তুমি একদম ঠাকুর ঘরে আসবেনা। কাঠের দরজাটায় খিল তুলে দিতে দিতে বলেছিলো ঠাম্মা।অম্বুবাচীর দিন গুলো খুব মন খারাপে কাটাতো ঠাম্মা। আমাদের সুপুরি গাছটাও মেঘ ছুঁয়ে থাকত মনখারাপের। ঘোর লাগা বারান্দায় ঝোড়ো হওয়া আম কাঁঠালে নীল মাছি। সব কেমন যেন মন খারাপের গন্ধ।
শেষ দিনে আমাদের সবাইকে আম দুধ খাইয়ে স্নান সেরে কাউনের চালের ভাত খেতো ঠাম্মা। আমার হাতে ছোট্টো খেলনাবাটি তে লুচিপাতা আর ইঁটের ঝোল। কেন এই বৈষম্য প্রতিবার কেন ফিরে আসে এই সব দিন। ঠাম্মা শুনে যেতে পারেনি পৃথিবীটা কীভাবে বদলে গেলো,ঠাম্মা দেখে যেতে পারেনি ধুসর রঙের মনখারাপটা একটা রঙিন প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়ায় গহীন বনে। ঠাম্মার পাথরের বাটিটা সব দু:খের একমাত্র স্বাক্ষী হয়ে ঠাকুরঘরের কোনে পরে থাকে। আস্তে আস্তে মিলিয়ে যায় অম্বুবাচীর আম দুধ, ঠাম্মার সাদা শাড়িতে মুখ হাত মুছে নেওয়া আমার দিনগুলো।
আজ বলছিলাম এক অচীন দেশের আম দুধ ভাত খাওয়ার কথা। থাইল্যান্ডের একটি জনপ্রিয় খাবার আজ অর্ডারে বানিয়েছিলাম অথচ আজই অম্বুবাচীর শেষ দিন। কিছুটা তুলে রেখেছিলাম নিজের জন্য।পন্দান পাতা মেলানো স্টিকিরাইস, সাথে পাকা আম আর নারকেলের দুধ। তবে এই দুধ আম ভাত মিষ্টি নয়। কোথাও ঝাপসা হয়ে ওঠে মাঠ,পৃথিবীর সাতসাগর পারের হয়ত কোন কন্যের ঠাম্মার হাতের যত্নে এই thai Mango sticky rice এর অপেক্ষা আকাশ ভাঙা জলের মত ভেসে আসছে
পুষ্পান্ন
No comments:
Post a Comment