Sunday, December 7, 2025

দানবের হাতেই তাদের বিনাশ হবে।

 আহমদ ছফা, ফরহাদ মযহার, সলিমুল্লাহ খান যে দানব সৃষ্টি করতে বছরের পর বছর ভূমিকা রেখেছেন সেই দানবের হাতেই তাদের বিনাশ হবে।

ফরহাদ মযহারের দানব সেক্যুলারিজম, মুক্তিযুদ্ধ, নাস্তিকতা, প্রগতিশীলতা, রবীন্দ্রনাথ, বাঙালি সংস্কৃতি, হিন্দুয়ানীর বিরুদ্ধে মব চালিয়েছে তখন পর্যন্ত তিনি সেটা উপভোগ করেছেন এবং মবকে জনগণের ন্যায় সংগত ক্ষোভ বলে বৈধ করেছেন। তিনি এখন তার নিজের পুঁজি মাজার-লালনের উপর সেই দানবের আঘাত পড়ায় পেটে লাথি খাওয়ার মত ব্যথা পেয়েছেন। ফলে তাদের এতদিনের দানবটি হয়ে গেছে তার কাছে ‘ইসলামী ফ্যাসিজম’। সঙ্গে সেক্যুলারিজমের ফ্যাসিবাদকেও দাঁড় করিয়েছেন। যেন ইসলামী ফ্যাসিবাদ তাকে সেক্যুলার বলে মৃত্যু যোগ্য মুরতাদ বলতে না পারে। কিন্তু ফরহাদ মযহার মিথ্যার আশ্রয় নিলেন বরাবরের মতই।
পৃথিবীতে সেক্যুলারিজমের ফ্যাসিবাদ কোথাও গড়ে উঠে না। সকল জাতি ধর্ম বর্ণের সমান অধিকারই হচ্ছে সেক্যুলাজিম। রাষ্ট্রের কোন ধর্মীয় জাতিগত বর্ণগত পরিচয় না হয়ে সে হবে সকলের। এই নীতি কোন রাষ্ট্র ধারণ করলে সেখানে কার বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদ গড়ে উঠবে? এরকম রাষ্ট্রে এনায়েত আব্বাসী বা মামুনুল চরমোনাই জামাত শিবির তাদের সাম্প্রদায়িক ঘৃণা প্রচার করতে গিয়ে যদি বাধার সম্মুখিন হয় সেটাকে তারা ফ্যাসিবাদ বলতেই পারে। কিন্তু ২০১৩ সালের গণজাগরণ মঞ্চ তো ফরহাদ মযহারকে হত্যাযোগ্য বলে ফতোয়া দেয়নি। শেখ হাসিনা ১৭ বছর তো ফরহাদ মযহারকে হত্যার ফতোয়া দেয়নি। যেসব ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানকে তিনি সেক্যুলার বলেন, তাদের উত্থানকে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি বলেছেন তারা কেউ তাকে হত্যা করতে বলেছে? তার লেখালেখি বা কথা বলার উপর ফতোয়া দিয়েছে? তাহলে কোথায় কিভাবে তিনি সেক্যুলার ফ্যাসিবাদ দেখতে পেয়েছেন এটি তার মুখ থেকে বের করুন।
সারা জীবন কেবল ‘মুসলমান মুসলমান’ করে যে সাম্প্রদায়িক জাতি পরিচয়কে নিজেদের আত্মপরিচয় করে তুলেছেন সেখান থেকে উগ্র মুসলিম জাতি চেতনা বের হবেই। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ- এখানে মুসলিম রাজনৈতিক অর্থনৈতিক সামাজিক যে একচেটিয়া আধিপত্যবাদ সৃষ্টি হয়েছে সেখানে আহমদ ছফা-প্রফেসর রাজ্জাক অহেতুক ‘বাঙালি মুসলমানের নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য’ নামে যে জাতীয়তাবাদী চেতনা বাজারজাত করেছিলেন সেখানে ৭২ এর সংবিধানের বিরুদ্ধে তাদের একটি এন্টি তৈরি হয়। কোলকাতার হিন্দু বাঙালিদের শিল্প সাহিত্য সিনেমা বইপত্র সাময়িকপত্রের উচ্চস্তরের সৃষ্টিশীলতার প্রতি ঈর্ষাবশত এই বৈরীতাই সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের বুদ্ধিভিত্তিক মুসলিমবাদে প্রবেশ। সেই ছোট্ট দানবটি আজ অনেক বড় হয়েছে। এখন সে তার পিতাদের খেয়ে ফেলতে চায়! দেখি কতদূর কী হয়...।

No comments:

Post a Comment