কিছুদিন পূর্বে আমার একজন ফ্যান আমাকে কল করে জানান, তার স্বামী তাকে একটা মশার জন্য টানা একদিন টর্চার করেছে। আমি অবাক হয়ে প্রশ্ন করি মানে, কী বলেন আপনি! তিনি বলেন, হ্যাঁ, আমি হোম ক্লিন করার পরও কেন টেবিলে মশা এসে বসেছিল, তার জন্য সে আমাকে একটানা একদিন মানসিক নির্যাতন করেছে। আমি প্রশ্ন করলাম, মাইক্রো-ডিক্টেটর সম্পর্কে জানেন?
মাইক্রো-ডিক্টেটর হলো সে সব ব্যক্তি এক্সটারনাল বিশ্বে যারা পাওয়ারলেস। তাদের নার্ভাস সিস্টেম এতটাই দুর্বল যে এক্সটারনাল বিশ্বে ডমিন্যান্স খাটাতে পারে না। এজন্য তাদের সহজ শিকার হলো তাদের ওয়াইফ। তারা ম্যাক্রো লেভেলে খেলতে পারে না, তাই মাইক্রো ডমিন্যান্স প্রদর্শন করে। তারপর আমি তাকে প্রশ্ন করি, নিশ্চয়ই, আপনার স্বামীর প্রিম্যাচিউর ইজ্যাকুলেশন হয়? সে বেশিক্ষণ সার্ভাইভ করতে পারে না? তিনি এবার শকড হয়। আমাকে জানান, হ্যাঁ, নিষ্ঠুরতম সত্য হলো তার সেক্স পাওয়ার জিরো।
মাইক্রো ডিক্টেটর বড় বড় কোনো ফ্যাক্টর কন্ট্রোল করতে পারে না, তাই তারা ছোট ছোট ব্যাপারে কন্ট্রোল করে। লাইট কেন অন? জুতা কেন ওখানে? প্লেট কেন ওইভাবে রাখা? ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যাপার কন্ট্রোল করার মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের একটা কিছু প্রমাণ করার চেষ্টা করে। তারা নিজের অক্ষমতাকে স্ত্রীর ফল্ট মনে করে, নিজের আতঙ্ককে স্ত্রীর উপেক্ষা মনে করে, নিজের অসহায়ত্বকে স্ত্রীর অযোগ্যতা মনে করে।
যে সব মানুষ পাবলিক প্লেসে ভালো মানুষ সাজে, তাদের মধ্যে মাইক্রোস্কোপিক স্বৈরাচারিতা বেশি দেখা যায় কারণ এরা দীর্ঘ সময় বাইরে মাস্ক পরে থাকার কারণে তাদের সকল উত্তেজনা ওয়াইফের সাথে ডিসচার্জ করে। পাবলিক প্লেসে এরা মহামানব বা হিরো হলেও, প্রাইভেটলি এরা আণুবীক্ষণিক সন্ত্রাসী।
বিবর্তন তত্ত্ব বলে, প্রাগৈতিহাসিক সময়ে পুরুষরা ছিল পাবলিক সন্ত্রাসী। তারা সবসময় শিকার ও শিকারী প্রাণীর সাথে যুদ্ধ করতো। আজকের যুগে পুরুষ তাদের এই এক্সটারনাল পাওয়ার হারিয়েছে আর তাই ডিজিটাল পুরুষের সহজ শিকার হলো নারী, তারা তাদের পরিবারে এক একজন মাইক্রো-ডিক্টেটর হয়ে উঠছে!
নারীও মাইক্রো ডিক্টেটর হয়। যখন নারীর নার্ভাস সিস্টেম বোঝে, এ মানুষটিকে হারালে আমি ভেঙে পড়ব তখন সে তাকে মনিটর করা শুরু করে।কে ফোন দিল?কেন দেরি? কাকে ফলো করছ? কেন হাসলে? সে বলবে না—“আমি কন্ট্রোল করছি” সে বলবে— “আমি শুধু নিরাপত্তা চাই” এটা নিরাপত্তা না, এটা “Attachment policing”।
নারী মাইক্রো ডিক্টেটর হলে সে সরাসরি আদেশ করে না, সে গিল্ট ট্র্যাপ তৈরি করে। সে পুরুষকে ইমোশনাল পানিশমেন্ট দিয়ে শক্তি নেয় কারণ পুরুষ “Emotionally conscientious। সে সাধারণত নিজের কাজ, দায়িত্ব, এবং অন্যের অনুভূতি নিয়ে গভীরভাবে যত্নশীল।
নারী যখন মাইক্রো-ডিক্টেটর হয় তখন সে পুরুষকে পানিশমেন্ট দেয়ার জন্য সেক্স ব্যবহার করে, পুরুষ তার কথা মানলে সেক্স দেবে অথবা সেক্সচুয়াল ডিস্টেন্স মেনে চলবে। এদের কাছে সেক্স হলো একটি অস্ত্র। নারী মাইক্রো ডিক্টেটর সাইলেন্ট ট্রিটমেন্ট, ইমোশনাল ব্রেকডাউন ও কান্নার বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে তাদের নার্ভাস সিস্টেম ডিসচার্জ করে।
এটা হলো মাইক্রো-ডমিন্যাশন। সে নিজেকে নৈতিকভাবে সুপেরিয়র রাখে আর যে তার বিপক্ষে যায়, সে অটোম্যাটিক্যালি অনৈতিক। নারী মাইক্রো-ডিটেক্টর খুবই গল্পবাজ হয়, প্রতিটি গল্পে সে পুরুষকে ভিলেন সাজানোর চেষ্টা করে আর নিজেকে প্রমাণ করতে চায় সে ভিক্টিম। আর মানুষ ফ্যাক্ট নয়, পেইনকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যে সব নারী অর্থনৈতিক ভাবে আটকা, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন, নিজের লাইফ এজেন্সি কম, পালানোর রাস্তা নেই অথবা উপেক্ষিত, তারাই মাইক্রো-ডিক্টেটর হয় কারণ তাদের কোনো এক্সটারনাল পাওয়ার নেই।
ট্রমা, ক্রোনিক অপমান ও দীর্ঘকালীন অক্ষমতা মানুষকে মাইক্রো-ডিক্টেটর করে তোলে। এমন কিছু মানুষ আছে যারা কোথাও নিজের প্রভাব খাটাতে পারে না, তাই এরা প্রভাব খাটায় জীবজন্তুর উপর, তারা নিরীহ প্রাণী হত্যা করে পাশবিক আনন্দ গ্রহণ করে!
লিহান প্রাইম
No comments:
Post a Comment