Monday, July 27, 2026

আমার কৈফিয়ৎ

 

-
আমার সাম্প্রতিক লেখাগুলোতে দুটো বিষয় নিয়ে অনেক পাঠক মন্তব্য এবং মেসেঞ্জারে কৈফিয়ত চেয়েছেন। একটি হলো, আমি কেন বলছি বঙ্গবন্ধুকে দেওয়া ইয়াহিয়ার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো, এটা আমি কেন বলেছি। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে, ক্যাডেট কলেজগুলো বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী—এটা আমি কেন বলেছি।
প্রথমেই বলে রাখি, যারা এইসব প্রশ্ন করছেন তারা শয়তানবাদের প্রভাবে প্রবেশ করেছেন। শয়তান তাদেরই প্রভাবিত করে, যাদের মন সবসময় দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে এবং যাদের সুন্দর করে পরিবেশন করে যেকোনো কিছু বিশ্বাস করানো যায়। এরাই কোনো দল, মত বা ধর্মের সবচেয়ে বড় সমর্থক হয়ে ওঠে যখন তারা দেখে সেই দল, মত বা ধর্ম ক্ষমতার শীর্ষে উঠে আসবে। কিন্তু যখন সেই দল, মত বা ধর্ম বিপদে পড়ে, তারাই প্রথম কেটে পড়ে এবং নিজ স্বার্থ ও পাওনাটাকে প্রাধান্য দিয়ে অন্য দল বা সংস্কারপন্থী হয়ে যায়।
এদের চেনার উপায় হলো, সুসময়ে এরা নেতার চেয়েও বড় নেতা, নবীর চেয়েও বড় মুসলমান-এ পরিণত হয়। তার চেয়েও বড় বিপজ্জনক হলো, এরা সত্য যারা বলে তাদের হত্যা করতে চায়। ফরাসি আলজেরীয় লেখক আলবেয়ার কাম্যু যেমন বলেছেন, ইতিহাসে এমন সময় আসে—দুই যোগ দুই চার যারা বলে, তাদের হত্যা করা হয়।
বঙ্গবন্ধুকে দেওয়া ইয়াহিয়ার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ যে ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টো, এটা তো আমি বলিনি, এটা বলে গেছেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু, যেটা সেই ১৯৭২ সালে নিউজউইক পত্রিকাকে তিনি তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকারে বলে গেছেন। যেটি পুনঃপ্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২ সংখ্যায়। যে পোস্টটি এখনও নিউইয়র্ক টাইমসের ওয়েবসাইটে আছে। মনে রাখতে হবে, এটি প্রকাশিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের সেই ক্ষতবিক্ষত সময়ে, ৩০ লক্ষ প্রাণ হারানোর স্মৃতি যখন সবার মনে জলন্ত আগুনের মতো জাগ্রত। সত্য না হলে এটি কোনোভাবেই প্রকাশিত হতো না। নিউইয়র্ক টাইমস ১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২ সংখ্যার সেই রিপোর্টটি:
"মুজিবের বক্তব্য: ইয়াহিয়ার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ ভেস্তে দিয়েছিলেন ভুট্টো"
১৭ জানুয়ারি, ১৯৭২
"শেখ মুজিবুর রহমান প্রকাশ করেছেন যে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের শেষ মুহূর্তে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার যে আদেশ হয়েছিল, তা জুলফিকার আলী ভুট্টোর হস্তক্ষেপে ব্যর্থ হয়। ভুট্টো তাঁকে এমন একটি কারাগার থেকে গোপনে বের করে আনার ব্যবস্থা করেছিলেন, যেখানে তিনি দীর্ঘ নয় মাস একাকী বন্দী ছিলেন। সেই সময় পর্যন্ত ভুট্টো জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানকে সরিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের পদ গ্রহণ করেননি।
ঢাকায় ফিরে আসার পর তিনি নিউজউইক পত্রিকাকে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন—এটি ছিল তাঁর প্রথম সাক্ষাৎকার—সেখানে সদ্য ঘোষিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বন্দিজীবনের দুর্ভোগের বর্ণনা দেন। তিনি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তাঁর বিচারকে “একটি প্রহসন” বলে অভিহিত করেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ থেকে শেষ মুহূর্তে তাঁর রক্ষা পাওয়ার ঘটনা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
শেখ মুজিবকে উদ্ধৃত করে বলা হয়:
“যুদ্ধ যখন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে এবং ভুট্টো ক্ষমতায় আসছেন, তখন ইয়াহিয়া বলেছিলেন যে তিনি বাংলার পতনের দিনই শেখ মুজিবুর রহমানকে ফাঁসি দিতে চান।”
তিনি আরও বলেন:
“এক রাতে, ভুট্টো ইয়াহিয়াকে তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা সত্ত্বেও, কারাগারের ভেতরেই আমাকে হত্যা করার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন ভুট্টো আমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপারকে আমাকে সেখান থেকে বের করে আনার ব্যবস্থা করতে বলেন।”
পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে বাঙালি সংস্কৃতি ও আওয়ামী-ভারতবিরোধী ছিল, এটা বলে গেছেন স্বয়ং জিয়াউর রহমান তাঁর “একটি জাতির জন্ম” প্রবন্ধে। প্রবন্ধটি দৈনিক বাংলা পত্রিকার ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ সংখ্যায় সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের লেখা হিসাবে প্রথম প্রকাশিত হয়। ২৬ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় লেখাটি পুনঃপ্রকাশিত হয়।
সেই প্রবন্ধে পাকিস্তানের সেনা প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলো সম্পর্কে জিয়াউর রহমান লেখেন:
“আমাদের ওরা দাবিয়ে রাখতো, অবহেলা করতো, অসম্মান করতো। দক্ষ ও যোগ্য বাঙালি অফিসার আর সৈনিকদের ভাগ্যে জুটতো না কোনো স্বীকৃতি বা পারিতোষিক। জুটতো শুধু অবহেলা আর অবজ্ঞা। আখ্যায়িত করতো আমাদের আওয়ামী লীগের দালাল বলে। একাডেমির ক্লাসগুলোতেও সব সময় বোঝানো হতো, আওয়ামী লীগ হচ্ছে ভারতের দালাল। পাকিস্তানের সংহতি বিনষ্ট করতেই আওয়ামী লীগ সচেষ্ট। এমনকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ক্যাডেটদের শেখানো হতো, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন ওদের রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু।”
তিনি আরও লিখেছেন:
“সামরিক একাডেমিতে থাকাকালে আমি সম্মুখীন হয়েছি শুধু নিকৃষ্ট অভিজ্ঞতার। সেখানে দেখেছি বাঙালি ক্যাডেটদের প্রতি পাকিস্তানিদের একই অজ্ঞতার ঐতিহ্যবাহী প্রতিচ্ছবি। অবৈধ উপায়ে পাকিস্তানিদের দেখেছি বাঙালি ক্যাডেটদের কোনঠাসা করতে। আমরা যখন ছাত্র ছিলাম তখন যেমন, আমি যখন শিক্ষক হলাম তখনো তেমনিভাবেই বাঙালি ক্যাডেটদের ভাগ্যে জুটতো শুধু অবহেলা, অবজ্ঞা আর ঘৃণা। আন্তঃসার্ভিস নির্বাচনী বোর্ডে গ্রহণ করা হতো নিম্নমানের বাঙালি ছেলেদের, ভালো ছেলেদের নেওয়া হতো না ক্যাডেটরূপে। রাজনৈতিক মতাদর্শ আর দরিদ্র পরিবারের নামে প্রত্যাখ্যান করা হতো তাদের। এর সবকিছুই আমাকে ব্যথিত করতো।”
পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্যাডেট কলেজগুলো সামরিক ক্যাডেট তৈরির লক্ষ্যেই তৈরি। সেনা প্রশিক্ষণ একাডেমিগুলোতে যে মানসিকতা প্রচার হয়, সেগুলোই যে আরও অল্প বয়স থেকে ক্যাডেট কলেজগুলোতে প্রয়োগ করা হবে, সেটা শিশু বা পাগল না হলে সহজেই বোঝার কথা। ক্যাডেট কলেজগুলো যে টোটাল ইনস্টিটিউশন এবং সেগুলো যে ইঙ্গ-মার্কিন সেনা এলিট মানসিকতা তৈরির একটি মগজধোলাই কেন্দ্র, সেটা আমি আগেই লিখেছি। এবং পাকিস্তানে সেনাশাসন আসার পর স্থানীয় সংস্কৃতির রাজনৈতিক শক্তির প্রতি ঘৃণা তৈরিই যে তাদের মার্কিন স্থানীয় সংস্কৃতি উৎপাটন মডেলে হয়েছে, সেটাও আমি অন্যত্র লিখেছি। বাংলাদেশ স্বাধীর হবার পর সেটা পরিবর্তনের আগেই ঘটে ১৯৭৫ এর সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও বাংলাদেশকে পুনরায় নতুন নামে পূর্ব পাকিস্তানে পরিণত করার ঘটনা। ক্যাডেট কলেজগুলো সেই বাঙালী সংস্কৃতিবিরোধী পাকিস্তানী মগজধোলাই কেন্দ্র হিসাবেই রয়ে যায় পাক মার্কিন ভূরাজনৈতিক প্রভাবে।
মনোবিদ্যার দৃষ্টিকোন থেকে আলবেয়ার কাম্যু যে সময়ের কথা বলেছেন, সেই সময়গুলোতে দেখা যায় অতিরঞ্জিত আড়ম্বরপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। যারা মনোবিদ্যার কালো ত্রয়ী বা ডার্ক ট্রায়াড সাইকোলজির ব্যক্তিত্ব। বাস্তবতাবোধ হারিয়ে যারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার, জিয়াউর রহমানের চেয়েও বড় বিএনপি এবং নবী মুহম্মদের চেয়েও বড় মুসলিম বনে যায়। কোরানে এদের নিয়েই সাবধান করা আছে যারাই হল ভুয়া হাদিসের মুসলমান। যাদের লক্ষ্য সত্যকে হত্যা করা।
সত্য বলা লেখককে ধ্বংস করা, হত্যা করা, তাকে নিঃশেষ করে দেওয়া পৃথিবীতে নতুন নয়। আমার নানা লেখা পড়ে অনেকে আবার মহা চিন্তায় পড়ে গেছেন, আমি আসলে কোন দলের। কেউ ভাবছেন আমি জামাত, কেউ ভাবছেন আমি রাশিয়ান, কেউ ভাবছেন আমি ইরানী, কেউ ভাবছেন আমি সুফি দরবেশ। অনেকে আবার ভাবছেন, আমি হয়তো নেতা হতে চাইছি। সত্য বলা কবি নজরুল “আমার কৈফিয়ৎ” কবিতায় যেন আমার কথাই লিখে গেছেন। কবিতাটি ১৩৩২ সালে ‘বিজলী’ পত্রিকার আশ্বিন সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে ৮২ পংক্তির এই কবিতাটি ‘সর্বহারা’ কাব্যগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করে ১৯২৬ সালে প্রকাশ করা হয়।
কাজী নজরুল ইসলামের আমার কৈফিয়ৎ কবিতাটি অংশবিশেষ:
“বর্তমানের কবি আমি ভাই, ভবিষ্যতের নই ‘নবী’,
কবি ও অকবি যাহা বলো মোরে মুখ বুঁজে তাই সই সবি!
কেহ বলে, ‘তুমি ভবিষ্যতে যে
ঠাঁই পাবে কবি ভবীর সাথে হে!
যেমন বেরোয় রবির হাতে সে চিরকেলে-বাণী কই কবি?’
দুষিছে সবাই, আমি তবু গাই শুধু প্রভাতের ভৈরবী!
কবি-বন্ধুরা হতাশ হইয়া মোর লেখা প’ড়ে শ্বাস ফেলে!
বলে, কেজো ক্রমে হচ্ছে অকেজো পলিটিক্সের পাশ ঠেলে’।
পড়ে না ক’ বই, ব’য়ে গেছে ওটা।
কেহ বলে, বৌ-এ গিলিয়াছে গোটা।
কেহ বলে, মাটি হ’ল হয়ে মোটা জেলে ব’সে শুধু তাস খেলে!
কেহ বলে, তুই জেলে ছিলি ভালো ফের যেন তুই যাস জেলে!
গুরু ক’ন, তুই করেছিস শুরু তলোয়ার দিয়ে দাড়ি চাঁছা!
প্রতি শনিবারী চিঠিতে প্রেয়সী গালি দেন, ‘তুমি হাঁড়িচাঁচা!’
আমি বলি, ‘প্রিয়ে, হাটে ভাঙি হাঁড়ি!’
অমনি বন্ধ চিঠি তাড়াতাড়ি।
সব ছেড়ে দিয়ে করিলাম বিয়ে, হিন্দুরা ক’ন, আড়ি চাচা!’
যবন না আমি কাফের ভাবিয়া খুঁজি টিকি দাড়ি, নাড়ি কাছা!
মৌ-লোভী যত মৌলবী আর ‘ মোল্‌-লা’রা ক’ন হাত নেড়ে’,
‘দেব-দেবী নাম মুখে আনে, সবে দাও পাজিটার জাত মেরে!
ফতোয়া দিলাম- কাফের কাজী ও,
যদিও শহীদ হইতে রাজী ও!
‘আমপারা’-পড়া হাম-বড়া মোরা এখনো বেড়াই ভাত মেরে!
হিন্দুরা ভাবে,‘ পার্শী-শব্দে কবিতা লেখে, ও পা’ত-নেড়ে!’
আনকোরা যত নন্‌ভায়োলেন্ট নন্‌-কো’র দলও নন্‌ খুশী।
‘ভায়োরেন্সের ভায়োলিন্‌’ নাকি আমি, বিপ্লবী-মন তুষি!
‘এটা অহিংস’, বিপ্লবী ভাবে,
‘নয় চর্‌কার গান কেন গা’বে?’
গোঁড়া-রাম ভাবে নাস্তিক আমি, পাতি-রাম ভাবে কন্‌ফুসি!
স্বরাজীরা ভাবে নারাজী, নারাজীরা ভাবে তাহাদের আঙ্কুশি!
নর ভাবে, আমি বড় নারী-ঘেঁষা! নারী ভাবে, নারী-বিদ্বেষী!
‘বিলেত ফেরনি?’ প্রবাসী-বন্ধু ক’ন, ‘ এই তব বিদ্যে, ছি!’
ভক্তরা বলে, ‘নবযুগ-রবি!’-
যুগের না হই, হজুগের কবি
বটি ত রে দাদা, আমি মনে ভাবি, আর ক’ষে কষি হৃদ্‌-পেশী,
দু’কানে চশ্‌মা আঁটিয়া ঘুমানু, দিব্যি হ’তেছে নিদ্‌ বেশী!
---
আমি বলি, ওরে কথা শোন্‌ ক্ষ্যাপা, দিব্যি আছিস্‌ খোশ্‌-হালে!
প্রায় ‘হাফ’-নেতা হ’য়ে উঠেছিস্‌, এবার এ দাঁও ফস্‌কালে
‘ফুল’-নেতা আর হবিনে যে হায়!
বক্তৃতা দিয়া কাঁদিতে সভায়
গুঁড়ায়ে লঙ্কা পকেটেতে বোকা এই বেলা ঢোকা! সেই তালে
নিস্‌ তোর ফুটো ঘরটাও ছেয়ে, নয় পস্তাবি শেষকালে।
বন্ধু গো, আর বলিতে পারি না, বড় বিষ-জ্বালা এই বুকে!
দেখিয়া শুনিয়া ক্ষেপিয়া গিয়াছি, তাই যাহা আসে কই মুখে।
রক্ত ঝরাতে পারি না ত একা,
তাই লিখে যাই এ রক্ত-লেখা,
বড় কথা বড় ভাব আসে না ক’ মাথায়, বন্ধু, বড় দুখে!
অমর কাব্য তোমরা লিখিও, বন্ধু, যাহারা আছ সুখে!
পরোয়া করি না, বাঁচি বা না-বাঁচি যুগের হুজুগ কেটে গেলে,
মাথায় উপরে জ্বলিছেন রবি, রয়েছে সোনার শত ছেলে।
প্রার্থনা ক’রো যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস,
যেন লেখা হয় আমার রক্ত-লেখায় তাদের সর্বনাশ!”
© সিরাজুল হোসেন

No comments:

Post a Comment