বেলফুলের গন্ধভরা নববর্ষ। গরমে ঝলসে যাচ্ছে প্রকৃতি। তবুও সাজের কমতি নাই। অমলতাস, জারুল উঁকি মারতে শুরু করেছে। খালবিলের জল কমেছে। কাদাজলে চলছে কই, শোল, ল্যাটা ধরার দেদার প্রতিযোগিতা।
গেরস্তবাড়িতে কুলোর ওপরে নুন হলুদ মাখানো কাঁচাআম রোদ খাচ্ছে খুব। কুকুরশাবক ছায়া খুঁজছে। পাখি খুঁজছে জল।
বাড়ির বৌ খুঁজছে কালোজিরে। গিমে শাকের বড়া হবে। আর হবে এঁচোড় দিয়ে ছোলার ডাল । মাংসকেও হার মানাবে সে রান্না। শুভদিনে মাছ না হলে চলবে না। বড় শোলমাছের মাথা ভেঙেচুরে ডুমো ডুমো করে কাটা লাউতে পড়বে। এই তরকারিতে থাকবে জিরে আর কাঁচালঙ্কার আধিক্য।
ছোটদের কথা ভেবে মাংস হবে রাতে। পোলাওয়ের চালের সঙ্গে মিশবে ছোট ছোট করে কাটা মাংস, আলু, দেশি মুরগির ডিম।
রান্নাটা হবে সর্ষের তেলে। নো ঘি। নো সাদা তেল।
সর্ষের তেল শুনে নাক কুঁচকিও না বাপু। আমি রেসিপি দিচ্ছি বানিয়ে খেয়ে... তারপর বোলো। রান্নাটার একটা গালভরা নাম আছে।
সর্ষের তেলের চিকেন তেহারি।
আলুর দমের সাইজের ছোট আলু বেশ কয়েকটা সেদ্ধ করে রাখো। ডিম খেতে চাইলে ডিমগুলোও আলুর সঙ্গে সেদ্ধ করে নাও। সেদ্ধ হওয়ার পর ঠাণ্ডা হোক। সেই ফাঁকে একটা মশলা তৈরি করো। ছোট এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি, জায়ফল , জৈত্রী , কটা গোলমরিচ শুকনো খোলায় নেড়ে মিহি করে গুঁড়িয়ে রেখে দাও। গোবিন্দভোগ চাল ভালো করে ধুয়ে রেখে দাও। এবার যে পাত্রে পোলাও বানাবে, সেটা গ্যাসে বসিয়ে বেশ অনেকটা সর্ষের তেল গরম করো। তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে ঝিরিঝিরি করে কাটা পেঁয়াজ দিয়ে দাও। হালকা ব্রাউন হলে আদা রসুন বাটা , কাঁচালঙ্কা বাটা
দিয়ে মশলাটা কষো। টকদই দাও এককাপ। মশলাটা কষা হলে ছোট ছোট করে কেটে রাখা চিকেনের পিসগুলো দিয়ে একটু কষে নাও। বাটা মশলার জল এবং টকদইয়ের জলে মাংস নরম হয়ে এলে সেদ্ধ আলু, ডিম দাও। পরিমাণমত নুন এবং একটু মিষ্টি দাও। গুঁড়ো করা গরমমশলা অর্ধেকটা দিয়ে দাও। এবার ভেজানো গোবিন্দভোগ চাল চিকেনের মধ্যে ঢেলে নেড়েচেড়ে নাও। চালগুলো চিকেনের মশলায় জারিত হোক। এবার যে বাটিতে চাল ভিজিয়ে রেখেছিলে সেই বাটির মাপে একবাটি উষ্ণ জল মাংস এবং চালে ঢেলে দিয়ে আঁচ কমিয়ে ঢাকনা এঁটে দাও। জল শুকিয়ে এলে বাকি গরমমশলাটুকু এবং কয়েকটা আস্ত কাঁচালঙ্কা ছড়িয়ে দিয়ে চাটু গরম করে চাটুর ওপরে পোলাওয়ের পাত্রটাকে দমে বসাও। আঁচ একেবারে কমিয়ে দিতে হবে। মিনিট পনের দমে থাকার পর তৈরি হয়ে যাবে অসাধারণ স্বাদের সর্ষের তেলের চিকেন তেহারি।
সবাই খুব ভালো থাকো। নিজেদের মধ্যে লড়াই ঝগড়া বিবাদ ক'রে শত্রুদের সুবিধা করে দিও না। নিজের চোখে না দেখে,নিজের কানে না শুনে তৃতীয় পক্ষের কথা আঁকড়ে ধোরো না। গাছপালা, পশু- প্রাণী পাখিদেরও ভালোবেসো।
Sabina Yasmin Rinku
No comments:
Post a Comment