কোরানে নেই কবরে আজাবের কথা। কোরানে নেই নারীকে সর্বাঙ্গে হিজাব পরিয়ে রাখার কথাও। কোরানে নেই নিষিদ্ধ যৌনকর্মের জন্য পাথর ছুড়ে হত্যা করার কথাও। কোরানে কোথাও নেই নবী ইব্রাহিমের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম। নবী ইব্রাহীম কোন পুত্রকে কোরবানী দিতে গিয়েছিলেন তার নামও কোরানে নেই। মুসলিম ছেলেদের মুসলমানী করাতে হবে সেটাও কোরানে নেই, নেই কত ওয়াক্ত নামাজ পড়তে হবে সেটাও। অথচ আমাদের দেশের আলেম যারা, তারা এইসব কথাগুলোই সবচেয়ে বেশি বলে থাকেন। যখন তাদের বলা হয় তারা এগুলো কেন বলছেন, তখন তারা হাদিসের রেফারেন্স দেন। সেই হাদিসও বেশিরভাগ আসল নয়। আসল হাদিসগুলোকে সহীহ হাদিস বলা হয় যেটা আবার তারা নিজেরাই সহীহ বা আসল বলে ঘোষণা করেছেন।
সেই সহিহ হাদিসের প্রথম একজন লেখক হলেন ইমাম বুখারী, যিনি জাতীসত্ত্বায় ছিলেন একজন তুর্কি/পারসিক, যিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন খোরাসানের বুখারায় যা বর্তমানের উজবেকিস্তানে অবস্থিত। ইমাম বুখারী জন্মগ্রহণ করেছেন নবী মুহম্মদের জন্মগ্রহণের ২৪০ বছর পর। ইমাম বুখারীর হাদিস সংকলনে অন্য কোন লিখিত হাদিসের রেফারেন্স নাই, আছে বিভিন্ন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে শোনা ২৮০ বছর আগের একজন ভিন্ন দেশীয় ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের জীবনযাপন ও বক্তব্যের কথা। একবার ভাবুনতো কোন লিখিত রেফারেন্স ছাড়া ২৮০ বছর আগের আপনার নিজ পরিবারের কোন ব্যক্তির জীবনযাপন ও বক্তব্যের কথা খুঁজে বের করতে পারেন কিনা? সত্য বলতে কি আপনি নামটাই খুঁজে বের করতে পারবেন না।
সেই সহীহ হাদিসও কেমন তার একটা উদাহরণ দেয়া যাক। সহীহ বুখারীতে বর্ণিত ৩৫৭০ নং হাদিসে “নুয়া’ঈম ইবনু হাম্মদ (রহঃ) ... আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাহিলিয়াতের (ইসলাম পূর্ব) যুগে দেখেছি, একটি নারী বানর ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কারণে অনেকগুলো বানর তাকে ঘিরে একত্রিত হয়ে প্রস্তর নিক্ষেপে তাকে হত্যা করল। আমিও তাদের সাথে প্রস্তর নিক্ষেপ করলাম”। (সহিহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন)
এর অর্থ সহীহ বুখারীতে বর্ণিত সাহাবীগণ এক নারী বানরের ব্যভিচার দেখেছেন। সেই কারণে অন্য বানরেরা সেই নারী বানরের বিচার করে সেই ব্যাভীচারীনিকে বানরটিকে পাথর মেরে হত্যা করেছে। তিনি নিজেও পাথর ছুঁড়ে সেটাতে অংশগ্রহণ করেছেন পাপী নারী বানরকে হত্য করতে।
আলেমদের কাজ হচ্ছে খাওয়া পরা ও বেঁচে থাকার বাস্তবতা এবং অর্থনীতি ও সমাজ যে পথে চলে, তার সাথে সর্বদা ধর্ম ও নৈতিকতার সংশ্লেষণের পথ বের করা। দেড় হাজার বছরের আগের সমাজের সাথে কখনই বর্তমান সমাজের জটিলতা ও গতি প্রকৃতি, বাস্তবতা মিলবে না। এই মেলানোর কাজটিই আলেম ও ইমামদের কাজ। সেটার ধারে কাছে না গিয়ে তারা অযৌক্তিক ও বানানো কথার রাশি রাশি বই মুখস্ত করে মানুষকে ভয় দেখিয়ে একটি নির্বোধ সমাজ তৈরিতে রত। আলেম ও ইমামদের কাজ কখনই ধর্মের ফেরি করে বেড়ানো নয়। তাঁদের কাজ হচ্ছে ধর্ম ও বর্তমানের জীবনের মিথষ্ক্রিয়ায় এলাকাটায় বিচরণ করে মানুষকে নৈতিকতার পথ চালিত করা।
ঠিক একই কথা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বস্তবতা সবসময় অর্জিত জ্ঞান থেকে এগিয়ে চলতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষদের কাজ হচ্ছে অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি, উৎপাদন ব্যবস্থা ও প্রকৃতির অর্থাৎ সমাজের নৈমিত্তিক বাস্তবতা যে পথে চলে, তার সাথে সর্বদা জ্ঞানের সংশ্লেষণের পথ রচনা করে চলা। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষদের কাজ কখনই জ্ঞানের ফেরি করে বেড়ানো বা জ্ঞান বিতরণ করাও নয়। তিনি যা জানেন সেটা পুরোনো, তাঁর কাজ হচ্ছে অর্জিত জ্ঞান ও বর্তমানের মিথষ্ক্রিয়ায় এলাকাটায় বিচরণ করে সমাজকে জ্ঞানভিত্তিক জীবনযাপনের পথ বাতরে দেওয়া। সেটা না করে জ্ঞান মুখস্ত ও বিতরন করে বড় বড় ডিগ্রি নিয়ে তাঁরাও যেন একটি নির্বোধ সমাজ তৈরিতে রত।
এখানে উল্লেখ্য যে নবী মুহম্মদের জন্মগ্রহণের ২৪০ বছর পর ইমাম বুখারী সহ আরো যে সকল লেখকের হাদিস সংকলন করা হয়েছে তার বেশীরভাগই নবী মুহম্মদের সময়ের সময় আরব নয়, মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে যে ইহুদি তালমুদ ভিত্তিক কঠোর নিয়ম নীতি ও আইন প্রচলিত ছিল সেগুলোর প্রভাবেই লেখা হয়েছিল তাই কোরানের সাথে সেগুলো এত সাংঘর্ষিক।
No comments:
Post a Comment