানেন না।
লেখক আবার কায়দা করে কিন্তু সধবা নারীদের কথাই বলেছেন। যাতে তাকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে তার ঘাড়ের উপর পা দিয়ে নাচতে সুবিধা হয়। অথচ লক্ষ্মী দেবী স্বাধীনচেতা এক নারী চরিত্র। লক্ষ্মীর পাঁচালী সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন আমাদের দেশের পুরুষ সমাজ এবং ঘিলু বিহীন নারী সমাজ। এক নারীবিদ্বেষীর লেখা নারীরাই কত ভক্তি ভরে মাথায় তুলে রাখছে।
পাচালীতে বর্ণিত লক্ষ্মী হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে কালী ঠাকুরের মতো অন্যায় কে দমন করে নিজের মতো বেঁচে থাকা অনেক অনেক অনেক উত্তম।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: মেয়েদেরকে বেশি পড়াশুনা করাবেন না। বেশি পড়াশোনা করাইলে মেয়েদের এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন না।

✍️ ঐন্দ্রিলা ঘোষ,

No comments:

Post a Comment