আধুনিক নারীরা তাদের দেহকে বাজারে বিক্রি করে, তারা কোনো পুরুষের সাথেই সার্ভাইভ করতে পারে না। একজন নারী নিজেকে পাবলিক ফ্যান্টাসিতে পরিণত করবে আবার একইসাথে সে প্রাইভেট ও বিশ্বস্ত সম্পর্ক বজায় রাখবে_এটা কখনোই হতে পারে না। এ দুটি সিস্টেম সেলফ কন্ট্রাডিক্টরি।আপনি এমন কোনো নারীকে আপনার জীবনসঙ্গী করতে পারেন না, যে নিজের দেহকে মার্কেটপ্লেসের মতো ট্রিট করে আর নিজের মনোযোগ সাবস্ক্রিপশন সার্ভিসের মতো বিক্রি করে। তারপর যখন সে তার পছন্দের সঙ্গী পায়, তখন তার কাছে লয়্যালিটি ক্লেইম করে। তাদের কাছে বডি কাউন্ট গুরুত্বপূর্ণ না। তারা বলে আমার দেহ আমি আনলিমিটেড পুরুষকে গিফট করব, এটা আমার পারসোনাল ফ্রিডম। আমি নিজেকে এক্সপ্রেস করব। সে তার জীবনে ৩০-৪০ জন পুরুষের সাথে সিচুয়েশনশিপ তৈরি করে। তার ইনবক্স যেন রেলস্টেশনের দরজা, যেখানে অন্তহীন পুরুষের স্রোত। তার পুরো ব্র্যান্ডিং দাঁড়িয়ে থাজে আনলিমিটেড সেক্সচুয়াল অ্যাকসেস আর এক্সপোজারের ওপর। আবার যখন একজন স্থির, শৃঙ্খলাবদ্ধ, শক্তিশালী পুরুষ তার সামনে আসে—সে হঠাৎ চায় তাকে “স্ত্রী” হিসেবে দেখা হোক। আপনি পর্নোস্ট্যারের মতো সমগ্র বিশ্বকে নিজের শরীরের উপর অবাধ স্বাধীনতা দিয়ে সম্পূর্ণ স্বৈরাচারী বা একচেটিয়াভাবে কি করে কারও আছে এক্সক্লুসিভিটি প্রত্যাশা করতে পারেন? মনে রাখতে হবে, সম্মান কোনো রিব্র্যান্ড না। সম্মান একটা লাইফস্টাইল।
এখানেই শেষ নয়, সে আপনার সাথে কানেকশন তৈরি করবে, আপনার সম্পদ ব্যবহার করবে, আপনার বিশ্বস্ততা ব্যবহার করবে, আপনার অবাধ আবেগ ব্যবহার করবে, আপনার পুরুষতান্ত্রিক লিডারশিপ ব্যবহার করবে আর যখন সে বুঝতে পারবে সে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে, সে বলবে, আমি সুখী না, আমি বিকশিত হচ্ছি না, আমি নিজেকে আবিষ্কার করতে পারছি না। ট্র্যান্সলেশন? আবার সে তার পূর্বের লাইফ স্টাইলে ফিরে যেতে চাইছে, সে আপনাকে ভালোবাসার মানুষ হিসেবে নির্বাচন করেনি, সে আপনাকে নির্বাচন করেছে তার সাময়িক ক্লান্তি হিসেবে, আপনার তার বিশ্রাম ছিলেন, সঙ্গী নয়।
ডিভোর্স হলো আধুনিক নারীদের টিকে থাকার একটি অস্ত্র। ডিভোর্স একজন নারীর লুকানো বিজয়। তারা যখন আগের সংসারে সম্পূর্ণ স্বৈরাচারী ও বিশৃঙ্খল বা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে তখন সে ডিভোর্সকে একটি সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে। ডিভোর্সের পর একজন নারী এলিমনি পায়, চাইল্ড সাপোর্ট পায়, অনলাইন সিম্প্যাথি পায়, সে ভিক্টিভ ন্যারেটিভ তৈরি করে, সে তার ক্ষমতাকে পুনরায় ব্র্যান্ডিং করতে শুরু করে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দুঃখ, ট্রমা, ব্রেকআপ-এর গল্প বলে ফুটেজ, ফলোয়ার, স্পনসরশিপ, সিম্প্যাথি, ভাইরালিটি জমায়। অন্যদিকে পুরুষ যদি একই কথা বলে—“সে আমার সাথে অন্যায় করেছে”— মানুষ তাকে দোষীই ভাবে। আপনি শেখেন, সে কমপেনসেশন পায়।
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর পুরুষ তার স্ট্যাবিলিটি হারায় আর নারী পায় মুক্ত বাজার। পুরুষ সাধারণত স্থিতিশীল পরিবারে ইনভেস্ট করে কিন্তু নারী অগণিত পুরুষের সাথে প্রেম করার সুযোগ পায়। সোশ্যাল মিডিয়া, ডেটিং অ্যাপ ও অ্যাটেনশন ইকোনমিতে তার কোটি কোটি অপশন থাকে। পুরুষ পরিবার ভেঙে গেলে শূন্যতায় পড়ে, নারী আবার সম্পর্ক, ভ্যালিডেশন, আর্থিক সুবিধা পেতে পারে। সিস্টেম এভাবে সাজানো—এটা কোনো “নারীর দোষ” নয়, কিন্তু বাস্তব ডায়নামিক ঠিকই আছে। ডিভোর্স নারীর জন্য একটি নোবেল প্রাইজ। ডিভোর্সের পর নারী দেখে তার জন্য অসংখ্য অপশন, সামাজিক মিডিয়ায় অগণিত সাপোর্ট, আইন আমার পক্ষে, স্বাধীনতা আমাকে বেশি সম্ভাবনা দিচ্ছে। এজন্য বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের পর নারীর পক্ষে মুভ অন করা সহজ হয়ে যায়। পুরুষ ভাবে— “আমাদের সম্পর্ক শেষ মানে দু’জনেই হারলাম।” কিন্তু নারী ভাবে— “এটাই আমার রিব্র্যান্ডিং—আমার নতুন জীবন।
বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতারণা ও বহুগামিতা সবসময় সুখকর নয়। যে সব নারী অধিক সংখ্যক পুরুষের সাথে সম্পর্ক করে তাদের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সার্কিট ডেমেজ হয়ে যায়। তাদের মস্তিষ্কে অক্সিটোসিন ও ডোপামিন কমে যায়। তারা সমাজ ও মহাবিশ্বের সাথে সংযোগ হারিয়ে ফেলে। আপনি যদি ২০-৩০ জন পুরুষের সাথে বারবার সেক্স করেন, মস্তিষ্ক বুঝে নেয় আপনার আকর্ষণ স্থির নয়। তার কাছে পুরস্কার হলো নতুনত্ব, তার কাছে সেক্স হলো বিনোদন, তার কাছে কমিটমেন্ট হলো সাফোকেশন এবং তার কাছে লয়্যালিটি হলো একটি কস্টিউম। সে আজ আপনাকে ভালোবাসে। কাল আপনার মতো আরেকজন পেলেই—আপনি তার কাছে অপ্রসাঙ্গিক হয়ে যান। আপনি আর ইউনিক নন, আপনি শুধু “next experience”। ডিপ ইমোশনাল কানেকশন তার পক্ষে কষ্টকর হয়। সে রোমান্সকে সিরিয়াসলি নিতে পারে না। ঘনিষ্ঠতাকে সে গুরুত্ব দেয় না। এটা “empowerment” না—এটা desensitization। সে আল্টিম্যাটলি ইমোশনাল সুইসাইড করে। সম্পর্ক তার কাছে গভীর লাগে না। স্ট্যাবিলিটি তার বোরিং লাগে। সে নিজেকেই বুঝতে পারে না “একজনের জন্য আমি বদলে যাব”—এটা তার পক্ষে রেয়ার।
আধুনিক পুরুষ নিজের সেলফ ডেস্ট্রাকশনের পেছনে নিজেই স্পন্সর করছে। ভুল নারীর পেছনে যে প্রতিটি টাকা আপনি খরচ করেন, সেটাই সেই সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে যা আপনাকে ধ্বংস করছে। যে নারী নিজের চরিত্র লুকিয়ে শুধু দেহকে সামনে আনে, তাকে প্রশংসা করা বন্ধ করুন। যে নারী নিজের জীবন পুড়িয়ে ফেলেছে এবং সেই ধ্বংসকেই “সেলফ-লাভ” বলে সাজিয়ে বিক্রি করে, তার জন্য কেন আপনি জীবন দেবেন? যে নারী কখনোই আপনার সাথে কিছু গড়ার মানসিকতায় ছিল না, তার ভবনের ভিত্তি হয়ে দাঁড়াবেন না। আপনি তার রাজা নন, আপনি তার ক্ষতিপূরণ।
আপনার পরিপূর্ণতা প্রয়োজন নেই, কিন্তু আপনার নীতিবোধ প্রয়োজন। এমন নারী খুঁজুন যে এখনো জানে সম্মানের মূল্য, ব্যক্তিগত সীমার গুরুত্ব, সংযম, নম্রতা, আনুগত্য আর প্রাইভেসির শক্তি। যে নারী লাইক আর ভ্যালিডেশনের জন্য নিজের আত্মাকে বিক্রি করেনি, দেহকে মার্কেটপ্লেস করেনি। পৃথিবীর সকল পুরুষ যার জন্য মরিয়া তার পেছনে না ছুটে, এমন কাউকে অনুসন্ধান করুন, সে নিজেকে প্রোটেক্ট করছে। সে শুধু নিজেকেই প্রোটেক্ট করে না, সে আপনার পারিবারিক মর্যাদা ও আপনার আত্মসম্মানকেও প্রোটেক্ট করে। আর এমন নারীই একজন পুরুষকে সত্যিকারের অপ্রতিরোধ্য করে তোলে।
No comments:
Post a Comment